বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
:::::"এলিজা":::::
লেখক:: আহমেদ ফয়েজ (পাগল)
````````````````````
- আচ্ছা এইটার রেট কতো?
মেয়েটি আমার কথায় একটু মুচকি
হাসলো। আমি
জানি তার এ হাসিটার মানে।
- দেখতেই পাচ্ছেন একটু ভীড়।
ভীড়টা কমুক
তারপর কথা বলি।
এবার মেয়েটির কথায় আমি মুচকি
হাসলাম। তারপর মাথা
নাড়িয়ে সম্মতি দিলাম।
- আমি তাহলে বাইরে অপেক্ষা
করছি!
আমার কথার প্রতিউত্তরে মেয়েটি
মাথা নাড়ালো।
`
ছয়দিন আগে প্রথমবারের মতো
শপিংয়ে
এসেছিলাম যমুনা ফিউচার পার্কে।
এখানে তৃতীয়
তলায় এ্যাপেক্স এর শোরুমে ঢুকতেই
একটা
মেয়েকে অসম্ভব ভালো লেগে যায়।
প্রথম
দেখতেই তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি
আমি।
মেয়েটার পোশাকে বোঝাই
যাচ্ছিল যে
এখানে কাজ করে মেয়েটি।
`
একটা জুতার দোকানে কাজ করে সে
মেয়ের
প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছি আমি!!
হ্যা!!
অনেকের মতে এরকমটাই ধারণা
হবার কথা ছিল
আমার। কিন্তু কেন যেন তখন আমার
এসবের
কিছুই মাথায় আসেনি। আমি কেবল
অবাক হয়ে
তাকিয়ে ছিলাম মেয়েটির দিকে।
যত দেখছিলাম
ততই যেন মুগ্ধ হচ্ছিলাম। এ মেয়েটা
এত সুন্দর
কেন দেখতে!
লম্বা কালো চুল, মুখের গড়ন গোল,
টানা চোখ,
চোয়ালে ছোট তিল। নাহ!! এ
মেয়েটি
দেখতে ঠিক তেমন যেমনটা আমার
কল্পনার
রাজ্যের রাজকন্যাকে দেখে
থাকি।
`
অবাক দৃষ্টিতে আমি মেয়েটির
দিকে তাকিয়ে থাকি।
কে যেন একদিন বলেছিল কারো
নজরে
পড়তে হলে একদৃষ্টিতে তার কপালের
দিকে
তাকিয়ে থাকতে। এতে নাকি সে
যত দূরেই থাকুক
আমার দিকে একবার হলেও
তাকাবে। আমিও তাই
করলাম। একদৃষ্টিতে তার কপালের
দিকে তাকিয়ে
থাকলাম। আর ফলাফলটাও পেলাম।
খানিকক্ষণ বাদেই
দেখলাম মেয়েটি আমার দিকে
তাকালো।
তারপর একবার,
তারপর একবার,
তারপর আরো একবার।
আমি তার দিক থেকে চোখ
নামাইনি। বরং ও আমার
দিকে তাকানোয় আমি ওর চোখেই
চোখ রাখি।
মেয়েটি নিশ্চিতভাবেই বুঝে
গেছে আমি তাকে
দেখছি।
`
- কোনটা চয়েজ হচ্ছে স্যার আপনার?
- আপনার নামটা জানতে পারি?
