বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এতদিন কোথায় ছিলে!—০১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এতদিন কোথায় ছিলে! —হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম ‘এক’ মধ্য বর্ষার ভরদুপুরে ভারী বর্ষণের সময় দিঘীর পাড়ে বসে বৃষ্টির ঝপাঝপ শব্দ শুনতে আমার বেশ লাগে। দিঘীর চারপাশে গাছ-গাছালীর পাতা থেকে টপাটপ জলের ফোঁটা পড়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য— অসাধারণ! হঠাৎ এই মুহূর্তে দিঘীর কথা কেন মনে পড়ছে জানি না। আর এখন বর্ষাকালও নয়। মাঠময় শরতের শিশিরভেজা কাঁচা ঘাস পেরিয়ে হেমন্ত ছুঁই ছুঁই করছে। পথের দু’ধারের বাতাসের তোড়ে ছুটোছুটি করতে থাকা সব ফসল সোনারঙ্গা হয়ে উঠবার অপেক্ষায়... এসব ভাবছি আর জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখছি মানুষের সমৃদ্ধি! -এই যে একটু সরে বসুনতো! একটি নারীকণ্ঠ, আমি ফিরে তাকালাম। -আমাকে বলছেন? -হ্যাঁ আপনাকেই বলছি, একটু ওদিকে চেপে বসুন। -জ্বী, অবশ্যই। আমি জানালা ঘেঁষে বসলাম। আগের মত বাইরে তাকালাম। তবে এখন আর মাথায় দীঘি নেই। কিছুক্ষণ আগে যেই মহিলার সাথে কথা বলছিলাম তার কণ্ঠস্বর কর্ণভেদ করে মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। অত্যন্ত তীক্ষ্ণ কণ্ঠ, তীরের ফলার মত এসে শ্রবণেন্দ্রিয়ে আঘাত করে! তার শরীরের গড়ন ভালো, রূপবতীও বটে। তবে রূপের বর্ণনা দিব না। এই জগতে রমণীর রূপ বড়ই সর্বনাশা ভয়ংকর! হঠাৎ খেয়াল করলাম যে চায়ের দোকানটা পেছনের দিকে ধেয়ে সরে যাচ্ছে, বুঝলাম ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে। পাশের সিটে রমণীটির তল্পিতল্পা দেখা যাচ্ছে অথচ তার খোঁজ নেই। ভাবছি, যত দেরি করে আসে ততই ভালো। এসে দেখা যাবে আবার বলে বসবে যে, একটু অন্যত্র গিয়ে বসুনতো— এখানে আমি বসব আর আমার তল্পিতল্পা বসবে! নিজের অজান্তেই ফিক করে হেসে ফেললাম। আমি গুনগুনিয়ে গান করছিলাম অমনি উনি এসে হাজির। গোছগাছ করে বসলেন, একটা বই খুলে পড়ার চেষ্টায় রত হলেন। আমাদের পেছনের সিটগুলোতে চারজন ছেলে মুখোমুখি বসে প্লেয়িং কার্ড খেলছেন এবং হিরোয়িক স্টাইলে বিড়ি ফুঁকছেন। আমি সহ্য করতে না পেরে পেছন-ঘুরে তাকালাম। -ভাইয়েরা বিড়ি না ফুঁকলে আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম। -ভাইজান, এইটা বিড়ি না। সিগারেট। মালব্রো। ভালো ব্র্যান্ড। (প্রথমজন) -ভাই তর্কে যাব না, বিড়ি হোক চাই সিগারেট কিংবা অমৃত। নিকোটিনের গন্ধ আমার অসহ্য লাগে তাছাড়া জিনিষটা অত্যন্ত ক্ষতিকর; আপনার, আমার— সবার জন্যই। -ভাই এইটা ছাড়া গেইম অব ট্যালেন্টস জমে