বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- না আর সহ্য হয় না , এমন যখন তখন চকলেট
খাইতে মন চায় ক্যান বুঝিনা এই হাড়ে চলতে থাকলে
তো সিওর দাঁতে পোকা লাগবে ।
আহারে এই মনডা ক্যান যে আমার কথা শুনে না ।
রুম থেকে বের হলাম যেই গেট দিয়ে বাইরে
যেতে লাগবো ওমনি ঠকাস করে গেট এর ওপরের রড
টা মাথাই লাগলো ।
উহুহুহুহু এই ফালতু মার্কা মনটার জন্য বেচারা মাথাটা খালি কষ্ট পায় ।
আর ওই বাড়ি ওয়ালা কাকুটা ও .. দুনিয়ার সব
টাকা পয়সা নিজের পেটে ঢুকাই ঢুকাই খালি
পেটটা বড় করছে দরোজাটা বড় করার কোন নাম গন্ধ নাই ।
বুঝি না এতো টাকা নিয়া কী কবরে যাবে ,
দরোজাটা ও তো একটু বড় করতে পারে নাকি ।
মাথাটা নাড়তে নাড়তে চলে আসছিলাম ।
ওমনি উপর থেকে অ্যান্টির ডাক ।
আসলে বাড়ি ওয়ালার বয়স একটু বেশি তাই ওনাকে কাকু বলি ।
আর ওনার স্ত্রী এর বয়স কম তাই অ্যান্টি হি হি হি ।
- এই যে চকলেট কই যাস মাথা নাড়তে নাড়তে ।
- কই আবার যেই নামে ডাকলেন ওইটা কিনতে ।
- আচ্ছা যাবি ভালো , কিন্তু আমার কিছু বাজার করে এনে দে না বাবা ।
- বাজার করবা ... বাব্বা তোমার ওই কিপটুস বরটা কই ..
বাজার করলে তো আবার তাঁর পেট কইমা যাইব ।
- চুপ থাক বেয়াদপ বাসাতেই আছে শুনতে পাইলে আচ্ছা মতো বকবে ।
- আচ্ছা ওনার এতো বড় পেট নিয়ে কেমনে এই দরোজা দিয়ে বের হয় ।
আমার জন্য না হোক নিজের ভালোর জন্য অন্তত তো দরোজাটা
বড় করতে পারে তাই না ।
- আচ্ছা বেশি কথা বাদদে ... আজকে নিধি আসবে তাড়াতাড়ি
গিয়ে একটু বাজার করে এনে আমাকে দে ।
- আচ্ছা এই নিধিটা আবার কে ।
- ওহ হ্যা তোরে তো বলাই হয় নাই নিধি হচ্ছে আমাদের একমাত্র মেয়ে ,
এবার তাড়াতাড়ি লিস্টটা নিয়ে বাজারে যা না বাবা ।
- আচ্ছা যাচ্ছি , কিন্তুু আর একটা কথা বলো ,
মেয়েটা তোমার মতো হইছে নাকি সেই পেট মোটাটার মতো হইছে ।
- কেন ।
- না মানে পেট মোটাটার মতো হইলে দেখে দেখে
কম দামি জিনিস আনতে হবে হাজার হইলে ও ওনার মেয়ে বলে কথা ।
- ফাজিল যা তুই তাড়াতাড়ি । - হুমমমম যাচ্ছি ।
- আর হ্যা শোন নিধি একদম আমার মতো হইছে বুঝলি ।
- হুমমমমম বুচ্ছি আর যাচ্ছি ... ওহহহহ কতক্ষণ যাবত চকলেট খাই নাই ।
- বাজারে গিয়ে লিস্টটা বের করেই তো আমার মাথা ঘুরে মাটিতে পরে যাবার কথা ...
