বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এহহহহ!!! ছিঃ!!!! পেত্নীর মত দেখা
যাচ্ছে.... ইয়াককক!!!!! (আমি)
.
এটা বলেই আমি আমার মত হাটতে শুরু
করলাম।
-হঠাৎ মনে হলো পেছন দিয়ে
কেউ দৌড়ে আসছে।
-পেছনে
তাকিয়ে দেখি মেঘা।
-অতঃপর আমি
কোন দিকে না তাকিয়ে দে দৌড়।
-এক দৌড়ে বন্ধুদের আড্ডায় এসে
পৌছলাম।
-এরা সবাই আমাকে
দৌড়াতে দেখে অবাক।
.
- কিরে দৌড়াচ্ছিস কেন? (রিজু)
- কেউ মনে হয় তোর প্যান্ট ধইরা
টানাটানি করছিল... হে হে হে...
(তানু)
- হেহেহে.... ঘোড়ার মত হাসছিস কেন?
(আমি)
- প্রিয়ু ঘোড়া হাসে না বুঝেছিস? (সামু)
- সামু তুই সব এত সিরিয়াসলি নিস
কেন? ঘোড়ায় যে হাসে না সেটা
আমিও জানি... (আমি)
- আরে চেইতা আছিস কেন বলবি? (রিজু)
- আরে মেয়ে তারা করেছে...
(আমি)
- ছিঃ!!!! তুই মাইয়ার ভয়ে দৌড় দিয়েছিস?
(তানু)
- এই মাইয়া সেই মাইয়া না... পুরা
ডাইনি। হাতে পারলে গলাটা খুলে
রেখে দিত। (আমি)
- ওমাগো!!! কি বলিস এত্ত ডেন্জারাস!!!!
(সামু)
- সামু ন্যাকামি ছাড়... (তানু)
- চল দেইখা নিমু... (রিজু)
- চল.... তোদের মাইর খাওয়ার শখ আমি
আর কি করতে পারি (আমি)
.
ভয়ে ভয়ে আমার বাড়ির ছাদে গিয়ে
উঠলাম।
-আমার সাথে তানু, রিজু এন্ড
সামু।
-আমি জানি মেঘা এখন ছাদেই।
-কারণ আমি এমন টিটকিরি করার পর যে
কোথাও যাবেনা সেটা আমি সিউর।
-যতই হোক ওর এক্স বিএফ তো আমি।
গিয়ে দেখি ছাদের একপাশে
দাড়িয়ে আছে।
-আমরা আড়ালে
দাড়ালাম।
.
- ঐ যে মেয়েটা দাড়িয়ে আছে না
সেটাই। (আমি)
- মামা আমি যাবো... (রিজু)
- না আমি... (তানু)
- যা দুজনেই যা... (আমি)
- রিজু, তানু সাবধানে.... (সামু)
- ঐ মেয়ের সাথে কথা বলতে
যাচ্ছে মেয়েরে ছাদ থেকে
ধাক্কা দিয়ে ফেলতে পারে । যা করবি
সাবধানে করতে হবে.... (আমি)
.
পাচ মিনিট হয়ে গেল প্রায়।
-ওরা
এখনো আসছেনা।
সন্দেহজনক!!!!
-হঠাৎ
দুইটা শব্দ শুনলাম ঠাসসসস!!! ঠাসসসসস!!!
একজনের গালে দুটা পড়ল না দুইজনের
গালে।
-যাই হোক আমার ঝড়টা ওদের
উপর দিয়াই গেল।
.
ওরা দুজনে ফিরল।
- দুজনেরই গালে হাত।
বুঝলাম মেঘা খুব কষিয়ে মারেছে।
-ওদেরকে দেখে আমি বিজয়ীর হাসি
দিলাম।
=ওদের দিকে তাকাই দেখি
মনে হচ্ছে আমাকে খেয়ে ফেলবে।
.
- ঐ শালি তুই বলবি না যে তুই মেঘার
ভয়ে দৌড় দিছস.... (রিজু)
- ওরে মারে কি মারল রে.... (তানু)
- খুব তো মার খাওয়ার শখ ছিল।
-আমার
কি দোষ? (আমি)
- তুই বলবি না যে মেঘা?
-তাইলে তো
বাড়ির নিচে থেকেই দৌড় দিতাম
(তানু)
- কেনরে খুব বেশি মারছে?
-আমরা তো
খালি দুইটা চড়ের শব্দ শুনলাম। (আমি)
- খালি দুটা চড়?
-শালার তেলেগু
মুভিতেও এমনে মারে না। (রিজু)
- যাই হোক দোস্ত!!! থ্যাংকস তোদের।
(আমি)
- কেন? (তানু)
- কারণ যেই মাইরটা আমি খাইতাম
সেটা তোরা খাইলি। (আমি)
- তোর মত বন্ধু থাকলে শত্রু লাগবনা রে।
(রিজু)
- আমি আগেই না করছিলাম। (সামু)
- ঐ তুই চুপ থাক। (তানু)
- আচ্ছা চল যা হওয়ার হইছে। (রিজু)
- হুম যা আসতাছি... (আমি)
- হ!!! এখন আমাদের সাথে আসবি না।
আসলেই তো তোর ঔষুধ কিইনা দিতে
হবে। (তানু)
- কি বুদ্ধিমানরে তুই। ( আমি)
- হু!!! আমাদের ও টাইম আসবে। (রিজু)
.
