বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিণী-১- শেষ পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাকিণী-১, Last part লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) ওর কাজ হয়ে গেলে আমরা দুজনই বেসমেন্ট ছেড়ে উপরে উঠে এলাম। অভিশপ্ত বেসমেন্টটা এবার প্রকৃতপক্ষেই শূন্য হয়ে গেলো। সেদিন আমরা এক জম্পেশ ডিনার করলাম। আমার ফ্রিজে যত ধরনের ফুড আইটেম ছিলো তার সবই আমি প্রস্তুত করেছিলাম। আলেস এতো বছর অভুক্ত থাকার পর ফের খেতে বসেছে। আজ ওর ক্ষুদাটা আমি ভালভাবেই মিটিয়ে দেবো। হিহিহিহিহিহি। আলেস কাঁটা চামচ আর ছুরির ব্যবহার জানতো না। মধ্যযুগে পোল্যান্ডে তো আর ডায়ানিং ম্যানার বলে কিছু ছিলো না। ওরা খাওয়ার জন্যে বাঙালীদের মতোই হাত ব্যবহার করতো। তাই আজ মাংসের কাবাবটা খেতে ওর খুব সমস্যা হচ্ছে। তা দেখে আমি ওকে নিজ হাতে খাইয়ে দিলাম। ও খাবার টেবিলে পুরোটা সময় আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। আবেদনময় সেই দৃষ্টিতে আমি ভালবাসার আর্তি দেখতে পেলাম। খাওয়া শেষে আমরা ড্রয়িংরুমে গেলাম টিভি দেখতে। আলেস কখনোই টিভি দেখেনি। প্রথম টিভিটা চালু করতেই ও ভয়ে পেয়ে আমায় জড়িয়ে ধরলো। টিভি চ্যানেলে তখন একটা প্রাচীন যুদ্ধের ফিল্ম দেখাচ্ছিলো। ঘোড়ায় চড়ে দুদল আদিম অস্ত্র সজ্জিত সৈন্যদলের লড়াই। বুঝলাম আলেস যদ্ধ বিগ্রহকে ঘৃনা করে। আমিও করি। কিন্তু আমি কি করে ওকে বলবো যে সেই আদিম মৃত্যুলীলা এখনো সাঙ্গ হয় নি। এখনো আধুনিক বিশ্বে প্রভাবশালীরা কারণে ওকারণে দুর্বল রাষ্টের উপর আক্রমণ চালায়। ছিঃ ছিঃ, কি লজ্জা। আমি রিমোট টিপে চ্যানেল পাল্টে গানের চ্যানেল আনলাম। আর্থ ডে উপলক্ষে একটা গান প্লে হচ্ছিলো তখন। এবার আলেস ভয় কাটিয়ে দেয়ালে ফিট করা টিভির স্কিন ছুয়ে দেখে বলল, “কি অসাধারণ জাদুকরী জানালা লাগিয়েছো এ ঘরে! আচ্ছা সাঞ্জে, তুমি কি জাদু জানা কোন ডাইনী? ” ওর এমন প্রশ্ন শুনে আমি তো হেসেই খুন। আমি: “আরে বোকা এটা জানালা না। টেলিভিশন। এটা দিয়ে দুরের জিনিশ দেখা যায়। আর আমি কোন ডাইনী না। একজন ফার্মাসিস্ট। ঔষধ বিশেষজ্ঞ।” ও যে কী বুঝলো তা সেই ভালো জানে। কেবল মুখে হাসি এনে মাথা নাড়লো। আমি আবার চ্যানেল পরিবর্তন করে আরেকটি চ্যানেল টিউন করলাম। ওই চ্যানেলে তখন পোলিশ ভাষায় ডাবিং করা “ফ্যন্সি নান্সি” মুভিটা দিচ্ছিলো। এই মুভিটা আমার ভালই লাগে। মুভিটা চলার এক পর্যায়ে একটা চুমু খাওয়ার রোমান্টিক দৃশ্য চলে আসে। আলেস শিহরিত হয়ে আমার হাতটা আকঁড়ে ধরে। ওর অবস্থা দেখে আমার ভিষণ হাসি পাচ্ছিলো। অনেক কষ্টে আমি সেটা ঠেকালাম। কিন্তু আলেস আর আমার হাতটা ছাড়লো না। বরং হাতটা ধরে আমায় ওর কাছে নিয়ে একটা চুমু খেয়ে বসলো। আমি এর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু আমি কখনোই আলেসকে নিরাশ করতে চাইনি। আমিই ওকে ফিরিয়ে এনেছি, নইলে ও এতক্ষণে মার্টিনীকেই চুমুটা দিতো। যাহোক, ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলেই সবচেয়ে ভালো হবে। অনেক্ষণ আমরা কেউ কারো সাথে কথা বললাম না। কেবম নিরবে মুভিটা দেখতে লাগলাম। মুভিটা শেষ হলে আলেস আবারো আমায় জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো। এবার আর চুমুটা ভাঙতেই