বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এই রাতের গল্প..

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Opu Ahasan (০ পয়েন্ট)

X সারা দিনে আজকে বেশ পরিশ্রম গেছে ! এখন একটু ঘুমানো দরকার ! ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি খুব বেশি রাত হয় নাই ! তবুও ঘুম আসতেছে ! আমি বিছানা ঠিক করতে শুরু করলাম ! মা এসে আমাকে ঘর বিছানা গোছাতে দেখে একটু অবাকই হল ! আমাকে বলল -কি রে ! শরীর খারাপ নাকি ? -নাহ ! একটু ক্লান্ত ! এখন ঘুমাবো ! -সে কি রে খাবি না ? -নাহ ! ভাল লাহছে না ! -কেন ! -এমনি মা ! তুমি ভাত বেড়ে রাখো ! আমি পরে খেয়ে নিবো ! মা আর বেশি কথা বলল না ! রুম থেকে চলে গেল ! আমি ঘরের লাইট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লাম ! পাঁচ মিনিটও যায় নাই দেখলাম ফোন বেজে উঠল ! নিশিন ! এই সময়ে ! আমি একটু অবাক না হয়ে পারলাম না ! নিশিন সাধারনত এমনিতে আমাকে ফোন টোন দেয় না ! যদিও আমাদের পাশের বাসাতেই থাকে ! ওর সাথে আমার কথা হয় প্রায়ই ! যখনও ছাদে যাই তার কিছু পরেই নিশিন এসে হাজির ! প্রথমে এদিক ওদিক হেটে বেড়িয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসবে ! তারপর নিজ থেকেই কথা শুরু করবে ! মেয়েটা খারাপ না ! খুব মিষ্টি করে কথাও বলে ! আর চেহারা ছবিও যে খুব খারাপ তা না ! মাশাল্লা ভাল ! মেয়েটাকে আমার ভালই লাগতো ! আমি প্রথমে মনে করতাম নিশিন আমাকে পছন্দ করে ! এই জন্যই মনে হয় আমার সাথে কথা বলে ! কিন্তু আমার ভুল ভাঙ্গতে খুব বেশি সময় লাগলো না ! একদিন বাসার সামনেই দেখি নিশিন একটা রোগা পাতলা ছেলের সাথে কথা বলতেছে ! কথা বলার স্টাইল দেখে আমার কেন জানি মনে হল এই ছেলেটা ওর বয়ফ্রেন্ডই হবে ! ছাদের যখন ওর সাথে দেখা হল ওকে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম ছেলেটা কে ? আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে নিশিন বলল -আপনি দেখেছেন ? -হুম ! -কেমন লেগেছে ? আরে মর জ্বালা আমি জানতে চাই ছেলেটা কে ! আর এই মেয়ে বলে কেমন লেগেছে ! আমি বললাম -ভাল তো ! নিশিন বলল -ভাল না ! অনেক ভাল ! রাজীব আমার অনেক টেক কেয়ার করে ! আজ সকালে একটু দাঁত ব্যাথা করছিল এই কথা শুনে আর না থাকতে পেরে চলেই এসেছে আমাকে দেখতে ! বলুন এমন কাউকে পাবো আমি ? -নাহ ! পাবে না তো ! আমি একটু শুকনো হাসি দিলাম ! আরে মেয়ে এই বগের ঠ্যাংয়ের মত ছেলে তোমার কি দেখাশুনা করবে ! বেটা তো নিজেকেই ঠিক মত দেখা শুনা করতে পারে না ! যাক তবুও কেন জানি নিশিনের দাঁত ব্যাথা শুনে নিজের কাছেই কেমন লাগলো ! দাঁত ব্যাথার কষ্ট অনেক ! আমি নিশিনের ফোন রিসিভ করলাম ! -আপনি কি ঘুমিয়ে পরেছেন ? -হুম ! কেন ? -আমার একটু উপকার করতে হবে ! -বল ! নিজের ক্লান্তির কথাটা আর বললাম না ! অন্য কেউ হলে হয়তো বলতাম পারবো না কিন্তু নিশিন বলে কথা ! ওকে কিভাবে ফিরিয়ে দেই ! নিশিন বলল -আপনি কি এখন একটু বাসা থেকে বের হতে পারবেন ? -এখন ? -হুম ! খুব জরুরী ! প্লিজ না করবেন না ! বের হতেই হবে ! আমি একটু ভাবলাম ! এখন বাসা থেকে কি বলে বের হব ? মা তো কিছুতেই শুনবে না ! আর এখন সবাই টিভির ঘরে বসে টিভি দেখছে ! ওদের সামনে ছাড়া বেরও হওয়া যাবে না ! আমি নিশিন কে বললাম -আচ্ছা ! সমস্যা নাই ! আমি আসতেছি ! কোথায় আসতে হবে বল ? -আপন পাঁচ মিনিটের ভিতর আমাদের বাড়ির সামনে যে চায়ের দোকানটা আছে ঐ খানে আসেন ! ঠিক আছে ? -আচ্ছা ! -শুনুন ! -হুম ! -আপনার কাছে কিছু টাকা হবে ? -কত ? -যা পারেন ! -আচ্ছা ! আমি আনছি ! সমস্যা হবে না ! লাইট জ্বেলে আবার জামা কাপড়রে নিলাম ! হাজার চারেক টাকা ছিল সেটাও নিলাম ! বাসা থেকে বের হতে যাবো তখন মা থামালো ! -কোথায় যাচ্ছিস ? -মা ! ঐ শাহরিয়ার দাড়িয়ে আছে বাইরে ! কি যেন কাজ ! তাই দেখা করতে যাচ্ছি ! সামনের চায়ের দোকানেই আছি, চলে আসবো ! মা আর বেশি কিছু বলল না ! শাহরিয়ার আমাদের এলাকাতেই থাকে ! মায়ের বান্ধবীর ছেলে ! তাই আর কিছু বলল না ! আমি বাইরে বের হয়ে এলাম ! চায়র দোকানে কোন কাষ্টমার নাই ! মামা দোকান বন্ধ করে দিবে এখনই ! আমি কাছাকাছি আসতেই দেখলাম নিশিন বের হয়ে এল ! আমি ওকে দেখে একটু অবাকই হলাম ! কালো জিন্সের সাথে কালো কামিজ পরেছে ! সাথে কালো ওড়না ! চায়ের দোকানের টিমটিম আলোতে ওকে কেন এক অপস্বরীর মত লাগছে ! আমি অবাক হলাম ওর হাতে একটা হ্যান্ড ব্যাগ দেখে ! আমি কিছু বলার আছেই নিশিন বলল -এখানে কিছু বলতে পারছি না ! আমার বাবা মা যে কোন সময়েই বুঝে ফেলবে যে আমি বাসায় নাই ! আগে বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলেন ! -মানে কি ? -বলছি ! আগে একটা সিএন জি নেন ! সিএনজি পাওয়া গেল না ! তবে রিক্সা পাওয়া গেল । রিক্সা করেই কল্যানপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা দিলাম ! আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না ! এই মেয়ের সমস্যা কি ? এই মেয়ের মাথায় কি কাজ করছে আমি আসলেই ঠিক মত ধরতে পারছি না ! রিক্সায় নিশিন নিজেই বলল সব ! সব শুনে আমার মাথায় বাঁশ ! নিশিন আজকে তার বয়ফ্রেন্ড রাজীবের সাথে করে বাসা থেকে পালাবে ! কল্যান পুরে রাজীব তার জন্য অপেক্ষা করছে ! আমার দায়িত্ব হল নিশিনকে কল্যানপুর পর্যন্ত পৌছে দেওয়া ! মনের ভিতর একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে গেল ! হায়রে আমার পোড়া কপাল ! যখন কল্যান পুরে নামলাম তখন