ওহহহহহ এতো সব মানুষ খাবি নাকি হাতি ।
এবার আমি সিওর নিধি ওর বাপের মতো হয় নাই ।
এই জন্য অ্যান্টি ওই পেট মোটা টাকে বাজারে আসতে বলে নাই ।
এই লিস্ট দেখলে ওনি সিওর হার্ড অ্যাটাক করবে ।
আহারে এতো সব আমি কেমনে নিয়ে যামু ।
লিস্ট যদি এমন হয় না জানি দেহটা কেমন আল্লাহ্
আজকের মতো আমারে তুমি রক্ষা করে নাও ।
- এর পরে একে একে সব কিনলাম ।
একটা রিক্সা ডেকে আনলাম সব বাজার গুলো রিক্সাই
তুলে নিলাম আর বাসার পথে আস্তেছি ।
হায় হায় আসল জিনিস তো নেই নাই আমার চকলেট কই ।
মাম্মা রিক্সা ঘুরান চকলেট নিতে ভুলে গেছি ।
রিক্সা ঘুরে চকলেট নিয়ে তাঁরপরে জানডাই পানি আসলো ।
আহা আমার সব সুখ শান্তি এই চকলেট এর মধ্যেই ঢুকাই দিছে আল্লাহ্ ।
বাসাই আসলাম রিক্সা থেকে বাজার গুলো নামালাম ।
ওহহহহহ আগে মাঠ থেকে বস্তা ভরা আলু ঘাড়ে
করে নিয়ে আসতাম তখন ও এতো ভারী লাগত না ।
রিক্সা ওয়ালাকে ভাঁড়া দিয়ে দুই হাতে চারটা ব্যাগ নিয়ে বাসাই ঢুকছি ।
- ঢুকতেই আবার সেই দরোজাই ফট করে মাথাটা লাগলো ।
দূর আর সহ্য হয় না , আমি সালা ওই পেটমোটার পোলা
হইলে ১ দিনে সব ঠিক করে ফেলতাম দরজা কে না ওই হালারে ।
হাতে ব্যাগ থাকাই মাথাটা ও নাড়তে পাচ্ছি না অসহ্য লাগে ।
অ্যান্টি অ্যান্টি ও অ্যান্টি বলে চিল্লাতে চিল্লাতে বাসাই ঢুকলাম ।
- কিরে বাবা এতো চিল্লাচিল্লি করছিস ক্যান ।
- চিল্লামু না হুমম তোমাদের এই লটরপটর দরোজার জন্য
না জানি কোনদিন আমারে দি ইন্ড হইতে হয় ।
- আচ্ছা বাবা এখন যা ব্যাগ গুলো রেখে সোফাই বস
আমি বরফ নিয়ে আসছি লাগালেই দেখবি ঠিক হয়ে যাবে ।
- হুমমমমম যাও নিয়ে আসো ।
একটু পরেই দেখি একটা মেয়ে চুপিচুপি রুমে ঢুকছে ...
ওমনি একটা সিনেমান কথা মনে পরে গেলো ,
একটা ডাকাত মেয়ে এমনি ভাবে ঘড়ে ধুকছিল ।
দেখতে এমনই সুন্দর ছিল ।
না না বাড়ির ছেলে হিসেবে এই বাড়ির মানুষ জন দের রক্ষা করা আমার কর্তব্য ।
- যেই ভাবা সেই কাজ চুপিচুপি একটা তোয়ালে
নিয়ে গিয়ে পিছন থেকে বেঁধে ফেল্লাম ...
হাজার হলে ও আমি ভালা পোলা তো একটা মেয়ে
কে কেমনে জড়াই ধরি তাই তোয়ালে দিয়ে ধরলাম ।
ধরেই চিল্লানি দিয়ে উঠলাম অ্যান্টি ডাকাতি ধরছি কই গেলা তাড়াতাড়ি আসো ।
ওমনি অ্যান্টি চলে আসলো ।
- ওই ফাজিল কাকে ধরছিস এটা নিধি ।
- এই যা ... আমি ভাবছি ডাকাতি ।
- তাড়াতাড়ি ছাড় ।
- ছেঁড়ে দিতেই ...
