বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফেরা না ফেরা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ফেরা না ফেরা -মাহমুদ হাসান আবাবিল নয়টা বাজতে তখনো পাঁচ মিনিট বাকি। এক গাদা মানুষের ভিড় ঠেলে দেশের সবচেয়ে নামি-দামি প্রাইভেট ব্যাংকের ওয়েটিং রুমে প্রবেশ করল মাসুদ। বসবার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান জায়গার ব্যাবস্থা থাকলেও খালি নেই একটিও, তাই দাঁড়িয়ে থাকাদের দলেই সামিল হতে হল তাকে। পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সকলেই তার মত ভাইভা পরিক্ষায় এ্যটেন্ড করতে এসেছে। গিজ-গিজে মানুষের ভিড় দেখে অনিশ্চয়তার হাওয়ায় দুলতে লাগল মাসুদ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র সাত জন লোক নেয়ার কথা, কিন্তু ভাইভায় এ্যটেন্ড করতে এসেছে অন্তত পক্ষে শ’দুয়েক লোক। সরকারি চাকুরির বয়স পাঁচ-সাত বছর আগেই পেরিয়ে গেছে। তবে এর মধ্যে দু-চারটা প্রাইভেট কোম্পানি আর রিয়েল এষ্টেট কোম্পানির চাকুরি হাত বদল হয়েছে। নতুন ফার্মাসিউটিক্যল কোম্পানির চাকুরিটা তার কাছে মোটেও কম্ফোর্টেবল মনে হচ্ছেনা। দুর্মূল্যের বাজারে সংসার আর ছেলের নতুন স্কুলের খরচ চালানো বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অপর প্রান্তের দেয়ালের ওপর আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে মাসুদ। চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে শুরম্ন করেছে। মাথা ভরা অমাবস্যা বরণ কেশে সাদার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। জীবণ ও জীবিকার পেছনে প্রতিনিয়ত ছুটে চলা চির চেনা যৌবণ যেন বার্ধ্যকের কাছে পরাজয় বরণ করছে প্রতিনিয়ত প্রতি মুহুর্তে। প্রায় আধা ঘন্টা পর একজন ভদ্র মহিলা তার নাম ধরে ডাক দিলেন। - জনাব মাসুদ রানা, পিতা: আবুল কালাম। আয়নায় শেষ বারের মত নিজের চেহারাটা যাচাই করে নিল মাসুদ। বিস্কিট কালার শার্টের সাথে ম্যাচিং করা টাই টা ডান হাতে ঝাকিয়ে নিল কয়েকবার। - দেখতে একেবারে ব্যাংকের ম্যানেজার ম্যানেজার মনে হচ্ছে। সেলফ্‌ কনফিডেন্স বাড়াতে বিড় বিড় করে বলল মাসুদ। হাত ব্যাগে অভিজ্ঞতার নথি-পত্র নিয়ে ধীর পায়ে ভাইভা রুমে প্রবেশ করলো সে। মস্তবড় রুমের ভেতরে পুরোটাই পরিপাটি করে সাজানো। মাঝ বরাবর রাখা টেবিরের ওপাশে বসে আছেন তিন জন মানুষ। ডান পাশে একজন সু-দর্শণ পুরুষ। বাম পাশের চেয়ারে বসা ব্যাক্তির বয়স অপেক্ষাকৃত বেশি। মাথা ভর্তি পাকা চুল শুধু বয়সই নয় ঝুলি ভরা অভিজ্ঞতার বিষয়টাও নিশ্চিত করে। সব শেষের চেয়ারটায় বসে আছেন মোটা কাঁচের চশমা পরা একজন ভদ্র মহিলা। মহিলার চোখে চোখ পড়তেই হাজার ভোল্টের শক খেল মাসুদ। শরীর মৃদু কাঁপতে শুরু করেছে। পায়ের নিচ থেকে যেন ক্রমেই মাটি সরে যাচ্ছে। - আপনি বসতে পারেন। সাবলিল কন্ঠে প্রস্তাব করলেন সু-দর্শন ব্যাক্তি। - thank you sir কাঁপা কন্ঠে জবাব দিয়ে সামনে রাখা আসনে বসলো মাসুদ। রুমের মধ্যে এসির ঠান্ডা বাতাস, তারপরও বিন্দু বিন্দু ঘামতে শুরু করেছে সে। - হাফ ডজন কোম্পানি ফেরত মি.মাসুদ রানা, তা ছেলে মেয়ে কটা ? - জি মানে, একটি মাত্র ছেলে। কিন্তু তুমি...না মানে আপনি এখানে ? - I am miss nilufa yeasmeen, managing director of this bank. - মিস নিলুফা ইয়াসমিন... মানে তুমি এখনো বিয়ে করোনি..? - দেখুন মিষ্টার রানা, This is not your home so mind your language please ! - I am sorry! আগের থেকে বেশি ঘামতে শুরু করেছে মাসুদ। - চাকুরিটা কি আপনার খুব বেশি প্রায়জন ? এবার মুখ খুললেন মাঝের ব্যাক্তিটি। - না.. মানে জি স্যার। - U may go now. অিন্যদিকে দৃষ্টি মেলে খানিকটা কাঁপাকন্ঠে বললেন মিস. নিলুফা। মিস. নিলুফার চোখে কাঁচের মত স্বচ্ছ জলের অসিত্মত্ব দেখতে পেল মাসুদ রানা। ততক্ষনে রুম ছাড়তে উঠে দাঁড়িয়েছে সে। সকাল এগারটা নাগাদ ঘুম ভাঙতে সময় লাগলো মাসুদের। বাইরে মুষললধারে বৃষ্টি