বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এরই নাম ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X বাসায় আসতে একটু লেইট হচ্ছিল।সাড়ে নয়টা বেজে গেছে।এখনো এলিফ্যান্ট রোডেই জেমে আটকে আছি।আম্মু এই নিয়ে পাচঁবার ফোন করল।।এখনো আমাকে নিয়ে কত্ত টেনশন তার।।দুনিয়ার মা গুলো মনে হয় এমনি হয়।সন্তানের জন্য তাদের বিশেষ বিশেষ সময়ে টেনশন হয় না।বছরের বার মাস,মাসের ত্রিশ দিন,দিনের চব্বিশ ঘন্টাই তাদের টেনশনের অন্ত নাই।ফোন ভাইব্রেট করছে।।------- -- হ্যা আম্মু,বল। -- কিরে কোথায় তুই,,এতো দেরি করছিস যে?? --জ্যামে আটকে আছি,অনেকটা বিরক্তি নিয়েই বললাম। -- সাবধানে আসিস,,আর কোথাও দেরি করিসনা। -- আচ্ছা বলেই রেখে দিলাম। খাওয়া শেষ,শুতে যাবো এমন সময় আম্মু রুমে আসল। --ফারজানাকে কিছু বলেছিস?? বিকালে বারান্দায় কাদছিল,,জিজ্ঞেস করায় কিছু বলেনি।। -- না না আম্মু।তেমন কিছু হয়নি।এটা নিয়ে টেনশন করার দরকার নেই।আমি খুব টায়ারড।ঘুমাব। --আচ্ছা ঘুমা। ফারজানা আমার স্ত্রী।পাঁচমাস হলো বিয়ে করেছি।কাগজে কলমেই সে আমার স্ত্রী।মায়ের পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করেছি।না করেই বা কি করব,যাকে ভালবেসেছিলাম সে যে আজ অন্যের সংসার সাজাতে ব্যস্ত।এখনো মনটাকে রুহী থেকে ফারজানাতে রিপ্লেস করতে পারিনি। আমরা তখন ভার্সিটির ফাইনাল ইয়ারে।।বিয়ের বাজারে থার্ড আর ফোর্থ ইয়ারের মেয়েদের ভীষন চাহিদা।রুহীর এক কাজিনের সাথে বিয়ের কথা চলছিল রুহীর।একদিন বিকেলে দেখা করতে বলল রুহী।আমিও ভাবছিলাম ও বিয়ে নিয়েই সিরিয়াস কিছু বলবে।।যাওয়ার পর কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ ছিলাম।আমিই নিরবতা ভেঙে বললাম------- -- বিয়েটা করছ তাহলে?? -- এটা ছাড়া আর আমার কোনো উপায় নেই।আর বাবার কথা ফেলতে পারব না।তাছারা তোমার সেটেলড হতে আরো কয়েক বছর লাগবে।তিন চার বছরতো বাবা মা আমাকে বসিয়ে রাখবে না।বাস্তবতা বুঝার চেষ্টা করো ইফতি।এই রিলেশানটা একদিন না একদিন এমনিতেই ভেঙে যাবে।পরে কষ্ট পাবার চাইতে এখনই পেয়ে নাও।ওভারকাম করতে ইজি হবে তোমার।আর বাবা মা তো আমার খারাপ চাবে না কখনই।নিশ্চই আমার ভালোটাই তারা করছে।।একটানা কথাগুলো বলে থামল রুহী। সেদিন আমি অন্য সবার মতো কাদো কাদো হয়ে বলিনি-আমার সাথে এমনটা করতে পারো না রুহী,তোমাকে ছাড়া আমি বাচব না।সেদিন আমি বীরপুরুষের মতো ' বেস্ট অফ লাক,ম্যা গড ব্লেস ইউ' বলে ঘাড়টা লম্বা করে চলে এসেছিলাম।। এরপর থেকে মেয়ে জিনিসটার প্রতি এতো ঘৃনা জন্মেছে যা আজও কমেনি।