চাইলো না। হয়তো এতো বছর পরে আমায় কাছে পেয়ে ওর বুকের জমানো সব ভালবাসা উথলে উঠেছে। ধিরে ধিরে আমিও ওর ভালবাসায় হারিয়ে যেতে লাগলাম। সেরাতে আমার বেডরুমে আমরা দুজন একসাথেই ঘুমিয়েছিলাম। এই কটেজে আসার পর থেকে দু একটা রাতে বাদে প্রায় প্রতিটা রাতই আমি দুঃস্বপ্ন দেখে কাটিয়েছি। কিন্তু সেরাতটা ছিলো এক অসাধারণ স্বপ্নময় রাত। আমি কেবল চাইছিলাম এই সুখস্বপ্নের যেনো কোন শেষ না হয়। কি দরকার ভোর হবার। এই সুন্দর রাতটাই চিরস্থায়ী হোক না। পরদিন সকালে আমাদের একসাথেই ঘুম ভাঙলো। আমরা বাথরুমে যেয়ে একে একে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। তারপর আমি ম্যাকডোনাল্ডে ফোন দিয়ে সকালের নাস্তার জন্যে কিছু খাবার ও জুস অর্ডার করলাম। আধাঘন্টার ভেতরেই হোম ডেলিভারি এসে পৌছালো। তবে নাস্তার টেবিলে এক থমথমে নিরবতা বিরাজ করছিলো। আমাদের কারো মাঝেই গতরাতের সেই উচ্ছাসটা আর নেই। আলেসকে দেখলাম মনমরা হয়ে নাস্তার টেবিলে কেবল খুটেই চলেছে। কিছুই খাচ্ছে না। গতরাতের মতো আমি ওকে খাইয়ে দিতে গেলাম। কিন্তু ও শুধু পানি খেয়েই টেবিল ছেড়ে উঠে বেডরুমে চলে গেলো। বুঝলাম, ওর মনটা আজ ভালো নেই। থাক। আজ আর অফিসে যাবো না। প্রধান নির্বাহীর বিশেষ ক্ষমতাবলে আমি বছরে তিনদিন কোন কারণদর্শানো ব্যাতিত অফিস ছুটি ঘোষণা করতে পারি। আজ সেই সুযোগটা কাজে লাগালাম। অফিসের সবাইকে টেক্সট করে জানিয়ে দিলাম আজ অফিস বন্ধ। অফিস ছুটি দিয়ে আমি বেডরুমে ফিরে এলাম। বেডরুমে যেয়ে দেখি আলেস একাকী বসে বসে কাঁদছে। আমাকে দেখতেই চোখের পানি লুকানোর বৃথা চেষ্টা করলো। আমি এগিয়ে যেয়ে ওকে চুমু খেয়ে বললাম, “কি ব্যাপার আলেস? মন খারাপ? মার্টিনীকে খুব মনে পড়ছে বুঝি।” ও কেবল মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো। আমি: “আলেস, প্লীজ, মন খারাপ করো না। আমি তো আছিই। চল না বাহিরে থেকে ঘুরে আসি। বাহিরে সব কিছুই নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। আজ তুমি হাজার বছর আগের পোল্যান্ডের সাথে আজকের আধুনিক পোল্যান্ডকে মিলিয়ে দেখবে। প্লীজ, চল চল, চল। “আমার পীড়াপীড়িতে ও অবশেষে রাজি হলো। প্রথমে ওকে নিয়ে গেলাম, মন্টগোমেরী সিনেমা হলে। বিশাল থ্রিডি স্কিনের সামনে একটা রোমান্টিক মুভি দেখলাম আমরা। তারপর গেলাম শপিংমলে। ওর জন্যে নতুন কাঁপড় চোপর কিনে আনলাম। ও সারাটাক্ষণ আমায় একের পর এক প্রশ্ন করে ব্যাতিব্যাস্ত করে রাখলো। আলেস: “ওই দেখো দেখো, একটা উড়ন্ত দানব, ওটা কি মানুষ খায়? ” আমি: “আরে দুর। ওটা তো পুলিশের টহল হেলিকপ্টার। ওটা মানুষ খেতে যাবে কেন? বরং মানুষই ওটার ভেতরে করে উড়ে বেড়ায়।” আলেস: “ওহ আচ্ছা, কিন্তু এই লোকটা এভাবে বেকায়দায় দাড়িয়ে আছে কেনো? ওকে কি কেউ জাদুবলে আটকে দিয়েছে? ” আমি: “আরে নাহ। ওটা দোকানের ডামি। ওটার পড়নের কাপড়টা তুমি পড়লে কেমন লাগবে তা বুঝাতেই ওটা ওখানে রেখেছে। আলেস: “কে এতো সুন্দর করে পুতুল বানায়? প্লীজ ওকে পেলে বলবে যেনো আমার চেহারার এরকম একটা পুতুল বানিয়ে দেয়।” সেরেছে। একে নিয়ে শপিংমলে বেশীক্ষণ ঘুরাঘুরি করা যাবে না। প্রশ্ন করতে করতেই প্রাণবায়ূ বের করে ফেলবে। আমি: “আচ্ছা আলেস। এখন এই কাপড়ের প্যাকেটগুলি নাও। আজ সম্ভবত পুতুল বানানোর লোকটা