বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফিউশন ট্রেকিং ০২(শেষ)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বাপ্পী (০ পয়েন্ট)

X ৪. সি.এন্ড.কে: "ক্রাইম এন্ড কিলিং সেন্টার" এর বাহিরে দাড়িয়ে আশপাশটা বেশ কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে এ্যালান, বিশাল এলাকা জুড়ে এই সংস্হা, অনেকটা থিম পার্কের মত। ভিতের ঢুকে এ্যালান ইনফরমেশন কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যায়। "হ্যালো স্যার, আমাদের সি.এন্ড.কে সেন্টারে আপনাকে স্বাগতম" কি সুন্দর মেয়েটা ! কিন্তু হাসিতে কোন প্রাণ নেই কেন? যেন জীবন্ত মমির হাসি! একটু চমকে উঠে এ্যালান। নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, আমি আজ প্রথম এসেছি এই সেন্টারে, আমাকে কি আপনাদের সার্ভিসের ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে পারবেন ? আপনি ঐখানে একটু অপেক্ষা করেন, আমাদের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাকে ব্রীফ করবে। এ্যালান আরও পনের জনের সাথে বসে অপেক্ষা করছে একটা ঘরে, কিছুক্ষণ পর একজন সুদর্শন যুবক এসে মমির হাসি দিয়ে বললো, "আমি এই কোম্পানীর মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ, আপনাদের ব্রীফ করতে এসেছি।" "এটা হলো ডি.এন.এ. ব্যাংক; এখানে পৃথিবীর ইতিহাসে বিখ্যাত ও কুখ্যাত সব ব্যাক্তিদের ডি.এন.এ সেম্পল আছে; আলেকজেন্ডার, সক্রেটিস, প্লেটো, একেলিস, সিজার, ক্লিউপেটরা, কলোম্বাস, রাইট ব্রাদারস, নিউটন, নেপোলিয়ান, আইনস্টাইন, হিটলার, পেলে, সাদ্দাম হোসেন, বিন লাদেন, মিলেট দম্পতি, পিয়েলা কি নেই এই ব্যাংকে ! " দর্শনার্থীদেরকে বাহির থেকে একটা বড় ভবন দেখিয়ে বললো মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ। এইটা হলো ক্লোন সেন্টার, এখানে আপনাদের পছন্দমত শিকারকে ক্লোন করা হয়। সবাই কেমন যেন একটু চমকে উঠলো। স্মিত একটা হাসি দিয়ে এক্সিকিউটিভ বললো, "জ্বী, আপনারা ডিএনএ ব্যাংক থেকে সেম্পল পছন্দ করে কাকে হত্যা করতে চান আমাদের জানাবেন, পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাকে ক্লোন করে ফেলবো। সবশেষে এগুলো হলো আমাদের কিলিং জোন, দুর থেকে কতগুলো প্রাচীর ঘেরা জায়গা দেখিয়ে বললো এক্সিকিউটিভ। প্রতিটা ব্লক আয়তনে দুশত বর্গ মিটার, একেকটায় একের রকম পরিবেশ তৈরী করা হয়েছে, কোনটায় পাহাড়ি এলাকা, কোনটা আবার শুধু মরুভূমি, আবার কোনটা ঘন জঙ্গল। নির্দিষ্ট দিনে ক্নোন করা প্রাণীটাকে এখানে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর আপনি আপনার পছন্দমত যেকোন একটা অস্ত্র নিয়ে তাকে শিকারে নেমে যাবেন। সে এক ভয়ংকর রকম এডভেঞ্চার ! দর্শনার্থীদের মধ্যে থেকে একজন প্রশ্ন করলো, আচ্ছা যদি শিকারী নিজেই শিকার হয়ে যায় ? না, এমন হবার কোন সম্ভবনা নেই। আপনাদের হাতে একটা এলার্ম বাটন থাকবে, কোন বিপদ হলে এই বাটনে চাপ দিবেন; সাথে সাথে আমাদের সার্প-শুটার স্নাইপার ক্লোনটাকে গুলি করে ভূপাতিত করে ফেলবে। এ্যালান একে একে সবার চোখের দিকে তাকায়, সেখানে জ্বলজ্বল করছে অজানা এক আভা, মুহূর্তেই যেন সবার মধ্যে নতুন এক প্রাণের সঞ্চার হয়। হাজার হোক, খুন করার নেশা পৃথিবীর প্রাচীনতম ভয়ংকর নেশা। দুইশত বছর