হচ্ছে, বারান্দায় এসে বুঝতে পারল বাজ পড়ার শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেছে, নাহলে আরো কিছুক্ষন ঘুমানো যেত। বারান্দায় রাখা হাতল ভাঙা চেয়ারটাতে বসে কয়েক বারের চেষ্টায় সিগারেটে আগুনের পর দিল। বৃষ্টি ভেজা ঝাপটা বাতাশও যেন সহধর্মিনী রেবেকার মতই মাদক বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছে। বৃষ্টির ঠান্ড হাওয়ায় সিগারেটের ধোঁয়াঘুলো দ্রুত মিলিয়ে যাচ্ছে। মাসুদের স্মৃতির ধূসর চাদরে ভেসে উঠছে টুকরো টুকরো কিছু অতীত। নিলুফাকে আদর করে নিলু ডাকতো মাসুদ। তার সাথে শিক্ষা জীবণের তিন-চার বছরের ফেরা না ফেরা স্মৃতি এখনো মাসুদের পিছু তাড়া করে ফেরে। সেবার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে কেবল নিলুই ফার্স্টক্লাশ পেয়েছিল। যৌতুক দেয়ার মত অবস্থা নিলুর বাবার ছিল না। কিন্তু মাসুদের বাবাও ছিল যৌতুক নেয়ার ক্ষেত্রে অনড়। বাবার কথা অমান্য করার মত দুঃসাহস মাসুদের ছিলনা। তাই সেদিন নিলুর অকুন্ঠ-অফুরন্ত ভালবাসা তাকে নিলুর কাছে ফেরাতে পারেনি। পিতৃ ভক্তির দায়বদ্ধতায় বন্দি হয়ে লৌহ মানবে পরিনত হওয়া মাসুদের ভাববার সময় হয়নি, সে যা করছে তা ভুল না সঠিক। এই তো সেদিনের কথা, নিলুর কোমল হাতজোড়া মাসুদের হাতেই ছিল। সুজন মামার চায়ের ষ্টলে বসে কেটে যেত কত প্রহর কত বেলা। নিলু তার জন্য প্রতিদিন সাদাকাগজের বুকজুড়ে ভালবাসার নকশি কাঁথায় একটা করে চিঠি হলুদ খামে তার পকেটে গুঁজে দিত। মাসুদ প্রতিদিনই সেই চিঠির উত্তর দেবার প্রতিশ্রুতি করলেও শেষ পর্যন্ত উত্তর দেয়া হতনা। সেই নিলুর সাথে এভাবেই হঠাৎ দেখা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলনা মাসুদ। নিলুর ভালবাসার কাছে কি হেরে গেছে মাসুদ ? তা না হলে নিলু আজও বিয়ে করেনি কেন ? বিষয় গুলো ভীষণ ভাবে ভাবিয়ে তুলেছে তাকে। - কি হয়েছে তোমার বলতো ? রাতেও তো ঘুমাওনি মনে হয়। খিচুড়ী রান্না করেছি, ঠান্ড হয়ে যাচ্ছে চল। - কখন থেকে বৃষ্টি হচ্ছে রেবেকা ? - এইতো একঘন্টা মত হবে। আর হ্যা, কাল তুমি যে ব্যাংকে ভাইভা দিতে গেছিলে সেখান থেকে একটা চিঠি এসেছে। এক মিনিট দাঁড়াও আমি নিয়ে আসছি। রেবেকার হাত থেকে খামটা চিলের মত ছোঁ মেরে নিজের হাতে নিল মাসুদ। ভেতর থেকে বেরিয়ে এল মাসুদের জয়েনিং লেটার। ধূসর চোখে নিজের জয়েনিং লেটারের দিকে চেয়ে থাকলো মাসুদ। - কি হল অমন হাঁ করে কি দেখছো ? আমি জানতাম চাকরিটা তোমার হবেই। মাসুদের মুখে একটা ফ্যাকাশে হাঁসি দেখতে পেল সহধর্মিনী রেবেকা। - কি হল এমন মরার মতন হাসছো কেন ? রেবেকার প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে জয়েনিং লেটারটা দুহাতে টুকরো টুকরো করে বৃষ্টির মধ্যে মেলে ধরলো সে। ফেরা না ফেরা কিছু স্মৃতি তাকে আঘাত করতে লাগলো অনবরত। - এটা তুমি কি করলে ? অবাক দৃষ্টিতে মাসুদের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে রেবেকা। ততক্ষণে মাসুদের দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। এবারও কোন উত্তর করলো না সে। এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো বর্ষণ মুখর কাল আকাশের দিকে। যদিও সে বর্ষণ তার বুকের ভেতরের বর্ষণের মতন ভারী নয় তবুও যেন বাইরের কাল আকাশের থেকে বেশি ভারী উঠছে তার বুকের ভেতরটা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অন্তরের নীড়ে ফেরা
→ হাদিসের আলো-১ (ফেরা)
→ ঘরে ফেরা
→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) ফেরাউনের গুপ্তধন (দ্বিতীয় অংশ)
→ ক্রুসেড সিরিজ (৮) ফেরাউনের গুপ্তধন
→ মধ্যবিওের বাড়ি ফেরা
→ ফেরাউনের গুপ্ত ধন 6
→ ফেরাউনের গুপ্ত ধন5
→ ফেরাউনের গুপ্ত ধন 4
→ ফেরাউনের গুপ্ত ধন 3
→ ফেরাউনের গুপ্ত ধন 2
→ ফেরাউনের গুপ্ত ধন
→ মিশরের রাজা ফেরাউন এর ঘটনা দ্বিতীয় পর্ব
→ মিশর এর রাজাজ ফেরাউন এর ঘটনা প্রথম পর্ব
→ "না ফেরার দেশ"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now