বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের নাম: চিটিং
.
.
মেয়েটির সাথে লেখালেখির কারণে
পরিচয়। সেদিন রাতে ফেবুতে ছিলাম
এমন সময় একজন মেয়ে ফ্রেন্ড রিকু
পাঠায়। আমি চেক করে দেখলাম
প্রোফাইল ওকে তবুও কেন জানি একসেপ্ট
করলাম না। পরে ম্যাসেজ রিকু চেক
করে দেখলাম মেয়েটির তিনটা
ম্যাসেজ। "ভাইয়া একসেপ্ট প্লিজ" এই
এক কথা তিনবার লিখে সেন্ড করেছে।
অবশেষে একসেপ্ট করলাম। সাথে
সাথেই মেয়েটির ম্যাসেজ আসলো
.
"আপনি কি ভাব বিক্রি করবেন?
"মানে?
"বলছি আপনার এতো ভাব কেন?
"কই নাতো!!!
"হু! ফ্রেন্ড রিকু একসেপ্ট করতে এতো
সময় লাগে?
"ও এই কথা।
"হুমম
.
তারপর কিছুক্ষণ নিরবতা। আপুর সাথে
কথা বলছি। তখন আবার নক করলো
মেয়েটা
.
"গল্প তো ভালোই লিখেন আপনি।
"শুকরিয়া। চেষ্টা করি ভালো লেখার
"আর আপনার নামটা এরকম ওল্ড ভার্সন
কেন?
"মানে কি? কি বলতে চাইছেন আপনি?
"কিছুনা
"এটা অনেক সুন্দর নাম। আর ডাকনাম
রিফাত,রিফু।
"ওহ সুন্দর নাম
.
এভাবেই মেয়েটির সাথে কথা। আমি
কোন মেয়েকে টেক্সট করিনা। এরকম এই
মেয়েটিকেও করিনি। একদিন মেয়েটি
বললো
.
"আপনি খুব খারাপ।
"কেন কেন?
"একটাবার আমার খোঁজখবর নেননি।
বেঁচে আছি কি মরে গেছি।
"আপনি আমার কে? যে আপনার খোঁজখবর
নিতে হবে?
"সেটাইতো!! আচ্ছা আমার সাথে
ফ্রেন্ডশীপ করবেন?
"ভেবে দেখবো।
.
অবশেষে মেয়েটির সাথে আমার
ফ্রেন্ডশীপ হয়। মেয়েটি নাকি ক্লাস
টেন এ পড়ে। মানে কিছুদিন পর
এস.এস.সি এক্সাম এমনটাই বলেছিলো।
অনেক কথা হতো ওর সাথে। বেশিরভাগ
সময়ই স্টাডির ব্যাপার নিয়ে। ও আবার
একটু কম লেখাপড়া করতো সব সময় গল্প
পড়া। যদি এভাবে গল্প না পড়ে বই
পড়তো তবে আমার মনে হয় জিনিয়াস
স্টুডেন্ট হতো মাস্ট।
.
এভাবেই কিছুদিন পার করলাম। ও
আমাকে তুই বলে ডাকতো আমিও তুই
বলতাম। একদিন বললো
.
"রিফাত জানিস একটা ছেলে আমাকে
প্রপোজ করেছে
"সত্যি?
"হুম। কি করবো বুঝতে পারছিনা।
"ভেবে দেখ। আর যদি আমার মতামত
জানতে চাস তবে আমি বলবো রাজি
হওয়ার দরকার নেই। কারণ সামনে তোর
বেশ কিছুদিন পর এস.এস.সি এক্সাম। সো
লেখাপড়াতে ভালো ভাবে মনোযোগ দে।
"ধুরর। ছেলেটা অনেক কিউট,হ্যান্ডস্য
াম। মেবি তুই আমাকে পছন্দ করিস
সেজন্য বারণ করছিস। বুঝেছি
"হুররর। এরকম কিউট ফেস দেখিয়ে
তোদের মতো হাজার মেয়েকে প্রেমের
মায়াজালে আবদ্ধ করছে ওর মতো
ছেলেরা। আর তোকে পছন্দ করার কোন
প্রশ্নই উঠেনা। কারণ আমি একজনকে
পছন্দ করি।
.
আদিরা অফলাইন হয়ে গেল। ও এই
মেয়েটির নাম আদিরা! কিউট নামটা।
যাইহোক আমার সাথে তেমন কথা হয়নি
তারপর থেকে আদিরার। এস.এস.সি
পরিক্ষার যে টেস্ট পরিক্ষা হয় তার
ফলাফল প্রকাশের কিছুদিন পর আদিরা
ফেবুতে আসলো।
.
"রিফাত আছিস?
"হুম
"রেজাল্ট দিয়েছে পরিক্ষার। প্লাস
পেয়েছি।
"আলহামদুলিল্লাহ্। খুব ভালো। ফাইনাল
রেজাল্টাও যেমন এমনটাই থাকে
সেভাবে স্টাডি কর
"দোয়া করিস। এখন বল তুই কাকে পছন্দ
করিস।
"হিহি। বাদ দে তোর খবর বল ওই
ছেলেটার কি করলি?
"একসেপ্ট করেছি প্রপোজাল
"হুমম
.
ইদানিং খেয়াল করে দেখছি আদিরা আর
আগের মতো টেক্সট করেনা আমাকে।
অনলাইনে থাকে তবুও। হয়তো বিএফ কে
নিয়ে ব্যস্ত! একটু একটু খারাপ লাগলেও
কিছু করার নেই। একদিন আমিই নক
করলাম
.
"কেমন আছিস আদিরা?