আসে নি। কাল ও এলে তোমার চেহারার একটা পুতুল বানিয়ে দিতে বলব। কেমন? এবার চল, এখান থেকে যাওয়া যাক।” ও আর আপত্তি না করেই শপিংমল থেকে আমার সাথে বেরিয়ে এলো। যাক বাবা। উফ। মলের ভেতর মানুষ গিজগিজ করছিলো। এসব প্রশ্ন ওরা শুনলে নিশ্চিত টিটকারি মারতো। মল থেকে বেরুতে বেরুতে প্রায় দুপুর হয়ে এসেছিলো। আমরা ভালো দেখে একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকে লাঞ্চ করলাম। লাঞ্চ শেষে আমরা স্থানীয় একটা স্টেডিয়ামে গেলাম রাগবি খেলা দেখতে। খেলা শুরু হতেই আলেসের উচ্ছাসটা আর দেখে কে! ও চিৎকার করে গলা ফাটিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিচ্ছে। আলেস: “মারো, মারো, আরো জোরে মারো। মেরে ফেলো ওদের। এইতো ভালই কুস্তি লড়ছো! ” আরে! কি আশ্চর্য! ও রাগবিকে কুস্তি ভেবে বসে আছে। হিহিহিহিহি। আমি: “আরে আলেস! ওরা কুস্তি লড়ছে না তো। ওরা রাগবি খেলছে। দেখো। ঐ যে একটা ছোট্ট বল দেখছো, ওটা ওরা একে অপরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বারের ভেতর ঢুকিয়ে গোল দেওয়ার চেষ্টা করছে।” আলেস: “তুমি বলতে চাইছো যে ওরা মারামারি করছে না? ” আমি: “অবশ্যই না। ওরা খেলছে।” আলেস: “তাই? এযুগে কি কেউ মারামারি করে না? ” আমি: “একদম যে করে না তা কিন্তু নয়। করে। কিন্তু খুব কম। অন্যায়ভাবে মারামারি করলে শাস্তি পেতে হয় যে।” আলেস: “কে শাস্তি দেয়? প্রিস্ট? ” আমি: “কি যে বলো, এ যুগে প্রিস্টের টাইম আছে না কি? এখনকার যুগে প্রিস্টদের আমরা থোড়াই কেয়ার করি। এযুগে বিচার আচার সব বিচারালয় থেকে বিচারকেরা নিয়ন্ত্রণ করেন। ওরা সেই শয়তান প্রিস্টের মতো নয়। ওরা অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও উচ্চশিক্ষিত।” আলেস: “ওহ তাই? ভালোই তো। আচ্ছা, এ যুগে প্রিস্টের মতো কোন শয়তান নেই? ” আমি ঠিক এই প্রশ্নেরই ভয় করছিলাম। আমি ওকে কোন মুখে বলবো এই আধুনিক সমাজে এখনো প্রিস্টের মতো নরকের কীটরা ভাল মানুষের মুখোশ পড়ে সমাজের উঁচু তলায় বসে সমস্ত কলকাঠি নাড়ছে। আমি কথা কাটিয়ে বললাম, “আলেস, এসব খেলা দেখতে আমার ভালো লাগছে না। চল না বীচ থেকে ঘুরে আসি। আজ দুজনে মুক্ত সাগরে অনেক্ষণ সাঁতার কাটবো। চল না প্লীজ।” আলেস: “ঠিক আছে। চল যাই।” গাড়ি নেই বলে অনেকটা পথ হেটেই বীচে যেতে হলো। পথিমধ্যে একটা বীমা কম্পানিতে ঢুকে আমার কটেজটার বীমা করিয়ে নিলাম। বীমা না থাকায় গাড়িটা গেছে। এখন কটেজটাই শুধু বাকী আছে। ওটার নিশ্চয়তার জন্যে বীমাটা করিয়ে নিলাম। আলেসকে নিয়ে বীচে পৌছতে পৌছতেই বিকাল চারটা বেজে গেলো। আজ আমরা কেউই বিকিনি আনি নি। আসলে সকালে বেরুনোর সময় বীচে আসার প্ল্যানই ছিলো না। তাই বলে কি সাগরতীরে এসে সাঁতার না কেটেই চলে যাবো? কক্ষনো নয়। পরনের ধোপাদুরস্তর পোশাক নিয়েই আমরা দুজন জলে নেমে পড়লাম। জলে নেমে সাতরে আমরা দুজন তীর থেকে কিছুটা দুরে নির্জনে চলে এলাম। এবার আলেস আমায় জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো। আমরা দুজন জড়াজড়ি করে কিছুক্ষণ একসাথে সাঁতার কাটলাম। তারপর একসময় ক্লান্ত হয়ে রণে ভঙ্গ দিলাম। আবার সাঁতরে তীরে ফিরে এলাম। এবার যাওয়ার পালা। যাওয়ার সময় আলেস আংটিটা খুলে সাগরে ছুড়ে ফেলতে চাইছিলো। আমি খপ করে ওর হাতটা