মেয়েটি আমার কথায় যেন
বিরক্তিবোধ
করলো। অন্তত তার ভাবভঙ্গি দেখে
আমার তাই
মনে হলো। তবুও নিজেকে যথাসম্ভব
স্বাভাবিক
রাখার চেষ্টা করলো সে।
- স্যার আমাদের এখানে রাখা হয়
সেল কাজে
সহযোগিতা ও প্রোডাক্ট সম্পর্কে
জানানোর
জন্য। নিজের নাম বা বায়োডাটা
দেবার জন্য নয়।
আমি মেয়েটার দিকে একদৃষ্টিতে
তাকিয়েই
থাকলাম।
- আচ্ছা সরি সরি। কিছু মনে করবেন
না।
কথাটা বলে একটা মুচকি হাসি
দিয়ে বের হয়ে এলাম।
`
তারপর এ ছয়দিন আমি নিয়মিতই
এসেছি এখানে।
এসেছি শুধুমাত্র মেয়েটিকে
দেখার জন্য।
মেয়েটিকে যত দেখতাম ততই যেন
মুগ্ধ হতাম
আমি। মেয়েটিও যেন বুঝতে
পারতো আমি
ওকে দেখতাম। প্রথম প্রথম আমায়
দেখে একটু
বিরক্তিবোধ করলেও দুদিন পরেই
সেটা কেটে
যেতে থাকে এবং একসময় দেখতাম
মেয়েটিও
মাঝে মাঝেই আড়চোখে আমার
দিকে
তাকাতো এবং মুচকি হাসতো।
`
বিভিন্নভাবে ছলে বলে প্রোডাক্ট
দেখার
ভাবভঙ্গিতে ওর সাথে কথা বলার
চেষ্টা করতাম।
প্রথম প্রথম ও তেমন একটা সাড়া দিত
না। আমিও হাল
ছাড়ার পাত্র নই। প্রতিনিয়ত যখন
আসতেই থাকলাম
তখন মেয়েটিও যেন একসময় বুঝে গেল
সেটা। তারপর দেখতাম আমি গেলে
মেয়েটিই
নিজ থেকেই এগিয়ে আসতো। আর
আমিও
প্রোডাক্ট দেখার ভঙ্গী নিয়ে ওর
সাথে কথা
বলার চেষ্টা করতাম। ওর বিষয়ে
জানতে চাইতাম।
কিন্তু মেয়েটিও যেন খুব শেয়ানা।
যেন আমায়
বাজিয়ে দেখছে। কিচ্ছু বলতো না।
`
গতকাল আমার একটা কাজ থাকার
কারণে এখানে বেশি
সময় দিতে পারিনি। এটা বলে যখন
বের হয়ে
যাচ্ছিলাম যে আজ একটু কাজ আছে।
যাচ্ছি। বাই।
তখন দেখলাম মেয়েটিই আমায়
পিছন থেকে ডাক
দিল।
- শুনুন!
আমি পিছন ফিরে তাকাতেই বলল
এলিজা।
- জি!!?
- আমার নাম। এলিজা!
বলেই মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেল।
আমিও চলে
আসি।
`
তারপর আজ এই অপেক্ষা করছি। ওই
তো এবার
যেন ভীরটা একটু কমেছে। এবার
যাওয়া যায়!
ভীরটা কমতেই আমি আবার এগিয়ে
গেলাম। এলিজা
হয়ত ভেবেছিল আমি এতক্ষণ
অপেক্ষা করবো
না। কিন্তু ভীর কমতেই যখন আমি
এগিয়ে গেলাম
তখন আমায় দেখামাত্র ওর চোখে
একটা বিস্ময়
দেখতে পাই।
- আপনি এখনো আছেন! আমি
ভাবছিলাম হয়ত চলে
যাবেন!
একটু হাসি দিয়ে কথাটা বলল
এলিজা। এর প্রতিউত্তরে
আমিও হাসলাম।
`
- আচ্ছা আজ আপনার কাজ শেষ হবে
কখন?
- কেন বলুন তো!?
- না মানে এমনিই! আসলে আপনাকে
কিছু বলার ছিল।
- ফয়েজ সাহেব! আপনি যেমনটা
ভাবছেন
তেমনটা হবার নয়! আমার মনে হয়
আপনার এখানে
আর না।আসাই ভালো।
আমি অবাক হলাম। সত্যিই আমি
অবাক হলাম খানিকটা।
- আপনি আমার নাম জানলেন
কিভাবে?
মেয়েটি মুচকি হেসে বলল, সেদিন
আপনার
সাথে একজন আসছিল না! সে
আপনাকে একবার নাম
ধরে ডেকেছিল। আমি সেটা খেয়াল
করছিলাম।
আপনি প্লিজ চলে যান।
সমাজব্যবস্থায় অন্তত
স্ট্যাটাস বলে একটা কথা আছে।
কথাটা বলেই এলিজা চলে গেল।
`
- আপনি এখনও কেন অপেক্ষা করছেন?
