বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চিঠি

"যুদ্ধের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Showpno (০ পয়েন্ট)

X কীভাবে করলেন আপনি এই কাজটা? ছিঃ! আমার তো ভাবতেই লজ্জা লাগছে আপনার মত একটা মানুষকে আমি ভালবাসি। দেশের সাথে এত বড় বেইমানি করতে আপনার একটুও খারাপ লাগে না? -না। ছিঃ! ভালো থাকবেন। আমার সাথে আর কখনো দেখা করার চেষ্ঠা না করলেই খুশি হবো। আর যাওয়ার আগে শুনে যান আমি আপনাকে ঘৃণা করি।। ছেলেটার নাম রফিক অহমেদ। এইতো গত বছর সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স পাশ করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গ্রামে ফিরে আসছে। মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়া তো দূরে থাক সে কিনা রাজাকারদের সাথে মিলে নিরীহ মানুষদের উপর অত্যাচার শুরু করেছে। এজন্যই তারিনের যত রাগ। বিয়ের কথাও ঠিক হয়ে ছিল তাদের দুই পরিবারের মধ্যে। কিন্তু রফিকের এই পরিবর্তনের পর তারিনের বাবা-মা কখনোই আর তারিনকে তার হাতে তুলে দেবেননা। উপরন্তু তারিনের বাবা আর বড় ভাই যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। রফিককে তারা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন কিন্তু কে শোনে কার কথা। রফিক তাদের এলাকায় নব্য গঠিত রাজাকারদের কমান্ডার। শোনা যায় তাদের হাতে ধরা পড়া মুক্তিদের সে নিজ হাতে গুলি করে মারে। একবার তাদের ক্যাম্প থেকে এক মুক্তি পালিয়ে গেলে দায়িত্বে অবহেলার জন্য রফিক নাকি চারজন রাজাকারকে তৎক্ষণাৎ গুলি করে। রফিককে নিয়ে তাদের এলাকায় আরও নানা ধরনের লোম দাঁড়ানো গল্প প্রচলিত। আর সেই কট্টর পাকিস্তানপন্থি রফিকই কিনা আজ রাষ্ট্রদ্রোহের আসামী। আমরা গ্রামের সব মানুষই তো অবাক। ঘটনা জানার জন্য সবাই মনে মনে অস্থির হয়ে আছি। পরে যা জানতে পারলাম তা হচ্ছে- রফিক মুক্তিযোদ্ধা ছিল। যুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েই তারপর সে গ্রামে আসে। যখন দেখে গ্রামে শান্তি কমিটি গঠন করা হচ্ছে তখন সে শান্তি কমিটিতে যোগ দিলেও গোপনে সে সব খবরা খবর মুক্তিযোদ্ধাদের জানিয়ে দিত। এজন্যই কখনো এই পাকিস্তানি জানোয়াররা যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারেনি। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়টা হলো-যে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গিয়েছিল, সে ছিল আমাদের তারিনের বড় ভাই তাহের। শুনতে পাই রফিকই তাকে পালানোর ব্যবস্থা করে দেয়, আর তাহেরকে মুক্ত করে দেওয়াটা ওই চার রাজাকার দেখে ফেলে, তাই বাধ্য হয়েই রফিক তাদের মেরে ফেলে। যে সব মুক্তিযোদ্ধা ধরা পড়ত রফিক তাদের এজন্যই মেরে ফেলত যেন পাকিস্তানিরা তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য না পায়। তাদের মেরে না ফেললে পাকিস্তানিদের নিষ্ঠুর অত্যাচারে কোন না কোন তথ্য অবশ্যই তারা বলে দিত। রফিক ধরা পড়ার দিন দুই পরই আমি যুদ্ধে যোগ দেই। আমার সহযোদ্ধাদের কাছ থেকেই এসব জানতে পারি আমি। ধরা পরার আগের দিন আমাদের এই ক্যাম্পে এসেছিল রফিক। যাওয়ার আগে কমান্ডার তারেক ভাইয়ের কাছে একটা চিঠি রেখে যায় সে আর তারেক ভাইকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিল ওইদিন। রফিক যে ধরা পড়তে পারে তা কেউ কখনো কল্পনাই করতে পারেনি। স্বাধীনতার প্রায় মাস দুই আগে রফিকের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তারেক ভাই আমাকে চিঠিটা পৌছে দেওয়ার দ্বায়িত্ব দিয়েছিল। ভেবেছিলাম চিঠিটা রাতের আঁধারেই পৌছে দিয়ে আসব। কিন্তু তা আর হলোনা। ওইদিন রাতেই পাকিস্তানিরা আমাদের উপর হামলা চালায়। প্রায় শেষ রাত পর্যন্ত চলে গোলাগুলি। যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করলেও আমি মারাত্বকভাবে আহত হই। কাঁধে আর পায়ে গুলি লাগে আমার। আমাকে ওইদিনই ভারত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমার পা টা কেটে বাদ দিতে হয়। স্বাধীনতার পর আমি দেশে ফিরে আসি। চিঠির কথা আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। তারিনের সাথে দেখা না হলে হয়তো আমার মনেই হতোনা চিঠিটার কথা। তারিনের মুখেই শুনলাম রফিক ধরা পরার পর সেও যুদ্ধে গিয়েছিল। বুক পকেটের ভেতর থেকে যখন রফিকের চিঠিটা বের করছি, দেখলাম তারিনের চোখদুটো ছলছল করছে। প্রায় মলিন হয়ে যাওয়া চিঠিটা যখন তার হাতে দিলাম, তার চোখ থেকে দুফোটা রহস্য টুপ করে হারিয়ে গেল।চিঠির ভাঁজগুলো একে একে খুলছে তারিন। আমি জানি চিঠি পড়ার সময় সে পুরোপুরি কঁদে ফেলবে। আর তার অশ্রু সহ্য করার মত মানসিক শক্তি আমার নেই। তাই আস্তে আস্তে তার কাছ থেকে চলে আসলাম। তারিন হয়তো রফিকের এই একটুকরো স্মৃতি নিয়েই তার বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবে। কিন্তু, তারিন হয়তো কখনোই জনবেনা এই হুইল চেয়ারে বসা মানুষটাও তাকে বড্ড বেশীই ভালবাসে।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গোপন দাতার চিঠি
→ হারানো চিঠির পুনর্জন্ম
→ হারিয়ে যাওয়া চিঠির নীরবতা
→ শেষ চিঠি
→ শেষ চিঠি
→ অভিমানী স্যারের চিঠি
→ ভার্চুয়াল চিঠি বরিশাল
→ ম্যাডামের মেয়েকে চিঠি
→ মনোযোগ প্যান্টের পকেটের চিঠির ভিতর
→ বৃদ্ধাশ্রমের চিঠি
→ বাসর ঘরে থেকে চিঠি
→ মৃত্যুর পর মায়ের চিঠি
→ চিঠি
→ শেষ চিঠি
→ শিশু হারা মায়ের আর্তনাদ চিঠিতে!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now