বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
না ভাই আমার মাথা খারাপ হয়নি।
গতকাল একজন বয়স্ক লোক আপনার এখানেই ডিউটিরত অবস্থায় ছিলেন।
আপনি যে চেয়ারটাতে এতক্ষন বসে ছিলেন সেই চেয়ারে তিনিও বসে ছিলেন।
তার গায়েও নীল রঙের সিকিউরিটি ইউনিফর্ম ছিলো, পায়ে বুট জুতা।
- নাহ এমন তো হবার কথা না।
মালিক নতুন দারোয়ান নিলে তো আমারে অবশ্যই জানাইতো।
- এটাও সম্ভব না।
কারন গতকালকের ঐ আংকেল এখানে ২০ বছর যাবত চাকরি করছেন, এটাই তিনি বলেছিলেন। সুতরাং নতুনের কোনো প্রশ্নই আসে না।
- ভাইজান আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।
এখানে ২০ বছর যাবত চাকরি করি আমি। কোনো আংকেল এইখানে কখনো চাকরি করেনাই। আশাকরি করবেও না। আর গতকাল এখানে কোনো দারোয়ান ছিলো না। কারন আমি আমার বউরে দেখতে গ্রামে গেছিলাম। তার গায়ে ছয়দিন যাবত জ্বর বইতাছে। মনে হয় টাইফয়েড হইছে। আজকে কাউছার হুজুররে বইলা আরো তিনদিনের ছুটি নিবো। আপনি যেন কোথায় যাচ্ছিলেন, যান ভাই। এসব অবান্তর কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।
- ঠিকাছে জামিল ভাই। আপনার সাথে আর এসব ব্যাপারে কথা বলবো না। আমি অফিসে যাচ্ছিলাম। লেট হয়ে যাচ্ছে আমার। আমি তাহলে আসি।
জামিল ভাই তার ইউনিফর্মের নেমপ্লেটের উপর খানিক হাত বুলিয়ে পেছন থেকে আমাকে ডাক দিলেন,
- এই যে ভাইজান, একটু শুনে যান।
আমি আবার ঘুরে দাঁড়ালাম।
তিনি বললেন,
- আপনি তো আমার নাম জানতেন না। কিন্তু জামিল নামটা আমার নেমপ্লেটের সাথে লেখা আছে বলেই বুঝলেন। সব দারোয়ানের বুকেই তো নেমপ্লেট থাকে, গতকাল আপনি যেই আংকেলরে এখানে দারোয়ানগিরি করতে দেখছেন তার বুকেও নিশ্চই নেমপ্লেট ছিলো?
আমার মতো তার নামটা কি চোখে পরে নাই?
- জামিল ভাই-এর যক্তির উপর খানিক হেসে বললাম,
- একদিনের জন্য দারোয়ানগিরি করলে কি আর নেমপ্লেট বানানো যায় ভাই?
জামিল ভাই আর কোনো কথা বললেন না।
বাবার আদেশ মতো আমি তাকে সালাম দিয়ে অফিসের পথে রওনা হলাম।
প্রথম দিনের অফিসটা একটু চটজলদি ধরা উচিৎ।
.
