বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Writing by #md sumon al hasan.Part-5
.
তিনদিন পর, সকালবেলা
কলিং বেলটা অনবরত
বাজছে। ঘুম জড়ানো বন্ধ
চোঁখে নাঈম ভেবে পাশের
কোলবালিশটাকে ঠেলছি
অার বলছি এই নাঈম যা না
ভাই দরজাটা খুল।
কিন্তু কোলবালিশ কি অার
শুনে অামার কথা। পাশ
ফিরে চোঁখ খুলতেই
ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম
অারে নাঈম তো গতকাল
গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে,
তার মানে এতক্ষণ অামি
কোলবালিশের সাথে বকবক
করেছি..
বিছানা থেকে উঠে চোঁখ
কচলাতে কচলাতে রুম থেকে
বের হয়ে গিয়ে ড্রইংরুমের
দরজাটা খুলে দেখি
দারোয়ান চাচা দাঁড়িয়ে
অাছেন হাতে একটা
প্যাকেট অার কিছু গোলাপ
নিয়ে। পোঁকা খাওয়া
দাঁতের ফাক দিয়ে একটা
ফরমালিন মুক্ত হাসি ছেড়ে
প্যাকেট অার ফুল গুলো
এগিয়ে দিয়ে বল্লো একটু
অাগে একটা মেয়ে এসে
এগুলো অাপনাকে দিতে
বলেছে।
প্যাকেট অার ফুল গুলো নিয়ে
দরজাটা বন্ধ করে রুম এ এসে
ব্যাপক পরিমাণ চিন্তায়
পরে গেলাম। টেবিলের উপর
প্যাকেট অার ফুল রেখে
ওয়াশরুম ঢুকে বসে বসে
একসাথে তিনটি কাজ
চালাচ্ছি এক ব্রাশ করা দুই
সকাল সকাল এগুলো কে
পাঠাতে পারে সেগুলো
নিয়ে ভাবা অার তিন হে
হে হে হে কমু না
ফ্রেশ হয়ে এসে তাজা
গোলাপের গন্ধ শুকলাম। এরপর
গিফট পেপার মোড়ানো
প্যাকেট টা খুলে দেখি দুটো
বক্স। একটা ছোট অারেকটা
বড়ো। উপরের ছোট বক্সটা
খুলে দেখি একটা অারমানি
AX2100 মডেলের ওয়াচ।
ওয়াচটা রেখে নিচের
বক্সটা খুলে দেখি একটা
চকলেট কেক পাশে একটা
প্লাস্টিকের ছুরি একটা
মোমবাতি, কিন্তু এগুলো
অামাকে দিলো কে?
বিছানার পাশ থেকে
ফোনটা নিয়ে দেখি ৫১ টা
মিস কল ২৯টা মেসেজ।
সব গুলো নুহার। কল বেক
করতে যাবো এমন সময় নুহা
অাবারো ফোন দিলো।
ফোন রিসিভ করার পর
ফোনের ওপাশ থেকে নুহা
বল্লো হ্যাপি বার্থডে!
ফেনে অাজকের ডেইট টা
দেখে বিশাল এক টাশকি
খাইলাম, ফেব্রুয়ারি ৪
মানে অামার বার্থডে,
কিন্তু অামারই মনে নাই।
ফোনের ওপাশ থেকে নুহা
বল্লো চুপ করে অাছেন
কেনো? গিফট পছন্দ হয়নি?
=জ্বি হয়েছে। থ্যাংকইউ
সো মাচ বাট অাপনি
কিভাবে জানেন অাজ
অামার বার্থডে অামি তো
অাপনাকে কখনো বলিনি
অামার বার্থডের কথা।
অার অামার বাসার
ঠিকানা অাপনি কোথায়
পেয়েছেন?
-জানতাম অামি অাপনি
প্রশ্ন গুলো করবেন কিন্তু এই
প্রশ্ন গুলোর উওর দেয়ার সময়
এখনো হয়নি, সময় হোক সব
জানতে পারবেন। যাইহোক
এসব কথা পরে বলবো অাগে
কেক কাটেন।
=অাপনি কিভাবে বুঝলেন
যে অামি এখনো কেক
কাটিনি?
-অন্দাজে ঢিল মেরেছি,
লাগার সম্ভাবনা বেশি
ছিলো তাই এখন কেক
কাটেন।
=অাচ্ছা।
নুহা মোমবাতিটা
জ্বালাতে বল্লো
মোমবাতিটা জ্বালালাম,
ফোনের ওপাশ থেকে নুহা
বল্লো এবার মোমবাতিটা
নিভান।
মোমবাতি নিভানোর পর
ফোনের ওপাশ থেকে নুহা
বল্লো হ্যাপি বার্থডে টু
ডিয়ার রিহান।
কেক কাটার পর নুহাকে
বল্লাম অাপনাকে কেক
খাওয়াবো কিভাবে?