মেঘাকে একটু বেশিই অপমান করা হয়ে
গেছে।
-সরি বলা উচিত।
=আসলে মেঘা
আমার এক্স জিএফ।
-সত্য বলতে ও আমার
এক্স জিএফ না আমি ওর এক্স বিএফ।
-কারণ ব্রেকাপটা ও করছিল।
-কিন্তু কেন
এই ব্রেকাপ সেটা আজও বুঝতে পারি
না।
-আজ আমাদের ব্রেকাপের এক মাস
পূর্ণ হলো।
-আস্তে আস্তে পাশে গিয়ে
দাড়ালাম।
-খুব রাগ নিয়ে আমার
দিকে তাকাল।
-কপাল ভাল
বিল্ডিংটা আমাদের।
- ওর বাপের
বিল্ডিং হলে এতক্ষণে আমাকে
বাড়ি থেকে বের করে দিত।
.
- মন খারাপ? (আমি)
-...... (মেঘা)
- সরি......
- কিসের জন্য?
- ঐ যে একটু আগে পচানোর জন্য।
- হুম..
- ঘুরতে যাবা?
- ঐ তুমি ভুলে গেছ আমি তোমার এক্স
জিএফ।
- না তুমি আমার কারেন্ট জিএফ বাট
আমি তোমার এক্স বিএফ।
- যাই হোক!!! ঘুরেফিরে একটাই।
- কোন জায়গায় কি লেখা আছে যে
এক্স বিএফ এর সাথে ঘুরতে যাওয়া
যাবেনা?
- ঐ ডায়লগ কম মেরে এখান থেকে
যাও। একটু আগে বলছে পেত্নী এখন
ঘুরতে যেতে বলে।
- অভিমান করছ?
- প্রিয়াস একসেস হচ্ছে কিন্তু। তুমি
যাবা না আমি চলে যাব?
- হইছে। ভাব কম নেও। আপনার মত আন্টির
সাথে ঘুরতে যাওয়ার ঠেকা পড়ছে
আমার।
- কি বলছিস? তুই দাড়া....
.
আমারে আর পায় কে। এক দৌড়ে
বাড়িতে। মেঘাকে রাগাতে ভালই
লাগে। ওর এখন কোন বিএফও নেই। তবু
আমার সাথে ব্রেকাপ করে বসে
আছে। কে জানে কি হইছে। কিন্তু
আমার তো কিছুই করার নেই। কারণ
আমি মেঘাকে ভালবাসি। সেটা
মেঘাও খুব ভাল করেই জানত।
তারপরেও যে কেন এমন করতেছে কে
জানে।
.
দুই মাস হয়ে গেছে ব্রেকাপের।
ব্রেকাপ অ্যানিভারসিরি পালন করা
উচিত। মেঘাকে কি গিফট দেয়া যায়
সেটা নিয়ে ভাবছি। হঠাৎ মাথায়
কুবুদ্ধি এল। আমাদের টিভির বাক্সটা
নিলাম। এবার রাস্তা থেকে তানুকে
দিয়ে একটা বিড়াল ধরালাম।
বিড়ালটার শরীর থেকে অনেক দুর্গন্ধ
বেড়োচ্ছে। বিড়ালের উপর হালকা
পারফিউম মেরে বাক্সের ভিতরে
ঢুকিয়ে বাক্সটা ভাল করে বাধলাম।
এবার এটা মেঘাকে দেয়ার পালা।
.
বিকালে মেঘা ছাদে থাকে। তাই
বাক্সটা মাথায় নিয়ে ছাদে গেলাম।
গিয়ে দেখি মেঘা অন্য দিকে
তাকিয়ে আছে। মেঘার পিছনে
গিয়ে বাক্সটা রাখলাম।
.
- হাই মেঘা... (আমি)
- হুম বল..... (মেঘা)
- হ্যাপি ব্রেকাপ অ্যানিভারসিরি...
- হুয়াট?
- না মানে আজ আমাদের ব্রেকাপের
দুই মাস পূর্ণ হলো।
- তো?
- তোমার জন্য এই ছোট গিফট... (বাক্সটা
দেখিয়ে)
- কি আছে এটাতে?
- খুলেই দেখ...
.
মেঘা বাক্সটা খুলতেছে। আর আমিও
দৌড়ের জন্য প্রস্তুত। বাক্সটা খুলতে না
খুলতেই বিড়ালটা লাফ দিয়ে মেঘার
কোলে। আর মেঘার অবস্থা দেখে
মনে হলো ও ভূত দেখছে। ওর কাপড়
নোংরা হয়ে গেছে। আমি তো
দেখে সেই মাপের হাসি। আর মেঘার
চোখ দিয়ে মনে হচ্ছে আগুন
বেড়োচ্ছে।
.
