বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গত কিছুদিন আগে আমার সাথে পরিচয় হয়েছিল আমার ভাইয়ের ফ্রেন্ডের সাথে। সেদিন প্রায় অর্ধেক দিনই আমরা (আমি, ভাইয়া, ভাইয়ার ফ্রেন্ড) একসাথে ঘুরাঘুরি করেছিলাম। সেদিন থেকে তার সাথে প্রায় সময়ই ফোনে কথা হতো। আমি তার প্রতি দুর্বল ছিলাম। মনে মনে তাকে ভালবাসতাম। তবে সে আমাকে সেভাবে দেখত না।
যাইহোক, কোনো একভাবে তার সাথে ভালোবাসায় প্রকাশ্যে জড়িয়ে পড়ি। বেশ চলছিল আমাদের ভালোবাসা। হঠাৎ কিছুদিন আগে সে আমাকে ফেসবুকে মেসেজ দিল:
- বিদায়......
আমি রিপ্লাই দিতেই দেখি রিপ্লাই যাচ্ছে না। বুকটা কেমন জানি করে উঠল। মনে হলো, মনের উপর দিয়ে কোনো এক না থামা ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর তাকে ফোন দিলাম ও ধরে বলল:
- হ্যালো।
- হুম।
- ফোন দিলা যে...?
- আমাকে ব্লক মারছো কেন?
- কোথায়?
- ফেসবুকে.....
- আরে না। আইডি ডিয়েক্টিভ করছি পাগলি।
- তো আমার মেসেজের রিপ্লাইয়ের উত্তর দিয়ে করতা।
- সেই সময় টুকু ছিল না।
- কেন? কি এমন জরুরী ছিল?
-- অনেক ব্যাপার ছিল।
- বলো...?
- আমার স্যার বাড়িতে কমপ্লেন দিয়েছে। হা হা হা
- মিথ্যা বলছো ক্যানো??
- কোথায় না তো...!
- সত্যিটা বলো প্লিজ।
- তোমার ভাই আমাকে মারছে... এবার ঠিক আছে...??
- বিশ্বাস হয় না।
- বিশ্বাস না করলে কিছুই নাই।
- আমাকে কিন্তু ভালো লাগছে না। প্লিজ বলো।
- ভালো লাগছে না তো যাও ঘুমাও। ভালো লাগবে।
- ফাইজলামি বাদ দাও। বলো কি হয়েছিল...?
- আমার সামনে পরীক্ষা তাই।
- আবারো মিথ্যা বলছো?? তুমি আমার সাথে মিথ্যা বলতে পারছো।
- সত্যিই বলছি।
এই কথা বলেই ফোন টা কেটে দিল। আমি বুঝতে পারলাম তার কিছু না কিছু হয়েছে। তবে কি?? মনের ভিতর প্রশ্ন টা কেমন জানি এটে গেল।
অবশেষে তার ফোনে মেসেজ দিলাম:
- কি হয়েছে?
কোনো উত্তর পাই নাই। মনটা আরও কেমন যেন করছে। তখন ভাইয়া কে বললাম:
- ভাইয়া??
- বল
- ওর কি হয়েছে??
- জানি না।
- বল প্লিজ।
- জানি না বললাম তো। (রাগান্বিত)
- তোর সাথে কি কিছু হয়েছে?
- না।
- তাহলে?? তুই ওর বেস্ট ফ্রেন্ড আর তুই জানিস না?
- বললাম তো জানি না।
- আচ্ছা ঠিক আছে। তোর ফোন টা দে?
- কেন?
- দে আগে।
ওর ফোনটা নিয়ে ফোন দিলাম। ধরছিল না। দুই তিন বার ফোন দেয়ার পর ধরল।
- হ্যালো। বল কি হইছে?
- আমি সাদিয়া।
- ও তুমি...!! বলো কি হয়েছে?
- তুমি আমার ফোন কেটে দিয়েছিলা কেন? মেসেজের রিপ্লাইও দাও নি। কারণ কি?
- আমি বলছি তো আমার কিছু হয় নি।
- তবে এমন ব্যবহার করছো ক্যান?
- রাখছি...!!
বলেই কেটে দিল। ভাইয়াও জানতো না আসলে ওর কি হয়েছিল। সেদিন দুশ্চিন্তায় কেটে গেল। সারারাত ঘরে বসে কেঁদেছিলাম। আম্মু টের পেয়েছিল। তবে তেমন কিছুই মনে করে নি। কারণ, জানেই যে আমাদের কিছু হলে তাকে জানাব।
পরদিন সকাল বেলা তার মেসের সামনে গিয়েছিলাম ভাইয়ার সাথে। গিয়ে দেখি সে নাই। আগেরদিন রাতেই সে চলে গেছে। তবে কোথায় গেছে কেউ জানতো না। বাড়ি ফিরে আসি। ফেসবুকে লগইন করে সার্চ দিয়ে দেখলাম তার আইডি এখনো রিএক্টিভ করে নি। ফোন দিলে দেখাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত নাম্বারে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। খুব খারাপ লাগছিল। তবে কি সে আমাকে ছেড়ে চলে গেল। ভাবতেই খুব খারাপ লাগছে। মনে হচ্ছে আর কত কাঁদলে সে ফিরে আসবে।
তার বাড়িতে ভাইয়াসহ তার বন্ধুরা গেলো খোঁজ নিতে। ভাইয়ারা ফিরে আসলো। ভাইয়া খবর দিল সে নাকি তার বাড়িতেও নাই। তবে সে গেলো কোথায়? তার বাবা-মা তখন স্থানীয় থানায় জিডি করেছিল।
কিছু দিন পর আজ সে আমাদের বাড়ির সামনে এসেছিল। আমার রুম থেকে গেটের সামনের সকলকে দেখা যায়। আমি দেখতে পাই তাকে। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পড়নে পাঞ্জাবী, মাথায় টুপি। ভাইয়া কে সাথে নিয়ে বাইরে বের হলাম।
আমি কোনো কথা বলি নি। ও বলল:
- কি ব্যাপার কেমন সারপ্রাইজ দিলাম
ভাইয়া উত্তর দিচ্ছিল:
- কই ছিলি এতদিন?
- ছিলাম একখানে।
- বল কই ছিলি? কত চেষ্টা করেছিলাম তোর নাগাল পাই নাই।
- আরে আমি ইজতেমা তে গিয়েছিলাম।
- আলহামদুলিল্লাহ।
- কি হলো সাদিয়া কথা বলছো না যে।
এবার আমি উত্তর দেয়া শুরু করলাম:
- তুমি আমাকে বললে কি হতো?
- কাউকেই বলি নি।
- তোমার বাবা-মা কে তো বলতে পারতা।
- বলি নি।
- তবে এখন কি হবে?
- কেন?
- তোমার বাবা-মা তো থানায় জিডি করছে।
- ঠিক আছে প্রব্লেম নাই। আজই বাড়ি যাব।
- আমার কি হবে এখন?
- তুমি পর্দা মানো, নামাজ পড়ো, আমি তোমাকে ভালোবাসব। পরিশেষে বিয়ে করব।
এই বলে সে চলে যায়। তার বাস এর সময় হয়ে যাচ্ছিল। ও নাকি বাড়ি যাবে। এতদিন পর আমার মনে শান্তি এসেছে। যাইহোক, এখন থেকে নামাজ পড়া শুরু করেছি। তার সাথে প্রেম আবারো শুরু হয়েছে। আশা করি, বিয়ে হবে। সারাজীবন শান্তি সুখে থাকতে পারব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now