বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব ১
.
.
.
প্রতিদিনের মতো আজো দারিয়ে আছে অফিসে যাওয়ার জন্য।নানান মডেলের গাড়ি চলছে, রাস্তা জ্যাম বলা চলে।যাত্রি ছাওনিতে ধপ করে বসে পড়ে। আজকে তাপমাত্রা অনেক হট।পাশের টং দোকান থেকে একটা সিগারেট কিনে ফুকতে আরম্ভ করছে।এই একটা জিনিসই পারে সব চিন্তার অবসান কিছুক্ষনের জন্যে হলেও ভুলিয়ে রাখতে।আশে পাশে অনেক মানুষ এর ব্যাস্ততা কেও কাওকে লক্ষ করছে না।
হটাতই একটা প্রাইভেট কার এসে এক মাঝ বয়স্ক লোকেরে ধাক্কা দেয়।ব্যাগ রেখেই লোক টার সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায়।আশে পাশে এতো মানুষ তবু কেও কাছে আসছেনা।সবাই দারিয়ে দেখছে, রাসেল কে এগিয়ে যেতে দেখে আরো দু জন লোক এসে লোক টাকে ধরলো এক পায়ের হার বেড়িয়ে গেছে,আরেক পা অনেক কেটে গেছে রক্তে মাখা মাখি।সিগনাল না পেয়ে গাড়ি দ্রুত চলে গেলো। সবাই তাকিয়ে আছে মনে হয় শুটিং হচ্ছে আজব আমাদের বিবেক বুদ্ধি।একটা সি এন জি দাড় করিয়ে ধরাধরি করে লোক টাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
লোক গুলা সবাই যার যার কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেছে একটা কুকুর এসে রক্ত চেটে খাচ্ছে।
একটা মেয়ে এসে কুকুর কে তারিয়ে দিলো। একটা জিবন্ত মানুষ এর রক্ত কুকুর খাচ্ছে জিনিষ টা তার কাছে খারাপ লেগেছে।এক বোতল পানি কিনে সিটিয়ে দিয়ে এদিক উদিক তাকিয়ে একটা বড় নিশ্বাস ছারলো।রাসেল এর ব্যাগ ব্রেঞ্চে পড়ে থাকতে দেখে তুলে নিয়ে নেয়।
হাসপাতালে ভর্তি করে। ডাঃআগে টাকা জমা দিতে বলে,মনে মনে রাগ হচ্ছে।কিন্তু প্রকাশ করেনা আজকে আমাদের সমাজে এমন টা অহরহ ঘটে চলছে, ডাঃহয়ে একজন কসাই এর ব্যাবহার জাতি কখনওই মেনে নিতে চাইনা।তবু পরিস্থিতির কাছে হেরে যেতে হয়।
নিজের কাছে থাকা বিকাশ একাউন্ট খালি করে টাকা দিয়ে অপারেশন করতে বলে।
সন্ধ্যা হবে হবে পশ্চিমের আকাশ হলদে ভাব হয়েছে।আকাশের দিকে তাকিয়ে জুরে নিশ্বাস নিয়ে লোকটার পরিচয় জিজ্ঞেস করার জন্য পা বাড়ায়।হটাত তার ব্যাগের কথা মনে পড়ে। ব্যাগে তার আইডি কার্ড সহ অফিসের কিছু কাগজ। মন টা খারাপ হয়ে গেছে।অফিসে অসুস্থের কথা বলে দিয়েছে।কিন্তু আইডি কার্ড ছাড়া কাল কিভাবে অফিসে যাবে?
লোক টার নাম আনিসুজ্জামান বাড়ি এখান থেকে ৫কিলোমিটার তার পরিবারের নাম্বারে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিয়ে চুপ চাপ বসে রইলো সাথে আসা দুই লোক দুপুরেই চলে গেছে।
৭টা বাজে লোকের পরিবারের লোক জন আসে। লোক টার ছোট একটা মেয়ে মায়ের মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। মায়ের চোখ থেকে অঝোরে পানি পরছে।রাসেল দৃশ্যটা দেখছে।রাসেল কে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা মায়ের চোখের পানি মুছে দিতে লাগলো ইচ্ছে করছে মেয়েটিকে কোলে নিয়ে আদর করে দিতে।
রাসেল চলে যাবার জন্য উঠে দারায় লোকের স্ত্রী তার নাম্বার রেখে যাবার জন্য বলে।মেয়েটি আংকেল বলে ডাক দেয় রাসেল চমকে উঠে মেয়েটি তার আংগুল ধরে আছে এতক্ষন খেয়াল করেনি।
মেয়েটিকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষন কথা বলে।বয়স ৩হবে অসম্ভব সুন্দরী। রাসেল কালকে আসবে বলে বের হয়ে যায়।
রাতে রুমের লাইট অফ করে ভাবছে কালকে কি করে অফিসে যাবে?
কেবল ত মাসের শুরু টাকা সব গুলা দিয়ে দিয়েছে।হাজার কয়েক টাকা আছে মাত্র।যা হবার হবে একটা সিগারেট ধরিয়ে টানছে।
একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন রিসিভ করে দেখে একটা মেয়ে।
চিকন কণ্ঠ মায়া মেশানো পাশে মনে হয় আরো কয়েক জন আছে শোরগোল শুনা যাচ্ছে।
নিরবতা ভেঙে আপনি কি রাসেল সাহেব?
জ্বি হা আপনি কে বলছেন?
মেয়েঃআজকে একটা লোক এক্সিডেন্ট করেছিলো তাকে আপনি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন?
জ্বি হ্যা
মেয়েঃআপনি ব্যাগ টা রেখে চলে গেছেন। আমি আপনার ব্যাগ টা নিয়ে এসেছি।
রাসেল এর কথা শুনেই মনটা উতফুল্ল হয়ে উঠে।অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।আমাকে কোথায় আসতে হবে?
মেয়েঃকোথাও আসতে হবেনা যেখানে রেখে গিয়েছিলেন সেখানেই আসলে হবে।
আচ্ছা কখন আসবো?
মেয়েঃযে টাইমে আসেন সেম টাইমে আসলেই হবে।
আচ্ছা ধন্যবাদ।
মেয়েঃশুনুন শুনুন অই লোকের কি অবস্থা
লোকটি সুস্থ আছে এখন। হার ভেঙে গেছে সময় লাগবে
মেয়েঃউফ আচ্ছা ঠিক আছে রাখি।
রাসেল নিজেকে একজন সুখি মানুষ মনে করছে।এটা সেটা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now