- আপনাকে কিছু বলার ছিল। না বলে
যেতে ইচ্ছে
করছে না! আপনার কাজ কখন শেষ
হবে?
- এখনই বলুন। কাজ শেষ হবার কি
দরকার!
- না মানে! চলুন তো কোথাও বসে
কফি
খেতে খেতে বলি।
মেয়েটি কি যেন ভাবলো। তারপর
বলল আচ্ছা
চলুন।
- না মানে আপনার কাজ!
- আরো এক ঘন্টা বাকি ছিল। আমি
ঠিক বুঝতে
পারছিলাম আপনি কথাগুলো আমায়
না বলে যাবেন
না। তাই ছুটি নিয়ে নিয়েছি।
কথাটা শুনে আমার যেন একটু আনন্দই
লাগলো।
`
- কি হলো কিছু বলছেন না যে!?
- আপনি ঠিকই বলেছেন। কাল থেকে
আমি আর
আসবোনা
- সেটাই ভালো হবে আমার মনে হয়!
কথাটা বলার সময় আমি বুঝতে
পারলাম ওর কণ্ঠস্বর
কাপছিল।
- সত্যিই কি তাই!
আমার কথাটার উত্তর এলিজা চট
করেই দিল না।
- এলিজা!!
- হুম!
- তুমি কি সত্যিই চাওনা যে আমি
এখানে আসি?
তুমি করে বলে ফেললাম।
আমার এ কথাটার উত্তরও এলিজা চট
করেই দিল না।
কেবল চুপ করেই থাকলো। আমি
জানি এলিজাও
আমাকে পছন্দ করে এবং মনে মনে
চায় যে
আমিও এখানে আসি যাতে ওর
সাথে দেখা হয়।
`
- সত্যিই আর কাল থেকে আসা হবে
না।
কথাটা বলে আমি ওর চোখের দিকে
তাকালাম। ও
এখনও নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
কিছু বলছ না যে?
- কি বলা যায় সেটাই বুঝতে পারছি
না!
- আমি কাল চলে যাচ্ছি।
মুন্সিগঞ্জে জব করি।
অফিসিয়াল কাজেই ঢাকা
এসেছিলাম।
আমার এ কথাতে ও যেন চমকে গেল।
খট
করেই আমার দিকে তাকালো। একদম
আমার
চোখের দিকে। আমিও ওর চোখের
দিকে
তাকালাম। ওর চোখ দুটো টলমল
করছে। মনে
হচ্ছিল এখনই বুঝি জল গড়িয়ে পড়বে।
`
- তুমি কি আমায় সত্যিই পছন্দ করো
না?
- তোমার কি এমনটা মনে হয়েছে
কখনো?
এলিজার এ কথাটায় আমার মধ্যে এক
অদ্ভুত
ভালোলাগা কাজ করে। এলিজা
আমায় তুমি করে
বলেছে!!
- আমি তোমায় আরো কিছু বলতে
চাই
- আমি জানি তুমি কি বলবে। বলতে
হবেনা আর
আপনাকে। চলো উঠি।
- কিন্তু কথাটা না বললে!!
আমার কথাটা শুনে এলিজা
হাসলো। হাসতে
হাসতেই বলল, তুমি অনেকটা বোকা!
`
- কিছু মনে না করলে আমি তোমার
সাথে আসি?
ও কি যেন ভাবলো। তারপর বলল
আসতে পারো
তবে পুরোটা নয়। পাড়ায় ঢোকার
আগেই
নেমে যেতে হবে। নতুবা আমার
প্রব্লেম
হবে।
আমি সম্মতি দিয়ে রিক্সায়
উঠলাম। ওর হাতে হাত রাখি
আমি। ও আমার দিকে তাকালো।
- এ হাত ছাড়বো না। কয়েকদিনের
মধ্যেই
দেখতে পারবা সব।
আসলে বাসা থেকে বিয়ের জন্য
চাপ দিচ্ছিল খুব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now