ধরে ফেললাম। আমি: “এটা কি করছো আলেস? ” আলেস: “আংটিটা ফেলে দিচ্ছি। ওটা আমায় আবার আটকে ফেলবে।” আমি: “ওটা ফেলে দেওয়ার কি দরকার? বরং আমায় দিয়ে দাও। তোমার ওটার প্রয়োজন না থাকলেও আমার তো থাকতে পারে। ” আলেস: “ঠিক আছে। এই নাও।” আলেসের কাছ থেকে আংটিটা নিয়ে আবার আমার মধ্যমায় পড়ে নিলাম। কটেজে আর কোন অশরীরী নেই। তাই এটা পড়া অনেকটাই নিরাপদ।? তাছাড়া কে জানে, হাজার বছর পরে হয়তো কোন একদিন ওটা ব্যবহার করে আমিও আলেসের মতোই আবার ফিরে আসবো। সারাটা দিন বাহিরে ঘুরেঘুরি করার পর ক্লান্ত হয়ে বিকাল ৭টার দিকে আমরা আবার কটেজে ফিরে আসলাম। কটেজে ফিরেই আলেস বলল, “কাল তুমি কষ্ট করে ডিনার রেঁধেছ। আজ আর তোমায় কষ্ট করতে দিচ্ছি না। আজ আমিই ডিনার রাঁধব। আমাদের সময়কার কিছু জনপ্রিয় ডিশ খেতে নিশ্চই তোমার তেমন খারাপ লাগবে না? ” আমি: “অবশ্যই খারাপ লাগবে না প্রিয়া। তুমি যা রাঁধবে তাই সই।” চল, তোমায় রান্নার জিনিসপত্র সব দেখিয়ে দিচ্ছি।” আলেসকে স্টোভের ব্যবহার, ফ্রিজ খুলে কাঁচামাল বের করা ইত্যাদি কসরত দ্রুত শিখিয়ে দিয়ে আমি বেডরুমে ফিরে এলাম। ও একা একাই রান্না করুক, আমি থাকলে বরং অস্বস্তিবোধ করতে পারে। বেডরুমে ফিরে একটা তোয়ালে পেঁচিয়ে বাথরুমে গেলাম গোছল করতে। বাথরুমে গোসল করার এক পর্যায়ে আয়নার দিকে চোখ যেতেই চমকে উঠলাম! আরে! মনিকা যে! ও এখানে আসলো কি করে! কিন্তু পরক্ষণেই ওর প্রতিচ্ছবিটা আয়না থেকে মুছে গেলো। আমি স্তম্ভিত হয়ে আয়নার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম। ঠিক তখনই কিচেন থেকে আলেসের চিৎকার ভেসে এলো। আমি বাথরুম থেকে হতদন্ত হয়ে বেরিয়েই কিচেনের দিকে ছুটলাম। দৌড়ে সেখানে যেয়ে দেখি আলেস অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। মাথার কোনটা কেটে রক্ত বেরুচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপারটা হলো ডীপ ফ্রিজের ডালাটা খুলে হাঁ হয়ে আছে। ঠিক যে ফ্রিজটায় আমি মনিকার লাশটা ঢুকিয়ে রেখেছিলাম। আমি ফ্রিজের ডালাটা নামিয়ে দিয়ে অজ্ঞান আলেসকে কিচেন থেকে আমার বেডরুমে বয়ে আনলাম। তারপর ওকে বিছানায় শুইয়ে বাথরুম থেকে পানি এনে ওর চোখে মুখে ছিটিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ও জ্ঞান ফিরে পেলো। তারপর কাঁপাকাঁপা দুর্বল কন্ঠে বলল, “ও পরপারে যায় নি। ও এখানে আটকে পড়েছে। এখন ও তার দেহটা ফেরৎ চায়।” আমি: “কি! এসব তুমি কি বলছো? কে আটকে পড়েছে? মারগারেট?” আলেস: “নাহ। মনিকা।” আরে! তাইতো! আমি এটা তো ভেবে দেখিইনি! আমার আংটিপরা ডান হাতটা যখন মনিকার গলায় চেপে বসেছিলো তখন সে ওই হাতটা থেকে নিষ্কৃতি পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছিলো। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত ওর হাত দুটো তার গলা থেকে আমার ডান হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিল বেঁচে থাকার জন্যে ওর এতবেশী একাগ্রতা ছিলো যে মৃত্যুর পরেও ওর হাত দুটো আমার ডান হাতটা ধরে ছিলো। ওদিকে আমার ডান হাতটায় তখন সেই মৃত্যুঞ্জয়ী আংটিটা পরা ছিলো। তারমানে মৃত্যুর সময় মনিকার হাতে সেই আংটিটার স্পর্ষ লেগে গিয়েছিলো! তাই ওর আত্মাটা আর পরপারে যায় নি। তার বদলে ওই কিচেনেই আটকে পড়েছে! ইশ! বড্ড