বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একদিন রাতের অন্দকারে

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X দুলালচন্দ্রের পিতা ত্রিলোচন দাস জোড়াসাঁকোর সিংহদের জমিদারি পরগণা নদীয়ার ইব্রাহিমপুরের লোক। খাজনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় জমিদারের লোকজন তাঁর বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিলে স্ত্রী থাকোমণি এবং দুই শিশু পুত্র-কন্যাকে নিয়ে জমিদারের সাথে সাক্ষাতের আশা নিয়ে সে কলকাতায় আসে। ঘটনাচক্রে কলকাতার রাস্তায় স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে সে পাগল হয়ে যায়, অন্যদিকে স্ত্রী থাকোমণি দুই শিশুকে নিয়ে দিগি¦দিকশূন্য হয়ে পড়ে। এরমধ্যে মেয়েটি কলেরায় মৃত্যুবরণ করলে মৃত মেয়েকে কোলে নিয়ে সে যখন গঙ্গার ঘাটে বসে কাঁদছিল তখন তার প্রতি নজর পড়ে তারই মালিকের স্ত্রী গঙ্গায় পূণ্যস্নানরতা বিম্ববতীর। ফলে পুত্রসমেত তার আশ্রয় জুটে সিংহবাড়িতে, অথচ এই জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্যেই একদিন রাতের অন্দকারে সে স্বামীর হাত ধরে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে দুলালচন্দ্রকে নবীনকুমার বানিয়ে ফেলে তারই খেলার সাথী। সমস্ত উপন্যাস জুড়ে আমরা তাই দুলালের সরব উপস্থিতি দেখতে পাই। এভাবে থাকোমণি ও দুলালচন্দ্র হয়ে উঠে উপন্যাসটির অন্যতম চরিত্র। এবং এই দুটি চরিত্রের হাত ধরে আমরা পূর্ণচোখে দেখতে পাই সিংহবাড়ির অন্দরমহল এবং অন্দরের লোকজনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার ছবি। সেই সময়ের প্রান্তিক মানুষের জীবনকে উপস্থাপনের মাধ্যমে সুনীল মহৎ শিল্পীর কাজও এখানে করে ফেলেছেন। অন্দরের তথা দাসীমহলের সর্দারনী দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী মহিলা সোহাগবালা, সিংহবাড়ির গোমস্তা-মহলের সর্দার দিবাকরের স্ত্রী। সোহাগবালা সমগ্র উপন্যাসে সকল দাসীর ওপর প্রভাব বিস্তার করেছেন। সোহাগবালার মৃত্যুর পর অবধারিতভাবে দাসীমহলের সকল কর্তৃত্ব এসে পড়ে থাকোমণির ওপর, কারণ সে যে নবীনকুমারের নিত্যসঙ্গী দুলালচন্দ্রের মা। সোহাগবালা যেমন স্বামী দিবাকরের সিংহবাড়ির ওপর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অন্দরের সকল দাস-দাসীর ওপর ছড়ি ঘুরাতে সে সিদ্ধহস্ত ছিল, তেমন করে থাকোমণিও পুত্র দুলালের দোহাই দিয়ে সকল দাস-দাসীকে নিজের করায়ত্ত কওে রেখেছিল। দিবাকর বহির্মহলে আর সোহাগবালা অন্দরমহলে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে, গ্রামের বাড়িতে বিশাল অট্টালিকা, মন্দির ও পুকুর গড়েছে। বিধুশেখর গুপ্তচর মারফত সব খবর রাখলেও দিবাকরের মত বিশ্বস্ত চাকরকে ঘাঁটাতে চাইতেন না। সোহাগবালাকে দিয়ে সে সকল দাসীকে, এমনকি থাকোমণিকেও নিজের শয্যাসঙ্গিনী বানিয়েছিল। মূলত ‘সেই সময়’ উপন্যাসটিতে প্রধান কোনো চরিত্র নেই, এমনকি প্রধান কোনো ঘটনাও নেই। নবীনকুমার সিংহ ও সিংহবাড়িকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি আবর্তিত হলেও বিধুশেখর মুখুজ্যে, বিম্ববতী, গঙ্গানারায়ণ, বিন্দুবাসিনী, কুসুমকুমারী, সরোজিনী, দ্বারকানাথ ঠাকুর, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হরিশ মুখুজ্যে, কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য, ডিরোজিও ও ইয়ং বেঙ্গল দলের সদস্যবৃন্দ, রাইমোহন ঘোষাল, নবীনকুমারের ভৃত্য দুলাল, দুলালের মা থাকোমণি ও বাবা ত্রিলোচন দাস, কমলাসুন্দরী, হীরে বুলবুল ও তার পুত্র চন্দ্রনাথ, সিংহবাড়ির গোমস্তা দিবাকর ও তার স্ত্রী সোহাগবালা সবাই নিজ নিজ চরিত্রগুণ ও সুনীলের সুনিপুণ চরিত্রাংকনে অনন্য হয়ে ওঠেছে। তবে সব ছাপিয়ে ‘সময়’ই এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কেবল একটি বিশেষ সময়কে ধারণ করতে গিয়ে নির্মাণ করেছেন এই সুবিন্যস্ত ও সুবিশাল ক্যানভাসের এই বর্ণিল উপন্যাস। আর সময়কে ঘিরেই ঐ চরিত্রগুলো প্রাণবন্ত হয়ে পাঠকের মনে বিনোদন ও জ্ঞানের খোরাক যুগিয়েছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একদিন রাতের অন্দকারে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now