বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-আচ্ছা আপনার নামটা জানতে পারি কি?
-লাবণ্য। লাবণ্য হায়দার। আপনি?
-আপনি যে গল্পটি পড়ছেন তার কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কি?
-স্বপ্নবাক। চমৎকার একটি গল্প। পড়ে দেখতে পারেন।
-আমি স্বপ্নবাক। চমৎকার গল্পটির নায়ক।
-নাম না বললে নেই। ঠাট্টা করার কি আছে? তবে স্বপ্নবাকের সাথে আপানার কিছু ক্ষেত্রে মিল আছে অবশ্য...
-তাই নাকি? যেমন— ?
-গল্পটি পড়লে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। (মেয়েটির সরল মৃদু হাসি)
-গল্পটি পড়া হবে কিনা জানি না। আপনি চাইলে গল্পটি পড়া শেষ হলে আমাকে কাহিনী-সংক্ষেপ বলতে পারেন।
-গল্পটি পড়া শেষ আমার। আপনি চাইলে এখনই বলা শুরু করতে পারি।
-লাবণ্য আপনি কোনটি পছন্দ করেন চা নাকি কফি?
-চা, কম চিনিতে হালকা লিকারের রঙ চা।
ট্রেনের সেলসকে আমি দুটো রঙ চা আনতে বললাম।
-স্বপ্নবাক নিশ্চয় কফি পছন্দ করেন?
-না, মোটেও না। তিনি রঙ চায়ের গ্রাহক। তাঁর স্ত্রী বৈকালী সকাল-বিকাল মগভর্তি কফি খেতে পছন্দ করেন।
-স্বপ্নবাকতো বিবাহিত। আপনার এ ব্যাপারে কোন মনোকষ্ট আছে কি?
-না। তা নেই। তবে আফসোস এইটুকুই যে তিনি তাঁর প্রেমিকা তন্দ্রাকে হারিয়েছেন। স্বপ্নবাক এমন একটি চরিত্রের নাম যাদের কিনা সারা জীবনে মনের সব আশা পূরণ হওয়া উচিৎ।
-কিন্তু চরিত্রটিতো কাল্পনিক। আশা পূরণে কিংবা বিসর্জনেইবা কি আসে যায়?
-হুম। সেটা ঠিক, তবে বাস্তবের স্বপ্নবাকদের সকল আশা পূর্ণ হোক এই কামনা করি।
-হুম। আমীন। আচ্ছা, বৈকালীকে স্বপ্নবাকের বিয়ে করাটা ঠিক হয়েছে বলে মনে করছেন কি আপনি?
-এই যে মিঃ দাবাড়ু, আপনি গল্পের কাহিনী জানেন? আমিতো আপনাকে ঘটনাটি বলিইনি। ঠিক বেঠিকের কি বুঝবেন? আউলা ঝাউলা প্রশ্ন করতেছেন কেন?
-ওকে। নো মোর কোয়েশ্চেন। বাট আই টোল্ড ইউ টু কল মি স্বপ্নবাক। ইটস এ্যা নাইস নেইম।
-স্বপ্নবাক বৈকালীকে বিয়ে করতে চায়নি। স্বপ্নবাক তন্দ্রার স্মৃতি নিয়ে বেশ পার করে দিচ্ছিলেন জীবন। বৈকালী স্বপ্নকে পচ্ছন্দ করতেন। তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। স্বপ্ন ফিরিয়ে দিলে বৈকালী স্বপ্নকে বলেন যে,‘প্রিয়জনকে না পাওয়ার বেদনা আপনি আমার চেয়ে ভালো বোঝেন। আপনাকে না পেলে আমার যে অপূর্ণতা, আমার যে না পাওয়ার বেদনা, হৃদয়ের অতৃপ্তি সেই দিক বিবেচনা করে হলেও অন্তত আমাকে ফিরিয়ে দিয়েন না।’ আমি আপনাকে পরবর্তী কথোপকথনটি পড়ে শোনাচ্ছি—
স্বপ্নঃ তোমাকে আমি হয়তো বিয়ে করতে পারব। সমাজে তুমি আমার স্ত্রী হবে। কিন্তু বৈকালী, হৃদয়ে যে তুমি কিছুই পাবে না। আমি যে কাঙাল, নিঃস্ব। আমি যে তোমায় সেই অমূল্য ভালোবাসা দিতে পারব না।
বৈকালীঃ সে আমি জানি। কিন্তু আপনি যে আমায় কষ্ট দিবেন না সে আমি হলফ করে বলতে পারি। আপনি যে আমায় ঘৃণা করবেন না— সে ই আমার জন্য ভালোবাসা। আপনার কাছ থেকে হাসিমুখে দুটো কথা শুনবার ইচ্ছে আমি নাহয় কবর দিলাম, আপনার মলিনমুখের অনুরোধ কিংবা নিষেধ শুনবার জন্যে হলেও পাশে থাকার সুযোগ অন্তত দিন। সত্যি বলতে কি আপনার ভালোবাসার গভীরতায় ডুবসাঁতারের যোগ্যতা এ যুগের নারীদের নেই। আমি আপনার ভালোবাসা নাহয় নাই পেলাম, চাই শুধু আমায় ঘৃণা না করুণ। আর আমি জানি, স্বপ্নবাক’রা ঘৃণা করতে জানেনা। তাঁদের জন্মই হয় মানুষকে ভালোবাসার জন্য। আমাকে আপনার চরনে শুধু একটু ঠাঁই দিন।
স্বপ্নঃ আমার চিরকালের সাধ পূরণ হল না। তাই বলে তোমার প্রত্যাশা আমার স্মৃতির চোরাবালিতে তলিয়ে যাবে সে আমি চাই না। জগতে একজনের আকাঙ্ক্ষা হলেও পূরণ হয়েছে আমার জন্য –এই তৃপ্তি নিয়ে মরণের কোলে ঘুমুতে চাই। কিন্তু আমি তোমাকে একটি বিষয় বলে নিচ্ছি, কখনো যদি আমার আচরণে তোমার মনে হয় যে আমি তোমার প্রতি অন্যায় করছি তুমি অবশ্যই আমাকে খোলামনে জানাবে। আমি তোমার সকল আবদার রক্ষার চেষ্টা করব। কিন্তু ভালবাসতে পারব কিনা তা জানিনা, দয়া করে এই আবদারটি কর না।
বৈকালীঃ আমার কোন অভিযোগ-আবদার নেই। জীবনে আমি আর কিচচ্ছু চাই না। আমি যা চেয়েছিলাম আজ পেয়ে গেছি।
[চোখ মুছতে মুছতে বৈকালীর প্রস্থান]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now