বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন হতভাগী

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X -মা আজ স্কুলে যাবনা ! ~কেন বাবা ? -মিজান স্যার আমারে অনেক মারে । ~কেন মারেন তিনি ? -আমি নাকি অনেক দুষ্টামি করি, মা তুমি কি কখনো আমাকে দুষ্টামি করতে দেখেছো ? ~নারে বাবা তুই আমার লক্ষ্নী বাবা, তোকে কখনোই আমি দুষ্টামি করতে দেখিনি, আজ আমিও তোর সাথে স্কুলে যাবো । -ঠিক আছে আমি রেডী হই । ছেলে সিফাত-কে নিয়ে স্কুলের রওনা হলেন ইয়াসমিন বেগম । ছেলের স্কুলটা শহরের একপ্রান্তে অবস্থিত । শহরের অপর প্রান্ত বাসা থেকে স্কুলে যেতে অনেকটা পথ হাটতে হয় । এইভাবেই প্রতিদিন হেটে স্কুলে আসা- যাওয়া করে ছেলেটা । প্রতিদিন ছেলেটাকে স্কুলে পাঠিয়ে কত দুশ্চিন্তায় না থাকেন তিনি ।আজকাল আবার রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল অবরোধও চলছে ! কত মানুষ যে রাস্তাঘাটে পুড়ছে, মরছে, কারোও কোনো নিশ্চয়তা আছে । সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন না । কি আর করবেন, স্বামী রহমান সাহেব একটা সামান্য সরকারি চাকুরী করেন মাত্র । এই টাকা দিয়ে অভাবের সংসারের বাসা বাড়াটা আর খাওয়া খরচটা কোন মাসে চললেও, অনেক মাসেই টাকা ধার নিতে হত । আবার ছেলের লেখাপড়ার খরচ ! এতকিছু সামলাতে তিনি একেবারে বেসামাল হয়ে পরতেন । নিজের স্মামীটাকে একটু শান্তি দিতে তিনি কিছু টাকা ধার করে একটা সেলাই মেশিন কিনেন । বাপের বাড়িতে থাকাকালে সেলাইয়ের কাজটা তার শিখা ছিল । তারপর থেকে ভালই কাজের অর্ডার পেতেন তিনি । নিজের সংসারের হালটা এখন স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সমান ভাবেই পালন করেন । এখন সংসারের সবকিছু মিটিয়ে কিছু টাকা গচ্ছিতও রাখতে পারেন প্রতিমাসে । ছেলের ভবিষতের কথা চিন্তা করে কয়েকটা বিমাও করে রেখেছেন তারা ।ছেলেটা দুষ্টামিটা একটু বেশীই করে, তা তিনি ভাল করেই জানেন । বাসায় থাকলে কত কিছুই তো ভেঙ্গে ফেলে পাশের বাসার বিড়ালটাকে মারতে গিয়ে । বাসায় একটা খেলনার জিনিসও কি আর আস্ত করে রেখেছে । কি আর করবেন ? একমাত্র আদরের সন্তান হওয়াই সবকিছু হাসি মুখেই মেনে নেন তিনি । স্কুলের টিচাররা কি দুষ্টামি সহ্য করতে পারে । প্রতিদিন কত বিচার শুনবেন ? তাই খুব মারও খেতে হয় সিফাতকে । আজ তিনি মনে মনে ভাবছেন স্যারদেরকে বলবেন, যাতে নিজের ছেলেটাকে এইভাবে না পিটায় । যদিও স্যারেরা ভালর জন্যই মারেন, তবুও নিজের আদরের ছেলের গায়ে কেউ এভাবে আঘাত করুক তিনি এটা চান না । ছেলেকে নিয়ে স্কুলের কাছা- কাছি চলে এসেছেন, এমন সময় একটা মিচিল আসতে লাগল বিপরীত পাশ থেকে । মিচিলের মাঝে কয়েকজন লোক ডিল ছোড়ার মত ককটেল ছোড়তে থাকে ! এভাবে ককটেল ছুড়তে দেখে ইয়াসমিন বেগম ভয় পেয়ে যান । ছেলেটা ভয়ে কাঁদতে শুরু করে । বাবা কাঁদিস না বলে পিছন দিকে ফিরেন তিনি । কিন্তু ভাগ্য সেদিন তাদের সহায় ছিলনা, পিছু ফিরে দেখে আরেকটি মিচিল কে পুলিশ দৌড়াতে থাকে । আর বিকটা শব্দ গুলি ছোড়তে থাকে অবিরত ! কোন দিশা না পেয়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা একটা বাসের দিকে দৌড়ান তিনি । বাসকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া একটা ককটেল হঠাত্ তার পায়ের কাছে এসে ফোটে । মুহুর্তের মাঝে মা-ছেলের আহাজারিতে সেখানটা কম্পিত হয়ে ওঠে । জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ইয়াসমিন বেগম । ছেলেটা মাকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে । কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে একটা ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদেরকে । একটি হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট তাদের আর্ত চিত্কারে কম্পিত হয়েছিল । ইয়াসমিন বেগমকে আর বাঁচানো সম্ভব হলনা । ছেলেটাকে একগাদা প্লাস্টার নিয়ে বার্ণ ইউনিটে মুত্যূর সাথে পাঞ্জা লড়তে দেখা গেল । আর রহমান সাহেবকে দেখা গেল চোখের অশ্রু শুকিয়ে বরফের মতো জমে থাকা দুটো চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে । তার কোন অনুভূতি নেই ! কিন্তু ইয়াসমিন বেগম আজ কোথায় ছেলেকে রেখে গেলেন ? আর নিজেই বা কোথায় গেলেন ? সবগুলো আজ একটা প্রশ্ন । এই প্রশ্নের উত্তরটা হলো আমাদের নষ্ট রাজনীতির সিস্টেমটাকে বদলানো । ধীক্কার জানাই এই রাজনীতিকে । আল্লাহ যেন এই নষ্ট রাজনীতির হাত থেকে আমাদেরকে রেহায় দেয় । রক্ষা করেন হতভাগ-হতভাগীদের কে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একজন হতভাগী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now