বাসা থেকে অফিসের দূরত্ব খুব বেশি নয়। ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ জ্যামও যদি আমাকে গ্রাস করে, তবুও চল্লিশ মিনিটের বেশি লাগার কথা নয়।
মেইনরোড ধরে কয়েক পা সামনে এগোলেই বাসস্টপ। বাসস্টপে গিয়ে বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হল না। তার আগেই বাস পেয়ে গেলাম।
বাসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মেসেঞ্জারে একটা মেসেজ আসলো। মেসেজটা পাঠানো হয়েছে লিজা নামের গত কালের ঐ আইডি থেকে। আঞ্চলিক ভাষায় লিখেছে,
"ভাইজান যদি সকালে রুটি পরোটা খাইতে চান তাইলে ভাত দিবো না। আর যদি ভাত খাইতে চান, তাইলে রুটি পাইবেন না। আজকে প্রথম সকাল তার উপর আবার শুনলাম, অফিসে প্রথম দিন যাইতাছেন, তাই ভাত দিছিলাম লগে রুটিও দিছিলাম, আর মুরগীর মাংসের ঝোল তো এক ফোটাও খাননাই। কচুর লতি আর গলদা চিংড়ি দিয়ে ভাত রুটি সব খাইয়া শ্যাষ কইরা থুইছেন। বুঝছি স্বাধ হইছিল। অহন শুনেন,
রাস্তাঘাট দেইখা চলবেন। ডাইনে, বায়ে, সামনে, পিছনে সব জায়গায় দেইখা, চোখকান খোলা রাইখা চলবেন। আর পথেঘাটে কেউ কিছু দিলে জীবনেও খাবেন না। গেরাম থাইক্যা আইছেন এইজন্য পরামর্শ দিলাম।" ওহ আরেকটা কথা, মাইয়া মাইনষের দিকে ভুলেও তাকাইয়েন না।
মনে রাখবেন, কুরঅানে পুরুষের হিজাবের কথা আগে উল্লেখ আছে। এই হিজাব কিন্তু মাথায় দেওয়ার হিজাব না। এইডা চোখের হিজাব, মনের হিজাব।"
বুঝছেন?
.
কাজের মেয়েটা আজও শেষে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে গেছে।
এতোবড় মেসেজের কি রিপ্লাই দিবো না ভেবে পাচ্ছি না। অবশ্য রিপ্লাই যে দিতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। যা বলেছে ভালকথাই বলেছে।
এরই মধ্যে আবার বাবা ফোন করলো।
- আসসালামু আলাইকুম আব্বা।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম। কি অবস্থা তোমার? এখন কোথায় আছো?
- আব্বা আমার অবস্থা এখন একটু নাজেহাল, কারন আমি বাসের মধ্যে আছি। সিট পাইনি দাঁড়িয়ে যাচ্ছি। একহাতে মোবাইল ফোন অন্যহাতে বাস। কাধে ঝুলছে সাইড ব্যাগ।
বিপরীতকানে কিছু গুজে দেওয়ার মতো সুযোগ নেই। যদি কোনো উপদেশ দিতে চান দিতে পারেন।
- উপদেশ আর কি দিবো। সততা এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করবা। তার জন্য যদি চাকরি চলে যায় আমার কোন আপত্তি নাই। সবাইকে সম্মান দিবা। কেউ তোমার চেয়ে ছোট বলে তার কাছ থেকে সম্মান আশা করবা না, বরং তুমি নিজে তাকে সম্মান দিবা। শোনো বাবা, সম্মান হল আন্তরিকতার বিষয়। কেউ যদি তোমাকে অন্তর থেকে মেনে নিতে না পারে তাহলে সে তোমাকে কখনোই সম্মান দিতে পারবে না।
সুতরাং সম্মান পাওয়ার আগে সম্মান দেওয়া শিখতে হয়।
- জ্বি আব্বা। যেমন আপনি বলবেন। রাখি আব্বা, আসসালামু আলাইকুম।
.
বাবার কথামতো অফিসের গেটের দারোয়ান থেকে শুরু করে এমডি অবধি সবাইকে সম্মান দিলাম। অফিসের প্রথম দিনটা ভালই কাটলো।
সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ বাসায় ফিরলাম। গেটে জামাল ভাইয়ের সাথে দেখা হয়নি সম্ভবত তার স্ত্রীর শরিরটা আরো খারাপ হয়েছে। এজন্য ছুটি নিয়ে চলে গেছেন।
ফ্রেশ হয়ে বিছানায় পিঠ ছোঁয়াতেই ফোন করলেন প্রথম দিনের দারোয়ান আংকেল,
ফোন রিসিভ করে সালাম দিলাম। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,
- কেমন আছেন লেখক সাহেব?
- জ্বি আংকেল ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন?