ভুল হয়ে গেছে। আমি ব্যাপারটা আগে আঁচ করতে পারি নি। তাই মনিকাকে উপেক্ষা করে আলেসকেই তার দেহে ভরে দিয়েছি। ধ্যাত। সাংঘাতিক অন্যায় হয়ে গেছে মনিকার সাথে। আমি: “আচ্ছা, আলেস, ব্যাপারটা ঠিক কি ঘটেছিলো আমায় একটু বিস্তারিত বলতে পারবে? প্লীজ।” আলেস: ” ও কিচেনে আটকে আছে। ওই সাদা বক্সটার (ডিপ ফ্রিজ) ভেতর, প্রত্যাবর্তণের অপেক্ষায়। তুমি চলে যাওয়ার পর ও আমায় মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আমি তখন চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।” বুঝতে পারলাম মনিকার আত্মাটা মরিয়া হয়ে এখন মারগারেটের মতোই আচরণ করতে শুরু করে দিয়েছে। প্রত্যাবর্তণের জন্যে ও যে কাউকে মেরে ফেলতে পিছ পা হবে না। আর আমিও নিজের অজান্তেই তাকে প্রত্যাবর্তণের চাবিটা দিয়ে দিয়েছি। গতরাতে মনিকার লাশটা ধোয়ানোর জন্যে বিশুদ্ধ পানি আনতে যখন কিচেনে ঢুকেছিলাম তখন আমি তোতাপাখির মতো আদিনের বইয়ের সেই মন্ত্রটা আওড়াচ্ছিলাম, ওটা দ্রুত মুখস্থ করার জন্যে। তখন মন্ত্রটা শুনে মনিকা সম্ভবত ওটা শিখে নিয়েছে। এখন ও কেবল একটা অক্ষত লাশ চায় প্রত্যাবর্তনের জন্যে। কেবল একটা লাশ। সেটা আমারই হোক বা আলেসের। ধ্যাত। কটেজটায় একটা না একটা সমস্যা লেগেই রয়েছে। আমি অনেক সহ্য করেছি, কিন্তু আর নয়। যত দ্রুত সম্ভব আমি এটাকে বেঁচে দেবো। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চোখ গেলো আলেসের দিকে। ও ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আচ্ছা ওকে আবার মেরে ফেললে কেমন হয়? ও তো এমনিতেই পরপারে ফিরে যেতে চেয়েছিলো। আমিই ওকে জোর করে ফিরিয়ে এনেছি। ওকে মেরে লাশটা কিচেনে নিয়ে গিয়ে, মনিকাকে তার দেহটা বুঝিয়ে দেবো। কিন্তু পরক্ষণেই উপলব্ধি করলাম আমি কখনোই আলেসকে খুন করতে পারবো না। গতরাতের অনাবিল সুখস্বপ্নের পর আমি নিজের অজান্তেই ওকে ভালবেসে ফেলেছি। আমি ওর ভয়ার্ত ঠোটে চুমু খেয়ে বললাম, “চিন্তা করো না আলেস। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আর ওই কিচেনে না গেলেই তো হলো। আজ থেকে খাবার দাবার সব বাহিরে থেকে কিনে খাবো তবুও কিছুতেই ওই কিচেনে ঢুকবো না। কেমন?” আলেস মাথা নেড়ে সায় জানালো। তারপর আমি আবার ম্যাকডোনাল্ডে ফোন দিয়ে ডিনারের অর্ডার করলাম। দুজনে একসাথে ডিনার করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। আজ এত্ত বেশী ঘুরাঘুরি করেছি যে দুজনই খুব ক্লান্ত। কিন্তু তাই বলে আলেস মোটেও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। ঘুমানোর আগে ও ঠিকই আমায় সুখ সাগরে ভাসিয়ে দিলো। সেরাতে দুর্ঘটনার আগে সাঞ্জে তার ট্যাবলেটের “Virtual Diary” তে এইটুকুই লিখেছিলো। তারপর সাঞ্জে আর আলেস ভালবেসে একে ওপরের বাহুডোরে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু সেরাতে সাঞ্জে আলেসকে কিচেন থেকে বেডরুমে বয়ে আনার সময় রান্নাঘরের স্টোভটা বন্ধ করতে বেমালুম ভুলে যায়। পরবর্তীতে মনিকার ভয়ে ওদের কেউই আর রান্নাঘরে ফিরে যায়নি। স্টোভটা সারারাতই জলতে থাকে। ভোররাতের দিকে কিচেনের ডিপ ফ্রিজের ডালাটা আবার খুলে যায়। তারপরেই জ্বলন্ত স্টোভ থেকে একটা অগ্নি শিখা এসে রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওদের দুজনের অজান্তেই আগুনটা ধীরে ধীরে পুরো কটেজে ছড়িয়ে পড়ে।