বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এটা তো গোপন কিছু না

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ‘এটা তো গোপন কিছু না জনাব। আপনি স্কুল করবেন ভেবে খুব ভালো লাগছে। এই জায়গার প্রথম মালিক মাস্টার সাহেবও স্কুল বানাতে চেয়েছিলেন। তিনি একদিন কথায় কথায় বলেছিলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সুর তুলে পড়বে- অ-তে অজগরটি আসছে তেড়ে, আ- তে আমটি আমি খাব পেড়ে, এসব শেষ করে তারা একসঙ্গে গান গাওয়ার মতো করে বলবে- সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলিঃ। আনন্দে বুকটা ভরে যাবে, সুখের আবেশে চোখ দুটো বুজে আসবে আমার।’ ‘মাস্টার সাহেবের কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে আমার। এভাবে মারা গেলেন তিনি!’ ‘কে বলল মারা গেছেন! এখনও বেঁচে আছেন তিনি।’ ‘বেঁচে আছেন!’ ‘হ্যাঁ, বেঁচে আছেন। এখনও মাঝে মাঝে অনেকে দেখতে পান তাকে। ভোর রাতে, সন্ধ্যায়, এমনকি মধ্য দুপুর বেলায়। তারা দেখেন- কালো চশমা চোখে, গলায় মাফলার জড়িয়ে মাস্টার সাহেব তার এ জায়গাটায় পায়চারী করছেন আর শব্দ করে কাঁদছেন। কিছুক্ষণ থাকার পর বাতাসে পা মেলে চলে যাচ্ছেন।’ লোকটি হাসি হাসি মুখ করে বললেন, ‘এরপর থেকে তিনি হয়তো আর কাঁদবেন না, স্কুল না করতে পারার দুঃখটা চলে যাবে তার। তিনি করতে না পারুক, আপনি তো করছেন। মহৎ কাজ যে-ই করুক, সেটা মানুষের কল্যাণের জন্যই তো।’ ‘আমার বিশ্বাস হচ্ছে না আপনার কথাটা। মৃত মানুষ এভাবে আসবে কীভাবে! তাও আবার কালো চশমা আর গলায় মাফলার জড়িয়ে!’ ‘কালো চশমাটা তিনি পরেন যাতে তার ওপরে ফেলা চোখের জায়গাটা কেউ দেখতে না পায়, আর মাফলার পরেন তার কাটা গলাটা যেন কেউ দেখতে না পায়। দুটো জিনিসই খুব বিভৎস আর ভীতিকর তো!’ ‘আমার কেন যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। কালো চশমা, মাফলার, বাতাসে পা মেলে চলে যাওয়া- খাঁটি একেবারে ভূতের গল্প। ভূত বলে কিছু আছে নাকি!’ লোকটাকে এখন সত্যি সত্যি ধূর্ত মনে হচ্ছে আমার। ‘আপনার সত্যি বিশ্বাস হচ্ছে না!’ আমার সামনে থেকে উঠে দাঁড়ান লোকটি। আলতো করে চোখ থেকে চশমা আর গলা থেকে মাফলারটা খুলে ফেলেন তিনি। পুরোপুরি স্থির হয়ে যাই আমি- চোখের জায়গা দুটো শূন্য, গলাটাও দু’ভাগ হওয়া। আমার দিকে এক পলক ঘুরে, একটু হেসে চলে গেলেন বাতাসে পা মেলে, মিলিয়ে গেলেন ছায়ার মতো। আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এটা তো গোপন কিছু না

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now