- মা এই ছেলে কে হুমমমম ।
- রাগ করিস না মা ও হচ্ছে চকলেট ।
- অ্যান্টি আবার আমার একটা সুন্দর নাম আছে সাহরিয়া ।
- এহ কী ভালো সেটা দেখাই যাচ্ছে । আর আপনে কে শুনি ।
- আমি আপনাদের ওপরে থাকি ।
- আজকেই বাবাকে বলে তাড়াবো ।
- এহহহহ কইলেই হইল ১ বছরের অগ্রিম টাকা দেওয়া আছে ।
আচ্ছা অ্যান্টি একটা কথা বলি ।
- হুমমমমম কী বলবি শুনি ।
- না মানে বলছিলাম কী তুমি এই হরিণ এর জন্য হাতির
খাবার ক্যান আনতে বল্লা সেটাই বুঝতেছি না হি হি হি ।
- মা ও আমাকে কী বলল ।
- আচ্ছা চকলেট তুই দেখছিস না মেয়েটা আমার মাত্র আসলো , তুই
এবার যা না বাবা ।
- হুমমমম হুমমমম যাচ্ছি যাচ্ছি ।
এবার দেখি নিধি ব্যাগে কী জানি খুজতেছে ।
- মা আমার চকলেট কই ।
- এই যা আমি তো চকলেট আনতে বলতে ভুলে গেছি ।
সাহরিয়া বাবা তোর কাছে চকলেট আছে ।
- হুমমমমমম আছে তো ।
- বাহ তুই নিধিকে চকলেট গুলো দে আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি ।
- দূর সত্যি কথা বলে ও এক ভেজাল এ পড়লাম , একটা চকলেট ও
খাইতে পারলাম না আর তাঁর আগেই
এই ঝগরাটে মেয়েটাকে নাকি দিতে হবে ।
- অ্যান্টি আমারে ভরা পুকুরে ঢুপ দিতে কইলে ও আমি
রাজি বাট চকলেট দিতে পারমু না ।
- মা আমার চকলেট চাই চাই ... না হলে কিন্তুু কান্না করবো ।
- সাহরিয়া বাবা দে না তুই তো সব সময় চকলেট নিয়া থাকিস ...
আমি তো তোকে টাকা দিচ্ছি তুই কিনে নিয়ে আয় না ।
- হুমমমম হুমমমম দিচ্ছি ... এই নেন ধরেন ।
- মা ওর পকেটে আরো আছে ।
- কী মেয়ে রে ভাই ৫ টা দিয়ে ও পেট ভরে না ।
- বাবা সাহরিয়া ওই গুলো ও দে না ।
- সব চকলেট গুলো দিয়ে চলে আসলাম ,
যেই চকলেট গুলোর জন্য এতো সব করলাম একটা
ও নিজ পেটে গেলো না , এইতো আমার কপাল ।
- নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে
কম্পিউটারে দাবা খেলছি । এমন সময় নিধির আগমন ।
- এই যে চকলেট কী করছ ।
- কিচ্ছু না ফুটবল খেলি , দেখো না দাবা খেলছি ।
- বাহ বাহ ভালো , আমি ও খেলবো ।
- এহ মামার বাড়ির আবদার ।
- ওই কী বল্লা ... বলেও এসে কম্পিউটার এর সুইজ অফ করে দিলো ।
- উহুহুরে মাত্র খেলা শেষ করে দিবো ওমনি ভেজাল ।
- আচ্ছা তোমার সাথে আমার ২ মিনিট এর পরিচয় ,
এর মধ্যেই এমন জ্বালাতন শুরু করে দিছ ।
দুই তিন দিনের হইলে কী হইব আল্লাহ্ জানে ।
- ওই চকলেট আমার কোন স্বাদ জাগে নাই তোমারে
জ্বালাইতে মা খাবার জন্য ডাকে আনতে বলল তাই ।
- আচ্ছা তোমরা বাপ , মা , মেয়ে মিলে কী শুরু করছ বলতো ।
- ওই কী করছি হুমমমমম ।
- কী আবার তোমার বাপ ওই পেট মোটা খালি নিজের পেট
বড় করছে দরোজা বড় করার কোন নাম নাই ।
আর তোমরা দুই মা মেয়ে আমার নামটা ক্যান
এতো ভুলে যাও আর কতো বার বলমু শুনি ।
- ওই তুমি আমারে এক বার ও তোমার নাম বলছ শুনি ।
- আচ্ছা আচ্ছা আমার নাম সাহরিয়া বুঝলা ।
- হুমমমমম এবার চলেন সবাই খাবার নিয়ে বসে আছে ।
- ওই ওই ওই আর একটা কথা ।
- কী ।
- তখন যেই চকলেট গুলো আমাকে অপহরণ করে নিছো ,
সেই গুলু আমার টাকাই কেনা ভালই ভালই টাকা দিয়ে দিবা না হলে ।
- ওই না হলে কী হুমমমমম না হলে কী ।
- তোমার চুনো, পাউডার,ঠোঁট পালিশ , হাত পালিশ সব চুরি করে
এনে বিক্রি করে দিয়ে চকলেট কিনমু হি হি হি ।
- তাই না খুব মজা ... আজকে তোমার ১২ টা বাজামু চলো ।
- এখন ২ টা বাজে বারোটা বাজাইতে পারবা না ।
- ওই প্যাঁচাল পারবা নাকি খাইতে যাবা ।
- হুমমম হুমমম চলো ।
খাবার টেবিলে বসে আছি ।
- নে বাবা লজ্জা করিস না নিজের বাড়ির মতো তুলে খা ।
- হা হা হা মা তুমি ও না সাহরিয়া এর কোন লজ্জা আছে ।
- নিধি তুই ও না ।
- আমি আবার কী করলাম ওর লজ্জা থাকলে তো লজ্জা করবে ।
- এহহহহ নিজের তো কোন লজ্জা সরম নাই ভাবছে কারোর নাই ।
- ওই ওই আমি তোমার মতো না ,
যে কোন সুন্দরী মেয়ে দেখলেই জরাই ধরতে যাই ।
- ওই আর তুমি কী হুমমমম একটা ছেলের ঘরে একা একা ঢুকে পরো তাঁর বেলা ।
- আচ্ছা তোরা ঝগড়া না করে এবার খা ।
খেয়ে দেয়ে আমার রুমে এসে শুয়ে আছি ...
