বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
[গল্পটির শেষাংশ]
.
বৈকালীঃ আমার কোন অভিযোগ-আবদার নেই। জীবনে আমি আর কিচচ্ছু চাই না। আমি যা চেয়েছিলাম আজ পেয়ে গেছি।
[চোখ মুছতে মুছতে বৈকালীর প্রস্থান]
‘তিন’
আমি লাবণ্য’র আগ্রহভরে বলা কথাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করে দেখি আমার হাতে চায়ের কাপ। কখন চা এসেছে, আমি হাতে নিয়েছি... ঠাওর করতে পারছি না! চায়ে চুমুক দিয়ে দেখি ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। যাক এই শরত-হেমন্তের মাঝ-বিকেলে লাবণ্য সুন্দরীর জন্য এক কাপ গরম চায়ের ধোঁয়া বিসর্জন দেয়াই যায়! গল্পের বৈকালীর মত সরল বালিকাটিকে ঠাণ্ডা চা উৎসর্গ করে আবার আলাপ শুরু করে দিলাম।
-হুম। তাহলে বিয়েটা ঠিকই আছে কি বলেন? আফটার অল, অন্যের চাহিদা পূরণ। ‘পুস্প আপনার জন্য ফোটে না’ টাইপ আর কি!
-হুম। সেটাই। যাই হোক, আপনার চায়ের জন্য ধন্যবাদ। মিঃ স্বপ্নবাক সামনেই আমার স্টেশন, আমাকে নামতে হবে। আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগল। এই কার্ডটি রাখুন। কখনো মনে পড়লে চলে আসবেন। রঙ চা খেতে খেতে কথা বলা যাবে। আপনি চাইলে কফিও খাওয়া যাবে। ম্মম... আপনি কেমন কফি পছন্দ করেন, ডার্ক-মাইল্ড-কোল্ড...?
-আমি কফি পছন্দ করি না। আমার রং চা পছন্দ, অল্প চিনি-হালকা লিকার। ট্রেন থেমে গেছে। আপনাকে বিদায়ী সম্বোধনে কি বলব মিস লাবণ্য নাকি মিসেস লাবণ্য?
-মিস লাবণ্য। আমি অবিবাহিতা।
-আচ্ছা, মিস লাবণ্য যদি রিয়েল লাইফে স্বপ্নবাক’র সাথে সাক্ষাৎ হয় তবে তাকে দেয়ার মত আপনার কোন মেসেজ কি...
-হ্যাঁ আছে, তাকে বলবেন আমি রিয়েল-লাইফ বৈকালী হতে চাই। অন্তত একটি বারের জন্য হলেও!
আপাতত বিদায়।
-বিদায়। যদি বেঁচে থাকি সৃষ্টিকর্তা চাইলে আমাদের আবার সাক্ষাৎ হতে পারে। প্রার্থনায় রাখবেন। শুভকামনা।
লাবণ্য চলে গেলো। পাগলের মত ছুটল ট্রেন। চিৎকার করতে করতে একেবেঁকে সরু সর্পিল পথে চলল। প্রায় চার ঘণ্টা পাশাপাশি বসে ছিলাম দুজনে আমরা। অথচ চিন্তায় চেতনায়, জানায় ভাবনায় দুজনের দূরত্ব ব্যাপক। সে তার স্বপ্নের নায়ক স্বপ্নবাককে চিনতে পারেনি। স্বপ্নবাকও স্বেচ্ছায় বিসর্জন দিল লাবণ্য নামের অতি রূপসী বৈকালীকে। জীবন তবু থেমে থাকবে না। হয়ত স্বপ্নবাকের জীবনে কোন বৈকালী নেই কিংবা ছিল না, হয়তো থাকবেওনা তবু স্বপ্নবাক মরে যাবে না। বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে। হয়তো লাবণ্যরা কোনদিনই স্বপ্নবাকের দেখা পাবে না, হয়ত বৈকালী হওয়ার স্বপ্ন তাদের চিরকাল স্বপ্নই থেকে যাবে। তবু লাবণ্যদের জীবন গতি হারাবে না। গন্তব্যহীন ট্রেনের মত বন বনানী ফেলে ছুটে চলতে থাকবে অনন্ত সীমান্তে।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now