আগুনটা দ্রুত সারাটা কটেজে ছড়িয়ে পড়লো। সাঞ্জে, আর মনিকার দেহ অধিকারিণী আলেস তখন সুখ নিদ্রায় ব্যাস্ত। গতরাতটা অসাধারণ কেটেছে তাদের। হয়তো ১২০০ বছর আগে মার্টিনীর সাথে এমনি কোন এক রাতের কথা আলেস তার ডায়ারীতে লিখেছিলো। ক্রমশ ধোয়া ঘনিয়ে আসছে। কাশতে কাশতে হঠাৎ সাঞ্জের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ততক্ষণে আগুন বেডরুমের সামনের দরজাকে গ্রাস করে নিয়েছিলো। সে দ্রুত ঘুমকাতুরে আলেসকে জাগালো। জ্বলন্ত মৃত্যুর সামনে হতভম্ব ওরা দুজন স্থির দাড়িয়ে রইলো। বিশাল কটেজটার চারপাশে জনবসতি খুবই কম। তার উপর কটেজটা ২০ ফুট উঁচু দেয়ালে ঘেরা। যতক্ষণে প্রতিবেশীরা দেয়ালের উপর দিয়ে ধোয়ার কুণ্ডলী দেখে দমকলে ফোন দিলো, ততক্ষণেই কটেজটার পুরোটাই জ্বলে শেষ। তাই দমকল বাহিনীকে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে খুব একটা বেগ পেতে হলো না। ওরা যখন বেডরুমে ঢুকলো তখন দরজার সামনেই মনিকার পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া দেহটা পেয়ে গেল। আলেস ততক্ষণে দ্বিতীয় মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে দেহটা ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। সাঞ্জেকে পাওয়া গেল সেই আবদ্ধ বাথরুমে। ২৫ ভাগ পুড়ে যাওয়া দেহ নিয়ে সে তখনো বেঁচে ছিলো। ওকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। কটেজটার ইন্সুরেন্স করা ছিলো ভিগাতিয়ার কম্পানিতে। সাঞ্জেই করিয়েছিলো। সে কম্পানির দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ রবার্তো ট্রাভেজ পরদিন এলেন কটেজটা পরিদর্শন করতে। তিনি দমকল বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানতে পারলেন আগুনটা লেগেছিলো রান্নাঘরের স্টোভ থেকে। উনি নিজেও পরিক্ষা করে দেখলেন। দেখে মনে হল কেউ একজন স্টোভের গ্যাস ছেড়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাতেই কটেজটা পুড়ে ছাই। উনি মনে মনে খুশিই হলেন। উনার কম্পানিকে এই দুর্ঘটনার জন্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। ট্রাভেজ দ্বিগুন উৎসাহে কটেজের সবগুলি কক্ষে তল্লাসি চালালেন। উনি যখন বেডরুমে ঢুকলেন তখন ছাই হয়ে যাওয়া বিছানার উপর পুড়ে দুমড়ে যাওয়া একটা নেক্সাস ৭ পেলেন। ফোনটা একেবারেই ডেড হয়ে গেছে। তবে মেমরি স্টোরেজটা হয়তো এখনো ঠিক আছে। উনি ফোনটা উপস্থিত দমকল কর্মী ও পুলিশের অগোচরে আস্তে করে পকেটে ঢুকিয়ে নিলেন। সবাই যার যার মতো ব্যাস্ত থাকায় ব্যাপারটা কেউ খেয়াল করলো না। বাড়ি ফিরার পথে উনি সুপারমার্কেট থেকে আরেকটি নেক্সাস ফোন কিনলেন। বাড়ি ফিরে পুড়ে যাওয়া সাঞ্জের ফোনটা ভেঙ্গে তার ভেতর থেকে মেমরি স্টোরেজটা বের করে নিয়ে নতুন ফোনের মাদারবোর্ডে লাগিয়ে দিলেন। সুইচ টিপতেই নতুন ফোনটা চালু হয়ে গেল! তখন নিজেকে একজন ডাক্তারের চেয়ে কোন অংশে কম মনে হলো না তার। বিখ্যাত মোবাইল সার্জন ডাক্তার রবার্তো ট্রাভেজ। আপন মনেই খানিক ক্ষণ হাসলেন তিনি। অতপর তিনি যখন সাঞ্জের স্টোরেজ ঘাটছিলেন তখন একটা ফোল্ডারে তার চোখ আটকে যায়। ওটার নাম ছিলো “Virtual Diary”। ওতে একটা ওয়ার্ড ফাইল ছিলো। ওটা খুলতেই কতগুলি আজব