প্রায় এগারোটা বেজে গেছে ! কল্যানপুর সব সময়ই লোকে লোকারন্য থাকে ! আমরা দুজন সোহাগের বাস কাউন্টারে গিয়ে বসালাম ! রাজীবের নাকি এখানেই আসার কথা ! এতোক্ষন পরে আমি একটু চিন্তা করার সময় পেলাম ! এতোক্ষন আমার মাথা গরম ছিল ! আসলে নিশিনের এই ভাবে কথা বলাটা আর এই ভাবে চলে আসা টা আমার কেন জানি মানতে একটু কষ্ট হচ্ছিল ! মেয়েটাকে আমি মোটামুটি পছন্দই করি ! মোটামুটি কেন বলছি ভালই পছন্দ করি ! নিশিন যে দিন আমার সাথে প্রথম কথা বলেছিল সেদিনই একটা মিষ্টি ভাল লাগা ভেসে বেড়াচ্ছিল আমার চারিদিকে ! যাই হোক ! এই মেয়েটা এই ভাবে চলে যাবে ! আর সব থেকে বড় কথা এই মেয়ে যে পালাচ্ছে এটার দোষ তো আমার ঘরে এসে পড়বে ! নিশিনের সাথে রিক্সায় উঠতে আর কেউ না দেখলেও ঐ চায়ের দোকানদার মামা তো ঠিকই দেখেছে ! যদি একবার আমার নাম বলে দেয় ! সবার আগে গিয়ে মামাকে হাত করতে হবে ! কিন্তু সেই ব্যাটা এখনও আসে না কেন ? রাজীব না আসলে তো আমি যেতে পারতেছি না ! আমা মুখের ভাব দেখে নিশিন বলল -আপনি চলে যেতে পারেন ! রাজীব এখনই চলে আসবে ! -না ! আমি আছি ! -না কোন সমস্যা হবে না ! আপনি এমনিতেও আমার খুব বড় উপকার করলেন ! আপনি ছাড়া আমার কি যে হত ! আসলেই আমি ছাড়া যে কি যে হত ! আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম ! দেখতে দেখতে ঘড়ি বারোটার কাটা ছুলো কিন্তু তার খবর নাই ! আমার কেমন যেন অস্থির লাগা শুরু হল ! কেন জানি মনে হচ্ছে কিছু একটা সমস্যা হবে ! এরই মধ্যে নিশিন দুইরার ফোন দিয়ে ফেলেছে ! কি জানি কি কথা বলেছে ! দেখলাম নিশিনের মুখ শান্ত ! তার মানে এখনও কিছু হয় নাই ! কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে কিছু একটা ঠিক হচ্ছে না ! আমরা বসে রইলাম ! বাসা থেকে কেউ ফোন দিতে পারে ভেবে আমি ফোন বন্ধ করে রেখেছি ! ফোন রাখার আগে মাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি যে আসতে একটু দেরি হতে পারে ! শাহরিয়ারদের বাসায় যাচ্ছি ! মা আর কিছু বলে নাই ! কিছুক্ষন পরে কাউন্টার ম্যান এগিয়ে এসে বলল -আপনাদের গাড়ি চলে এসেছে ! ইচ্ছা করলে গাড়িতে গিয়ে বসতে পারেন ! সাড়ে বারোটায় ছাড়বে ! আমি নিশিনের দিকে তাকালাম চিন্তিত মুখে ! রাজীব এখনও এল না ! কিন্তু নিশিনকে দেখলাম একদম নিশ্চিন্ত ! দেখে মনেই হচ্ছে না এই মেয়েটা বাড়ি থেকে একটু আগে বাসা থেকে পালিয়ে এসেছে ! আর আমি তাকেই পালাতে সাহায্য করেছি ! আমি বললাম -এখন কি হবে ? -কি হবে ! গাড়ি ছেড়ে দিবে ! আপনি বরং চলে যান ! -কিন্তু রাজীব যে এল না ? -সে চিন্তা করে লাভ নাই ! রাজীব আসবে না ! আমার প্রথমে মনে হল আমি যেন ভুল শুনছি ! কি বলছে এই মেয়ে ! রাজীব আসবে না মানে ? আমি