বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন ভীতু মানুষ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একজন ভীতু মানুষ - শুভাগত দীপ . ১. দুটি পুরুষ কণ্ঠের নোংরা ইয়ার্কি ঠাট্টা ভেসে আসছে। তাদের দুজনের গলাতেই এমন একটা কিছু আছে, যা প্রবল গা ঘিনঘিনে। মোতালেব নিজের বাড়ির কাছাকাছি এসে আচমকা দাঁড়িয়ে গেলো। তার ভয় করছে। যদিও এই পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে প্রবল রাগে শরীর কেঁপে ওঠা উচিৎ ওর। ব্যাপারটা ও ভালো করেই জানে। কিন্তু কিছু করতে পারেনা। মোতালেবের বউ সাফিনা বাড়ির উঠোন সংলগ্ন রান্নাঘরে বসে বসে ঘামছে। চুলাতে ভাতের হাঁড়ি চড়ানো আছে। চুলার ভাপে যে ঘামছে তা না। মেয়েটা ঘামছে রান্নাঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে কুৎসিত ইঙ্গিত দিতে থাকা দুজন পুরুষের কথা শুনে। মোতালেব বাড়ির বাইরে থাকলেই মাঝে মাঝেই এই পুরুষরূপী পশু দুটো আসে। সাফিনাকে নানা নোংরা কথাবার্তা বলে নিজেদের কুমতলব জানান দেয়। আড়ষ্টতা নিয়ে এসব মুখ বুঁজে সহ্য করতে হয় সাফিনাকে। ওই সময়টা খুব ভয়ে ভয়ে কাটে ওর। কখন যে পশু দুটো ওকে ধরে ছিঁড়ে খাওয়া শুরু করবে, এই আশঙ্কাতেই আধমরা হয়ে থাকে মেয়েটা। ২. - দেখছস নুরু, মাগী কেমন ঘামতেছে? - হ রে আক্কাস! ঘাইমা আরো রস বাড়ায়ে দিতেছে। - অর ভাতারডা অরে কি মজা দিবার পারে? - না পারলে আমরা দিমু, কি কস? - হা হা হা! ঠিক কইছস! আক্কাস আর নুরু নোংরা হাসির মাঝে সাঁতার কাটতে লাগলো। রান্নাঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তাদের দুজনের দু জোড়া চোখ যেন সাফিনার শরীরের আঁকাবাঁকা ভাঁজগুলো গিলে খাচ্ছে। তাদের চোখেমুখে খেলা করছে ভয়াবহ লালসা। ওরা দুজন এই গ্রামেরই ছেলে। দেশ ডিজিটালাইজেশনের প্রভাবে ওরা গ্রামে থেকেও নানা ভার্চুয়াল নোংরামি আর নেশাদ্রব্যের সাথে ভালোভাবেই পরিচিত। তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়, তারা এই গ্রামের চেয়ারম্যানের খাস লোক। ওদের মূল কাজ, কারো সাথে চেয়ারম্যান সাহেবের ক্যাচাল লাগলে তাদের সাইজ করা ও গ্রামের সোমত্থ মেয়েদের দিকে নজর দেয়া। তাদের অত্যাচারে গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ হলেও কারো কিছু করার নেই। সবাই ভয় পায়। - চল নুরু, আইজ যাই। মাগীরে পরে ভালো কইরা দেখমু। উত্তরপাড়া যাওয়া লাগবো মমিনরে ঠ্যাঙ্গাইতে। - চল। তয়, আইজ অরে খাইতে পারলে ঘুমটা জমতো। - আইজ না, বাদ দে। নুরু ও আক্কাস সাফিনার দিকে তাকিয়ে আরেকটা কুৎসিত হাসি দিয়ে চলে গেলো। ঘরের পাশের লাউমাচার পেছনে থাকা মোতালেব যখন নিশ্চিত হলো, ওরা আসলেই চলে গেছে, তখন আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো। তাকে অপরাধীর মতো দেখাচ্ছে। সাফিনা মোতালেবের দিকে ঝট করে তাকালো। সেই দৃষ্টিও যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে, সে অপরাধী। নিজের স্ত্রীর সম্মান বাঁচানোর কোন চেষ্টা কখনোই ওকে করতে দেখা যায়না। সে খুব ভীতু মানুষ। ৩. সাফিনা পাতে আরেকটা তেলাপিয়া মাছ তুলে দিলো। মোতালেব খেতে বসেছে। মাথা নিচু করে একমনে খেয়ে যাচ্ছে ও। সাফিনা তেলের কুপিটার ওপাশে মূর্তির মতো বসে আছে। আজ মোতালেবের সাথে তাকে কিছু কথা বলতেই হবে। কথাগুলো কিভাবে বলবে, সেটাই গুছিয়ে নিচ্ছে মনে মনে। - আপনেরে কয়েকটা কথা কইতে চাইছিলাম। - কও। - নুরু আর আক্কাসরে কি করবেন আপনে কন তো? হ্যারা নিত্যি আমারে জ্বলাই খাইতেছে! - দেখি, কি করন যায়। - আপনে কি মানুষ! নিজের