বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেই চার যাত্রী দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর তাদের একজন ব’লে উঠল,‘আমরা এমন কোনো দোকানে যাত্রা বিরতি নিতে পারি না যেখানে বসার জায়গাটুকু নেই।’ কিন্তু তাঁর কথা তেমন আমলে নিল না ঘুড়ির স্বপ্ন চোখের যাত্রী।
ততক্ষণে সে আর পাঁচ যাত্রীকে নিয়ে এক টং ঘরের দিকে চলেছে। ঠিক হয়েছে সেখানেই যাত্রা বিরতি করবে তারা। কাদা মাখা শরীরের যাত্রী তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই চিনত অই টং ঘরটা। তারা একটা নির্দিষ্ট টং ঘরে পৌঁছাল। চারপাশে আরো অনেক টং ঘর ছিল, তবু তারা অই টং ঘরটাতে গিয়ে থামল।
একটা পাহাড়ের কিনারে ওটা কোনোমতে মাঁদারের গাছ আর সজনে গাছের ডালের খুঁটিতে দাঁড়িয়েছিল। খুঁটিগুলো এতই নড়বড়ে সামান্য বাতাসেই তা ভেঙে পড়তে পারে। আশপাশের আরো হাজার হাজার টং ঘর-সেগুলোর অবস্থাও খুব ভালো ছিল না। পাহাড়ের চূড়া থেকে বড় বড় পাথরের টুকরো গড়িয়ে এসে আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়ে ঘরগুলোকে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল।
তারা দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্বে দ্বিমত পোষণ করা যাত্রী বলল,‘আগেই বলেছিলাম বসার জায়গাটুকুও পাওয়া যাবে না, এখন কোথায় বসব?’ তিনি বিরক্ত হলেনÑদোকানঘরের পাশে অনেক ময়লা-আবর্জনা-সেগুলো যেন গায়ে না লাগে। সে যাত্রী প্রায় পুরোটা সময় দাঁড়িয়ে থাকল বসার মতো ক’রে!
দোকানদার ছিলো মিশমিশে কালো রঙের। বেশ বয়স। পিঠটা তার যেন এই টং ঘর আর যা কিছুর দীনতায় খুব বেশি কুঁজো হয়ে গেছে-হাতের আঙ্গুলগুলো ছিল শক্ত আর ফোলা ফোলা। প্রথম যখন সে মুখ খুলল তার সমস্ত মুখ জুড়ে কেমন বিশ্রি কালো রং ছড়িয়ে পড়ল! এত সব বিসদৃশ বিষয় থাকার পরও দোকানদারকে সৎ আর বিনয়ি ব’লে মনে হচ্ছিল। যেন সে নুয়ে যাচ্ছিল আরো আরো বিনয়ে-যেহেতু এই সমস্ত মহান যাত্রী তারই দোকানে যাত্রা বিরতি নিয়েছে! দোকানদার কিছুই বিক্রি করছিল না।
তার দোকানে দু’টো ঘুপচি মতো ছিল। যার একটাতে কিছু পড়ে ছিল, বাকিটা ছিল ফাঁকা। সামনে চকচকে একটা কেটলি থেকে গরম চায়ের ধোঁয়া উড়ছিল। দোকানদার সবাইকে বিনামূল্যে চা দিচ্ছিল। সে বলল, “আসলে সে কিছু বিক্রি করতে চায় না। সত্যি বলতে এরকম টংঘরের দোকানদার সে হতে চায় নি কোনোদিন। ভাগ্য তাকে এমন হাজারো টং ঘরের পাশে তাকে বসিয়ে দিয়েছে।” সে ঝিমাচ্ছিল। যখন এই যাত্রীরা এসে পৌঁছাল সে কিছুটা আশাবাদী হলো। যদিও সে জানত-তার টং ঘর এদের পছন্দ হবে না। ওরা সাময়িক যাত্রা বিরতি নিয়েছে। প্রকৃতি খানিক শান্ত হ’লেই ওরা চূড়ার দিকে যাত্রা করবে আবার।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now