বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সকাল এগারোটা বাজে । গুটিগুটি পায়ে জানালার গা ঘেঁষে রোদ এসেছে । অনিক এখনো বিছানা হতে উঠতে পারেনি । কচুরির শেকড় যেভাবে আঁকড়ে রাখে ছোট ছোট চিংড়ি পনা ঠিক সেভাবে যেন অনিক কে আঁকড়ে রাখে তার বিছানা, বিছানার চাদর, উষ্ণতা । সুদর্শন দেখতে অনিক, তবে চোখের নিচটা সেই ছোট বেলা থেকেই কালো। কেউ যেন পাকাপাকি ভাবে কালি মেখে দিয়েছে । কারণটা অনিক জানে । তার নির্ঘুম রাত্রিগুলো ভুলে যাওয়ার মতো নয়।
ভার্সিটির সব বন্ধুরা মিস্টার নার্ভাস বলে ডাকে । তার হাতের পানে কেউ তাকিয়ে থাকলে এক কলমও আর লিখতে পারেনা । খুব কষ্ট করে ইদানিং একটু গুছিয়ে কথা বলতে পারে, নয়ত শুরু করলে তার শেষ পর্যন্ত কখনই পৌঁছানো যেন দায় । জীবনের এতোগুলো বছর কাটলো; কোন প্রকার আড্ডাবাজি নেই, অথবা এখনো কোন বন্ধুত্বই গড়তে পারেনি সে । ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরা, অতঃপর বিকেলটা কাটে পথে পথে, একা একা, একটি পথ থেকে আরেকটি পথ, আর মনে মনে ভাবে “ এই পথ চলায় যদি ভালো কোন বন্ধু পাওয়া যায়।” আসলে আবেগের হাওয়ায় বাস্তবের একটি পাতাও দোলেনা । তাই যদি হতো, তবে একা একা এই পথ হাটা সেই ছোট বেলা থেকেই থেমে যেতো ।
জীবনের এমন ভারসাম্যহীনতা খুব সাধারণ একটি রাত্রি দিয়ে শুরু অনিকের, প্রায় এক যুগ অর্থাৎ ১২টি বছর আগের একটি রাত্রি। ঢাকা শহর। তবুও ঘরে ঘরে ডিসএন্টেনা আসেনি তখনো। কয়েকটি বারি পেরুলেই মেঝো চাচার বাড়ি, সেখানে অনিক প্রায়ই টিভি দেখতে যেতো। বিশেষ করে রাত এগারটায় সনি টিভির “আহাট” সিরিয়ালটি । সাদা ধবধবে একটি মহিলা, খুব স্বচ্ছ হীরের মতো প্রায়, একটি পাথর যেন তার কপালে কেউ টিপের মতো ঠেসে দিয়েছে । অপঘাতে মৃত এমন কোন লাশের কাছে দাঁড়ালেই মৃত মানুষটির আত্মা সেই মহিলাটির শরীরে প্রবেশ করতো । আর অনর্গল বলে যেতো তার মৃত্যুর রহস্য আর শেষ ইচ্ছাটি। লাশটির আত্মীয় জানতে পেত অনেক অজানা তথ্য। আত্মাটি শরীর ছাড়লেই মহিলাটি কেমন যেন দুর্বল আর কুঁজো হয়ে যেতো।” এই দৃশ্যগুলো দেখে অনিক খুব ভীত না হলেও ভেতরে ভেতরে কেমন যেন ঘেমে যেত । এমনি একটি দৃশ্য দেখার সময় অনিকের মা হঠাৎ একদিন পেছন থেকে চমকে দিয়ে বলে ”কিরে অনিক ঘুমোতে যাবিনা ? ঘুমোতে আয় নয়তো দেখবি ঐ মহিলাটি তোর স্বপ্নে আসবে ।অনিক সাথে সাথে বাড়ি ফিরলো তবে সেই মহিলাটি তার স্বপ্নে এসে উকি দিলো ঠিকই, সেই থেকে অনিক চোখ বুজে থাকলেও আজ অব্দি নির্ঘুম রাত্রি কাটায়, ঘড়ির কাটার শব্দ শুনতে শুনতে এখন সে চোখ বুজেই বুঝতে পায় রাত্র ক’টা বাজে । যেটুকুই চোখ বুজে ঘুম আসে অনিক দেখতে পায় প্রতিদিন ঠিক একই স্বপ্ন, সেখানে সেই মহিলাটি তার সামনে দাঁড়িয়ে , মহিলার ভেতর আত্মা প্রবেশ করলেই সেই আত্মাটি অনিক কে আঘাত করতে তেড়ে আসে, অনিক এখানে সেখানে দৌড়ে পালায়। তবে প্রতিবারি ব্যর্থ হয় আর প্রতিবারি বড় বড় নখ দিয়ে বুকের পাঁজরে আঁচর দিয়ে যায়, সকাল বেলা বিছানা থেকে সেই ক্ষতের চিহ্নটি নিয়ে উঠে অনিক। কালো দাগ, তবে কোন ব্যথা নেই ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now