বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দুষ্টু মেয়ে নিধি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X - না আর সহ্য হয় না , এমন যখন তখন চকলেট খাইতে মন চায় ক্যান বুঝিনা এই হাড়ে চলতে থাকলে তো সিওর দাঁতে পোকা লাগবে । আহারে এই মনডা ক্যান যে আমার কথা শুনে না । রুম থেকে বের হলাম যেই গেট দিয়ে বাইরে যেতে লাগবো ওমনি ঠকাস করে গেট এর ওপরের রড টা মাথাই লাগলো । উহুহুহুহু এই ফালতু মার্কা মনটার জন্য বেচারা মাথাটা খালি কষ্ট পায় । আর ওই বাড়ি ওয়ালা কাকুটা ও .. দুনিয়ার সব টাকা পয়সা নিজের পেটে ঢুকাই ঢুকাই খালি পেটটা বড় করছে দরোজাটা বড় করার কোন নাম গন্ধ নাই । বুঝি না এতো টাকা নিয়া কী কবরে যাবে , দরোজাটা ও তো একটু বড় করতে পারে নাকি । মাথাটা নাড়তে নাড়তে চলে আসছিলাম । ওমনি উপর থেকে অ্যান্টির ডাক । আসলে বাড়ি ওয়ালার বয়স একটু বেশি তাই ওনাকে কাকু বলি । আর ওনার স্ত্রী এর বয়স কম তাই অ্যান্টি হি হি হি । - এই যে চকলেট কই যাস মাথা নাড়তে নাড়তে । - কই আবার যেই নামে ডাকলেন ওইটা কিনতে । - আচ্ছা যাবি ভালো , কিন্তু আমার কিছু বাজার করে এনে দে না বাবা । - বাজার করবা ... বাব্বা তোমার ওই কিপটুস বরটা কই .. বাজার করলে তো আবার তাঁর পেট কইমা যাইব । - চুপ থাক বেয়াদপ বাসাতেই আছে শুনতে পাইলে আচ্ছা মতো বকবে । - আচ্ছা ওনার এতো বড় পেট নিয়ে কেমনে এই দরোজা দিয়ে বের হয় । আমার জন্য না হোক নিজের ভালোর জন্য অন্তত তো দরোজাটা বড় করতে পারে তাই না । - আচ্ছা বেশি কথা বাদদে ... আজকে নিধি আসবে তাড়াতাড়ি গিয়ে একটু বাজার করে এনে আমাকে দে । - আচ্ছা এই নিধিটা আবার কে । - ওহ হ্যা তোরে তো বলাই হয় নাই নিধি হচ্ছে আমাদের একমাত্র মেয়ে , এবার তাড়াতাড়ি লিস্টটা নিয়ে বাজারে যা না বাবা । - আচ্ছা যাচ্ছি , কিন্তুু আর একটা কথা বলো , মেয়েটা তোমার মতো হইছে নাকি সেই পেট মোটাটার মতো হইছে । - কেন । - না মানে পেট মোটাটার মতো হইলে দেখে দেখে কম দামি জিনিস আনতে হবে হাজার হইলে ও ওনার মেয়ে বলে কথা । - ফাজিল যা তুই তাড়াতাড়ি । - হুমমমম যাচ্ছি । - আর হ্যা শোন নিধি একদম আমার মতো হইছে বুঝলি । - হুমমমমম বুচ্ছি আর যাচ্ছি ... ওহহহহ কতক্ষণ যাবত চকলেট খাই নাই । - বাজারে গিয়ে লিস্টটা বের করেই তো আমার মাথা ঘুরে মাটিতে পরে যাবার কথা ... ওহহহহহ এতো সব মানুষ খাবি নাকি হাতি । এবার আমি সিওর নিধি ওর বাপের মতো হয় নাই । এই জন্য অ্যান্টি ওই পেট মোটা টাকে বাজারে আসতে বলে নাই । এই লিস্ট দেখলে ওনি সিওর হার্ড অ্যাটাক করবে । আহারে এতো সব আমি কেমনে নিয়ে যামু । লিস্ট যদি এমন হয় না