বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

***ফটোগ্রাফার***

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Sumon Al Hasan (০ পয়েন্ট)

X Writing by #md sumon al hasan.Part-4 . বাসায় এসেছি অনেকক্ষণ হলো। এদিকে রাত ও হয়ে এসেছে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে রিহানের কথা ভাবছি। রিহানের নাম্বারে ডায়াল করে অাবার কেটে দিলাম। কিভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছিনা, লজ্জাও লাগছে খুব। অাবারো ডায়াল করলাম, চারবার রিং পরার পর কলটা রিসিভ হলো- ফোনের ওপাশ থেকে হ্যালো? শব্দটা অামার কান দিয়ে প্রবেশ করে সোজা বুকের বাম পাশে ধাক্কা দিলো কান থেকে ফোনটা নামিয়ে বুকের মাঝে চেপে ধরলাম। অাবারো ফোনের ওপাশ বল্লো হ্যালো কে বলছেন? ফোনটা কানের কাছে নিয়ে বল্লাম অামি নুহা। =কাকে চাই। -রিহানকে চাই। =কিন্তু অামি তো অাপনাকে চিনতে পারলাম না? -অামি অাপনার ছবির একজন ভক্ত। অাজ এক্সিভিশনে অাপনার উঠানো বিড়ালের ছবিটা অামার অনেক ভালোলেগেছে। অাপনি অনেক ভালো ছবি তুলেন। =ধন্যবাদ। কিন্তু অাপনি অামার ফোন নাম্বার কোথায় পেয়েছেন? -এক্সিভিশনের অফিস থেকে। =ও অাচ্ছা। -ফটোগ্রাফি কি অাপনার প্রফেশন? =জ্বি না। সখের বসেই ছবি তুলি। -ও অাচ্ছা। অামার ছোট বোনের খুব ইচ্ছে ফটোগ্রাফি শেখার। অাপনি কি বলতে পারবেন কোথায় ফটোগ্রাফি শেখানো হয়? রিহান অামাকে ফটোফি, ফ্রাস্টলাইট, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, চঞ্চল মাহমুদ স্কুল অব ফটোগ্রাফি, ওয়েডিং ডায়েরি মতো অারো কয়েকটি ইনস্টিটিউশনের নাম এবং কোর্সভিত্তিক খরচাদির কথা বল্লো। অামি রিহানকে বল্লাম অাপনি কোথায় শিখেছেন? =অামি কোথাও শিখি নাই। ছবি উঠাতে উঠাতে শিখে ফেলেছি। -কোথাও না শিখেও এতো ভালো ছবি উঠান ওয়াও। অাচ্ছা অাপনি কি পড়াশোনা করেন নাকি জব? =কোনটাই না। -ঠিক বুঝলাম না? =অনার্স কম্প্লিট করেছি গত বছর। এখনো মাস্টার্সে ভর্তি হইনি। জব খুজছি। অাপনি কি করেন? -ইকোনোমিকস দ্বিতিয় বর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। =ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অামার খুব ইচ্ছে ছিলো কিন্তু চান্স পাইনি। রিহান অার অামি অনেকক্ষণ কথা বল্লাম। কথাবলার পর ওর প্রতি ভালোলাগার পরিমাণ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলো। ডিনার করে অাসার পর হিমেল অামাকে ফোন দিয়ে রিহানের ব্যাপারে সব কিছু বল্লো। হিমেলের কাছ থেকে রিহানের ব্যাপারে সব কিছু শুনার পর অামি অবাক হয়ে গেলাম একটা ছেলে এতটা ভালো মনের হতে পারে জানা ছিলোনা। রাতে রিহানকে অাবারো ফোন দিলাম। এভাবে কেটে গেলো কিছুদিন। অামরাও ধিরে ধিরে একে অপরকে বুঝতে শুরু করলাম। ---------- নাঈমের নাক ডাকার শব্দে অামার অামার অারামের ঘুমটা হারাম হয়ে গেলো। এমন ভাবে নাক ডাকছে মনে হচ্ছে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ চলছে। উফফ অার সহ্য করা যায়না। নাঈমের পাছার মধ্যে একটা লাত্থি দিয়ে ফ্লোরিং বিছানা থেকে নিচে ফেলে দিলাম। ফ্লোরে অবশ্য কার্পেট ছিলো। নঈম নিচে পড়ে বল্লো কি হইছে। নাঈমের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বল্লাম কিছু হয়নি স্বপ্নে তুই নদীপথে বাংলাদেশের বর্ডার ক্রস করে ইন্ডিয়া যাচ্ছিলি তারকাটার বেড়ার নিচ দিয়ে শুয়ে শুয়ে, নাঈম অামার হাত ধরে বিছানায় উঠে এসে বল্লো অামি নিচে পড়লাম কিভাবে? =ইন্ডিয়ার বর্ডার ভেবে হামাগুড়ি দিতে দিতে বিছানা