কখন যে ঘুমাই গেছি মনে নাই ।
ঘুম থেকে উঠে তো আমি অবাক প্যান্ট ভেজা ...
হায় হায় স্বপ্নে তো আবার হিসি দেই নাই ...
আহারে যত জামেলা আমার সাথেই ক্যান ঘটে বুঝি না ।
হঠাৎ নাকটা কাছে নিয়ে গেলাম ওমা কোন গন্ধ নাই তো ।
- ঠিক ওই মেয়েটার কাজ দরোজা খোলা
পাইছে আর এই কাজ করে চলে গেছে ।
কী আর করার প্যান্ট টা খুলে ধুয়ে ছাঁদে শুকাতে দিতে গেলাম ।
সে খানে ও কোন শান্তি নাই ।
- কী বাবু প্যান্টে হিসি দিছ ।
- কিছু বল্লাম না চুপচাপ চলে আসছিলাম ।
- আরে আরে শুনে যাও আমার কাছে একটা মন্ত্র আছে ,
সেটা পরে বুকে ফুঁ দিবা ।
তাহলে আর স্বপ্নে হিসি দিবা না ।
- এবার হেব্বি রেগে গেছি ... ।
ওই তোমার খেয়ে দেয়ে শয়তানি করা
ছাড়া কোন কাজ নাই হুমমমম , দাঁড়াও মজা দেখাচ্ছি ।
- তাঁর আগে এখানে আসো এই পিকটা দেখে যাও ।
- গিয়ে দেখি হায় হায় এটা তো আমার ।
- হুমমমম এইটা যদি পোস্ট করি না তা হলে কেমন হবে বলো ।
- এই না না এই টা পোস্ট করবা ক্যান , তা ছাড়া হাজার হলে ও
তো আমরা ফ্রেন্ড তাই না ।
- এই তো বাবু লাইন এ আসছো ।
যাও এবার রেডি হয়ে আসো আমরা ঘুরতে যাবো ।
- ওকে ...
কেমন মেয়ে ভাবেন কোন লজ্জা সরম নাই ।
নিজেই পানি ঢেলে দিছে আবার ফটো তুলে রাখছে ।
আমারে পুরা মোরগ বানাই দিলো ।
- রেডি হয়ে এসে দেখি মেয়ে আগে ভাগেই রেডি হয়ে আছে ।
- ওই হা করে দেখার কিচ্ছু নাই , এবার হাঁটা দাও ।
আর দরোজাই মাথা নিচু করে যাবা ।
তুমি কেমন বাঁদর সব কাহিনী আম্মু আমাকে বলছে ।
আমার সাথে কোন বাঁদরামি করবা তো ওই ফটো পুরো
জাইগাই ছরাই দিবো , মাথাই
সব ধুকছে তো ।
- হুমমমমমম ।
- মনে হয় আমার পিছে সব যেনে শুনেই লাগছে ...