লেখা বেরিয়ে পড়লো। ট্রাভেজ বাংলা জানেনা। কিন্তু প্রবাসী সাঞ্জে তার ডায়ারীর সম্পূর্ণটাই বাংলায় লিখেছে। উনি ফাইলটা ইমেইল করে ওয়ারশোতে একজন পরিচিত ভাষাতত্বের প্রফেসরের নিকট পাঠালেন। সাঞ্জের ভার্চুয়াল ডায়ারীর ইংরেজি অনুবাদটা সাত দিনের মাথায় ট্রাভেজের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে ফেরত আসে। ট্রাভেজ এক নিঃশ্বাসে সবটাই পড়ে নিলেন! অবিশ্বাস্য! এও কি সত্যি হতে পারে? কিন্তু সত্যি না হলে কেন একজন নিজের ডায়ারীতে এসব লিখবে? তবুও ট্রাভেজের মনে হলো এসব কিছুর প্রকৃত ব্যাখ্যা এ ডায়ারীর মালিক সাঞ্জেই ভালো দিতে পারবে। উনি গাড়িটা নিয়ে তখনই রওনা দিলেন হসপিট্যালে সাঞ্জের সাথে দেখা করতে। কিন্তু সাঞ্জের শারিরিক অবস্থা ভালো না থাকায় ডাক্তার তাকে দেখা করতে দিলেন না। পরের সপ্তাহে তিনি আবার গেলেন। এবার উনি দেখা করার অনুমতি পেলেন। সাঞ্জের রুমে ঢুকে তিনি দেখলেন সে বিছানায় শুয়ে আছে। তার মা বাবা উৎকণ্ঠিত হয়ে তার পাশেই বসে আছেন। ট্রাভেজ তাদের কাছে সাঞ্জের সাথে একান্তে কথা বলার অনুমতি চাইলেন। উনারা ট্রাভেজকে সাঞ্জের রুমে রেখে বাহিরে চলে গেলেন। এবার সে একটা চেয়ার টেনে সাঞ্জের মুখামুখি বসলো। সাঞ্জের চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাস করলো “আপনি কি বলতে পারেন ওখানে কিভাবে আগুন লেগেছিলো।” সাঞ্জে ভাবলেশহীন চেহারায় উত্তর দিলো “স্টোভ থেকে আমিই লাগিয়েছি।” ট্রাভেজ প্রথমে বিষ্ময়ে হা হয়ে গেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে নীচু স্বরে বলল, “সাঞ্জে, আমি তোমার ভার্চুয়াল ডায়ারীটা পড়েছি। ওসব যা লিখেছো তার সবই কি সত্যি?” প্রশ্ন শুনে সাঞ্জে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল। হঠাৎ সে ট্রাভেজের গলা টিপে ধরে চিৎকার করে বললো “আমি সাঞ্জে নই, মনিকা। সাঞ্জে আর আলেস পরপারে চলে গেছে। বেঁচে আছি আমি, শুধুই আমি।” সাঞ্জের চিৎকার শুনে ডাক্তার নার্স এসে ট্রাভেজকে ছাড়িয়ে নিলেন। কিন্তু হুড়োহুড়িতে সবার অলক্ষে ট্রাভেজের নেক্সাসটা সাঞ্জের বিছানায় পড়ে গেলো। সবাই ওকে একা রেখে কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলো। এই সুযোগে সাঞ্জে নেক্সাসটা হাতে নিলো। ওর ভার্চুয়াল ডায়ারী ফোল্ডারটা বের করাই ছিলো। সাঞ্জে ওটাকে চিরতরে ফোন থেকে ডিলিট করে দিলো। পরক্ষণেই ঘুমের ইঞ্জেকশন নিয়ে রুমে এক সুঠামদেহী নার্স প্রবেশ করলো। সাঞ্জে লক্ষি মেয়ের মতো ইনজেকশনটা নিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। ওদিকে ডাক্তার অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে ট্রাভেজকে সাঞ্জের মানসিক অবস্থা খুলে বললেন। ডাক্তারের মতে দুর্ঘটনার পরে সাঞ্জের মাল্টিপল আইডেন্টিটি ডিজঅর্ডার হয়েছে। এই মানসিক রোগের কারণে সাঞ্জে নিজেকে তার মৃত বন্ধু মনিকা ভেবে ভুল করছে। কিন্তু সাঞ্জের ডায়ারীটা পড়া থাকায় সমস্ত ব্যাপারটা ট্রাভেজের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। মারগারেটের প্রেতাত্মার বশবর্তী হয়ে সাঞ্জে সেদিন মনিকা কে খুন করে। তারপর মনিকার লাশে মারগারেট প্রবেশ করলে সাঞ্জে তাকেও খুন করে। অতঃপর মারগারেটের কবল থেকে মুক্ত হয়ে সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। খুনের