কোন মতে বললাম - কি বললে ? আসবে না ! -হুম ! সে আমাকে বলেই দিয়েছে সে পালাতে পারবে না ! -এখন ? -জানি না ! -জানি না মানে কি ? -জানি না মানে হল আমি এখন গাড়িতে উঠবো ! -তারপর ? -তারপরের টা তারপর ! দেখা যাক কি হয়? -দেখ ! এটা পাগলমো করার সময় না ! -আপনি বুঝতে পারছেন না আমি কি অবস্থার ভিতর পরেছি ! বাসা থেকে এখন সবাই জেনে গিয়েছে ! আমি এখন বাসায় যাবো কিভাবে ? আব্বা আমাকে গলা টিপে মেরে ফেলবে ! আমি কোন কথা বলতে পারলাম না ! কি বলবো ? আমার কি বলার আছে ? মেয়েটা কে!! নিশিন গাড়িতে উঠে পরলো ! l আমি গাড়ির সামনে দাড়িয়েই রইলাম ! কি করবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ! আমার কি করা উঠিৎ তাও ঠিক মত মাথায় ঢুকছিল না ! কিন্তু গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগ মুহুর্তে আমি নিজে গাড়িতে উঠে পরলাম ! কেন বসলাম জানি না ! কিন্তু এই মেয়েটা কে একা রেখে যেতে মন চাইলো না কিছুতেই ! সামনে আমার জন্য খবরই আছে ! কালকের ভিতরই সারা এলাকা খবর হয়ে যাবে যে আমি নিশিন কে নিয়ে পালিয়েছি ! কোন ভুল নাই ! নিশিন আগে থেকেই টিকিট কেটে রেখেছিল ! আমি ওর পাশে সিটে গিয়ে বসলাম ! সব থেকে যে ব্যাপারটা আমার কাছে অবাক লাগছিল সেটা হল ওকে একদম শান্ত লাগছিল ! মেয়েটা এতো শান্ত কিভাবে থাকতে পারছে ! আশ্চর্য ! এই যে আমি ওর পাশে এসে বসলাম এটা দেখেও ওর ভিতর এমন কোন পরিবর্তন হল না ! যেন ও জানতো আমি আসবো! আমি বললাম -এখনও সময় আছে ! একবার ভেবে দেখো ! -নাহ ! এখন আর সময় নাই ! এই দেখেন বাস ছেড়ে দিয়েছে ! আসলেই বাস ছেড়ে দিয়েছে ! আল্লাহ জানে সামনে কি আছে ! হঠাৎ নিশিন আমার দিকে একটা বন্ধ খাম এগিয়ে দিয়ে বলল -এটা পড়েন তো ! -কি ? -আহা ! পরেন না ! আমি খাম ছিড়ে পড়তে শুরু করলাম ! এবং খানিকটা ধাক্কার মত খেলাম ! সেখানে লেখা "আমি তোমাকে একবারও আসতে বলবো না ! বরং বারবার বলবো চলে যেতে ! কিন্তু আমি জানি তুমি যাবে না ! যখন বাসে উঠবো তখনও তোমাকে ডাকবো না ! কিন্তু তবুও তুমি চলে যাবে না ! আমি জানি তুমি যাবে না ! তুমি যেতে পারবে না ! আমাকে একা রেখে যাওয়া ক্ষমতা তোমার নাই ! আমি জানি আমার সাথেই বাসে উঠবে ! আমার পাশেই বসবে ! আশ্চর্য এতো যখন আমার কথা ভাব তখন কেন আরো আগে আমাকে বল নি মুখ ফুটে ! ভালবাসি বলাটা কি খুব বেশি কঠিন ?" আমি চিঠি হাতে কিছুক্ষন বসে রইলাম ! মাথার ভিতর কেমন যেন লাগতেছে ! সেই সাথে একটা ভাল লাগাও কাজ করতেছে ! হঠাৎ অনুভব করলাম নিশিন আমার হাত ধরেছে ! কি নরম তুলতুলে ওর হাত !!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এই রাতের গল্প..

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now