ওহ আল্লাহ্ তুমি তোমার এই পিচ্চি বান্দাটাকে রক্ষা করো ।
- এই যে মিষ্টার কী ভাবছ ।
- না ... কিচ্ছু না চলো ,
নিধির দিকে একটু আর চখে তাকাতেই দেখলাম ও মুচকি মুচকি হাসছে ।
আমরা হাঁটছি দুই জনে .. ।
- আচ্ছা নিধি তোমার "বফ" আছে ।
- না কেন ...।
ওই হা হয়ে গেলা ক্যান ।
- না মানে আমার লাইফে তুমি প্রথম মেয়ে যার মুখে
শুনলাম তাঁর কোন "বফ" নাই ।
তাই একটু ধাক্কা খাইলাম ।
- ওহহহহহ আচ্ছা তুমি প্রেম করো না কেন ।
- আমি প্রেম করি না এটা তোমাকে কে কইছে ।
- কে আবার আম্মু ।
- বাহ সব যখন বলেই দিছে ... আর কোন কিছু লুকাই লাভ কী ।
- হুমমমম সেটাই ভালো , তো
বলো কাহিনী টা কী ।
- কাহিনী কিচ্ছু না , অনেক গুলো মেয়েই লাইন মারতে
চাইছিল বাট সব গুলাই সেকেন্ড হ্যান্ড । তাই দৌড়ে পালাই আসছি ।
- হা হা হা পাগল সেকেন্ড হ্যান্ড মানে কী ।
- আরে সেকেন্ড হ্যান্ড বুঝো না ,
সেকেন্ড হ্যান্ড মানে হইল এর আগে ও একটা প্রেম করছে বুঝলা ।
- ওহ আচ্ছা বুচ্ছি ।
- এই চকলেট খাবা ।
- না আমি চকলেট খাই না ।
- কীইইইইইই তা হলে তখন আমার সব চকলেট নিয়ে নিলা কেন ।
- এমনি .... আর এই নাও তোমার চকলেট ।
- হি হি হি থ্যাংকু ... আচ্ছা ফুচকা খাবা ।
- হুমমমমম চলো ।
- মাম্মা ফুচকা দেন ... যত খাইতে চায় দিয়া দিয়েন ...
আর টাকা কিন্তুু ওই দিবে (কানে কানে বললাম )
ফুচকা খাওয়া শেষ এ নিধি নিজেই টাকা দিয়ে দিলো ।
এর পরে আমার কাছে আসলো ।
- তোমারে না আমি হারে হারে চিনি , আমাকে ফাঁসানো এত্ত সোজা না ।
- ওকে ওকে এবার বাসাই চলো । বাসাই আসলাম ...
রুমে শুয়ে শুয়ে ভাবছি যেমনেই হোক প্রতিশোধ নিতেই হবে ।
। আমাকে সারাটা দিন জ্বালাই মারছে ।
হঠাৎ দেওয়ালে দেখি দুইটা তেলাপোকা ।
যেই ভাবা সেই কাজ দুইটারে ধরে পকেটে ভরলাম আর গন্তব্য নিধির ঘর ।
- আর চুপিচুপি দরোজার ফাঁক দিয়ে দুইটারে ছেঁড়ে দিলাম ,
এবার মজা পাবা আমার সাথে লাগা তাই না ।
একটু পরে জোরে একটা চিল্লানির শব্দ পেয়ে দরোজার কাছে
যেতেই নিধি জোরে দরোজা খুলল ।
আর দরোজাটা আমার মাথাই ঢকাস করে লাগলো ।
তাঁর পরে আর মনে নাই ,
চোখ খুলে দেখি সবাই আমার মাথাই পানি ঢালছে ।
আর অন্য দিকে নিধি হেঁসে একাকার ।
- তাঁরে দেখে আমি এমনে হাঁসমু কী তা না নিজেই চিৎ হয়ে শুয়ে আছি ।
এভাবেই টম আর জেরির মতো দিন কাটছিল ।
বুঝতেই পারি নি পাগলীটাকে কখন ভালোবেসে ফেলছি ।
রাতে ছাঁদে দাঁড়াই আছি ,
- এই যে বাঁদর আজকে এমন চুপচাপ দাঁড়াই আছো ক্যান ।
- তুমি নাকি কালকে চলে যাবা ।
- হুমমমম কে বলল ।
- অ্যান্টি বলছে ।
- আমি গেলেই তো তোমার ভালো কেউ আর জ্বালাতন করবে না ।
- কেমনে যে বলি আমার সেই জ্বালাতনই দরকার ,
শুধু পেটে আছে মুখে আসছে না , পরীক্ষার হল এর মতো ।
- ওই হা করে থাকবা না কিছু বলবা ।