- এটা কি হলো? (মেঘা)
- গিফট.... (আমি)
- প্রিয়াস তোরে যদি হাতের কাছে
পাই না.....
- কিস করবা?
- ইইইইই!!!!! তোর বিয়ে হবে না বলে
দিলাম।
- তাহলে তুমিও সারাজীবন কুমারী
থাকবে।
- তোর বউ তোরে প্রতিদিন ধরে
মারবে।
- তোমার মার খেতে রাজি।
- শীতের মধ্যে তোরে ভেজা কম্বল
নিয়ে ঘুমাতে হবে।
- সব কন্ডিশনে রাজি। যদি তুমি বউ হও...
- তোর বউ ছুটাচ্ছি...
.
অতঃপর আবার দৌড়। বাড়িতে এসে
ভাবতে লাগলাম মেঘার সাথে
দুষ্টুমিগুলা বেশিই হয়ে যাচ্ছে। যে
মেয়ে আমাকে চায়না আমি কেন
তাকে বারবার বিরক্ত করব। কালই সরি
বলে দিব। তারপর আর ওর সামনে
যাবনা।
.
বাড়ির নিচে দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ
কে যেন জড়িয়ে ধরল। তাড়াতাড়ি
করে ছাড়িয়ে দেখি নেহা। আমার
ওয়ান এন্ড অনলি কিউটেষ্ট বান্ধবী।
.
- আরে তুই? (আমি)
- হুম তোর কাছেই আসছিলাম। (নেহা)
- তা এতদিন পর আমার কথা মনে পড়ল?
- আরে না কাল মাত্র চিটাগং থেকে
আসলাম।
- ওহহহহ তাই বল।
.
কথা বলতে বলতে পাশে তাকিয়ে
দেখি একটু দুরে মেঘা দাড়িয়ে।
আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
বুঝতে পারলাম মেডাম প্রথম থেকে
সবকিছুই দেখেছে আর জেলাস হচ্ছে।
আর একটু জেলাস করানো যেতেই
পারে। নেহার হাতটা ধরে জোরে
বললাম
.
- নেহা চল বাড়িতে যাই। এখানে
দাড়িয়ে কথা বললে অন্য কারো সহ্য
হবে না। (আমি)
- হুম চল.... (নেহা)
- আজ কিন্তু ঘুরতে যাব।
- হ্যা অবশ্যই....
.
মেঘার দিকে তাকিয়ে দেখি
রাগে ফুসছে আর চোখে জল এসে
গেছে। এই কেদে দিল বলে। পাশ
কাটিয়ে চলে এলাম। দুজনে লিফটের
দিকে এগুচ্ছি। হঠাৎ মেঘা দৌড়ে
সামনে এসে দাড়াল। আমি তো
হতবাক। তবে মজা নেয়ার জন্য রেডি
আমি।
.
- এই মেয়ে কে তুমি? (মেঘা)
- তুমি কে? (নেহা)
- হ্যা আপনি কে? (আমি)
-!!!!! থাপ্পড় দিয়ে দাত সব ফেলে
দিব। এই মেয়ে হাত ছাড় ওর। (মেঘা)
- আজব!!!ওর হাত ধরলে আপনার প্রবলেম
কি? (নেহা)
- আমি ওর গার্লফ্রেন্ড। (মেঘা)
- এক্স..... (আমি)
- থাপ্পড় খাবা? (মেঘা)
- প্রিয়াস কে এই পাগল? (নেহা)
- কি!!! পাগল??? আমাকে দেখে পাগল
মনে হচ্ছে? (মেঘা)
- তাইত মনে হচ্ছে..... (আমি)
.
অতঃপর মেঘা জোর করে নেহার হাত
থেকে ছাড়িয়ে নিল আমার হাত।
তারপর টানতে টানতে দুরে নিয়ে
গেল।
.
- কি হচ্ছে এটা? (মেঘা)
- এটা তো আমার জিজ্ঞেস করা
উচিত। (আমি)
- কেন?
- তুমি আমার এক্স জিএফ সো আমি যাই
করি প্রবলেম কি তোমার?
- থাপ্পড় মেরে দাত সবগুলা ফেলে
দিব। দুদিন আগেও আমাকে বউ করবে
বইলা এখন অন্য মেয়ে নিয়া ঘুরে।
- তুমি তো বলছিলা বউ হবানা।
- এখন বলছি হব। অন্য কোন মেয়ের সাথে
দেখলে না হাত পা ভেঙ্গে ফেলব।
- গুন্ডি নাকি?
- হুম গুন্ডিই। আর এখনই ঐ মেয়েকে চলে
যেতে বল।
- আরে ও আমার খুব ভাল ফ্রেন্ড।
- সত্যি তো?
- তিন সত্যি।
- আচ্ছা তাহলে বাড়িতে নিয়ে যাও।
- তুমিও চল।
- কেন?
- মা-বাবাকে তার হবু বউয়ের সাথে
পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না?
.
অতঃপর মেঘা খুব লাজুক একটা হাসি
দিল।
——— সমাপ্ত ———
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now