বিশ্বাসতো দুরের কথা মেয়ে দেখলেই মনে হতো কোনো বিশেষ এক জন্তু যার কাজ ই হল বিশ্বাস ভাঙা।,প্রতারনা করা।।এই ভাবনাটা একটা বিশাল বড় রোগ।আস্তে আস্তে কারো মনে এই রোগ বাসা বাধে।।এই অসুস্থ মনটাকে নিয়েই অনেক ভেঙে চুরে আমি আবার শুরু করেছিলাম।।দুই বছর পর আমি একটা সরকারী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে জব পাই।।আস্তে আস্তে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম।তখনি মায়ের জোড়াজুড়িতে ফারজানার সাথে বিয়ে হয়।। বিয়ের রাতে রুমে ঢুকার পর ফারজানা এগিয়ে এসে সালাম করতে যাবে তখনি আমি সরে গেলাম।।কথা আছে বলে তাকে বিছানায় বসতে বললাম। আমিও বিছানায় বসতে বসতে বললাম--- ---দেখো তোমাকে প্রথমেই বলে নিচ্ছি,আমি বিয়েটা করতে চাইনি,বাট আম্মুর কথায় আমি বিয়েটা করেছি।যেমনটা রুহী করেছিল দুবছর আগে। --- রুহী কে??( চমকে উঠে) ---আমার তার সাথে রিলেশান ছিল অনেকদিনের। দুবছর আগে ও আরেকজনকে বিয়ে করে ফেলে।। ---চুপ---- --- আমি ওকে ভুলে গেছি।।ইভেন এখন খুব ঘৃনা হয় ওর নামটা মনে হলেই।। --- ও....( খুব আস্তে) --- আমি ওকে ভুলে গেছি ঠিকি বাট নতুন কাউকে মনটা দিতে আমি রেডি না।।আর তোমরা মেয়েদেরকে আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।বিশ্বাস জিনিসটা তো আর মামার বাড়ির আবদার না যে চাইলাম আর বিশ্বাস করলাম।তোমরা বিশ্বাসটাকে নিয়ে ফুটবল খেল আর একজন থেকে আরেকজনের কাছে পাস করে দেও।।খুব ঘেন্না হয় আমার তোমাদেরকে নিয়ে।।আমি জানি এটা আমার একটা বিকৃত মানুসিকতা তবুও আমি এমন থেকেই হ্যাপি।। ফারজানা চুপ করে আছে।।আমিই নিরবতা ভেঙে বললাম---- ---তুমি আমার স্ত্রী হয়েই থাকবে।আমি তোমার কোনো কিছুতে নাক গলাব না,,ঠিক তেমনি তুমিও আমার কোনো কিছুতে স্ত্রীগিরি করতে পারবে না।আর বাবা মা আসলে বা বাড়িতে গেলে আমরা স্বাভাবিক থাকব।তারা যেন আমাদের ব্যাপারে কোনোকিছু জানতে না পারে।।আর তুমি যদি এতে রাজি না থাকো তাহলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে পার।। কাদো কাদো হয়ে বলল--- --- আমার অপরাধটা কি??? --- তুমি নারী,,তুমি আমার বউ এটাই তোমার অপরাধ।। এবার একদম কেদেই দিল।।কেদে টেদে লাভ নাই, আমি বহুত কঠিন মাল,এতো সহজে গলি না আমি বলে,বালিশটা নিয়ে সোফায় গিয়ে শুয়ে পরলাম।। গভীর রাত পর্যন্ত ফোপানোর শব্দ পেয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিলাম জানি না।। আম্মু এসেছে তিনদিন হলো অথচ যাওয়ার নাম গন্ধ নেই।।এসেই বুঝে গেছে কিছু একটা ঝামেলা আছে আমাদের মাঝে।।আমি চাইনা আম্মু বেপারটা জানুক।