- না মানে বলছিলাম কী কালকেই না গেলে হয় না ।
- কেন হুমমম ।
- এমনি বলছিলাম ।
- আর কিছু বলবা ।
- হুমমমমম মানে না.. কী আর বলব ।
- আচ্ছা কালকে সকালে আমাকে স্টেশন এ রেখে আসবা কেমন ।
- হুমমমমমম আচ্ছা ওকে ।
- আমি গেলাম কিন্তুু কিছু বলার থাকলে বলতে পারো ।
- মাথা নেরে বললাম না ।
- পরের দিন সকালে রিক্সা করে স্টেশনে যাচ্ছি ।
- ওই কিছু বলছ না কেন অন্য দিন তো কথা বলে বলে পাগল করে দাও ।
- আচ্ছা না গেলে হয় না ।
- এইটা ছাড়া আর কিছু বলার আছে । - না ।
- তা হলে চলো ।
- স্টেশন বসে আছি একটু পরে ট্রেন আসলো ,
আমার বুকের মধ্যে কেমন ধরফর শুরু হয়ে গেলো ,
মনে হতে লাগলো আপন কিছু যেন হারাই যাচ্ছে ।
নিধি ব্যাগটা নিয়ে ট্রেন এর দিকে যাচ্ছে ।
আমি কেমন পাথর হয়ে যাচ্ছি পা দুইটা অবস হয়ে যাচ্ছে ।
ট্রেন ও ছেঁড়ে দিবে নিধি আমার দিকে ঘুরে একটা কথাই বলল আর কিছু বলবা ।
আমার মুখ থেকে কিচ্ছু বের হচ্ছে না ,
নিধি যেই উঠতে যাবে ওমনি কী যেন হল দৌড়ে গিয়ে ওর হাতটা ধরলাম ।
- ওই হাত ছাড়ো ট্রেন ছেঁড়ে দিবে ।
- না তোমার যাওয়ার দরকার নাই ।
- কীইইইইইই কেন ।
- এখানে আমি বলতে পারবো না ।
- ওই পাগল কাঁদছ কেন ।
আচ্ছা চলো নিরিবিলি স্থানে গিয়ে বলো ।
এবার বলো কেন যাবো না ।
- এমনি তুমি গেলে আমি কার সাথে দুষ্টুমি করব তাই ।
- কীইইইইইই এই ফালতু কথা বলার জন্য ট্রেনটা মিস করালা
- না আর ও একটা কথা আছে ।
- কীইইইইই কথা শুনি ।
- না মানে আমি তোমাকে ভালোবাসি । - হা হা হা ।
- হাঁসছ কেন ... প্রথম বার তাই এমন হচ্ছে ।
- আচ্ছা পাগল কাঁদছ কেন ।
- আচমকা একটা পাওয়ার যদি না আসত তা হলে
তো এতখনে চলে যেতে তাই ।
- আসলে তুমি একটা না পাগল
আমি ও তো তোমাকে ভালোবাসি ।
আর আমি যাচ্ছিলাম না এখানের কলেজ এই ভর্তি হইছি ।
তুমি কোন দিন বলতে পারবা না সেটা আমি জানি ।
তাই মা আর আমি এই নাটকটা করি ।
আর তোমকে আমি আগেই ভালোবেসে ফেলছিলাম ।
- কীইইইইই কেমনে ।
- তোমার সকল দুষ্টুমি গুলো মা লুকাই লুকাই ভিডিও করে আমাকে পাঠাতো ।
ওই আবার কাঁদছ কেন ।
- না এমনি ।
- কাছে আসো বাবু চোখ মুছে দেই । - শুধু চোখ মুছে দিলে হবে না ।
- তা হলে ।
- পাপ্পি দিবা ।
- কী বললা বেয়াদপ একটা ।
- আচ্ছা থাক লাগবে না ভালোবাসো তাতেই চলবে ।
- হা হা হা আচ্ছা বাবু কাছে আসো । কাছে যেতেই একটা পাপ্পি দিলো ।
- আর হা বিয়ের আগে যদি আর পাপ্পি চাও তা হলে বিয়ে পর্যন্ত
ব্রেকআপ । ব্যাগটা আর নিধি কে নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম ।
আর মনে মনে বলছি পেট মোটা একবার খালি তোমার জামাই হয়ে নেই ।
তারপরে তোমার পেটটা কমাই কমাই দরোজাটা বড় করে দিমু ... হি হি হি হি ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now