কেন, হাজার বছরেও এই নেশা মানুষের রক্ত থেকে যাবার নয়। আপনারা আজকে বুকিং দিয়ে গেলে আগামি সপ্তাহে এসে আমাদের এই অভূতপূর্ব খেলায় অংশগ্রহন করতে পারবেন, নির্বিকারভাবে বলে এক্সিকিউটিভ। সবার মত এ্যালনও বুকিং দেওয়ার জন্য লাইনে দাড়ায়। বেশিভাগই হিটলার আর আলেকজেন্ডারকে বুকিং দেয়। বুকিং এর লোকটা একটু অবাক হয়ে এ্যালানের দিকে তাকায় যখন সে বুকিং দেয় সক্রেটিসকে। একটু নার্ভাস হাসি দিয়ে এ্যালান শুধু বলে, "আমি প্রাচীন গ্রীক দর্শনশাস্ত্রের ভক্ত"। সঞ্চিত ইউনিটের প্রায় অর্ধেক খরচ করে যখন এ্যালান বাড়ি ফিরলো তখন রক্তের মধ্যে একটা আলোড়ন অনুভব করছিলো সে, এ এক অন্যরকম অনুভূতি। অনেক দিন পর আজ তার শান্তির ঘুম হয় । আহঃ ! এমন শান্তির ঘুম কত দিন হয় না ! ৫. প্রথম খুন: "স্যার, আপনাকে কিছুক্ষণের মধ্যে প্রস্তুত হতে হবে, সক্রেটিসকে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এই মাত্র" বললো লোকটা আর আপনি এখান থেকে যেকোন একটা হাতিয়ার বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। এ্যালান দেখে তার সামনে তীর ধনুক, তলোয়ার, বিংশ শতাব্দির রিভলবার থেকে শুরু করে সর্বাধুনিক এটোমিক ব্লাস্টার পর্যন্ত থরে থরে সাজানো আছে। সব ঘুরে সে শেষমেষ একটা বিটক দর্শন দুইটা তলোয়ার হাতে তুলে নেয় । জোরে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকে, তারপর ঘন জঙ্গলে ঢুকে যায় এ্যালান। দুই হাতে দুইটা তলোয়ার নিয়ে সন্তপণে এগিয়ে যাচ্ছে সে, সতর্ক দৃষ্টি, নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ নিজেই শুনতে পাচ্ছে । হঠাৎ চোখের কোনে কি যেন নড়ে উঠতে দেখে সে, এক লাফ দিয়ে গাছে আড়ালে চলে যায় এ্যালান, তারপর ধীরে ধীরে উকি দিয়ে দেখে একটা কাঠবিড়ালী জানপ্রাণ দিয়ে দৌড়াচ্ছে । নিজের মনেই হেসে উঠে এ্যালান। আরও এগিয়ে যায় সে, বুকের ভীতর ড্রাম বাজানোর শব্দ হচ্ছে, লাফ দিয়ে একটা বালির টিবির উপর উঠে সে, একটু ধাক্কার মত খায় এ্যালান সাথে সাথে, দেখে পনের বিশ মিটার দুরে একটা গাছের নিচে বসে আছে একটা পৌড় লোক, নির্বাক নিশ্চল। এত অল্প বয়সী কাউকে আশা করেনি এ্যালান, কত হবে লোকটার বয়স ! চল্লিশ বিয়াল্লিশ ! খোলা তরবারী নিয়ে সক্রেটিসের দিকে এগিয়ে যায় এ্যালান, সমানে দাড়িয়ে হুংকার দিয়ে উঠে, "আমি আপনাকে হত্যা করতে এসেছি" মৃদু হেসে উঠে সক্রেটিস, কিছক্ষণ আগে হেমলক পান করিয়ে আমাকে হত্যা করা হয়েছে, তুমি এখন আবার আমাকে কিভাবে হত্যা করবে ? আর আমি এখানেই বা এলাম কিভাবে ? এটা কি মৃত্যুর পরবর্তী জীবন ? আপনাকে আবার সৃষ্টি করা হয়েছে, আপনাকে প্রায় তিন হাজার বছর আগে প্রথমবার হত্যা করা হয়েছিলো, মানুষ এখন মানুষ তৈরী করার প্রযুক্তি আয়ত্বে নিয়ে এসেছে । বিন্দু মাত্র বিচলিত না হয়ে, মৃদু হেসে সক্রেটিস বললো, "ও! পুনঃপুনঃ যদি সৃষ্টিই করা যায় তাহলে মৃত্যুর কি স্বার্থকতা রইলো ? ঠিক আছে কর হত্যা আমাকে, তবে মৃত্যুর আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দাও, আমাকে কেন হত্যা করতে চাও? একটু থমকে যায় এ্যালান তারপর বলে, এটা একটা খেলা, আপনি শিকার আমি শিকারি, আপনি দৌড়ান । হো হো করে হেসে উঠে সক্রেটিস, দৌড়িয়ে এমন কোন জায়গায় কি যেতে পারবো যেখানে মৃত্যু আমাকে ছোঁবে