"ভালো। তুই বলেছিলিস না এরকম
ছেলেরা চিটিং করে কিন্তু সে আমাকে
সত্যি অনেক ভালোবাসে। আমার অনেক
কেয়ার করে বুঝেছিস।
"তাহলে তো ভালোই। দোয়া রইলো
তোদের জন্য।
"হুমম
.
খেয়াল করে দেখলাম যে ঘুমপাগলী
আদিরা দশটা বাজতেই ঘুম। ফেবুতে খুজে
পাওয়া যেত না সে এখন রাত একটা
দুইটা পর্যন্ত ফেবুতে। আমিতো শকড!
নিশ্চয় এর কারণ বিএফ। ভালোই উন্নতি
হচ্ছে দিনদিন মেয়েটার। দশদিন পর
এস.এস.সি এক্সাম আর এখন ও কিনা
সারারাত জেগে চ্যাটিং এ ব্যস্ত!
.
পরিক্ষার দুদিন আগে নক করলো আদিরা
.
"রিফাত দোয়া করিস পরশু থেকে
পরিক্ষা শুরু।
"হুম সব সময় দোয়া করি যেন তোর
পরিক্ষাগুলো খুব ভালে হয়।
"ধন্যবাদ দোস্ত!
"ওয়েলকাম
.
আদিরার পরিক্ষা শুরু হয়ে গেল।
ভেবেছিলাম সব কিছু ঠিক আছে কিন্তু
আদিরা আগের মতো রাত জেগে ফেবুতে
থাকতো স্টাডি করতো না ঠিকভাবে।
একদিন রাত একটার সময় ওকে অনলাইনে
পেলাম
.
"কি করিস এতো রাতে। পরিক্ষা নেই?
"হুম আছে পরশু তাই আসলাম একটু। রিফাত
একটা প্রব্লেম হয়ে গেছে।
"কি হয়েছে রে?
"ও না আমার পিক চাইছে তবে অন্য
টাইপ কিছু একটা
.
বুঝলাম আদিরার পিক চাইছে ওর বিএফ
খারাপ কিছু ইঙ্গিত করে। আমি বললাম
.
"তো কি করলি?
"আমি কখনোই এসব পিক দিতে পারবোনা
কিন্তু আমি ওকে প্রচন্ড ভালোবাসি।
"থ্যাংকস ব্যাপারটা বুঝার জন্য কিন্তু
কি জানিস এরা এমনই এদের কাজগুলোই
এমন। নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করবে
তোকে তারপর কি হবে সেটাই দেখার
বিষয়
"তুই কিছু একটা কর?
"আমি কি করতে পারি বল?
"সেটাইতো আচ্ছা ঘুমা পরে কথা হবে।
.
তারপর থেকে আদিরার সাথে টানা বিশ
দিন কথা হয়নি। আমার এক্সাম চলছিলো
তাই ব্যস্ত ছিলাম। আদিরার পরিক্ষার
মাঝামাঝি সময়ে আসলাম। আদিরা
আমাকে পেয়েই টেক্সট করলো
.
"রিফাত! (কান্নার ইমো)
"কেমন আছিস?
"আর ভালো থাকা। ও আমাকে ইগনোর
করছে ঠিকভাবে কথা বলছেনা,ফোন
ধরছেনা
"মেবি অন্য কাউকে পটিয়েছে। তোকে
তো আগেই সাবধান করেছিলাম
"হুম কিন্তু ওকে তো আমি ওসব পিক
দিয়েছিলাম। কি করবো আমি কিছু বুঝতে
পারছিনা। ও যদি ওসব পিক প্রকাশ
করে তাহলে আমি বাঁচবো না।
"কিইইই? তোকে তো আমি বারণ
করেছিলাম। আর এসব বলছিস কেন? ও
এমন করবেনা ওর মজা নেওয়া শেষ
তোকে ছুড়ে ফেলেছে। মাঝখান থেকে তুই
অনেক কিছু হারালি।
"....(নিশ্চুপ)
"বুঝতে পারছি তোর মনের অবস্থা কিন্তু
কি জানিস ফেবুতে এরকম রিলেশন করা
নানারকম সমস্যার সৃষ্টি। তুই যদি
আমার কথা শুনতিস তাহলে এরকম কিছু
হতোনা। টেষ্টে যেমন এ প্লাস
পেয়েছিলি ঠিক বোর্ডেও ভালো
রেজাল্ট করতি।
"রিফাত থ্যাংকস তোকে। আমি আমার ভুল
বুঝতে পেরেছি। আমাকে ভালোভাবে
স্টাডি করা লাগবে। আর এসব ফেইক
রিলেশনকে না না না।
"তোকেও থ্যাংকস দোস্ত
.
.
পরিশিষ্ট: তুমি তো পিচ্চিই মাত্র
এস.এস.সি দিচ্ছো। তাহলে এসব রিলেশন
করার কি খুব দরকার? এ বয়সে
লেখাপড়া করো। ছেলেদের এই বয়সে
বল,ব্যাট হাতে ক্রিকেট মাঠে থাকার
কথা। মেয়েদের আম্মুকে বিভিন্ন কাজে
সাহায্য করার কথা। এসব রিলেশন
তোমার দরকার নেই। অন্তত নিজে যখন
ভালো একটা পর্যায়ে যাবে তখন না হয়
ভেবে দেখবা কিন্তু নট ফেবুতে ফেইক
রিলেশন রিয়েল লাইফে।
.
সামনে কিছুদিন পর এক্সাম সো
লেখাপড়া করো ভালোভাবে। সবার জন্য
অনেক অনেক দোয়া রইলো।
.
.
লেখা: Md Khabiruddin (Rifu)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now