দায় এড়াতে সে তখন আদিনের কালোজাদুর বইয়ের সহায়তায় আলেসের আত্মাকে মনিকার দেহে ঢুকিয়ে দেয়। কিন্তু মনিকার লাশটা বেশীক্ষণ রান্নাঘরে রেখে দেয়ার ফলে তার আত্মাটা সেখানেই আটকা পড়ে। ঠিক যেমন আলেসের আত্মাটা বেসমেন্ট, লাইব্রেরী বেডরুম আর কুয়োর ভেতর আটকে পড়েছিলো। আলেসের আত্মাটা যেমন মোমবাতি থেকে আদিনের ধর্মীয় বইয়ে আগুন লাগিয়েছিলো ঠিক তেমনি মনিকাও স্টোভ থেকে পুরো কটেজে আগুন লাগিয়ে দেয়। মনিকার দেহ জুড়ে থাকা আলেস সেই আগুনে পুড়ে মারা যায়। কিন্তু তোখড় উপস্থিত বুদ্ধি সম্পন্ন সাঞ্জে বাথরুমে ঢুকে নিজেকে আড়াল করে নেই। তবুও সে বাঁচতে পারে না। ধোয়ায় দম আটকে বাথরুমেই মারা যায়। খানিক পরে ধোয়া কমে এলে মনিকার আত্মা সাঞ্জের দেহে প্রবেশ করে। ডাক্তার এটাকে মাল্টিপল আইডেন্টিটি ডিজঅর্ডার ভেবে এখনো চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাভেজ ভাবে সত্যিই কি আলেস আর সাঞ্জে পরপারে চলে গেছে না কি এখনো কটেজে আটকে আছে? এটা জানার একটাই পথ আছে। ট্রাভেজকে সেই অভিশপ্ত কটেজে ফিরে যেতে হবে। ট্রাভেজ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়ি ছুটায় ফুল আক্সেলারেশনে। গন্তব্য সেই অভিশপ্ত কটেজ। কিন্তু পথিমধ্যে এক মধ্যপ ড্রাইভার উল্টো লেনে এসে ঠিক ওর গাড়িটাতেই ধাক্কা মারে। ট্রাভেজের গাড়িটা উল্টে খাদে পড়ে যায়। খুব দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলেও, দুদিনের মাথায় সেও মারা যায়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আলেস, মার্টিনী, সাঞ্জে আর প্রিস্টের সেই না জানা কাহিনীটা লোকচক্ষুর অগোচরে চলে যায়। ৮ বছর পর,,,,,,, সাঞ্জের দেহে মনিকা খুব ভালভাবেই নিজেকে মানিয়ে নেয়। এরই মধ্যে সাঞ্জের বাগদত্তা অভির সাথে তার বিয়ে হয়েছে। তাদের দুটো বাচ্চাও বেড়ে উঠছে। মনিকা বহুগামিতা আর মদের নেশা ছেড়ে এক সুখি সংসার জীবন উপভোগ করতে থাকে। তবে দুর্ঘটনার পর সে কটেজটা বিক্রি করে দিয়েছিলো। এখন সেখানে একটা সুউচ্চ শপিংমল গড়ে উঠেছে। এক গৃষ্মে সাঞ্জের মা বাল্টিসে তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দুদিন থাকার পর উনি দুই সামান্য কেনাকাটা করতে সেই শপিংমলে যান। দুই নাতির জন্যে কিছু খেলনা কেনার পর তিনি একটা জুয়েলারি দোকানে ঢুকেন। দোকানের শোকেসে একটা লাল পাথর বসানো আংটি দেখে তার পছন্দ হয়ে যায়। সামনেই তার মেয়ের জন্মদিন। জন্মদিনে এই সুন্দর রিংটা তার মেয়েকে উপহার দিবেন বলে ঠিক করেন। তিনি রিংটা নেড়ে চেড়ে হাতে পরে নিলেন। বাহ! সুন্দর ফিট হয়েছে তো। উনার মেয়ের আঙুলও ঠিক তারই মাপের। মেয়েটাকে দারুন মানাবে এতে। খুশি মনে আংটির মূল্য পরিশোধ করে উনি মলের তৃতীয় তলায় গেলেন নিজের জন্যে কিছু কাপড় কিনতে । আংটিটা তখনো তার হাতেই পড়া ছিলো। সেই দোকানে কয়েকটা গাউন পছন্দ করে সাইজ চেক করতে তিনি ট্রায়েলরুমে ঢুকেন। ট্রায়েলরুমের আয়নার দিকে চোখ পড়তেই তিনি চমকে উঠলেন। তার মেয়েটা নিষ্পলক চোখে আয়নার ভেতর থেকে তার দিকেই তাকিয়ে আছে! «««««««««সমাপ্ত»»»»»»»»»


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডাকিণী-১- শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now