না ! তুমি যদি আমাকে হত্যা করতেই চাও তাহলে চালাও তোমার তরবারী। রক্তের মধ্যে কম্পন অনুভব করতে থাকে এ্যালান, মৃত্যু মুখেও শিকারকে এমন নির্বাক দেখে হিতাহিত জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে সে। ডান হাতে ধরা তলোয়ারটা গায়ের জোরে ঢুকিয়ে দেয় সক্রেটিসের বুকে, আর বা হাতের তলোয়ারটা সজোয়ে বসিয়ে দেয় মাথা বরারব। উহঃ শুব্দ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সর্বকালের অন্যতম দার্শনিক সক্রেটিস, মৃত্যুর আগে শুধু একটা কথা মুখ দিয়ে বের হয় তার, "হায়! তিন হাজার বছরেও সভ্যতা একচুলও এগোয়নি" এ্যালানের সারা শরীর রক্তে মাখামাখি, তার পায়ের কাছে পড়ে আছে সক্রেটিসের থেঁতলানো মগজ, পৈশাচিক উল্লাসে গগন চিৎকার দিয়ে উঠে সে। অপকৃতস্হের মত হাসতে হাসতে কিলিং জোন থেকে বের হয়ে আসে এ্যালান। ৬. দ্বিতীয় খুন: পরবর্তী কয়েকদিন ঠিকমত ঘুমাতে পারেনি এ্যালান, ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে শুধু ভেসে উঠেছে মাটিতে পড়ে থাকা সক্রেটিসের মগজ। উহঃ কি বিভৎস দৃশ্য ! তার অবচেতন মন কিছু একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে তাকে, বারবার একই স্বপ্ন দেখিয়ে। কিন্তু ইঙ্গিতটা ধরতে না পেরে তার অস্হিরতা আরও বেড়ে যায়, মাঝে রাইসার সাথে বেশ কয়েকবার তুমুল ঝগড়া হয়ে গেছে তার। একদিন তুমুল ঝগড়ার মধ্যে হঠাৎ রাগের মাথায় রাইসা বলে উঠে, ফিউশন গোলকের মাধ্যমে তোমার মগজে যদি তীব্র একটা ব্যাথা দিতে পারতাম তাহলে মনটা শান্ত হতো। হঠাৎ এ্যালানের সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠে, "কি বললেন তুমি ? আবার বলো , আবার বলো। "ফিউশন গোলকের মাধ্যমে তোমার মগজে যদি তীব্র একটা ব্যাথা দিতে পারতাম তাহলে মনটা শান্ত হতো।", কেন হুমকি দিচ্ছ নাকি ? যতবার বলতে বলবে ততবার বলবো, আমি কি তোমাকে ভয় পাই নাকি ? রাগে গজগজ করতে থাকে রাইসা। ইউরেকা! ইউরেকা! চিৎকার দিয়ে বউকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে ধেঁই ধেঁই করে নেচে উঠে এ্যালান। তার সারা গালে, মুখে চুমু দিতে শুরু করে হঠাৎ। একটা ঝাড়া দিয়ে এ্যালানকে সরিয়ে দিয়ে বলে "কি ব্যাপার ! পাগল হয় গেলে নাকি?" পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে ভয়ংকর পরিকল্পাটা ফাইনাল করে ফেলে এ্যালান। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বার বার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে সে। অবশেষে সন্তুষ্ট হয়, নাহঃ পরিকল্পনায় কোথাও কোন ফাঁক নেই; একদম ফুলপ্রুফ প্ল্যান। অবশেষে সি.এন্ড.কে সেন্টারে হাজির হয়ে এ্যালান। এগিয়ে যায় ইনফরমেশন কাউন্টারের দিকে। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে মৃদু একটা হাসি দিয়ে বলে, "আমি কি কোম্পানির টেকনিকেল ম্যানেজারের সাথে দেখা বলতে পারি ? " ইন্টারকমে কিছুক্ষণ কথা বলে মেয়েটি বলে, "আপনি এই দিক দিয়ে পাঁচ নাম্বার রুমে যান, ওখানেই টেকনিকেল ম্যানেজার বসেন" দরজায় নক করতেই ভিতর থেকে একটা ভরাট কন্ঠ বলে উঠে, "আসুন স্যার , আসুন"। ভীতরে গিয়ে বসে এ্যালান। তা এবার বলুন কি করতে পারি আপনার জন্য ? আমি আপনাদের এখানে আগে একবার ক্লোন খুন করেছি, আমি আবারও করতে চাই। ঠিক আছে, আপনি বুকিং দেন, সমস্যা কোথায় ? আমি আসলে আপনাদের ডি.