-অাপনি খেলেই অামার
খাওয়া হয়ে যাবে।
কেক খাওয়ার পর অনেকক্ষণ
অামরা কথা বল্লাম। কথা
বলা শেষ করে শুয়ে শুয়ে
ভাবছি এমন একটা বার্থডে
কাটাবো কখনো কল্পনাও
করিনি। নুহার প্রতি
ভালোলাগার অনুভূতি গুলো
তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
জানিনা ও কিভাবে
অামার সবকিছু জানে, নুহা
কি অামার পরিচিত কেউ।
কেন জানি মনে হচ্ছে ওকে
অামি চিনি।
----------
----------
বারান্দায় বসে গুন গুন
গাইতেছিলাম, এখনতো সময়
ভালোবাসার এ দুটি হৃদয়
কাছে অাসার তুমি যে একা,
অামিও যে একা লাগে যে
ভালো ও প্রিয়--- এমন সময়
মৃধা অামার বারান্দায়
এসে বল্লো অাপু তোর কি
হয়েছে?
-অামার অাবার কি হবে?
>তোকে অামার সুবিধার
লাগছেনা। সকাল সকাল তুই
কোথায় গিয়েছিলি?
-কাজ ছিলো।
>অাপু তুই ইদানীং কেমন
যেনো হয়ে গিয়েছিস।
-কেমন হয়েছি?
>সারা বাড়ি ঢোল পিটাই ও
অাগে সকাল বেলা তোর ঘুম
ভাঙ্গানো যেতোনা অার
এখন তুই সকাল সকাল ঘুম থেকে
উঠে যাস। (মানে অামি
খাই বাঁশ যা একটু সকাল
বেলা অাসিফের সাথে
কথা বলতে পারতাম তাও
এখন বন্ধ) মনে মনে বল্লাম।
-এখন রাতে তাড়াতাড়ি
ঘুমিয়ে পরি তাই সকাল
সকাল ঘুম ভেঙ্গে যায়।
>রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাও
নাকি ফোনে পটর পটর করো
অামি তো জানি, তুমি যে
স্কুলের ছাত্রী অামি ঐ
স্কুলের প্রিন্সিপাল মনে
মনে বল্লাম।
পুলিশের মতো জেরা করার
পর মৃধা বারান্দা থেকে
চলে গেলো। বিকেলে
মিমের সাথে অাড্ডা
দেয়ার সময় মিম রিহানের
সাথে দেখা করার টপিক
উঠালো। সান্তনা মূলক
ভাবে মিমক বল্লাম সময় হলে
জানাবো।
-----
দুদিন পর নাঈম গ্রামের
বাড়ি থেকে অাসলো। নুহার
সাথে ফোনে কথা বলা শেষ
করে যেই না নাঈমের
বাসার কথা জিজ্ঞেস করতে
যাবো এমন সময় নাঈম বল্লো
কিরে কয়েকদিন যাবত
দেখছি ফোনে খুব কথা
বলছিস? কেসটা কি হুম?
=অারে তেমন কিছুনা জাস্ট
ফ্রেন্ড।
~বুঝিরে বুঝি। মেয়েটা
দেখতে কেমন অাগে সেটা
বল?
=অামি নিজেই তো দেখি
নাই তোকে কি ভাবে বলবো
~মানে বুঝলাম না বুঝাই বল?
নাঈমকে সব কিছু বল্লাম।
নাঈম বল্লো এক সপ্তাহ পরে
ভ্যালেন্টাইন ডে দেখা
করতে অাসতে বল?
=এতদিন ওর সাথে কথা বলে
ওর সম্পর্কে এটুকু বুঝতে
পেরেছি যে, ও অামাকে খুব
ভালো করেই চিনে অার ওর
ইচ্ছে ছাড়া ও অামার সাথে
দেখা করবেনা।
~বুঝিনা ভাই তোদের অাজব
প্রেমের অাজব কাহিনী।
এভাবে কেটে গেলো অারো
৬ টা দিন। ভালোবাসা
দিবসের অাগের দিন
সন্ধ্যাবেলা নুহা ফোনে
বল্লো কাল অাপনি
দিয়াবাড়ি অাসবেন ঠিক
সকাল ১০টা বাজে।
=দিয়াবাড়ি গিয়ে কি
করবো?
-অাসলেই বুঝতে পারবেন।
.
চলবে.................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now