জানি দেহটা কেমন আল্লাহ্‌ আজকের মতো আমারে তুমি রক্ষা করে নাও । - এর পরে একে একে সব কিনলাম । একটা রিক্সা ডেকে আনলাম সব বাজার গুলো রিক্সাই তুলে নিলাম আর বাসার পথে আস্তেছি । হায় হায় আসল জিনিস তো নেই নাই আমার চকলেট কই । মাম্মা রিক্সা ঘুরান চকলেট নিতে ভুলে গেছি । রিক্সা ঘুরে চকলেট নিয়ে তাঁরপরে জানডাই পানি আসলো । আহা আমার সব সুখ শান্তি এই চকলেট এর মধ্যেই ঢুকাই দিছে আল্লাহ্‌ । বাসাই আসলাম রিক্সা থেকে বাজার গুলো নামালাম । ওহহহহহ আগে মাঠ থেকে বস্তা ভরা আলু ঘাড়ে করে নিয়ে আসতাম তখন ও এতো ভারী লাগত না । রিক্সা ওয়ালাকে ভাঁড়া দিয়ে দুই হাতে চারটা ব্যাগ নিয়ে বাসাই ঢুকছি । - ঢুকতেই আবার সেই দরোজাই ফট করে মাথাটা লাগলো । দূর আর সহ্য হয় না , আমি সালা ওই পেটমোটার পোলা হইলে ১ দিনে সব ঠিক করে ফেলতাম দরজা কে না ওই হালারে । হাতে ব্যাগ থাকাই মাথাটা ও নাড়তে পাচ্ছি না অসহ্য লাগে । অ্যান্টি অ্যান্টি ও অ্যান্টি বলে চিল্লাতে চিল্লাতে বাসাই ঢুকলাম । - কিরে বাবা এতো চিল্লাচিল্লি করছিস ক্যান । - চিল্লামু না হুমম তোমাদের এই লটরপটর দরোজার জন্য না জানি কোনদিন আমারে দি ইন্ড হইতে হয় । - আচ্ছা বাবা এখন যা ব্যাগ গুলো রেখে সোফাই বস আমি বরফ নিয়ে আসছি লাগালেই দেখবি ঠিক হয়ে যাবে । - হুমমমমম যাও নিয়ে আসো । একটু পরেই দেখি একটা মেয়ে চুপিচুপি রুমে ঢুকছে ... ওমনি একটা সিনেমান কথা মনে পরে গেলো , একটা ডাকাত মেয়ে এমনি ভাবে ঘড়ে ধুকছিল । দেখতে এমনই সুন্দর ছিল । না না বাড়ির ছেলে হিসেবে এই বাড়ির মানুষ জন দের রক্ষা করা আমার কর্তব্য । - যেই ভাবা সেই কাজ চুপিচুপি একটা তোয়ালে নিয়ে গিয়ে পিছন থেকে বেঁধে ফেল্লাম ... হাজার হলে ও আমি ভালা পোলা তো একটা মেয়ে কে কেমনে জড়াই ধরি তাই তোয়ালে দিয়ে ধরলাম । ধরেই চিল্লানি দিয়ে উঠলাম অ্যান্টি ডাকাতি ধরছি কই গেলা তাড়াতাড়ি আসো । ওমনি অ্যান্টি চলে আসলো । - ওই ফাজিল কাকে ধরছিস এটা নিধি । - এই যা ... আমি ভাবছি ডাকাতি । - তাড়াতাড়ি ছাড় । - ছেঁড়ে দিতেই ... - মা এই ছেলে কে হুমমমম । - রাগ করিস না মা ও হচ্ছে চকলেট । - অ্যান্টি আবার আমার একটা সুন্দর নাম আছে সাহরিয়া । - এহ কী ভালো সেটা দেখাই যাচ্ছে । আর আপনে কে শুনি । - আমি আপনাদের ওপরে থাকি । - আজকেই বাবাকে বলে তাড়াবো । - এহহহহ কইলেই হইল ১ বছরের অগ্রিম টাকা দেওয়া আছে । আচ্ছা অ্যান্টি একটা কথা বলি । - হুমমমমম কী বলবি শুনি । - না মানে বলছিলাম কী তুমি এই হরিণ এর জন্য হাতির খাবার ক্যান আনতে বল্লা সেটাই বুঝতেছি না হি হি হি । - মা ও আমাকে কী বলল । - আচ্ছা চকলেট তুই দেখছিস না মেয়েটা