বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি স্বপ্ন ও দীর্ঘশ্বাস

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X . (১) . স্বপ্নটা দেখেই মাঝরাতে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল হাসিবের।এ কেমন স্বপ্ন! হাসিব কেমন যেন অস্থিরতা অনুভব করলো। এই নিয়ে তিনবার স্বপ্নটা দেখলো। একটা কিশোরী মেয়ে, যাকে হাসিব চিনেই না।তবে স্বপ্নে খুব চেনা মনে হয়।খুবই চেনা। শাড়ি পড়া নিঃস্পাপ একটা মুখ।চুরির রিনঝিন শব্দ।মনে হচ্ছে এখনো কানে বেজে চলছে।রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছু একটা যেন বলারও চেষ্টা করছিল।যেই হাসিব মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেল,মেয়েটি ছুটে পালায়। স্বপ্নেই হাসিব অস্থির হয়।প্রতিরাতেই ঘুমটা ভাঙ্গে।যেমন আজ রাতেও হলো। কে এই মেয়ে? তার জীবনের সাথে কি কোন যোগসূত্র আছে এই মেয়ের? গলাটা কেমন শুকিয়ে গেছে।বিছানা থেকে উঠে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানির বোতলটা বের করে ঢকঢক করে খেয়ে গলাটা ভিজিয়ে নেয় হাসিব। আবার নিজের ঘরে ফিরে আসে।মাথার ভেতর স্বপ্নে দেখা মেয়েটা ঘুরছে। কি স্নিগ্ধ! কি মায়াবী দুটি চোখ! হঠাৎ ঘড়ির কাঁটার দিকে চোখ পড়ে হাসিবের। রাত ৩টা বাজে। হুট করেই মনে পড়লো কাল হসপিটালে সকাল সকাল যেতে হবে।তাড়াতাড়ি আবার বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো হাসিব। কাল সকাল সকাল হসপিটালে যেতে হবে।ঘুমিয়ে পড়া দরকার খুব শিঘ্রী। ( ২) ডাক্তারী পড়া শেষ করে এখন ইন্টার্নি করছে হাসিব।তাই খুবই ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় ওর।চাইলেও নিজের জন্য একটু সময় বের করতে পারে না। তারপরও হঠাৎ করে একটা সুযোগ চলে এলো।তবে নিজের জন্য সময় পাওয়ার বলতে যা বোঝায় তা নয়। হাসিবের নানু অসুস্থ।তাকে দেখতে যেতে হবে। (৩) নানুর বাড়িতে কেমন উৎসব উৎসব আমেজ। হাসিব চুপচাপ একটা রুমে বসে আছে। ছোট ছোট মামাতো ভাই বোনেরা একটু পর পর এসে হাসিবের রুমে উঁকি ঝুকি মারছে। যেই হাসিব ওদের দিকে বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি দিয়ে কাছে ডাকছে সেই ওরা পালিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন পরেই ওদের পালিয়ে যাবার কারন জানা গেল। ওরা শুনেছে হাসিব ডাক্তার।আর ডাক্তার মানেই ভয়াবহ ইঞ্জেকশন।কাছে গেলেই যদি হাসিব ওদের ইঞ্জেকশন দিয়ে দেয়। তবে বিকেল হতে হতেই ওদের মনে হলো ভয়টা অমূলক। হাসিব ডাক্তার হলেও ইঞ্জেকশন দেবার মত নিষ্ঠুর ডাক্তার না। তাই হাসিবের সাথে ওদের ভাব হয়ে গেল। বিকেলে ওদের নিয়ে নদীর পাড়ে ঘুরতে গেল হাসিব সন্ধ্যার আগে ফিরতে হবে ভেবে একটু আগে আগেই বাড়ির দিকে রওনা দিল।হঠাৎ করেই কেউ একজন কোথা থেকে যেন ওদের সামনে এসে পড়লো। এক মুহুর্তের হাসিবের মনে হল ঝুপ করে স্বপ্নটা ওর সামনে এসে পড়লো, হ্যা এই তো সেই মেয়ে,শাড়ি পড়া এক কিশোরী।হাত ভর্তি চুরি রিনঝিন করে বাজছে। হাসিব দিশেহারা বোধ করলো,যেই মেয়েটির দিকে এগিয়ে যাবে ভাবলো।মেয়েটি ছুটে ঝোপঝাড়ের দিকে পালিয়ে গেল। হাসিব অবাক হয়ে মেয়েটির পালিয়ে যাওয়া দেখলো মামাতো বোন শিপলুর হাসিতে বাস্তবে ফিরে এলো।অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো কিরে হাসছিস কেন? -তোমার ভ্যাবলু মার্কা চেহারা দেখে হাসছি। হাসিব একটু লজ্জা পেল।তারপর হঠাৎ করেই জিজ্ঞেস করলো, -মেয়েটা কে রে? -ওমা! তুমি ওকে চিনোনা? ও তো আমাদের গ্রেট কুসুমাপু।