বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বসফরাসের আহ্বান চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মেঝেতে পড়ে গিয়েই ইরগুন ইবান কয়েকবার মাথা ঝাঁকিয়ে সেন্সটাকে সক্রিয় করে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করছিল। আহমদ মুসা ততক্ষণে পকেট থেকে রিভলভার বের করেছে। রিভলভার ইরগুন ইবানের দিকে তাক করে বলল, ‘একটু নড়া-চড়া করলে মাথার খুলি উড়িয়ে দেব। বলেছিলেন না যে, আমি মারা যাচ্ছি। উল্টো হয়ে গেল ব্যাপারটা।’ বলে আহমদ মুসা ডাঃ ইয়াসারকে লক্ষ্য করে বলল, ‘ডাক্তার ইয়াসার, আপনি ইরগুন ইবানের ডান হাতের তর্জনী থেকে আংটি খুলে নিন।’ ডাঃ ইয়াসার, ডাঃ রাসাত ও সাবাতিনি মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বিস্ময়ে যেন বোবা হয়ে গেছে। পাথরের মতো বসে আছে তারা। আহমদ মুসা ডাঃ ইয়াসারকে আহবান জানালে নড়ে উঠল সে। তাকাল সে একবার ডাঃ রাসাতের দিকে, আর একবার আহমদ মুসার দিকে। কি করবে, কি করবে না বুঝতে পারছে না সে। ওদিকে প্রাথমিক আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠার পর ইরগুন ইবানের চেহারায় একটা মরিয়াভাব ফুটে উঠল। কঠোর কণ্ঠে বলল সে, ‘তোমাকে তোমার আচরণের জন্যে চরম মূল্য দিতে হবে খালেদ খাকান।’ আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘তোমরা কি করতে বাকি রেখেছ? সেদিন আল-আলা পার্কে তোমরা আমাকে মারতে চেষ্টা করেছিলে, আজ তোমার আংটির বিষাক্ত পিন আমার শরীরে ঢুকিয়ে আমাকে মারতে চেষ্টা করেছিলে। কি আর মূল্য দিতে হবে আমাকে! দু’বার আমাকে মারার চেষ্টা, আবারও চেষ্টা করবে, এই তো? আমি তার জন্যে প্রস্তুত আছি। কিন্তু তোমাকে এখন আমাকে হত্যা চেষ্টার অপরাধে ধরে থানায় দেব।’ কথা শেষ করে আহমদ মুসা না তাকিয়েই ডাঃ ইয়াসারকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘ডাক্তার ইয়াসার, আপনি দয়া করে এর ডান হাতের তর্জনী থেকে আংটিটা পাথরে চাপ না পড়ে এমন সাবধানে খুলে নিন। আর ডাঃ রাসাত, আপনি আপনার বাগান থেকে কোন গাছের একটা বড় পাতা নিয়ে আসুন।’ এমনিতেই বিস্ময়-বিমূঢ় ডাক্তার পরিবার, ইরগুন ইবান তারপর খালেদ খাকানের কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়ল। একটা বিষয় তারা পরিষ্কার বুঝল, ইরগুন ইবানরাই সেদিন খালেদ খাকানকে মারার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আজ কিভাবে ইরগুন ইবান আহমদ মুসাকে মারার চেষ্টা করেছিল, সেটা তারা বুঝল না। আংটির বিষাক্ত পিনের রহস্য তাদের কাছে এখনও পরিষ্কার হয়নি। তবু খালেদ খাকানের আহবানে ডাঃ ইয়াসার ও ডাঃ রাসাত দু’জনেই উঠে দাঁড়াল। ডাঃ ইয়াসার উদ্বেগ ও বিব্রতকর চেহারায় এগোলো ইরগুন ইবানের দিকে। আর ডাঃ রাসাত গাড়ি বারান্দার ওপাশের টব থেকে একটা বড় পাতা আনার জন্যে বেরিয়ে গেল। আংটি খুলে নেয়ার জন্যে ডাঃ ইয়াসার কাছাকাছি হতেই ইরগুন ইবান তার ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনীর আংটির পাথরের উপর চাপ দিতে গেল। ব্যাপারটা চোখ এড়াল না আহমদ মুসার। সংগে সংগেই আহমদ মুসার পিস্তল গর্জন করে উঠল। বুলেট গিয়ে বিদ্ধ হলো হাতের কব্জির কিছু ওপরে। চিৎকার করে উঠল ইরগুন ইবান। তার তর্জনী আংটির পাথর স্পর্শ করেই সরে এল আকস্মিক আঘাতে। গুলি করেই আহমদ মুসা বলল, ‘তুমি যেভাবে আছ সেভাবে থাক, যে হাত যেখানে আছে, সেভাবেই থাকবে। তুমি মরতে চেষ্টা করেছিলে, মরতে তোমাকে দেয়া হবে না।’ গুলির শব্দে চমকে উঠে ডাঃ ইয়াসার পিছিয়ে গিয়েছিল। সাবাতিনিও চমকে উঠে কাঁপতে শুরু করেছে। ডাঃ রাসাত ছুটে এসে ঘরে ঢুকেছে। তার হাতে একটা বড় পাতা এবং চোখে আতংক। ঘরে ঢুকে ইরগুনের রক্তাক্ত হাতের দিকে চোখ পড়তেই ভীষণভাবে আঁৎকে উঠল সে। ‘স্যরি আমি, এসব ঘটনার জন্যে’, বলে উঠল আহমদ মুসা, ‘আসলে তার হাতে ঐ সময় গুলি করা ছাড়া তাকে আত্মহত্যা থেকে বাঁচাবার আর কোন পথ ছিল না। আমি সব বলছি ডাঃ ইয়াসার, আপনি আগে তার হাতের আংটি খুলে নিন।’ এবার ডাঃ ইয়াসার এগিয়ে গিয়ে ইরগুন ইবানের আহত হাতের তর্জনী থেকে সাবধানে আংটি খুলে নিল। ‘এবার ডাক্তার ইয়াসার, আপনি ডাঃ রাসাতের হাতের পাতাটার বোঁটার মূল শিরায় আংটির পাথরের শীর্ষ অংশ চেপে ধরুন মাত্র সেকেন্ডের জন্যে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আচ্ছা’ বলে ডাঃ ইয়াসার এগোলো ডাঃ রাসাতের হাতের পাতার দিকে। ডাক্তার পরিবারের সবাই চোখ ভরা উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছে পাতার দিকে। ডাক্তার দম্পতি এখন বুঝতে পারছে, পাতায় বিষক্রিয়া দেখতে চায় খালেদ খাকান। তারা বিস্ময়ের সাথে দেখল, মাত্র তিন-চার সেকেন্ডের মধ্যে বিরাট তরতাজা পাতাটি কালো রং ধারণ করে একদম চুপসে গেল। এ যে অত্যন্ত তীব্র ও ভয়ংকর বিষের ফল! তারা তাকাল আহমদ মুসার দিকে। তাদের দৃষ্টিতে ভয়, উদ্বেগ ও বিমূঢ় ভাব। আহমদ মুসা বলল, ‘আমার হাত দেখার নাম করে আগাম মৃত্যুর খবর ঘোষণা করে ডান হাত দিয়ে সে আমার বাহু চেপে ধরেছিল ঐ বিষ আমার দেহে ঢুকিয়ে আমাকে হত্যার জন্যে। আমি মরে গেলে আপনার ধরে নিতেন আমার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং তাকে বাহবা দিতেন মৃত্যুর আগাম খবর নিখুঁতভাবে বলার জন্যে।’ মৃত্যুর পাণ্ডুরতা ডাক্তার দম্পতির চেহারায়। আর অপার বিস্ময় নেমেছে সাবাতিনির চোখে-মুখে। সে কম্পিত গলায় বলল, ‘আপনি কি করে বুঝলেন যে, আংটির পাথরে ঐভাবে বিষাক্ত পিন লুকানো আছে এবং পাথরটি দেহে চেপে ধরলে বিষাক্ত পিনটি দেহে আঘাত করবে?’ ‘আমরা এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে কখনও পড়িনি, এমন বিস্ময়কর সব দৃশ্য চোখে দেখব কোনদিন ভাবিনি। কিন্তু সাবাতিনির প্রশ্ন আমাদেরও।’ বলল ডাঃ রাসাত। ‘ওর সাথে হ্যান্ডশেক করার সময় তার তর্জনীর আংটির আকার দেখে আমার সন্দেহ হয়েছিল। দেখুন, আংটির মেটালিক বেজটা অন্যান্য আংটির চেয়ে দ্বিগুণ প্রশস্ত। আরেকটা বিষয় দেখুন, মেটালিক বেজটা আংটির পাথরকে চেপে ধরে নেই বরং দৃশ্যমানভাবেই আলগা। এ দু’টি কারণে আমি সন্দেহ করি যে, আংটিটি একটা মারণাস্ত্র। আংটির পাথর স্প্রিং-এর ওপর বসানো আছে, আর স্প্রিং থেকে একটা বিষাক্ত পিন সেট করা পাথরের ভেতর দিয়ে। চাপে পাথরটি বসে গেলেই পাথর থেকে পিনটি বেরিয়ে আসবে এবং চাপ দেয়া বস্তুকে আঘাত করবে।’ আহমদ মুসা বলল। অপার বিস্ময় ডাক্তার পরিবারের সকলের চোখে-মুখে। ডাঃ রাসাতই আবার বলে উঠল, ‘আমরাও আংটিটি দেখেছি, কিন্তু সন্দেহ হয়নি। আংটির কোন অস্বাভাবিকতা আমাদের নজরে পড়েনি। এর অর্থ আমরা অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে ওটা দেখিনি। কিন্তু আপনি দেখেছেন। কেন?’ আহমদ মুসা গম্ভীর হলো। অন্যসব চেপে গিয়ে সাদামাটা ব্যাখ্যা হিসেবে বলল, ‘গায়ে পড়ে দাওয়াত নেয়া, বিনা কারণে আমার সাথে পরিচিত হবার তার আগ্রহে তার প্রতি আমার সন্দেহ হয়েছিল। তাছাড়া সেদিন আমার ওপর আক্রমণ হওয়ার পর আমি সতর্ক ছিলাম যে, সেদিন ব্যর্থ হলেও তারা অন্য কোন কৌশলে আমার ওপর আবার আক্রমণ চালাতে চেষ্টা করবে। এই কারণে লোকটার ওপরে সন্দেহ হওয়ায় আমি তার সবকিছুই অনুসন্ধিৎসার দৃষ্টিতে দেখেছি....।’ আহমদ মুসার কথার মাঝখানেই চিৎকার করে উঠল সাবাতিনি, ‘স্যার, মিঃ ইবান তার গলার ক্রস কামড়ে ধরে দেখুন পড়ে যাচ্ছে।’ আহমদ মুসা কয়েক মুহূর্তের জন্যে ইরগুন ইবানের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে তাকিয়েছিল ডাক্তার দম্পতির দিকে। এরই সুযোগ ইরগুন ইবান গ্রহণ করেছে। আহমদ মুসা মুখ ফিরিয়ে দ্রুত ইরগুন ইবানের দিকে এগোলো। মুখ থেকে চেন ধরে টেনে বের করল যিশুর মূর্তি সম্বলিত ক্রসটি। কিন্তু ইরগুন ইবানের দেহ ততক্ষণে নেতিয়ে পড়ে গেছে মেঝের ওপর। নাড়ি, চোখ পরীক্ষা করে দেখল, সে আর ইহজগতে নেই। হতাশভাবে আহমদ মুসা ফিরল ডাক্তার দম্পতির দিকে। বলল, ‘ধরা পড়ার চেয়ে সে মৃত্যুকেই পছন্দ করেছে। আমি জীবিত রাখতে চেয়েছিলাম, পারলাম না।’ বলে আহমদ মুসা পাশের সোফায় ধপ করে বসে পড়ল। ভেতর থেকে মন তার চিৎকার করে উঠল, অদৃশ্য শত্রুদের খুব ভেতরের একজনকে একেবারে হাতের মুঠোয় পেয়েও হাতে রাখা গেল না। ওদের পরিচয় জানার জন্যে খুব দরকার ছিল একে। ভেতরের এই অস্বস্তিকে চাপা দিয়ে আহমদ মুসা বলল, ‘আমার আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিল।’ ‘এতো অস্বাভাবিক মৃত্যু, এখন কি করা যাবে? পুলিশ তো ঝামেলা করবে।’ বলল ডাঃ ইয়াসার। ‘আমার সত্যি এখন ভয় করছে।’ বলল ডাঃ রাসাত। ‘আমি এসে সত্যি আপনাদের মহা ঝামেলায় ফেললাম। কিন্তু পুলিশের ভয় আপনাদের করতে হবে না।’ ‘স্যরি, ঝামেলার কথা বলছি না। তাছাড়া আমরাই তো আপনাকে ডেকেছিলাম। আমরা বলছি, এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা।’ বলল ডাঃ রাসাত। আহমদ মুসা তৎক্ষণাৎ কোন উত্তর না দিয়ে মোবাইল বের করে কোথাও টেলিফোন করল। ওপারের সংযোগ পেয়ে গেলে সে সালাম দিয়ে বলে উঠল, ‘মিঃ তাহির তারিক, আমি আল-আলা পাহাড়ে ডাঃ ইয়াসার দম্পতির বাসায়। দাওয়াত ছিল। বাইরের একজন লোক এসেছিল। সব পরে বলব। আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম। লোকটি ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করেছে। এখন একে সরিয়ে ফেলা দরকার, তার ব্যাপারে অনুসন্ধানও হওয়া উচিত।’ ওপারের কথা শুনে মোবাইল অফ করে ডাঃ ইয়াসারদের লক্ষ্য করে বলল, ‘এখনি পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যাবে। আমি বাদী হয়ে কেস করবো। আপনাদের কোন ঝামেলা হবে না। কালকে পত্রিকায় একটা নিউজ প্রকাশ হবে যে, আপনার বাড়িতে দাওয়াতে আমি এসেছিলাম, সেও উপস্থিত দাওয়াতে হাজির হয়েছিল। সে আমাকে হত্যার জন্যে আক্রমণ করে। এখন ইরগুন ইবানের ব্যাপারে পুলিশী তদন্ত চলছে।’ ‘ধন্যবাদ। ইরগুন ইবানের লোকরা ঝামেলা করে কিনা, সেটা একটা ভাবনার বিষয়।’ বলল ডাঃ ইয়াসার। ‘তারা আপনাদের ঝামেলায় ফেলবে না, বরং তারা চেষ্টা করবে ইরগুন ইবানের কোন পরিচয় পুলিশকে যেন না বলেন। আপনারা ওদের জানিয়ে দেবেন, পুলিশকে ইরগুন ইবানের পরিচয় আপনারা দেননি। পুলিশকে বলবেন, সে আপনাদের একজন প্যাশেন্ট। কিন্তু যে ঠিকানায় সে প্যাশেন্ট হয়েছে, পুলিশ অনুসন্ধান করে সেটাকে ভুয়া পাবে।’ আহমদ মুসা বলল। দুঃখের মধ্যেও হেসে উঠল ডাঃ ইয়াসার ও ডাঃ রাসাত দু’জনেই। বলল, ‘ধন্যবাদ, মনে হচ্ছে সমাধান আমরা পেয়ে গেছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’ কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশের একটা গাড়ি এসে পৌঁছল। গাড়ি থেকে নামল সাদা পোশাকধারী চার-পাঁচ জন পুলিশ। গাড়ির শব্দ শুনেই বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল ডাঃ ইয়াসার ও ডাঃ রাসাত। গাড়ি থেকেই পুলিশদের একজন জিজ্ঞেস করল ডাঃ ইয়াসারকে লক্ষ্য করেই, ‘আপনি নিশ্চয় ডাঃ ইয়াসার। আমাদের ঘরটায় নিয়ে চলুন।’ ডাঃ ইয়াসার ও ডাঃ রাসাত পুলিশদের নিয়ে ড্রইংরুমে প্রবেশ করল। দু’জন পুলিশ পেছনে পেছনে একটা স্ট্রেচার নিয়ে প্রবেশ করেছিল। পুলিশদের একজন একটা সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করল। অবস্থার কয়েকটা ফটোও তুলল পুলিশরা। তারপর একজন নির্দেশ দিল লাশটা গাড়িতে নিতে। দু’জন পুলিশ স্ট্রেচারে করে লাশ নিয়ে বেরিয়ে গেল। তাদের সাথে বেরিয়ে গেল আরও দু’জন। অবশিষ্ট একজন বেরিয়ে যাবার আগে আহমদ মুসার দিকে চেয়ে বলল, ‘স্যার, আপনি বাসায় ফিরলে কাউকে আমাদের রিং দিতে বলবেন। আমরা স্টেটমেন্টটায় স্বাক্ষর করিয়ে আনব।’ বলে বেরিয়ে গেল পুলিশ অফিসারটি। পুলিশ অফিসারটি বেরিয়ে যেতেই আহমদ মুসা বলল, ‘ডাঃ ইয়াসার, ডাঃ রাসাত, যা ঘটেছিল এখন আপনারা সব ভুলে যান। কোন পক্ষ কোন অসুবিধা করলে আমাকে জানাবেন।’ ‘ধন্যবাদ।’ বলল ডাঃ ইয়াসার। ‘স্যার, কিছু মনে না করলে আমি একটা কথা বলতে চাই।’ বলল সাবাতিনি। ‘কিছু মনে করার প্রশ্ন কেন?’ আহমদ মুসা বলল। ‘সাংঘাতিক যা ঘটে গেল, অবস্থার ওলট-পালট যেভাবে হলো, আমি বলতে সাহস পাচ্ছি না বিষয়টাকে আপনি কিভাবে নেবেন এই ভেবে।’ বলল সাবাতিনি। ‘আমি তো বলেছি, যা কিছু ঘটেছে তা এখন একেবারেই ভুলে যেতে হবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ। তাহলে আমি যে ‘হোস্ট’ ছিলাম, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানাচ্ছি, খাবার টেবিল তৈরি হয়ে আছে।’ বলল সাবাতিনি দ্বিধাজড়িত কণ্ঠে। আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘ঠিক সাবাতিনি, ঠিক এই সময় এই ধরনের প্রস্তাব বেসুরো হবারই কথা। কিন্তু তুমি খাবার এই আমন্ত্রণ এখন না জানালেও নিজ থেকেই আমি খেতে চাইতাম। কারণ, আমি চলে গেলে আগামী অন্তত কয়েক ঘন্টা খাবার টেবিলের দিকে কেউ যাবে না। আমি তোমাদের সকলের সাথে খেয়ে বাড়িটাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনে বাসায় ফিরতে চাই।’ ‘আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনি সাইকোলজিস্টও। ঠিক বলেছেন, অন্তত আজ আমরা কেউ খাবার টেবিলে যেতে পারতাম না।’ আবেগজড়িত ভারি কণ্ঠে বলল ডাঃ রাসাত। কথা শেষ করে একটু থেমেই আবার বলে উঠল, ‘চলুন, আমরা একটু ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে যাই। এর মধ্যে কাজের লোকরা ড্রইংরুমটা পরিষ্কার করে ফেলবে।’ কথা শেষ করেই সাবাতিনিকে ডাঃ রাসাত বলল, ‘সাবাতিনি, তোমার বাথটা মিঃ খালেদকে দেখিয়ে দাও। আর তুমি বেসিনে মুখ ধুয়ে নিয়ে খাবার টেবিল ঠিক-ঠাক করে নাও।’ সবাই গিয়ে বসল খাবার টেবিলে। সাবাতিনি হোস্টের মতো খাবার গোটা সময় তত্ত্বাবধান কাজটা করল এবং খেলোও। তার মা ডাঃ রাসাত খাবার সময় আলোচনা শুরু করেছিল ঘটনা সম্পর্কে, কিন্তু সাবাতিনি বাঁধা দিয়ে থামিয়ে দিয়েছে। বলেছে, ‘কথা শুরু হলে কথাই চলবে, খাওয়া হবে না। আমি খাওয়া নষ্ট করতে দেব না। খাওয়া শেষ হলে আমি নিজে কথা শুরু করে দেব।’ সত্যি খাওয়া শেষ হলে সকলকে চা পরিবেশন করে নিজে তার চায়ে চুমুক দিয়ে সাবাতিনি আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘স্যার, আপনার পুরো পরিচয় আপনি দেননি। আপনার যে পরিচয়, একটি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আকস্মিক পরিচালক, তার সাথে প্রকৃত অবস্থার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। আপনার টেলিফোনের পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে যায়, তারা এসে কোন জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া লাশ নিয়ে যায়, আপনাকে স্যার বলে সম্বোধন করে, পুলিশরা স্টেটমেন্ট স্বাক্ষর করার জন্যে আপনার বাসায় যেতে চায়, এসবের কোনটাই আপনার কথিত পরিচয়ের সাথে মিলে না। বরং এসব থেকে মনে হয়, আপনি পুলিশ কিংবা সরকারের কোন বড় কর্তা, না তার চেয়ে আরও বড় কিছু।’ আহমদ মুসা শেষ চুমুক দিয়ে কাপটা পিরিচে রেখে হেসে বলল, ‘সাবাতিনি খুব বুদ্ধিমতী, বয়সের তুলনায়।’ বলে থামল আহমদ মুসা। তার মুখ থেকে হাসির রেশ কেটে গিয়ে সেখানে ফুটে উঠল জমাট এক গাম্ভীর্য। বলল, ‘তুমি ঠিকই ধরেছ সাবাতিনি। তবে আমি পুলিশ কিংবা সরকারের কেউ নই। এর বেশি আমার সম্পর্কে আর কিছু বলব না। প্রসঙ্গটা না বলা অবস্থায় থাক কোন এক ভবিষ্যতের জন্যে।’ উঠে দাঁড়াল আহমদ মুসা। বলল, ‘আতিথেয়তার জন্যে ধন্যবাদ এবং যা কিছু অপ্রীতিকর ঘটেছে, তার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ ‘চলুন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।’ বলল সাবাতিনি। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আহমদ মুসা সাবাতিনিকে বলল, ‘কষ্ট করার দরকার কি? এখন তো একটু রেস্ট নেবে।’ ‘আসল কথা হলো আমাদের রাস্তার মাথার মার্কেটটায় আমি যাব।’ বলল সাবাতিনি। সবাইকে গুড ইভনিং জানিয়ে সাবাতিনিকে আসতে বলে বেরিয়ে এল আহমদ মুসা। সাবাতিনিও বেরিয়ে এল আহমদ মুসার পিছু পিছু। আহমদ মুসা গাড়ির ড্রাইভিং সিটে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিল। সাবাতিনি তার পাশের সিটে উঠে বসেছে। গম্ভীর হয়ে উঠেছে তার মুখ। আহমদ মুসার দিকে একবার তাকিয়ে বলল, ‘আমার মার্কেটে যাবার কথা মিথ্যা স্যার। দুঃখিত, আমি মিথ্যা কথা বলেছি।’ বলে থামল সাবাতিনি। আহমদ মুসা বিস্মিত হয়ে সাবাতিনির দিকে চাইল। তার মুখ দেখে বুঝল, তার কথা শেষ হয়নি। বলল আহমদ মুসা, ‘থামলে কেন, বল।’ ‘স্যার, আমি কয়েকটা কথা বলতে চাই। আমার মনে হচ্ছে, আমার ড্যাডি, মাম্মি বিপদে পড়েছে। আপনি যতটা সহজভাবে বলছেন ঘটনাটা মিটে যাবে, তা বোধহয় হবে না।’ থামল সাবাতিনি। তার চোখে-মুখে ভয়ের চিহ্ন। ‘কেন হবে না? বল।’ প্রশ্ন করল আহমদ মুসা সাবাতিনিকে। ‘স্যার, ইরগুন ইবান আসার মধ্যে কাহিনী আছে। ড্যাডি, মাম্মি সম্ভবত ভয়ে সেটা প্রকাশ করেননি।’ বলল সাবাতিনি। আহমদ মুসার ঔৎসুক্য বেড়ে গেল। প্রশ্ন করল সাবাতিনিকে, ‘কাহিনীটা কি?’ ‘ড্যাডি মাম্মিকে একদিন একান্তে কাহিনীটা বলছিলেন। সেটা হলো, সিনাগগের প্রধান ডেভিড ইয়াহুদ আমার আব্বাকে বলেছেন আপনাকে একদিন দাওয়াত দিয়ে আনার জন্যে। সে সময় ইরগুন ইবানকে সিনাগগ থেকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। ড্যাডির কাছে এমন প্রস্তাব কোন কারণে ভালো লাগেনি। তিনি বিষয়টা এড়াবার জন্যে বলেছিলেন যে, আপনি তেমন পরিচিত নন। এটা তিনি ভালো মনে করেছেন। তখন ডেভিড ইয়াহুদ হুমকি দিয়ে বলেছে যে, ড্যাডিকে এটা করতে হবে, দ্বিতীয়বার যেন ‘না’ শব্দ না বলা হয়। আরো বলে, ‘স্মার্থা’ নামে একটি মেয়ে আপনার ব্যাপারে ড্যাডির সাথে যোগাযোগ করবে। তিনি আরও হুমকি দেন যে, এ বিষয়টা যদি খালেদ খাকানকে আগে জানানো হয়, যদি প্ল্যানটা ব্যর্থ হয়, তাহলে এর যে ফল ড্যাডিকে ভোগ করতে হবে তা ড্যাডি কল্পনাও করতে পারবে না।’ থামল সাবাতিনি মুহূর্ত কালের জন্যে। তারপর আবার বলে উঠল, ‘আমি মনে করি, আপনার বিরুদ্ধে এটা গভীর ষড়যন্ত্র এবং আমার ড্যাডি, মাম্মিও এখন খুব বিপদে। কারণ, তাদের প্ল্যান ব্যর্থ হয়েছে। এতসব কথা মাম্মি, ড্যাডি আপনাকে বলেনি। আমি এটা বলার জন্যেই এসেছি।’ ‘ধন্যবাদ সাবাতিনি। বিষয়টা উদ্বেগের, ওরা না করতে পারে এমন কিছু নেই। কিন্তু কাল পত্রিকায় দেখা যাবে, যা ঘটেছে, তাতে তোমার মাম্মি-ড্যাডির কোন হাত ছিল না এবং তারা ইরগুন ইবানের প্রকৃত পরিচয় পুলিশের কাছে গোপন করেছেন, এজন্যে আশু টার্গেট হওয়া থেকে তারা বেঁচে যাবেন। প্রধান টার্গেট এখন আমি। সুতরাং, তাদের আশু নজর আমার ওপরই পড়বে। ভয় নেই তোমাদের। একটা কথা তোমাকে আরও বলি, সিনাগগের ওপর এখন পুলিশের সার্বক্ষণিক নজর থাকবে। তোমাদের ক্ষতি করার সুযোগ তারা পাবে না।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ধন্যবাদ স্যার। আমার একটা কৌতুহল আছে।’ সাবাতিনি বলল। ‘বল।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আপনার ওপর এই আক্রমণ কেন? আপনাকে তারা হত্যা করতে চাচ্ছে কেন?’ সাবাতিনি বলল। ‘ওদের দুরভিসন্ধি কার্যকরী করার পথে ওরা আমাকে বাঁধা মনে করছে, এমন কিছু হতে পারে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘দুরভিসন্ধিটা কি?’ জিজ্ঞাসা সাবাতিনির। আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘তুমি এখনও ছোট। সব প্রশ্ন করতে নেই, সব কিছু জানতে নেই।’ ‘সব প্রশ্ন করতে নেই, সব কিছু জানতে নেই, এটা ঠিক আছে। কিন্তু আমি ছোট- একথা ঠিক নয়। আমার বয়স ঊনিশ, পূর্ণ একজন নাগরিক এখন আমি। আর প্রচুর গোয়েন্দা বই আমি পড়েছি। আমি এসব বিষয় অনেক বুঝি। জানেন, সেদিন আমাদের এক প্রফেসর আমাকে বলেছে আমি গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করবো কিনা। আমি কি কাজ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, খুবই একটা সহজ কাজ। তোমার বাড়ি তো রোমেলী দুর্গের পাশেই। রোমেলী দুর্গের পশ্চিম পাশে একটা রিসার্চ ইনস্টিটিউট আছে। ঐ ইনস্টিটিউটে পাঁচজন বিজ্ঞানী আছেন, তাদের বাসা ইস্তাম্বুলের কোথায় কোথায় তা খুঁজে বের করতে হবে। এক একটি বাড়ি খুঁজে দেয়ার জন্যে এক হাজার ডলার করে পাবে। দেখুন কত বড় অফার!’ থামল সাবাতিনি। খুব হালকা স্বরে কথা বলছিল সাবাতিনি। কিন্তু সাবাতিনির দেয়া তথ্য শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে উঠেছিল আহমদ মুসার জন্যে। তার গোটা দেহে খেলে গেল গরম চাঞ্চল্যের এক শিহরণ। ষড়যন্ত্রকারী সন্ত্রাসীরা বিজ্ঞানীদের বাড়ি সন্ধান করছে, এটা খুব বড় একটা ঘটনা, উদ্বেগজনক খবর। প্রফেসরের দেয়া অফার নিয়ে সাবাতিনি কি করল, শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা কোন দিকে গড়িয়েছে- তা জানার জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠেছিল সে। কিন্তু হঠাৎ থেমে যায় সাবাতিনি। ‘অফারের কি হল সাবাতিনি? তুমি গ্রহণ করেছ?’ বলল আহমদ মুসা। ‘টাকার অফারটা ভালো স্যার, কিন্তু কাজটা আমার পছন্দ হয়নি। কারও বাড়ি খুঁজে বের করার মধ্যে কোন থ্রিল বা কোন গোয়েন্দা যোগ্যতার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয়নি। গবেষণাগারে গেলেই তো তাদের বায়োডাটা, তাদের ঠিকানা উদ্ধার করা যায়। কিংবা তাদের অনুসরণ করলেও তা জানা যেতে পারে। এসব কথা তুলে আমি বলেছিলাম, কাজটা আমার পছন্দ নয়।’ থামল সাবাতিনি। ‘তারপর?’ আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা। ‘তারপর স্যার বললেন, পছন্দ হবে। থ্রিল আছে। ঐ গবেষণা ইনস্টিটিউটে কারও পক্ষেই ঢোকা সম্ভব নয়। তাছাড়া ওদের কোন বায়োডাটা অফিসে পাওয়া যাবে না, এটাও নিশ্চিত। আর তারা বাড়িতে যাতায়াত করেন সামরিক হেলিকপ্টারে। সপ্তাহে তারা একদিন বাড়িতে যান। কিন্তু যাওয়ার কোন দিন, ক্ষণ ঠিক নেই। অতএব, তাদের বাড়ি খুঁজে বের করার মধ্যে বিরাট থ্রিল আছে। আমি বললাম, থ্রিল আছে বুঝা গেল। তবে গবেষণা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞানীদের ঠিকানা প্রয়োজনেই আড়াল করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আপনারা ঠিকানা কেন চাচ্ছেন, আমি বুঝতে পারছি না। স্যার বললেন, এসব নিয়ে তোমার কাজ নেই। তোমাকে একটা দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে, সেটা তুমি করবে। আমি বললাম, মন না চাইলে সে কাজ করা যায় না স্যার। এ জন্যেই উদ্দেশ্যটা জানতে চাচ্ছিলাম। স্যার বললেন, দেখ, তোমাকে এখন সেটা বলা যাবে না। কিন্তু কাজটা মহৎ। মনে রেখ, বিজ্ঞানীরা মহাক্ষতিকর কাজেও জড়িত থাকে। সে কাজ থেকে তাদের বিরত রাখাও মানবজাতির জন্যে প্রয়োজন। স্যারের কথা আমার ভালো লাগল। বললাম, আমাকে কি করতে হবে জানালে আমি কাজটা করতেও পারি। তিনি বললেন, রোমেলী দুর্গে তোমার নিয়মিত যাওয়ার অভ্যেস করতে হবে, যেমন উইকএন্ডে অনেকেই সেখানে যায়। এভাবে ওখানকার দায়িত্বরত কিছু সেনা অফিসারের সাথে তোমার পরিচিত হতে হবে। তুমি মুসলিম নাম ‘সায়েমা সাবাতিনি’ হিসেবে তাদের কাছে পরিচিত হবে। রোমেলী দুর্গের সর্ব পশ্চিমের সর্ববৃহৎ টাওয়ারের গোড়ায় হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং করার মতো একটা জায়গায় সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচটা হেলিকপ্টার ল্যান্ড করে। তোমার টার্গেট হবে হেলিকপ্টারের দশ গজের মধ্যে পৌঁছা। তোমাকে একটা পিস্তল দেয়া হবে। তাতে থাকবে রাবার বুলেট। অলক্ষ্যে তোমাকে পিস্তল থেকে রাবার বুলেট ছুঁড়তে হবে হেলিকপ্টারের গায়ে। এক সপ্তাহে সব হেলিকপ্টারে বুলেট ছুঁড়তে পারবে না। ভিন্ন ভিন্ন বিজ্ঞানীকে বহনকারী পাঁচটা হেলিকপ্টারের জন্যে তোমাকে পাঁচ সপ্তাহ বা তার চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হতে পারে। ব্যস, এটুকুই তোমার দায়িত্ব। আমি বললাম, পিস্তলের শব্দে তো বিষয়টা সবার চোখে পড়ে যাবে। স্যার বললেন, পিস্তলের একটুকুও শব্দ হবে না। কাজটা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। আমি কাজটা গ্রহণ করেছি এই জন্যে যে, কোন খারাপ কাজ হয়তো এর দ্বারা বন্ধ হবে।’ থামল সাবাতিনি। আহমদ মুসা ভাবছিল। বলল, ‘তোমার দায়িত্ব ছিল বিজ্ঞানীদের বাড়ি খুঁজে দেয়া, হেলিকপ্টারে রাবার বুলেট ছুঁড়েই সে দায়িত্ব পালন হয় কি করে?’ হাসল সাবাতিনি। বলল, ‘আমি স্যারকে এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলাম। স্যার বলেছিলেন, রাবার বুলেট গিয়ে হেলিকপ্টারের গায়ে একটা জিনিস পেস্ট করে দেবে, ওটাই আমাদের বিজ্ঞানীদের বাড়ি দেখিয়ে দেবে।’ আহমদ মুসার চিন্তায় চলছে তোলপাড়। ওদের ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য সবকিছুই আহমদ মুসার কাছে পরিষ্কার। ওরা এবার বিজ্ঞানীদেরই সরিয়ে দিতে চায়। সাবাতিনিকে এ কাজের জন্যে কেন বাছাই করেছে, সেটাও বুঝতে পারছে সে। কিন্তু সাবাতিনি কি সেটা জানে? ‘সাবাতিনি, এ কঠিন কাজের জন্যে ওরা তোমার মতো একজন নতুনকে বাছাই করল কেন?’ প্রশ্ন করল আহমদ মুসা। হাসল সাবাতিনি। বলল, ‘স্যার, এ প্রশ্নও তাদের আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। উত্তরে প্রফেসর স্যার বলেছিলেন, তুমি ঐ এলাকার মেয়ে। তোমার চেহারা তুর্কিদের মতো, কিন্তু তোমার মতো সুন্দরী তাদের মধ্যে খুব বেশি নেই। তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধ গতিকে সবাই একটু মেনে নেয় এবং সর্বশেষ বিষয় হলো, তুমি আমার ইহুদি কমিউনিটির মেয়ে, সেজন্যে তোমার ওপর আস্থা রাখা যায়।’ ‘উনি ঠিকই বলেছেন। তুমি কি কাজ শুরু করে দিয়েছ?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘একদিন দুর্গের ভেতরটা ঘুরে এসেছি। শুনলাম যে, দুর্গের আশে-পাশেই আপনার অফিস। আপনার সাহায্য চাইব ভাবছি। যতটা আপনাকে বুঝেছি, এটা আপনার বাঁ হাতেরও কাজ নয়।’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘বলো, কোন দরকার হলে, আমি অবশ্যই সাহায্য করব। আচ্ছা, তোমার সেই প্রফেসর স্যার কোন বিভাগের, কি নাম? ভদ্রলোক বোধহয় অন্যায় কাজ, ক্ষতিকর গবেষণাও দেখতে পারেন না?’ ‘তাই স্যার। তার নাম আলী আহসান বেগভিচ। তিনি বসনিয়া থেকে এসে এখানে সেটেল করেছেন।’ ‘মুসলিম নাম দেখছি। তিনি তো ইহুদি।’ ‘কেন, অনেক ইহুদির এমন মুসলিম নাম আছে। আমি তাকে তো মুসলমানই মনে করতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দূরে একটা সিনাগগ আছে। সিনাগগের একটা বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছিলাম। সেখানে তার সাথে আমার নতুন করে পরিচয় হলো। দেখলাম যে, তিনি ইহুদি।’ ‘ধন্যবাদ সায়েমা সাবাতিনি, অনেক কথা হলো।’ বলল আহমদ মুসা। হেসে উঠল সাবাতিনি। বলল, ‘স্যার, ও নামতো আমার ঐ দুর্গের জন্যে।’ কথা শেষ করেই আবার বলে উঠল সাবাতিনি, ‘স্যার, আমাকে এখানেই নামিয়ে দিন। এসেছি যখন, মার্কেটটা ঘুরেই যাই।’ আহমদ মুসা গাড়ি থামাল। গাড়ি থেকে নামার আগে সাবাতিনি একটা নেমকার্ড আহমদ মুসার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘স্যার, আমার নেমকার্ডটা। আমার টেলিফোন নাম্বার এতে আছে। আপনার একটা মোবাইল নাম্বার তো সেদিন আমাকে দিয়েছিলেন। আমি বিরক্ত করলে কিছু মনে করবেন না স্যার। স্যার, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার সাথের মুহূর্তগুলো অবিস্মরণীয়, ঠিক আপনার মতোই।’ বলে হাসতে হাসতে নেমে পড়ল সাবাতিনি। ‘গুড ইভনিং সাবাতিনি।’ বলল আহমদ মুসা। সাবাতিনি নেমে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ল বিদায় জানাতে। আহমদ মুসাও তার দিকে হাত নেড়ে গাড়ি স্টার্ট দিল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বসফরাসের আহ্বান চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ বসফরাসের আহ্বান চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ বসফরাসের আহ্বান চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ বসফরাসের আহ্বান চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ বসফরাসের আহ্বান চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now