এন.এ ব্যাংকের কাউকে খুন করতে চাই না, আমি আমার নিজের ক্লোনকে খুন করতে চাই কিন্তু আপনিতো বিখ্যাত কেউ নন, তার উপর আপনি কেন নিজের ক্লোনকে খুন করতে চান? দেখুন, আমি যদি নিজের ক্লোনকে খুন করতে যাই, সেই ক্লোনটাও বাঁচার জন্য লড়াই করবে । কিন্তু দুইজনের চিন্তাধারা যেহেতু একরকম সেহেতু এই লড়াইটা হবে খুবই উচ্চমার্গীয় বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই। এতে আপনাদের এই প্রজেক্টে নতুন মাত্রা যোগ হবে। আর আজ আমি বিখ্যাত কেউ নই, কিন্তু কাল যে হবো না সে গ্যারান্টিতো কে দিতে পারবে না , তাই না ? হুমম, ভালো বলেছেন। ঠিক আছে , আমি টিকনিসিয়ানদের বলে দিচ্ছি , আপনি আজকে ডিএনএ সেম্পল আর বুকিং দিয়ে যান। আমরা আপনাদের লড়াই উপভোগ করতে চাই। এক সপ্তাহ পর, ধীরে ধীরে চোখ খুলে এ্যালান। নিজেকে একটা ঘন জঙ্গলে আবিষ্কার করে সে । লাফিয়ে উঠে এ্যালান, সি.এন্ড.কে সেন্টারের টেকনিকেল ম্যানেজারের সাথে কথোপকথন পর্যন্ত তার মনে আছে, তারপর আর কিছুই মনে নেই তার। সে এখানে কিভাবে এলো ! দেখেতো জায়গাটা মনে হচ্ছে সি.এন্ড.কে সেন্টারের কিলিং জোন । মানে ! সে ক্লোন ! তাকে এখন হত্যা করতে আসবে সে নিজেই । ধীরে ধীরে সব স্মৃতি ফিরে আসে তার, মনে পড়ে গেলো তার ভয়ংকর সেই পরিকল্পনার কথা । মৃদু হাস্য মুখে সে অপেক্ষা করতে থাকে নিজের জন্য। মুখোমুখী দুই এ্যালান, দুজনেই চুপ, কোন রা নেই কারো মুখে। দুজনেই জানে একটা টু শব্দ করলে আসল এ্যালনের মাথায় বসানো ফিউশন ট্রেকিং গোলকের মধ্যমে সব ইনফরমেশন চলে যাবে ফিউশন সেন্টারে। কোন কথা না বলে, হাতের তলোয়ারটা মাটিতে ফেলে দিয়ে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে আসল এ্যালান । প্রচন্ড বেগে মাথার উপর নেমে আসে বিকট দর্শন তলোয়ার, বিদির্ণ হয়ে যায় আসল এ্যালানের মাথা। মুহূর্তেই এ্যালানের মগজ থেকে ফিউশন ট্রেকিং গোলকটা বের করে পকেটে ভরে নেয় ক্লোন এ্যালান। রক্ত মাখা শরীর নিয়ে কিলিং জোন থেকে বের হয় আসে দুই শত বছর পর, পৃথিবীর প্রথম স্বাধীন মানুষ ৭. পরিসংহার: " .... বিশ্ববাসি, আজ আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদের । আমাদের সামনে অনেক কাজ , আমাদের প্রিয় এই পৃথিবীকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। সবাই ভালো থাকুন সুস্হ থাকুন।" একদম শেষে এসে এ্যালান বলে, "আসল এ্যালানের পক্ষ থেকে আমি ক্লোন এ্যালান "। এই বলে দীর্ঘ বক্তৃতা শেষ করে ব্রডকাস্টিং সেন্টার থেকে বের হয়ে আসে এ্যালান। চারদিকে উৎফুল্ল মানুষের ঢল ! মানুষ আজ মুক্তির আনন্দে পাগল প্রায়। রাস্তায় বের হয়েই এ্যালান দেখে রাইসা দুহাত প্রসারিত করে দাড়িয়ে আছে, তার চোখে বেয়ে ঝরছে জল। এ্যালান এগিয়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলে, "তুমি কি আমাকে কখনো আগের মত ভালোবাসতে পারবে?" কেন ? আমি তো আসল এ্যালান নই, এ্যালানের ক্লোন। কৈ নাতো ! কোন পার্থক্য তো নেই ! তুমিই আমার এ্যালান, শুধু আসল এ্যালান থেকে এক সপ্তাহের ছোট। দুইজনেই হো হো করে হেসে উঠে, রাইসার এই কৌতুকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফিউশন ট্রেকিং ০২(শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now