বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘরে ঢুকেই অবাক হওয়ার মতো একটা ঘটনা দেখল
রোটন। দিনের বেলা ফনি মামা মশারির ভেতর
ঢুকে বসে আছেন। বিজ্ঞানীদের মতো হাতে
মাইক্রোস্কোপ, মাথায় টর্চলাইট। মশারির ভেতর
গভীর মনোযোগে কী যেন দেখছেন।
মাঝেমধ্যে খাতায় নোটও নিচ্ছেন। ঘটনা অবাক
হওয়ার মতো হলেও রোটন খুব একটা অবাক হলো
না। বরং ঘরের ভেতর মামাকে পেয়ে খুশিই
হলো। মামার এ রকম কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সে
আগে থেকেই পরিচিত।
‘কী করছ মামা?’
মামা রোটনের কথার জবাব না দিয়ে বললেন,
‘পাশের চেয়ারটায় চুপ করে বোস।’
রোটন লক্ষ্মী ছেলের মতো চুপ করে
বসে পড়ল। তার ভীষণ ভালো লাগছে। ফনি
মামাকে রোটনের এমনিতেই একটু বেশি ভালো
লাগে। তার ওপর মামার অদ্ভুত সব কর্মকাণ্ড তো
আছেই। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর মশারির ভেতর
থেকে ফনি মামা বেরিয়ে এলেন। তাঁর মুখে
তৃপ্তির হাসি। হাত দিয়ে রোটনের চুলগুলো
এলোমেলো করে দিয়ে বললেন, ‘হুটোন
মিয়াঁ কী খবর?’
মুহূর্তেই রোটনের মন ভালো হয়ে গেল।
মামার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল সে। ফনি মামা
রোটনকে হুটোন বলে ডাকেন। অন্য কেউ
এই নামে ডাকলে রোটনের রাগ লাগে, কিন্তু
ফনি মামা ডাকলে কেন জানি ভালোই লাগে। ভালো
লাগার কারণ রোটন জানে না। মামার দিকে তাকিয়ে
রোটন কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করল, ‘মশারির ভেতর
কী করছিলে মামা?’
ফনি মামা গম্ভীর গলায় বললেন, ‘মশাপাখি নিয়ে
একটা এক্সপেরিমেন্ট করছিলাম।’
রোটন চোখ কপালে তুলে বলল, ‘মশাদের
নিয়ে আবার কিসের এক্সপেরিমেন্ট? তা ছাড়া মশা
আবার কবে থেকে পাখি হলো?’
মামা কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘তুই তো দেখি
মহা গাধা, কিছুই জানিস না!’ এরপরই হাত নেড়ে
নেড়ে বললেন, ‘মশা পাখিদের মতো উড়তে
পারে। পাখিদের মতো ডিম পাড়ে, পাখিদের মতো
গানও গায়, তাহলে মশা কেন পাখি নয়?’
রোটনের চোখমুখ বিস্ময়ে উজ্জ্বল হয়ে
উঠল। মনে মনে বলল, ‘সত্যিই তো!’ এরপর
মামার দিকে তাকিয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,
‘তাহলে তো মাছি, তেলাপোকা এগুলো সবই
পাখি, তাই না মামা?’
রোটনের কথায় মামা আরও উৎসাহ পেলেন।
বললেন, ‘ঠিক বলেছিস। এরাও পাখি। তবে এক এক
করে কাজ করতে হবে। আগে মশাকে
পাখিসমাজে মর্যাদা দিই, তারপর এক এক করে
সবাইকে দেব।’
রোটন বলল, ‘কীভাবে এদের পাখিসমাজে
মর্যাদা দেওয়া হবে?’
মামা বললেন, ‘একটু অপেক্ষা কর,
ছেলেপেলে চলে আসবে। তখনই বলব।’
কিছুক্ষণ বসে থাকার পর রোটন দেখল, তার
বয়সী দশ-পনেরোজন ছেলে মামার ঘরে
এসে ঢুকল। সবাই হইহুল্লোড় করছিল, মামা ওদের
শান্ত হয়ে বসতে বললেন। সবাই শান্ত হওয়ার পর
মামা কথা বলা শুরু করলেন। মশাদের কীভাবে
পাখিসমাজের মর্যাদা দেওয়া যায়, এই হলো আলোচ্য
বিষয়।
মশার প্রতি মামার ভালোবাসা দেখে মামার প্রতি
রোটনের ভালোবাসা আরও বেড়ে গেল। মশার
কামড়ে অতিষ্ঠ রোটনের মনেও মশাদের প্রতি
এক রকম ভালোবাসা জন্ম নিল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now