আমার মাত্র আসলো , তুই এবার যা না বাবা । - হুমমমম হুমমমম যাচ্ছি যাচ্ছি । এবার দেখি নিধি ব্যাগে কী জানি খুজতেছে । - মা আমার চকলেট কই । - এই যা আমি তো চকলেট আনতে বলতে ভুলে গেছি । সাহরিয়া বাবা তোর কাছে চকলেট আছে । - হুমমমমমম আছে তো । - বাহ তুই নিধিকে চকলেট গুলো দে আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি । - দূর সত্যি কথা বলে ও এক ভেজাল এ পড়লাম , একটা চকলেট ও খাইতে পারলাম না আর তাঁর আগেই এই ঝগরাটে মেয়েটাকে নাকি দিতে হবে । - অ্যান্টি আমারে ভরা পুকুরে ঢুপ দিতে কইলে ও আমি রাজি বাট চকলেট দিতে পারমু না । - মা আমার চকলেট চাই চাই ... না হলে কিন্তুু কান্না করবো । - সাহরিয়া বাবা দে না তুই তো সব সময় চকলেট নিয়া থাকিস ... আমি তো তোকে টাকা দিচ্ছি তুই কিনে নিয়ে আয় না । - হুমমমম হুমমমম দিচ্ছি ... এই নেন ধরেন । - মা ওর পকেটে আরো আছে । - কী মেয়ে রে ভাই ৫ টা দিয়ে ও পেট ভরে না । - বাবা সাহরিয়া ওই গুলো ও দে না । - সব চকলেট গুলো দিয়ে চলে আসলাম , যেই চকলেট গুলোর জন্য এতো সব করলাম একটা ও নিজ পেটে গেলো না , এইতো আমার কপাল । - নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে কম্পিউটারে দাবা খেলছি । এমন সময় নিধির আগমন । - এই যে চকলেট কী করছ । - কিচ্ছু না ফুটবল খেলি , দেখো না দাবা খেলছি । - বাহ বাহ ভালো , আমি ও খেলবো । - এহ মামার বাড়ির আবদার । - ওই কী বল্লা ... বলেও এসে কম্পিউটার এর সুইজ অফ করে দিলো । - উহুহুরে মাত্র খেলা শেষ করে দিবো ওমনি ভেজাল । - আচ্ছা তোমার সাথে আমার ২ মিনিট এর পরিচয় , এর মধ্যেই এমন জ্বালাতন শুরু করে দিছ । দুই তিন দিনের হইলে কী হইব আল্লাহ্‌ জানে । - ওই চকলেট আমার কোন স্বাদ জাগে নাই তোমারে জ্বালাইতে মা খাবার জন্য ডাকে আনতে বলল তাই । - আচ্ছা তোমরা বাপ , মা , মেয়ে মিলে কী শুরু করছ বলতো । - ওই কী করছি হুমমমমম । - কী আবার তোমার বাপ ওই পেট মোটা খালি নিজের পেট বড় করছে দরোজা বড় করার কোন নাম নাই । আর তোমরা দুই মা মেয়ে আমার নামটা ক্যান এতো ভুলে যাও আর কতো বার বলমু শুনি । - ওই তুমি আমারে এক বার ও তোমার নাম বলছ শুনি । - আচ্ছা আচ্ছা আমার নাম সাহরিয়া বুঝলা । - হুমমমমম এবার চলেন সবাই খাবার নিয়ে বসে আছে । - ওই ওই ওই আর একটা কথা । - কী । - তখন যেই চকলেট গুলো আমাকে অপহরণ করে নিছো , সেই গুলু আমার টাকাই কেনা ভালই ভালই টাকা দিয়ে দিবা না হলে । - ওই না হলে কী হুমমমমম না হলে কী । - তোমার চুনো, পাউডার,ঠোঁট পালিশ , হাত পালিশ সব চুরি করে এনে বিক্রি করে দিয়ে চকলেট কিনমু হি হি হি । - তাই না খুব মজা ... আজকে তোমার ১২ টা বাজামু চলো । - এখন ২ টা বাজে বারোটা বাজাইতে পারবা না । - ওই প্যাঁচাল পারবা নাকি খাইতে যাবা । - হুমমম হুমমম চলো । খাবার টেবিলে বসে আছি । - নে বাবা লজ্জা করিস না নিজের বাড়ির মতো তুলে খা । - হা হা হা মা তুমি ও না সাহরিয়া এর কোন লজ্জা আছে । - নিধি তুই ও না । - আমি আবার কী করলাম ওর লজ্জা থাকলে তো লজ্জা করবে । - এহহহহ নিজের তো কোন লজ্জা সরম নাই ভাবছে কারোর নাই । - ওই ওই আমি তোমার মতো না , যে কোন সুন্দরী মেয়ে দেখলেই জরাই ধরতে যাই । - ওই আর তুমি কী হুমমমম একটা ছেলের ঘরে একা একা ঢুকে পরো তাঁর বেলা । - আচ্ছা তোরা ঝগড়া না করে এবার খা । খেয়ে দেয়ে আমার রুমে এসে শুয়ে আছি ... কখন যে ঘুমাই গেছি মনে নাই । ঘুম থেকে উঠে তো আমি অবাক প্যান্ট ভেজা ... হায় হায় স্বপ্নে তো আবার হিসি দেই নাই ... আহারে যত জামেলা আমার সাথেই ক্যান ঘটে বুঝি না । হঠাৎ নাকটা কাছে নিয়ে গেলাম ওমা কোন গন্ধ নাই তো । - ঠিক ওই মেয়েটার কাজ দরোজা খোলা পাইছে আর এই কাজ করে চলে গেছে । কী আর করার প্যান্ট টা খুলে ধুয়ে ছাঁদে শুকাতে দিতে গেলাম । সে খানে ও কোন শান্তি নাই । - কী বাবু প্যান্টে হিসি দিছ । - কিছু বল্লাম না চুপচাপ চলে আসছিলাম । - আরে আরে শুনে যাও আমার কাছে একটা মন্ত্র আছে , সেটা পরে বুকে ফুঁ দিবা । তাহলে আর স্বপ্নে হিসি দিবা না । - এবার হেব্বি রেগে গেছি ... । ওই তোমার খেয়ে দেয়ে শয়তানি করা ছাড়া কোন কাজ নাই হুমমমম , দাঁড়াও মজা দেখাচ্ছি । - তাঁর আগে এখানে আসো এই পিকটা দেখে যাও । - গিয়ে দেখি হায় হায় এটা তো আমার । - হুমমমম এইটা যদি পোস্ট করি না তা হলে কেমন হবে বলো । - এই না না এই টা পোস্ট করবা ক্যান , তা ছাড়া হাজার হলে ও তো আমরা ফ্রেন্ড তাই না । - এই তো বাবু লাইন এ আসছো । যাও এবার রেডি হয়ে আসো আমরা ঘুরতে যাবো । - ওকে ... কেমন মেয়ে ভাবেন কোন লজ্জা সরম নাই । নিজেই পানি ঢেলে দিছে আবার ফটো তুলে রাখছে । আমারে পুরা মোরগ বানাই দিলো । - রেডি হয়ে এসে দেখি মেয়ে আগে ভাগেই রেডি হয়ে আছে । - ওই হা করে দেখার কিচ্ছু নাই , এবার হাঁটা দাও । আর দরোজাই মাথা নিচু করে যাবা । তুমি কেমন বাঁদর সব কাহিনী আম্মু আমাকে বলছে । আমার সাথে কোন বাঁদরামি করবা তো ওই ফটো পুরো জাইগাই ছরাই দিবো , মাথাই সব ধুকছে তো । - হুমমমমমম । - মনে হয় আমার পিছে সব যেনে শুনেই লাগছে ... ওহ আল্লাহ্‌ তুমি তোমার এই পিচ্চি বান্দাটাকে রক্ষা করো । - এই যে মিষ্টার কী ভাবছ । - না ... কিচ্ছু না চলো , নিধির দিকে একটু আর চখে তাকাতেই দেখলাম ও মুচকি মুচকি হাসছে । আমরা হাঁটছি দুই জনে .. । - আচ্ছা নিধি তোমার "বফ" আছে । - না কেন ...। ওই হা হয়ে গেলা ক্যান । - না মানে আমার লাইফে তুমি প্রথম মেয়ে যার মুখে শুনলাম তাঁর কোন "বফ" নাই । তাই একটু ধাক্কা খাইলাম । - ওহহহহহ আচ্ছা তুমি প্রেম করো না কেন । - আমি প্রেম করি না এটা তোমাকে কে কইছে । - কে আবার আম্মু । - বাহ সব যখন বলেই দিছে ... আর কোন কিছু লুকাই লাভ কী । - হুমমমম সেটাই ভালো , তো বলো কাহিনী টা কী । - কাহিনী কিচ্ছু না , অনেক গুলো মেয়েই লাইন মারতে চাইছিল বাট সব গুলাই সেকেন্ড হ্যান্ড । তাই দৌড়ে পালাই আসছি । - হা হা হা পাগল সেকেন্ড হ্যান্ড মানে কী । - আরে সেকেন্ড হ্যান্ড বুঝো না , সেকেন্ড হ্যান্ড মানে হইল এর আগে ও একটা প্রেম করছে বুঝলা । - ওহ আচ্ছা বুচ্ছি । - এই চকলেট খাবা । - না আমি চকলেট খাই না । - কীইইইইইই তা হলে তখন আমার সব চকলেট নিয়ে নিলা কেন । - এমনি .... আর এই নাও তোমার চকলেট । - হি হি হি থ্যাংকু ... আচ্ছা ফুচকা খাবা । - হুমমমমম চলো । - মাম্মা ফুচকা দেন ... যত খাইতে চায় দিয়া দিয়েন ... আর টাকা কিন্তুু ওই দিবে (কানে কানে বললাম ) ফুচকা খাওয়া শেষ এ নিধি নিজেই টাকা দিয়ে দিলো । এর পরে আমার কাছে আসলো । - তোমারে না আমি হারে হারে চিনি , আমাকে ফাঁসানো এত্ত সোজা না । - ওকে ওকে এবার বাসাই চলো । বাসাই আসলাম ... রুমে শুয়ে শুয়ে ভাবছি যেমনেই হোক প্রতিশোধ নিতেই হবে । । আমাকে সারাটা দিন জ্বালাই মারছে । হঠাৎ দেওয়ালে দেখি দুইটা তেলাপোকা । যেই ভাবা সেই কাজ দুইটারে ধরে পকেটে ভরলাম আর গন্তব্য নিধির ঘর । - আর চুপিচুপি দরোজার ফাঁক দিয়ে দুইটারে ছেঁড়ে দিলাম , এবার মজা পাবা আমার সাথে লাগা তাই না । একটু পরে জোরে একটা চিল্লানির শব্দ পেয়ে দরোজার কাছে যেতেই নিধি জোরে দরোজা খুলল । আর দরোজাটা আমার মাথাই ঢকাস করে লাগলো । তাঁর পরে আর মনে নাই , চোখ খুলে দেখি সবাই আমার মাথাই পানি ঢালছে । আর অন্য দিকে নিধি হেঁসে একাকার । - তাঁরে দেখে আমি এমনে হাঁসমু কী তা না নিজেই চিৎ হয়ে শুয়ে আছি । এভাবেই টম আর জেরির মতো দিন কাটছিল । বুঝতেই পারি নি পাগলীটাকে কখন ভালোবেসে ফেলছি । রাতে ছাঁদে দাঁড়াই আছি , - এই যে বাঁদর আজকে এমন চুপচাপ দাঁড়াই আছো ক্যান । - তুমি নাকি কালকে চলে যাবা । - হুমমমম কে বলল । - অ্যান্টি বলছে । - আমি গেলেই তো তোমার ভালো কেউ আর জ্বালাতন করবে না । - কেমনে যে বলি আমার সেই জ্বালাতনই দরকার , শুধু পেটে আছে মুখে আসছে না , পরীক্ষার হল এর মতো । - ওই হা করে থাকবা না কিছু বলবা । - না মানে বলছিলাম কী কালকেই না গেলে হয় না । - কেন হুমমম । - এমনি বলছিলাম । - আর কিছু বলবা । - হুমমমমম মানে না.. কী আর বলব । - আচ্ছা কালকে