বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বসফরাসের আহ্বান
চ্যাপ্টার- ৩
বাকি অংশ
ডাক্তার দু’জনে মিলে ড্রেসিং-এর কাজটা করল।
ড্রেসিং শেষে সবকিছু সরিয়ে দু’হাত পরিষ্কার করে ওরা দু’জন ফিরে এলে আহমদ মুসা বলল, ‘আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আমাকে নিশ্চয় এখন ছুটি দেবেন?’
কথা শেষ করেই আবার দ্রুত বলে উঠল, ‘ওহো, আপনাদের নামটাও জানা হয়নি। ডাক্তারদের নাম জেনে রাখা ভালো।’
ডাক্তার পুরুষটি বলল, ‘আমার নাম ডাঃ ইয়াসার তইফুন, আর ওর নাম ডাঃ রাসাত কাসাভা।’
বলে ডাঃ ইয়াসার আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘আপনার নামও কিন্তু জানা হয়নি।’
‘আমার নাম খালেদ খাকান।’ বলল আহমদ মুসা।
‘ঠিকই ভেবেছি, আপনার তুর্কি অরিজিন আছে। নামটাও তুর্কি। খুশি হলাম। এবার আসুন পাশের ঘরে।’
‘কেন?’ বলে আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল।
পাশের ঘরটা একটা বেডরুম। গেস্টরুমই হবে। একটা খাট। খাটের বিপরীত দিকে এক সেট সোফা সুন্দর করে সাজানো। আর ঘরে আছে একটা ওয়্যারড্রোব, একটা ছোট ডাইনিং টেবিল ও চেয়ার।
ঘরে ঢুকে ডাক্তার ইয়াসার বলল, ‘মিঃ খালেদ খাকান, আপনাকে ঘন্টাখানেক রেস্ট নিতে হবে। আপনার শরীর থেকে অনেক রক্তক্ষয় হয়েছে। হাসপাতালে নিলে রক্ত দেয়ার কথা উঠতো।’
‘তথাস্তু’ বলে শুয়ে পড়তে পড়তে আহমদ মুসা বলল, ‘ডাক্তারের হিসেব ও আমার হিসেব ভিন্ন। যা রক্ত গেছে, আরও ততটা রক্ত গেলেও আমি রক্ত নিতাম না।’
ডাঃ ইয়াসার ও ডাঃ রাসাত একটু পিছিয়ে সোফায় বসল। বসতে বসতে ডাঃ ইয়াসার বলল, ‘আপনার কথা এক দিক দিয়ে ঠিক মিঃ খালেদ খাকান। আমি আপনার মতো বিস্ময়কর পেশেন্ট কোন দিন পাইনি। আপনাকে যে ধরনের ড্রেসিং করতে হয়েছে, তাতে লোকাল অ্যানেসথেসিয়া অপরিহার্য ছিল। আপনি অ্যানেসথেসিয়া নিলেন না। আমি বিস্মিত হয়েছি, ড্রেসিং-এর সময় আপনার চোখে-মুখে বেদনার সামান্য ভাঁজও পড়েনি। এ ধরনের শক্ত নার্ভ কারও থাকতে পারে, তা আমার কাছে অবিশ্বাস্য ছিল।’
এক মুহূর্ত থেমে আবার বলে উঠল ডাঃ ইয়াসার, ‘আপনার সত্যিই কোন অনুভূতি নেই?’