পরিবাররে অন্য পুরুষ আইসা চাইটা খাইতে চায়, আর আপনের কিচ্ছু গায়ে লাগেনা। বিয়া করছিলেন কেন আমারে? - ইকটু... - আমি আর পারতেছিনা। মরণও ভালো আপনের সাথে বাঁচোনের থাইকা। চোখভরা জল আর মনভরা ক্ষোভ নিয়ে সাফিনা দ্রুত ঘর ছেড়ে উঠোনে বেরিয়ে গেলো। মোতালেব চুপচাপ বসে রইলো। আপাদমস্তক পাথরে পরিণত হয়েছে সে। পাতের আধখাওয়া তেলাপিয়া মাছটাও যেন ওর দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসছে। মোতালেব মিয়া এই গ্রামের সবচেয়ে বোকাসোকা মানুষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তাই সে যখন সাফিনার মতো একটা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুললো, সবারই একটা আগ্রহ তৈরি হলো ওদেরকে ঘিরে। মোতালেব কারো সাতেপাঁচে থাকেনা। গ্রামের বাজারে আফজাল মিয়ার ভাঙ্গারী লোহার দোকানে গতর খাটিয়ে যা পায় তাতেই দুটো মানুষের সংসার চলে যায়। ওর একটাই দোষ, প্রচন্ড ভীতু। না, ভূতের ভয় না, জীবিত মানুষের ভয়। মোতালেব কারো সাথে বিবাদ করা তো দূরের কথা, কারো চোখের দিকে চোখ রেখেও কথা বলতে ভয় পায়। ব্যাপারটা থেকে অনেকবার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছে সে, কিন্তু পারেনি। ভয়টা কেন যেন কাটাতে পারেনা ও। সাফিনাকে যখন নুরু আর আক্কাস নোংরা উদ্দেশ্য নিয়ে বিরক্ত করে, ওর প্রবল রাগ হলেও ভয়ের শেকলে আটকা পড়ে থাকে সে। মোতালেব ভাত শেষ না করেই উঠে পড়লো। কলপাড়ের দিকে গেলো হাত ধোয়ার জন্য। আকাশে মাতাল করা জোছনা। চারিদিক ভেসে যাচ্ছে রূপালী আলোর বন্যায়। হাত ধোয়া কেবল শেষ করেছে, এমন সময় এই অপার্থিব আলোতেই মোতালেব তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যটা দেখলো। চোখ দুটো বিস্ফারিত করে সেদিকে ঠায় তাকিয়ে রইলো সে। কলপাড়ের ডান কোণার পুরোনো আমগাছের নিচের দিকের একটা ডাল থেকে সাফিনার পেটিকোট ও ব্লাউজ পরা দেহটা ঝুলছে। পরনের শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে। জিভটা অনেকখানি বেরিয়ে আছে আর চোখ দুটো খোলা। মোতালেবের মনে হলো, সাফিনার মৃত চোখ দুটো যেন তার দিকেই তাকিয়ে আছে, তাকে উপহাস করছে! পরিশিষ্ট... চেয়ারম্যান বাড়ির পারিবারিক দীঘিটার ধারে বসানো বাঁশের মাচায় দুটো লোক বসে জড়ানো গলায় হাসি-তামাশা করছে। তাদের দুজনের হাতেই বাংলা মদের গ্লাস। গ্লাস শূন্য হওয়া মাত্র আবারো পূর্ণ করে নিচ্ছে দুজনেই। আজকের জোছনাতে মদের নেশা বেশ ভালো আনন্দ দিচ্ছে দুজনকে। - নুরু... - কি হইছে? - সাফিনারে আইজকা রাইতে পাইলে খুব মজা হইতো, নারে? - আবার অর কথা মনে করায় দিলি? এখনই তো আমি গরম হইয়া যাইতেছি! - হা হা হা! - হা হা হা! গা গুলানো হাসির শব্দের উৎস সেই দীঘিপাড়ের মাচাটির দিকে একজন মানুষ দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে। তার বামহাতে ধরা ভোজালিটার মাথা মাটি ছুঁইছুঁই করছে। মানুষটার স্ত্রী কিছুক্ষণ আগেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সেজন্য তার মন খারাপ হওয়া উচিৎ, কিন্তু হচ্ছেনা। বরং তার ভেতরে জেঁকে বসা দীর্ঘকালের ভয়ের মৃত্যু ঘটেছে। সে এখন ভয়শূন্য একজন মানুষ। যাকে ওই মাচাটির কাছে যেতে হবে। সেখানকার লোক দুটোর ওপর হাতের ভোজালিটা ব্যবহার করতে হবে। মানুষটা হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো। জোছনার আলোতে ভোজালিটার ঝলকানি আরেকটু যেন বেড়ে গেলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একজন ভীতু মানুষ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now