বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সবাই পড়ুন..
আমার নাম হীরা। ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার বুরহানা থানার একটি গ্রামে আমার জন্ম।
আমার পরিবারের সবাই উগ্র হিন্দু। আমার বাবা ও চাচা মুসলিম বিদ্বেষী সংগঠন বজরং দলের নেতা।
আমি আমার বাবার বড় মেয়ে।
আমার বাবা নারীশিক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত রক্ষণশীল। তাই ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া-লেখা করার সুযোগ আমি পেয়েছি, এর উপরের ক্লাসে পড়া-লেখা করার সু্যোগ আমাকে দেওয়া হয় নি।
আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী রূপা। তার বাড়ি আমার বাড়ির পাশেই অবস্থিত।
অধিকাংশ মেয়ে চক-চক করা সাধারণ বস্তুকে ভুল করে সোনা ভাবে। আমিও এই ভুলটি করলাম।
আমি রূপার বড় ভাই কৈলাশকে ভালোবেসে ফেললাম। অথচ সে একটি সন্ত্রাসী দলের নেতা।
একদিন আমি তার হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম।
সে আমাকে একটি জঙ্গলে নিয়ে আসল। এখানে তার সন্ত্রাসী দলের সদস্যরা থাকত।
এখানে এসে আমি নিজের ভুল বুঝতে পারলাম। মা-বাবা ও বাড়ির কথা খুব মনে পড়ল।
কৈলাশের সন্ত্রাসী দলে ইদ্রিসপুরের এক মুসলিম ছেলে ছিল।
একদিন আমাকে কাঁদতে দেখে মুসলিম ছেলেটি এর কারণ জানতে চাইল। আমি তাকে বললাম, "আমি ভুল করে এক সন্ত্রাসীর হাত ধরে এখানে চলে এসেছি। কিন্তু এখন আমার ইজ্জতের ভয় হচ্ছে, মা-বাবার কথা খুব মনে পড়ছে।"
আমার প্রতি মুসলিম ছেলেটির দয়া হল। সে আমাকে বলল, "কিছু সমস্যার কারণে আমাকে এই সন্ত্রাসী দলে যোগ দিতে হয়েছে। কিন্তু আমি একজন মুসলিম এবং মুসলিমরা কখনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না। আমি তোমাকে আমার বোন বানালাম। আমি তোমার ইজ্জতের হেফাজত করব এবং সন্ত্রাসীদের এই আস্তানা থেকে তোমাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করব, ইনশাআল্লাহ।"
সে আমার জন্য পৃথক রুমের ব্যবস্থা করল। রাতে সে আমার রুমের বাইরে পাহাড়া দিত, যেন কৈলাশ কিংবা অন্য কোন সন্ত্রাসী আমার ইজ্জত নষ্ট করতে না পারে।
একদিন আমি তার সহায়তায় জঙ্গল থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হলাম।
মুসলিম ছেলেটির দয়ায় আমার ইজ্জত রক্ষা পেয়েছে। একারণে আমার অন্তর ছিল তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
আমার অন্তরে তার ধর্ম (ইসলাম) সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি হল।
আমি আমার এক মুসলিম বান্ধবীর নিকট ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। সে অত্যন্ত খুশী হল এবং আমাকে কিছু ইসলামিক বই দিল।
ইসলামিক বইগুলো পড়ে আমার অন্তর ইসলামের আলোয় আলোকিত হল। আমার অন্তরের সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে গেল।
আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।
আমি ধর্মপ্রচারক মাওলানা কালীম সিদ্দিকীকে নিজের সমস্যার কথা জানালাম। আমি তাকে বললাম, "আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পারলে আমার বাবা ও চাচা আমাকে মেরে ফেলবে।"
মাওলানা সাহেব আমাকে দিল্লিতে তার বোনের বাসায় পাঠিয়ে দিলেন।
দিল্লিতে আমি সুন্দর দ্বীনি পরিবেশ পেলাম।
মাওলানা সাহেবের বোনকে আমি 'রাণী ফুফু' ডাকি। তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন।
তার আদর-স্নেহ পেয়ে আমি বাড়ির কথা ভুলে গেলাম।
এক রাতে আমি স্বপ্নে আমার মাকে দেখলাম। আমি দেখলাম, আমার মা খুব অসুস্থ। ধীরে-ধীরে তিনি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ঘুম ভাঙ্গার পর মায়ের কথা খুব মনে পড়ল। আমার মা কাফির অবস্থায় মারা যাবেন না তো!
আমি মাওলানা কালীম সিদ্দিকীর নিকট বাড়ি যাওয়ার অনুমতি চাইলাম।
তিনি আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বললেন, "ঠিক আছে, যাও। শোন, পরিবারকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নিয়ত করে বাড়ি যাবে। তোমার পরিবার হয়তো তোমার উপর অত্যাচার করবে। কিন্তু তুমি কিছুতেই ইসলাম ত্যাগ করবে না। মনে রেখ, তাদের শারীরিক বা মানসিক অত্যাচারের কারণে যদি তোমার মৃত্যু হয়, তাহলে তুমি শহীদ হবে। আর শাহাদত তো জান্নাতের সংক্ষিপ্ত রাস্তা! আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তুমি শহীদ হলে তোমার শাহাদত তোমার পরিবারের হেদায়াতের কারণ হবে।"
পরিবারের সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নিয়তে আমি বাড়ি আসলাম।
আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পারে আমার চাচা আমাকে খুব মারধর করলেন।
আমি তাকে বললাম, "মারধর করে লাভ নেই, আমি ইসলাম ত্যাগ করব না।"
আমি বাড়ির সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম। শুধুমাত্র আমার মা ইসলামের দাওয়াত কবুল করলেন।
দুই মাস পর আমার অসুস্থ মায়ের মৃত্যু হল।
আমি বাড়ির সবাইকে বললাম, "আমার মা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাই তার লাশ ইসলামিক নিয়মে দাফন করতে হবে।"
কিন্তু তারা বিষয়টিকে গুরত্ব দিলেন না। তারা আমার মায়ের লাশ হিন্দু রীতি অনুযায়ী পুড়িয়ে ফেললেন।
আমি ইসলাম গ্রহণের কারণে আমার চাচা অনেক রাগান্বিত হয়েছিলেন। আমার মা মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করার কারণে আমার প্রতি তার রাগ আরো বাড়ল।
তিনি আমার শাস্তির ব্যাপারে বজরং দলের নেতাদের সাথে আলোচনা করলেন। তারা আমাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার পরামর্শ দিলেন।
পরামর্শ মোতাবেক আমার চাচা আমার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিলেন।
আমি শহীদ হলাম, জান্নাতের সংক্ষিপ্ত রাস্তার পথিক হলাম।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার শাহাদত একদিন আমার পরিবারের হেদায়েতের কারণ হবে।।
(হীরার বাবা, চাচা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হীরার মৃত্যুর পর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হীরার শাহাদত তাদের হেদায়েতের কারণ হয়েছিল।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now