জানো ভাইয়া কুসুমাপুর মত এত ভাল মেয়ে আমরা জীবনেও দেখিনি, অন্য সবাই শিপলুর কথায় সমর্থন জানালো। (৪) গ্রামের সবাই মোটামুটি জেনে গেল হাসিব ডাক্তার। সবাই দেখা করতে আসে।তাদের চোখে হাসিবের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা। আর হাসিব মনে মনে কুসুম কে খোঁজে। হঠাৎ এক রাতে হট্টগোল শুনে হাসিবের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। কেউ এসে হাসিবের রুমের দড়জা ধাক্কাচ্ছে।ডাকছে -ডাক্তার সাহেব,ডাক্তার সাহেব। হাসিব ধড়ফড় করে বিছানা থেকে উঠে এলো।দড়জা খুলে অপরিচিত এক লোককে দেখলো,জিজ্ঞেস করলো, -কি হয়েছে? -সর্বনাশ হয়ে গেছে,বাবা আমার লগে একটু আসেন। হাসিব দ্বিতীয়বার কিছু না ভেবে লোকটার সাথে গেলো, একটা ঘরে নিয়ে গেল লোকটা,ঢুকতেই দেখলো বিছানায় কুসুম। একি অবস্থা তার স্বপ্নকন্যার! মায়ারী দুটি চোখ বন্ধ। হাসিবের পাশে দাড়িয়ে লোকটা ফিসফিস করে কাঁদতে কাঁদতে বললো,আমার কুসুম,কে জানি আমার মাইয়াডার সর্বনাশ করে জঙ্গলে ফেলাই দিয়া গেছে। মুখ ঢেকে লোকটা কাঁদছে।বলল, ওরে আপনে বাঁচান হাসিব যা বোঝার বুঝে নিল।তারপর বললো,তাড়াতাড়ি একটা গাড়ির ব্যাবস্থা করেন,ওকে এক্ষুনি হসপিটালে নিতে হবে। (৫) সকালে দেখা গেলো হাসপাতালে বারন্দায় ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে হাসিব। সে এইমাত্রই জানতে পারলো,নরপশুদের অমানুষিক অত্যাচারে কুসুম মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। সে তার স্বপ্নকন্যার এতটা কাছে থেকেও কি ভয়ঙ্কর অসহায়। (৬) তিন বছর পর, হাসিব এখন ডাক্তার হাসিব, তার গাড়িটি ঢাকার জাতীয় মানসিক হাসপাতালের সামনে এসে দাড়ালো, গাড়ি থেকে নেমে ধীর পায়ে লিফটের দিকে এগিয়ে গেল। একটা কেবিনে ঢুকলো, এইতো হাসিবের সেই স্বপ্নকণ্যা। কি সুন্দর হাত ভর্তি চুড়ি পড়ে বসে আছে। কেবিনে ঢুকতেই ওর দিকে এগিয়ে এসে হাত ধরলো, অভিমানী কন্ঠে বললো,ডাক্তার সাব আফনের এতক্ষনে আওনের সময় হইলো? সেই কাইল রাইতে স্বপ্নে দেখসি আফনে আইবেন তারপর থাইকা চুড়ি ফইড়া বইসা আছি, আর আফনে আইলেন এহন। হাসিব কিছু বলার মত ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না। কুসুমের জন্য মায়ে পাঠানো খাবারটা ওকে দিল।আর দিল অনেক গুলো ফুল। কারন, গতবার হাসিব হসপিটাল থেবে যাবার আগে বলেছিল, ডাক্তার তুমি আমার জন্য এত্তগুলা ফুল নিয়াসবা,কেমন? ফুল গুলো পেয়ে পুরা বাচ্চাদের মত খুশি হল। এই একটা দিনই নাকি ও স্বাভাবিক আচরন করে।যেদিন হাসিব ওকে দেখতে আসে। হাসিবের ফিরে যাবার সময় হলো, পেছন থেকে কুসুমের আর্তচিৎকার ভেসে আসছে, চিৎকার করে কাঁদছে আর বলছে, ডাক্তার গো তুমি আমারে নিয়া যাও। পিছু না তাকিয়েও হাসিব বুঝলো কুসুমকে টেনে ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে।এখন হয়তো শিকল দিয়ে বেধে রাখবে। বাকি ছটা দিন এভাবেই কাটবে ওর।তারপর যেদিন আবার হাসিব আসবে সেদিন সব স্বাভাবিক। . গাড়িতে এসে বসলো হাসিব।ড্রাইভার দেখলো তার স্যার ব্যকুল হয়ে কাঁদছে। এখান থেকে ফিরে যাবার সময় প্রতিবার এই একই দৃশ্য দেখে। খুব মায়া লাগে তার স্যারের জন্য। ইচ্ছে করে মাথায় হাত রেখে স্যার কে বলতে,কাইন্দেন না স্যার,দেখবেন একদিন সব ঠিক হইয়া যাইব। কিন্তু কখনো বলতে পারে না


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি স্বপ্ন ও দীর্ঘশ্বাস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now