বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি দোকান সামনে কিছু মানুষ (4

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X এখানে পৌঁছে যেটা হলো-কাদামাখা শরীরের যাত্রী কেমন মিইয়ে গেল। সেই আর সবাইকে এখানে নিয়ে এসেছিল। মনে হলো-সমস্ত শক্তি দিয়ে তা অস্বীকার করতে চাইছে! বিব্রত ভাব নিয়ে সে দোকানের সামনের মাচার অনেক দূরে গিয়ে দাঁড়াল! বারবার সে সরে যাচ্ছিল আড়ালে বা প্রকাশে থাকা ভুলে যাচ্ছিল। যেন সে ছিল না এই পাঁচজনের সাথে। অথবা এই সামনের দোকানদারই মিথ্যা। দোকানদারের ছায়া তাকে গিলে খাচ্ছিল। যেহেতু সে নিজেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেও চূড়ায় পৌঁছাতে চায়। চূড়ায় পৌঁছানোর সুবিধা হলো আর কাদাবৃষ্টি তাকে মাখাতে পারবে না। কিংবা সে হয়ত ভেবেছিল, এই কাদাবৃষ্টি ধুতে হ’লে অই চূড়ায় পৌঁছান ছাড়া উপায় নেই-অই চূড়াতেই কেবল স্বচ্ছ জল মেলে যা দিয়ে কাদার শরীর অনায়াসে ধোয়া যায়। এই টং ঘর, এর দোকানদার তাকে আর পাঁচজন যাত্রীর পাশে; তার মনে হচ্ছিল-তাকে মুছে দিচ্ছে অই চূড়ার যাত্রায়। কিংবা এমনও হতে পারে, এই দোকানদারের জন্য তার অনেক মায়া কাজ করছিল। দোকানদার; যে আসলে কিছু বিক্রি করতে চায় না-খুব অসহায়, জীবনে সে এইরকম টংঘরের দোকানদার হতে চায় নি-এ সমস্ত কিছু অই পাঁচ যাত্রী একমাত্র তার কারণে জেনে গেল; যেহেতু সে আর কোথাও না তাদেরকে এখানেই যাত্রা বিরতি করিয়েছে। দোকানদারের এই আপাত লজ্জার জন্য সেই দায়ি; এই ভেবেই হয়ত সে আড়ালে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু যতই সরে যাচ্ছিল তার উপস্থিতি তত প্রকট আর করুণ হয়ে উঠছিল। সে মনে মনে কাঁদছিল। ভীষণ ক’রে চাইছিল এই টংঘরের সামনের কোনো অদৃশ্য বাতাসের দেয়ালে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে। কিন্তু সেখানে কোনো অদৃশ্য বাতাস ছিল না। সবই খোলা আর করুণ প্রকাশিত! আরো চাইছিল, টং ঘরটার সামনে কাঁকর বিছানো রাস্তার নিচে শরীরটাকে শুইয়ে দিতে। কিন্তু সেটাও সম্ভব ছিলো না কারণ পথটা এতই ধূসর আর কাঁকরে ছাওয়া ছিলো যে শরীরটা এতে শোয়াতে গেলে কাঁকরগুলো ছড়িয়ে পড়ে বীভৎস শব্দের সৃষ্টি হতো-যাতে নিজের রূপ আরো বেশি ক’রে খুলে যেত। তাই সে মনভোলান অই পথই ধরল; আর পাঁচ যাত্রীর সঙ্গে থেকেও মনে করল সে নেই কিংবা অস্তিত্বহীন এই টং ঘর-জীবনে এমন কিছুর সামনে সে কোনোদিন দাঁড়ায় নি। কিন্তু সত্যি বলতে তার খুব মায়া করছিল অই দোকানদারটার জন্য। এ এমন এক মায়া যার কোনো ব্যাখ্যা ছিল না তার কাছে। মনে হচ্ছিল-সে অনেকদিন এইরকম কোনো টংঘরের দোকানদারের শিয়রে ব’সে ফিসফিস ক’রে কিছু বলতে চাইছিল কিন্তু কী যে বলতে চাইছিল বা এখনো চায়-তা স্পষ্ট না তার কাছে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি দোকান সামনে কিছু মানুষ (4
→ একটি দোকান সামনে কিছু মানুষ (3
→ একটি দোকান সামনে কিছু মানুষ 2)
→ একটি দোকান সামনে কিছু মানুষ 1)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now