বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার এক আত্মীয়ের কাছ
থেকে শোনা। আমি ঘটনাটি তার
ভাষায় শেয়ার করছি।
আমার নাম প্রিন্স। আমি ঢাকায় থাকি।
জ্ঞান হবার পর থেকে আমার
জীবনে কোনদিনও
আমি নদীপথে যাতায়াত করিনি।
আমার দাদার বাড়ি শরিয়তপুর সদর
উপজেলায়। আমি যখন খুব ছোট ছিলাম,
তখন কয়েকবার সেখানে গিয়েছি।
কিন্তু বড় হবার পর আমি কখনো আমার
দাদার বাড়ি যাইনি। হঠাৎ একদিন
বিকাল বেলা খবর আসে আমার
দাদা মারা গেছে। তাই সবাইকেই
যেতে হবে। বাবা-মা আমাকেও
যাওয়ার জন্য বলে।
আমি না করতে পারিনা। আমারও
মনে হচ্ছিল শেষ বারের মত
দাদাকে দেখে আসি। তাই সবাই
মিলে রউনা দিলাম। আমার বন্ধু জয় ও এল
আমাদের সাথে।
আমরা ঢাকা থেকে বাসে করে মাওয়া ঘাট
পর্যন্ত এলাম। সেখান
থেকে ফেরি করে নদী পার
হয়ে শরিয়তপুর যেতে হবে। কিন্তু
মাওয়া এসে দেখি সবে মাত্র
ফেরি ছেড়ে চলে গেছে।
ফিরে আসতে প্রায় এক/দেড়
ঘণ্টা লাগবে। কিন্তু আমাদের
তাড়াতাড়ি সেখানে পৌছাতে হবে।
তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমরা বাস
থেকে নেমে অনেক খুঁজে একটা ট্রলার
ভাড়া করি এবং ট্রলারে করে রউনা দেই।
বাবা-মা সবাই ট্রলারের
ভেতরে গিয়ে বসল। আমি আর জয়
ট্রলারের ছাদের উপরে গিয়ে বসলাম
নদীর দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। রাত তখন
প্রায় ৭টা/৮টার মত। আমরা নদীর ঠিক
মাঝখান দিয়ে যাচ্ছি। চাঁদের আলোয়
নদীর ওপাশের
গ্রামগুলো আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু কুয়াশার কারনে ঠিক
ভালভাবে দেখা যাচ্ছে না। জয় পকেট
থেকে একটা সিগারেট বের করল
খাওয়ার জন্য। আমি ওকে বারন করলাম,
কেননা নিচে বাবা-মা বসে আছে।
কোনভাবে বুঝতে পারলে কি খারাপটাই
না ভাববে। কিন্তু ও আমার কথা শুনল না।
আমি রেগে গিয়ে ওর
থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্য এক
পাশে বসলাম। জয় একটানা সিগারেট
টেনে চলেছে। আমি একাএকা নদীর
পানি গুলো দেখছিলাম। হঠাৎ করেই
আমার মনে হল আমি নিচে কিছু
একটা দেখলাম। একটা মানুষের
মাথা পানিতে ভাসছে। মনের ভুল
ভেবে তেমন গুরুত্ব দিলাম না। কিন্তু
আবার নিচে তাকাতেই
দেখি সেখানে এখন আর একটা নয়
অসংখ্য মানুষের
মাথা পানিতে ভাসছে। নারী, পুরুষ,
শিশু সবার মাথা। এবার আমি ভীষণ ভয়
পেয়ে গেলাম।
আমি ব্যাপারটা জয়কে দেখানোর জন্য
ওর কাছে ছুটে গেলাম আর
ওকে ডেকে সেখানে নিয়ে এলাম।
কিন্তু সেখানে গিয়ে আর সেই
মাথাগুলো দেখতে পেলাম না। জয়
আমাকে বিদ্রুপ করতে করতে ওর জায়গায়
চলে গেল। আমি আবার
একা বসে রইলাম। ঠিক এই ঘটনা আমার
সাথে আবারও ঘটল।
আমি জয়কে ব্যাপারটা আবারো জানালাম।
কিন্তু ও কিছুতেই বিশ্বাস করলনা।
আমি বললাম, আমি আর এখানে থাকবনা।
চল নিচে যাই। জয় বলল, ঠিক আছে তুই যা,
আমি সিগারেট শেষ করে আসছি।
আমি সেখান
থেকে নিচে চলে গেলাম।
আমি বাবা-মার সাথে বসে গল্প করছি,
ঠিক এমন সময় মনে হল উপর থেকে ঝপ
করে পানিতে কিছু একটা পরল। ছাদের
উপর তাকাতেই দেখি সেখানে জয়
নেই। বুঝলাম জয়
পানিতে পরে গিয়েছে। ট্রলারের
মাঝি শব্দটা পেয়ে ইতোমধ্যেই
ট্রলারের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়েছে।
আমি ও জয় কেউই সাঁতার জানিনা।
মাঝি সাথে সাথে নদীতে লাফিয়ে পরল।
আমাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে পাশ
থেকে কয়েকটা জেলে নৌকা নিয়ে ছুটে এল।
এরপর সবাই মিলে অনেক খুঁজাখুঁজির পর
জয়কে পানি থেকে তুলা হল। জয়ের
পেটে অনেক পানি ঢুকেছে। তখন ওর
কোন হুশ জ্ঞান নেই।
আমরা পারে পৌঁছলাম। বাবা-
মাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে আমি আর
কয়েকজন
মিলে জয়কে একটা হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
জয়ের পেট থেকে পানি বের করা হল।
কিন্তু সারা রাত জয়ের জ্ঞান ফিরল
না। ডাক্তার বলেছে চিন্তার কোন
কারন নেই। কিন্তু আমার ভীষণ
চিন্তা হচ্ছিল। পরদিন সকালে জয়ের
জ্ঞান ফিরে এল। পরে ওর
পানিতে পড়ে যাওয়ার
ঘটনা শুনতে পেলাম। ওর বক্তব্য ছিল এইরকম,
তুই নিচে চলে যাবার পর আমি যখন
একা বসে আছি, ঠিক তখন আমিও
নিচে কতগুলো মানুষের
মাথা ভাসতে দেখতে পাই।
আমি উঠে দৌড় দিতেই আমার মনে হল,
কেউ একজন
আমাকে জোরে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে দিল।
জয়ের এই বক্তব্যে আমি প্রচণ্ড ভয়
পেয়ে যাই। একই ঘটনা আমাদের দুজনের
সাথেই ঘটল। সেদিন ওই মাঝি আর
জেলে গুলো না থাকলে কি যে হত,
আমি কল্পনাই করতে পারছিনা।
পরে অনেকের কাছে শুনতে পেলাম
নদীর ঐ যায়গায় মাত্র কয়েকদিন আগেই
একটা লঞ্চ ডুবি হয়েছিল, আর
তাতে নারী, পুরুষ, শিশু সহ অনেক লোক
মারা গিয়েছিল। ঐ লঞ্চ ডুবির
ঘটনাটা নাকি টিভি পত্রিকাতেও
দিয়েছিল। এরপর দাদার দাফন কাজ
সম্পন্ন হয়ে গেলে আমরা কিছুদিন পর
ঢাকায় চলে আসি। তবে রাতে নয়
দিনে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now