ক্রস করে ফ্লোরে চলে গিয়েছিলি। যাইহোক ঘুমিয়ে পড়। হুম বলে নাঈম ঠিক করে শুয়ে পড়লো। বিছানার পাশ থেকে ফোনটা নিলাম টাইম দেখার জন্য। দুটো মেসেজ এসেছে। দুটি মেসেজ ই নুহার। ১২ টা ২১ এ দিয়েছে। এখন ৩ টা ৪২ বাজে, ফোন কি ব্যাক করবো? না থাক হয়তো ঘুমোচ্ছে। ফোনটা রাখতে যাবো এমন সময় ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠলো। ফোনের স্কিনের তাকিয়ে দেখি নুহা ফোন দিয়েছে। ফোন রিসিভ করার পর বল্লাম অাপনি এখনো ঘুমাননি? -ঘুমিয়েছিলাম হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। অাপনি জেগে অাছেন কেনো? বিছানা থেকে উঠে বারান্দায় এসে নুহাকে বল্লাম জাগার কাহিনী। নুহা শুনে হাসতে হাসতে একাকার। হাসতে হাসতে নুহা বল্লো কি হলো চুপ করে অাছেন কেনো? =শুনছিলাম। -কি শুনছিলেন? =অাপনার হাসির শব্দ -খুব বাজে তাইনা? =বাজে হলে কি মনোযোগ দিয়ে শুনতাম নাকি? -সেটাও অবশ্য ঠিক। কিছুক্ষণ কথা বল্লাম দুজন। ফোন কাটার পর ঘুণে খাওয়া পুরনো চেয়ারটাতে বসে নুহার কথা ভাবতে লাগলাম। দিনদিন মেয়েটার প্রতি অামার অনুভূতি গুলো দুর্বল হচ্ছে। মনে হয় খুব পরিচিত একজন। কিছুক্ষণ পর রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গার পর দেখি নাঈম অফিসে যাবার জন্য রেডি হচ্ছে। নাঈমকে বল্লাম রাতে ঘুম কেমন হলো? +ভালো হয়েছে কিন্তু কোমড়ে ব্যথা করছে। (ব্যথা করার ই কথা সেরাম একটা কিক দিয়েছি, অন্তত কয়েকদিন এই ব্যথা থাকবে মানে বিশ্বযুদ্ধ বন্ধ)মনে মনে ভাবতে লাগলাম। +দোস্ত অামি কি রাতে বেড থেকে নিচে পড়ে গিয়েছিলাম? =হুম। নাঈম টেবিলের উপর থেকে বাজারের লিস্টটা দেখিয়ে দিয়ে বল্লো বাসায় রান্না করার মতো কিছুই নেই। অামি লিখে রেখেছি সব তুই কষ্ট করে নিয়ে অাসিস। -ওকে। নাঈম রুম থেকে বের হয়ে অফিসের দিকে রওনা দিলো। অামি বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এসে নাশতা করলাম। এরপর বাজারের ব্যাগটা নিয়ে বাজারের দিকে চলে গেলাম। বাজার শেষ করে বাসায় এসে বুয়াকে বাজার দিয়ে রুমে এসে দেখি ১১ টা মিস কল ৫ টা মেসেজ। সব গুলো নুহা দিয়েছে বাজারে যাবার সময় ফোনটা নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। কল ব্যাক করার পর নুহা বল্লো অাপনি ঠিক অাছেন তো? ফোন রিসিভ করছেননা কেনো? =অামি ঠিক অাছি, বাজার করতে গিয়েছিলাম ভুলে ফোনটা বাসায় ফেলে গিয়েছি। -অামি ভাবলাম কি না কি হয়ে গিয়েছে, অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। অার কখনো ফোন রেখে কোথাও যাবেননা। =অাচ্ছা যাবেনা। -প্রমিস? =ওকে প্রমিস। কথা বলা শেষ করে ড্রয়ার থেকে ক্যামেরাটা বের করে ব্যাটারি টা খুলে চার্জ দিলাম। অাজ রাতে নাঈমের এক পরিচিত ভাইয়ের ওয়েডিং এর ছবি তুলতে হবে। ক্যামেরার লেন্স গুলো টিস্যু পেপার দিয়ে ভালোভাবে মুছলাম। কয়েকদিন অাগে বাসা থেকে ছোট ভাইটা ফোন দিয়ে বল্লো দুপুরে টিফিনের পর স্কুল থেকে বাসায় এসে খাবার খেয়ে অাবার স্কুলে যেতে অনেক দেরি হয়ে যায়, তাই এই ওয়েডিং এর টাকার সাথে অারো কিছু টাকা যোগ করে সিয়ামকে একটা সাইকেল কিনে দিবো। এই মাসটা চলতে একটু কষ্ট হবে অামার কিন্তু ছোট ভাইয়ের কষ্টের কাছে অামার এই কষ্ট কিছুইনা। . চলবে.............


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ***ফটোগ্রাফার***
→ ***ফটোগ্রাফার***
→ ***ফটোগ্রাফার***
→ ***ফটোগ্রাফার***
→ ***ফটোগ্রাফার***
→ ***ফটোগ্রাফার***

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now