সকালে আমাকে স্টেশন এ রেখে আসবা কেমন । - হুমমমমমম আচ্ছা ওকে । - আমি গেলাম কিন্তুু কিছু বলার থাকলে বলতে পারো । - মাথা নেরে বললাম না । - পরের দিন সকালে রিক্সা করে স্টেশনে যাচ্ছি । - ওই কিছু বলছ না কেন অন্য দিন তো কথা বলে বলে পাগল করে দাও । - আচ্ছা না গেলে হয় না । - এইটা ছাড়া আর কিছু বলার আছে । - না । - তা হলে চলো । - স্টেশন বসে আছি একটু পরে ট্রেন আসলো , আমার বুকের মধ্যে কেমন ধরফর শুরু হয়ে গেলো , মনে হতে লাগলো আপন কিছু যেন হারাই যাচ্ছে । নিধি ব্যাগটা নিয়ে ট্রেন এর দিকে যাচ্ছে । আমি কেমন পাথর হয়ে যাচ্ছি পা দুইটা অবস হয়ে যাচ্ছে । ট্রেন ও ছেঁড়ে দিবে নিধি আমার দিকে ঘুরে একটা কথাই বলল আর কিছু বলবা । আমার মুখ থেকে কিচ্ছু বের হচ্ছে না , নিধি যেই উঠতে যাবে ওমনি কী যেন হল দৌড়ে গিয়ে ওর হাতটা ধরলাম । - ওই হাত ছাড়ো ট্রেন ছেঁড়ে দিবে । - না তোমার যাওয়ার দরকার নাই । - কীইইইইইই কেন । - এখানে আমি বলতে পারবো না । - ওই পাগল কাঁদছ কেন । আচ্ছা চলো নিরিবিলি স্থানে গিয়ে বলো । এবার বলো কেন যাবো না । - এমনি তুমি গেলে আমি কার সাথে দুষ্টুমি করব তাই । - কীইইইইইই এই ফালতু কথা বলার জন্য ট্রেনটা মিস করালা - না আর ও একটা কথা আছে । - কীইইইইই কথা শুনি । - না মানে আমি তোমাকে ভালোবাসি । - হা হা হা । - হাঁসছ কেন ... প্রথম বার তাই এমন হচ্ছে । - আচ্ছা পাগল কাঁদছ কেন । - আচমকা একটা পাওয়ার যদি না আসত তা হলে তো এতখনে চলে যেতে তাই । - আসলে তুমি একটা না পাগল আমি ও তো তোমাকে ভালোবাসি । আর আমি যাচ্ছিলাম না এখানের কলেজ এই ভর্তি হইছি । তুমি কোন দিন বলতে পারবা না সেটা আমি জানি । তাই মা আর আমি এই নাটকটা করি । আর তোমকে আমি আগেই ভালোবেসে ফেলছিলাম । - কীইইইইই কেমনে । - তোমার সকল দুষ্টুমি গুলো মা লুকাই লুকাই ভিডিও করে আমাকে পাঠাতো । ওই আবার কাঁদছ কেন । - না এমনি । - কাছে আসো বাবু চোখ মুছে দেই । - শুধু চোখ মুছে দিলে হবে না । - তা হলে । - পাপ্পি দিবা । - কী বললা বেয়াদপ একটা । - আচ্ছা থাক লাগবে না ভালোবাসো তাতেই চলবে । - হা হা হা আচ্ছা বাবু কাছে আসো । কাছে যেতেই একটা পাপ্পি দিলো । - আর হা বিয়ের আগে যদি আর পাপ্পি চাও তা হলে বিয়ে পর্যন্ত ব্রেকআপ । ব্যাগটা আর নিধি কে নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম । আর মনে মনে বলছি পেট মোটা একবার খালি তোমার জামাই হয়ে নেই । তারপরে তোমার পেটটা কমাই কমাই দরোজাটা বড় করে দিমু ... হি হি হি হি ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দুষ্টু মেয়ে নিধি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now