ভীষন কষ্ট পাবে।। একটুপরে ফারজানা এসে বলল--- -- চা খাবেন?? -- না,আমি ঘুমাব।আম্মু শুয়ে পরলে আজকে তুমি কষ্ট করে সোফায় শুইও।।আমি খুব টায়ারড। -- আচ্ছা ঠিকাছে বলে চলে গেল। দুইদিন পর আম্মু চলে যাওয়ায় আমি হাফ ছেড়ে বাচলাম।।ফারজানার সাথে এইকয়দিন অভিনয় করে থাকতে অনেক কষ্ট হয়েছে।। ফারজানাকে আমার কাছে অনেক অদ্ভুত লাগছে।মেয়েটা এক হাতে পুরো সংসারটা সামলাচ্ছে।কিন্তু বিন্দু মাত্র কোনো অভিযোগ নেই,,কোনো চাওয়া নেই।আমার সাথে কথা বলার সময় ভয়ে খুব নিচু হয়ে কথা বলে।।আমি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম আমার খুব পছন্দের আইটেমগুলো যেমন- গরুর কালো ভুনা,,কুমড়োর চাকভাজি,,লাউপাতায় ইলিশ শুটকি এগুলো সে রান্না করে প্রায়সময়ই।।রান্নাও বেশ ভালো বাট একদিনও তার রান্নার প্রশংসা করিনি। একদিন দুপুরে লান্চ করতে বাসায় আসার পর কলিংবেল দুইবার চাপার পর তিনবারের মাথায় দরজা খুলল আর আমি বিশাল এক ঝাড়ি দিব ঠিক তখনি ও কাচুমাচু হয়ে বলল-- রান্নাঘরে ছিলাম,,আওয়াজ শুনেই ছুটে এসেছি। আমি কিছু না বলে রুমে চলে গেলাম।।ও ডাইনিংয়ে খাবার বেরে ডাক দিল।।আমি খেতে গিয়ে প্রথম লুকমা দেবার পর ই চেহারাটাকে বাংলা পাঁচ করে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলাম--- এগুলা কি মানুষ খায়??কি করো সারাদিন বলেই উঠছিলাম।।দেখলাম ফারজানার চেহারায় কালবৈশাখ নেমে এসেছে।ভীষন ভীত আর উৎকন্ঠিত হয়ে সে ভীষন মমতা দিয়ে রান্মা করা গরুর কালো ভুনার পেয়ালাটা থেকে একটু নিয়ে মুখে দিল।।ও যে লবন দেয়নি তা টের পেল।।সাথে সাথেই তার চেহারায় অনুতপ্ততা আর হতাশার আভা ফুটে উঠল।।আর তার এই করুন চেহারাটা দেখে প্রথমবারের মতো খুন হয়ে গেলাম।। সে তাড়াতাড়ি করে ডিম ভাজি করে,,টমেটোর ভরতা বানিয়ে আমাকে খেত দিল।।আর আমি এতোটাই অমানুষ ছিলাম যে একটিবারের জন্যও তাকে সরি বললাম না।।। ঐদিনের পর থেকে আমি তার প্রতি কিছুটা দুর্বল হতে লাগলাম।।মনের ভীতর থেকে কিছুটা টান ফিল করতাম বাট মুখে একটুও প্রকাশ করতাম না। এরপর প্রায়সময় ই গভীর রাতে তার রুমে একটু উকি দিতাম।।কোনো কোনোদিন দেখতাম বিছানায় নেই।কিছুটা উৎকন্ঠা নিয়ে তাকে খুজতে খুজতে বেলকনীতে আবিষ্কার করতাম ঠিক হৈমন্তীর মতো,,গ্রীলে হাত দিয়ে একদৃষ্টিতে দুরের তারাদের দেশে নির্বাক তাকিয়ে আছে।।আর আমিও সেদিনের পর দ্বিতীয়বারের মতো খুন হতাম।। এভাবেই লুকোচুরির মধ্যে একদিন রাতে অফিস থেকে আসবার পথে এলিফ্যান্ট রোডের স্টার কাবাবে ঢুকলাম।।কাচ্চির একটা অর্ডার ডিলাম আর একটা পার্সেল করতে বললাম ফারজানার জন্য।।