- আছি আলহামদুলিল্লাহ ভাল। তো ফেসবুকে আর গল্প লেখো না কেন?
- গল্প লিখবো যদি, আপনি আমাকে কাউছার আংকেলের সাথে দেখা করিয়ে দেন।
- হা হা হা। আগামিকাল কি তোমার অফিস আছে?
- জ্বি না আংকেল। কাল সরকারি ছুটি।
- আচ্ছা ঠিকাছে তাহলে কাল তোমার সাথে দেখা করিয়ে দিবো।
- ঠিকাছে আংকেল। আসসালামু আলাইকুম।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম।
.
সন্ধ্যা প্রায় সাতটা বেজে গেছে। চিলেকোঠার দরজাটা খোলাই ছিলো। সিড়ি দিয়ে কেউ ছাদে উঠে এলো। পায়ের শব্দ শুনে দরজা লাগিয়ে দিলাম।
দরজার কাছে এসে লিজা ডাক দিলো।
- ভাইজান, আপনের নাস্তা।
- তাড়াতাড়ি খাইয়া লন।
বন্ধ দরজার ভেতর থেকে বললাম,
এই মেয়ে শোনো, তোমার সাথে আমার কথা আছে।
- জ্বি বলেন। কি বলবেন?
- তুমি পড়ালেখা করেছো কতদূর?
- নাইনে উইঠা পরা বাদ দিছি।
- এখানে কতোদিন যাবত কাজ করো?
- দুই বৎসর।
- তুমি ফেসবুক চালাতে জানো?
- হ জানি ইকটু ইকটু।
- ফেসবুক চালানো শিখাইছে কে?
- লিজা আপা শিখাইছে।
- কি বললে? কোন আপা ?
- ক্যান কাউছার হুজুরের মাইয়া লিজা আপা।
- তোমার নাম কি?
- আমার নাম তো রুনা খাতুন। তাহলে লিজা আইডিটা তোমার না?
- নাহ, ওই আইডি তো লিজা আপার। আমার আইডির নাম তো রুনা রুনা।
- দুইবার রুনা?
- হ।
আচ্ছা ঠিকাছে শোনো, তোমাকে আমি এসব জিজ্ঞেস করেছি কাউকে বলার দরকার নেই। ঠিকাছে?
- ঠিকাছে ভাইজান।
- এবার তুমি যাও।
.
রুনা চলে যাওয়ার সাথেই দরজা খুলে দিলাম। সন্ধ্যার নাস্তা প্লেটে ঢেকে দরজার সামনে রেখে গিয়েছে। প্লেটটা ভেতরে রেখে চিলেকোঠার বাইরে বেড়িয়ে এলাম।
ভাবছি, এ বাড়ির সবাই এমন রহস্যকর আচরণ করছে কেন আমার সঙ্গে।
বাবার ছোট বেলার বন্ধু কাউছার যিনি দারোয়ানের ভেশ ধরে আমাকে নিজের বাড়িতে গ্রহন করলেন। তার নিজের মেয়ে লিজা। সে কাজের মেয়ে সেজে আমাকে দিনরাত ফেসবুকে মেসেজ করতে থাকে। তাও আবার আঞ্চলিক ভাষায়। কিন্তু কেন?
যদি তাদের টেক কেয়ার করার এতো প্রয়োজন থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে করলেই পারে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে কেন?
.
ছাদে প্রচণ্ড বাতাস শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে কালবৈশাখী ঝড় হবে। দালানের আশেপাশের গাছগাছলার মাথাগুলো পেন্ডুলামের মত দুলছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অলরেডি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, এরই মধ্যে সিড়ি বেয়ে কে যেন উপরে উঠে এল।
অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে না তার মুখ।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকালো, সেই ঝলকেই দেখতে পেলাম একটি সাদাসিধে যুবতী মেয়েকে।
যার চোখে একফোটা বিস্ময় নেই।
শুধু নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে চেয়ে আছে আকাশের দিকে।
.
চলবে ----?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now