বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছোট্র তুনতুন

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্র আমি তখন। সেমিস্টারের এক ফাঁকে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়ীতে যাচ্ছি। দিনটা বৃহস্পতি বার ছিল। ঢাকা থেকে খুব দূরবর্তী শহর নয় বিধায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে সামনে রেখে প্রচুর মানুষ এই দিন কুমিল্লা যায়। আর কোথাও ব্যবস্থা না করতে পেরে একটা প্রিন্স বাসে উঠলাম। আমার পাশের টু সীটে একটি ছোট মেয়ে ও তার মা বসেছে। মেয়েটির বয়স তিন সাড়ে তিন হবে। খুব মিষ্টি মেয়ে। আমাদের কুমিল্লার টমছম ব্রীজ এলাকার আশেপাশে কোথাও তার নানার বাড়ী। ঢাকায় তখন তারা উত্তরায় থাকত। সে আমার দিকে কেন যেন একটু পরপর চোখ বড়বড় করে তাকাচ্ছিল। বাচ্চাদের কার না ভাল লাগে? আমিও তার তার সাথে চোখে চোখে ইশারা করা শুরু করলাম। বিষয়টা একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর আমি জিজ্ঞেস করলাম “তোমার নাম কি?”। প্রথম বারেই কিছু বলল না, কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পর বলল “তুনতুন। তোমার নাম কি?” “সোহাগ। তুমি ছড়া পার? টুইংকেল টুইংকেল, লিটল স্টার”। “হ্যা, পারি।” “সত্যি! ভেরী গুড গার্ল। আর কি কি পার?” একটু ভেবে নিয়ে “অনেক কিছু পারি- ছবি আঁকতে পারি, গল্প পারি, খেলা পারি। আচ্ছা তুমি কি কি পার?” মন খারপ করে বললাম “আমি তোমার মত এত কিছু তো শিখি নি; তুমি কি আমাকে একটা গল্প শোনাবে?” বলল “হ্যা। আচ্ছা তুমি আমার কি হও?” বললাম ”তোমার ভাইয়া হই।” তুনতুনের সাথে কথা বলার মাঝে ওর আম্মুর সাথেও একটু করে আলাপ হচ্ছিল। উনার কাছ থেকে অনেক তথ্য জানা হয়েছিল যা তুনতুন দিতে পারে নি। তুনতুন গল্প বলা শুরু করল। গল্প করতে করতে এক সময় সে আমার কোলে চলে আসল। ও আর আমি অন্যান্য অনেক গল্প করলাম। ওর আগ্রহ বুঝতে পেরে তার পছন্দমত অনেক গল্প করেছি। বুঝতে পারছিলাম এই বাচ্চাটা আমাকে এর মাঝেই অনেক আপন ভেবে নিয়েছে। আমার নামার সময় চলে এল, আমি বিদায় নিচ্ছি। তুনতুনের চোখের কোণে পানি, আমাকে বলল “ভাইয়া! তুমি আমাদের বাসায় আসবে?” বুকের মধ্যে একটা মোচর দিয়ে উঠল। তার কথা শুনেই তুনতুনের মা তাকে চুপ করিয়ে দিল। আমিও জানি চরম অনিরাপদ এই পৃথিবীতে তার মা তাকে আমার সাথে যতটুকু মিশতে দিয়েছেন এটাই তাঁর বড়ত্ব, উদারতা আর সাহসিকতার পরিচয়। আমাকে এতটুক বিশ্বাস করার জন্য তাঁকে আজও আমি শ্রদ্ধা করি। আমি ঐ দিন তুনতুন কে আর কিছু বলতে পারি নি। নামার সময় কয়েকবার শুধু পিছনে ফিরে তাকিয়েছি আর দেখেছি তার নিষ্পাপ চেহারায় বেদনার ছাপ। মায়ের ভয়ে কিছু বলতে চেয়েও পারছেনা। বাস থেকে নেমে বাসটি হারিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাকিয়ে ছিলাম। তুনতুন কে ভুলতে পারি নি, আজও কুমিল্লা যাওয়ার পথে বাসে বসে মনে হয় সেই ছোট্র তুনতুনকে যদি পেয়ে যেতাম; আবার যদি গল্প করতে পারতাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছোট্র তুনতুন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now