বসে অপেক্ষা করছিলাম কাচ্চির ঠিক তখনি তৃতীয় কলামের কোনার টেবিলটয় গিয়ে চোখদুটি আটকে গেল।।রুহী আর তার হাসবেন্ড ফাহিম।ফাহিমের সামনেটা দেখা যাচ্ছে না বাট রুহীর চেহারা স্পস্ট দেখতে পাচ্ছিলাম।।খুব সুখেই আছে দেখে মনে হল।।অনেকখন ধরেই হাসাহাসি করছিলো দুজনে।।হঠাৎ ই রুহীর চোখ ও আমার দিকে পরল আর ও ছ্যাৎ করে উঠল।।আমি সাথেই চোখ ফিরিয়ে মোবাইল বের করে টিপতে লাগলাম।।ওয়েটার কাচ্চি এনে দিল বাট আমি তাকে বললাম এটাও পার্সেল করে দিতে।। রাস্তা দিয়ে হাটছি আর ভাবছি ও আমার জীবনটাকে ছন্নছাড়া করে দিয়ে নিজেই কি সুখে আছে।আর আমি?? দিনের পর দিন নিষ্পাপ বউটার চোখের পানি ঝরিয়েছি,,তার নির্লোভ ভালবাসাকে উপেক্ষা করেছি।।বহুত হয়েছে।।আর না,,আর তার চোখের পানি ঝরতে দিব না।। কলিংবেল চাপার সাথে সাথেই দরজা খুলে দিল ফারজানা।।বিরিয়ানির প্যাকেটটা তার হাতে দিয়ে বললাম,,গরম গরম বেরে ফেল।। আমি ড্রেস চেন্জ করে ডাইনিংয়ে গিয়ে দেখি ফারজানা প্লেটে বেরে দাড়িয়ে আছে।।আমি বসে লোকমা নিতে নিতে বললাম--- কি হল,,দাড়িয়ে আছো কেন?তুমিও বস।। ভীষন চমকে উঠে বলল--- না না,,আপনি খান,,আমি পরে খাবো।। আমি চেয়ার থেকে উঠে তার হাত ধরে তাকে বসালাম।আকাশ থেকে পরার মতো ভীষন অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।। একটা লোকমা মুখে দেবার পরও পলকহীন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল,,মুখের ভিতর যে লোকমা আছে তাও মনে হয় ভুলে গেল বিস্ময়ে।। আমি বললাম--কি হল?? ও সম্বিত ফিরে পেয়ে কিছু না বলেই উঠে যেতে নিচ্ছিল,,আমি তার হাত ধরে টান দিয়ে আবার চেয়ারে বসলাম।।আস্তে আস্তে তাকে খাইয়ে দিতে লাগলাম আর সে নির্বাক কিন্তু বিস্ময়ে ভরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।। খাওয়া শেষ হলে সে বেডরুমের খাটে গিয়ে বসে পরল।আমি গিয়ে আস্তে করে তাকে হাত ধরে তুললাম।দুটোহাত দিয়ে তার মুখটাতে আলতো করে ছুয়ে বললাম--- ভীষন কষ্ট দিয়ে ফেলেছি তোমাকে এই ছটা মাস।।অনেক চোখের পানি ঝরিয়েছি।।আমি আর অমানুষ হতে পারছি না।আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ।সাথে সাথেই আমার মুখটা চেপে ধরে কাদতে কাদতে বলল-- এমন কথা আর কক্ষনো বলবেন না?? --- তাহলে তুমি করে বলো। --- আচ্ছা বলব। --- ভালবেসে ফেলেছি তোমাকে খুব। ---(বুকে মাথা রাখল) --- ভালবাস আমাকে??? --- একটুও ভালভাসি না।।।।????????????????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এরই নাম ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now