না, কার্ড খেললে নিকোটিন পূর্বশর্ত। (দ্বিতীয়জন) -ভাইজান এই তথ্য কি উইকিলিকস ফাঁস করেছিল? কত তারিখে বলবেন কি দয়া করে? -আপনি জানেন না ফিফটি-টু কার্ডে চাই মালব্রো বেনসন আর চেস-বোর্ডে গোল্ড-লিফ জনসন? (তৃতীয়জন) -আচ্ছা, আপনি দাবাও খেলতে পারেন নাকি? দাবাড়ুদের বিড়ি খাওয়াতো মোটেও উচিৎ নয়। ধূমপানে মেধা নষ্ট হবার সম্ভাবনা প্রকট। -আপনি চাইলে একটা ডিল করা যায়, যদি ওকে (চতুর্থজনকে দেখিয়ে) দাবায় হারাতে পারেন তবে পুরো জার্নিতে আমরা ধূমপান পরিহার করব। (দ্বিতীয়জন) (চার জনের চোখে মুখেই কটাক্ষের অভিব্যক্তি) আমি চতুর্থজনের দিকে তাকালাম, লক্ষ্য করলাম খুব করে। বুঝলাম সে স্বল্পভাষী এবং বাকীদের তুলনায় মেধাবী। চেলেঞ্জটা সহজ হবে না জেনেও রাজি হয়ে গেলাম। -আমি চুক্তিতে রাজি। (আমি ব্যাগ থেকে দাবাটা বের করলাম) এক্সকিউজ মি, আমাকে বেরুতে হবে। রমণীটি সুন্দর একটা হাসি দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন, -বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় আমার এলার্জি আছে, একদম অপছন্দ করি। আপনার আপত্তি না থাকলে আগে আমি খেলতে চাই তার সাথে, একই শর্তে। -আগে তাদের সাথে কথা বলে নেই কেমন? আপনি আপাতত বসুন। আমি এগিয়ে গেলাম। তাদের সবার সাথে পরিচয় হল। প্রথমজন ইমতিয়াজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। দ্বিতীয়জন আলমগীর, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। তৃতীয়জন বুয়েটে, সিভিলের ছাত্র নকুল বিশ্বাস। চতুর্থজন ঢাবি’র গণিত বিভাগের ছাত্র কল্যাণ বসু। চারজনের বাড়িই উত্তরবঙ্গে। ঢাকায় তারা পড়াশুনা করেন। আমি তাদের সাথে চুক্তি সম্পূর্ণ করে নিলাম। প্রথমে আমার পাশের সিটের ভদ্রমহিলা খেলবেন, হেরে গেলে পরে আমি। আমার শর্ত তারা নিঃশর্ত মেনে নেয়নি, একটা আবদার জুড়ে দিয়েছেন। যদি আমরা দুইজনই হেরে যাই তবে তাদের এক প্যাকেট মালব্রো কিনে দিতে হবে। আমি অধিক আত্মবিশ্বাসহেতু রাজি হয়ে গেলাম। আমি রমণীকে ইশারায় ডাকলাম, চেসবোর্ড বসল, কল্যাণ বসু প্রস্তুত— খেলা শুরু হয়ে গেল। দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরে রমণী চেকমেইটে পতিত হলেন। এবার আমার পালা। খেলা শুরুর আগেই অবশ্য আমি টাকা ভাঁজ করে রেখেছি। খেলা শুরুর মাত্র দশ মিনিট পরেই গেইম স্টিলমেট হয়ে গেল। তৃতীয় গেইমে কাঙ্ক্ষিত জয় পেতে আমার সময় লাগলো দীর্ঘ ঊনত্রিশ মিনিট। আলমগীর বললেন, এতো ভালো দাবা খেলেন যিনি তার নামটা জানতে পারি? আমি মুচকি হেসে, জ্বী। তার নাম দাবাড়ু। কল্যাণ বসু ‘অভিনন্দন’ বলেই হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমার সাথে হ্যান্ডশেক করল। আমি এবং রমণীটি এসে আমাদের যার যার সিটে বসলাম। আমি তখনো মৃদু হাসছিলাম। -মিঃ দাবাড়ু, আপনি কি জানেন যে আপনার হাসি অনেক সুন্দর? আর চমৎকার ঢঙে কথা বলেন আপনি। অসাধারণ! সত্যি বলছি আমি মুগ্ধ!! আমি এবার রমণীটির দিকে ভালো করে তাকালাম, তার হাতের বইটিও খুব করে লক্ষ্য করলাম। আশ্চর্য হলাম, তার হাতে আমার লেখা বই। কিন্তু এ বিষয়ে আমি নীরবতা পালন করলাম। -আপনি আবার আমাকে হাসতে দেখলেন কখন? -আপনি যখন দাবা খেলছিলেন তখন সমস্ত মনোযোগ একত্র করে আমি আপনাকে দেখছিলাম। আপনার আচরণ খুব পরিচিত মনে হচ্ছিল। -অও আচ্ছা, তাই বলুন। তবে আপনাকে একটা গোপন তথ্য দেই, আমার চোখে যাদু আছে। আপনি আসলে আমাকে দেখেন নি, এই চোখ আপনাকে মনোযোগ দিতে বাধ্য করেছে। এই চোখে যত কম তাকাবেন ততই মঙ্গল। -আসলেইতো! আপনার চোখ দুটি অদ্ভুতরকমের সুন্দর, খেয়ালই করিনি!! -বাই দি ওয়ে। আমি জীবনে মহিলা দাবাড়ু খুব কম দেখেছি, আপনি বেশ ভালো দাবা খেলেন। আমি এখন এই যাদুকরী চোখ দুটি বন্ধ করে তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার চেষ্টা করব। আপনি বরং বই পড়ুন। আমি চোখ বন্ধ করলাম। চোখের সামনে ভেসে উঠলো আমার পাশে বসা নীল রঙের শাড়ি পরিহিতা ঝলমলে সুন্দর রমণীটি। এবারে আমি তার নীল রঙের শাড়ি পড়ার একটা কারণ উদ্ধার করতে পেরেছি। আমার প্রিয় রঙ নীল, তাই আমার লেখা গল্পের কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্রের মানুষটিরও প্রিয় রঙ নীল। মেয়েটি সম্ভবত আমার বই পড়ে স্বপ্নবাকের প্রেমিকা নীল রঙের শাড়ি পরিহিতা তন্দ্রাবিলাসী সেজেছেন। ভাবতে ভাবতেই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। ‘দুই’ প্রায় চল্লিশ মিনিট পর আমার ঘুম ভাঙলো। পাশে তাকিয়ে দেখলাম মেয়েটি এখনো বই পড়ছে। অনেক সময় ধরে পাশাপাশি বসে আছি, কথাও হয়েছে দুজনে অথচ আমি এখনো পর্যন্ত তার নামটা জানি না। মেয়েরা বোধয় এমনই, স্বেচ্ছায় মুখ ফুটে কিছু বের হয় না। সরাসরি জিজ্ঞেস না করে উপায় নেই। -আচ্ছা আপনার নামটা জানতে পারি কি? -লাবণ্য। লাবণ্য হায়দার। আপনি? -আপনি যে গল্পটি পড়ছেন তার কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কি? -স্বপ্নবাক। চমৎকার একটি গল্প। পড়ে দেখতে পারেন। -আমি স্বপ্নবাক। চমৎকার গল্পটির নায়ক।... ... ... -নাম না বললে নেই। ঠাট্টা করার কি আছে? তবে স্বপ্নবাকের সাথে আপানার কিছু ক্ষেত্রে মিল আছে অবশ্য... -তাই নাকি? যেমন— ? ... ... ... [আংশিক]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এতদিন কোথায় ছিলে!—০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now