‘অনুভূতি তো জীবনের লক্ষণ। ওটা তো থাকতেই হবে। আসলে অনুভূতির প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায় ধৈর্য্যের দ্বারা। ধৈর্য্য নার্ভ বা অনুভূতিকে সীমাহীন শক্তি দিতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল।
‘আপনি ঠিকই বলেছেন, ধৈর্য্য নার্ভকে সীমাহীন শক্তি দিতে পারে। কিন্তু এ ধরনের ধৈর্য্য একজন অসাধারণেরই শুধু থাকতে পারে, সাধারণের নয়। আমার মনে হচ্ছে, এই অসাধারণের মধ্যে একজন আপনি। আল-আলা পার্কে আপনার ওপর হামলার সময়ও কিন্তু এটা আপনি প্রমাণ করেছেন। প্রথমেই যে পরিমাণ আহত আপনি হন, তাতে দু’জন রিভলভারধারীসহ চার জনের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হওয়া সত্যি একজন অসাধারণের কাজ। আপনার বুদ্ধি, ক্ষিপ্রতা ও কৌশল আমাদের সত্যিই অভিভূত করেছে। আপনার প্রফেশন কি বলবেন দয়া করে?’ ডাঃ রাসাত কাসাভা বলল।
‘একটা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আমি একজন ব্যবস্থাপনা এক্সিকিউটিভ।’ আহমদ মুসা বলল।
‘কি গবেষণাগার?’ জিজ্ঞাসা ডাক্তার ইয়াসারের।
‘ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।’
‘আপনি তো দেখছি একজন প্রফেশনাল বুদ্ধিজীবী। এদিক থেকে আপনি একজন নির্বিরোধ ব্যক্তি। আপনাকে এভাবে ওরা আক্রমণ করল ক্বেন? কারা ওরা? ওদের আপনি চেনেন? কি উদ্দেশ্য ওদের?’ বলল ডাক্তার ইয়াসার।
‘আপনার কোন প্রশ্নেরই জবাব আমার কাছে নেই।’ আহমদ মুসা বলল।
‘আমার মনে হয়, পুলিশে আপনার খবরটা দেয়া উচিত।’ বলল ডাঃ ইয়াসার।
‘আইনের কথা তাই। কিন্তু আমি কোন ঝামেলায় জড়াতে চাই না।’
‘কিন্তু ঝামেলা তাতে আরও বাড়বে। ওরা সাহস পেয়ে যাবে। আবারও আক্রমণ করতে পারে ওরা।’ বলল ডাঃ ইয়াসার।
‘আমি অফিসে গিয়ে পরামর্শ করে দেখব। তবে আমি এসবে ভয় পাই না। যদি আল্লাহ না চান, কেউ আমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর চাইলে পুলিশ কিংবা কেউ আমাকে বাঁচাতেও পারবে না।’
‘আপনি তো দেখছি একজন গোঁড়া অদৃষ্টবাদী!’ ডাঃ রাসাত কাসাভা বলল।
‘এটা বিজ্ঞান-মনস্কতাও।’ আহমদ মুসা বলল।
‘বিজ্ঞান-মনস্কতা?’ বলল ডাঃ রাসাত কাসাভা। তার চোখে-মুখে কৌতুকের চিহ্ন।
‘কেন, বিজ্ঞান বলছে না মানুষের বংশ-গতি, জীবন-গতি সবকিছু মানবদেহের ‘জীন’ কণার মধ্যে ‘এনকোডেড’ রয়েছে!’
ডাঃ রাসাত ও ডাঃ ইয়াসার দু’জনেরই চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
বলল ডাঃ রাসাত, ‘আপনি সত্যিই বিস্ময়কর মানুষ। সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু বলুন তো, আপনি যদি চার জনের সাথে ফাইট না করতেন, তাহলে ‘জীন’ কি আপনাকে রক্ষা করতো?’
‘চার জনের সাথে আমি ফাইট করবো এবং জয়ী হবো, সেটা আল্লাহতায়ালা ‘জীন’-এ এনকোডেড করে রেখেছেন।’
হো হো করে হেসে উঠল ডাঃ ইয়াসার ও ডাঃ রাসাত দু’জনেই। ডাঃ রাসাত বলল, ‘আপনার সাথে কথায় পারা যাবে না। তবে আপনি খুব হালকা কথার মধ্যে খুব ভারি কথা বলেছেন। আপনার মতো বিশ্বাস যাদের থাকে, তারাই অজেয় হন।’
‘আপনারা কি বিশ্বাসী নন? আপনাদের মধ্যে কি বিশ্বাস নেই?’ বলল আহমদ মুসা।
উত্তর দেয়ার জন্যে মুখ খুলেছিল ডাঃ ইয়াসার।
ঘরের আর একটা দরজার পর্দা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করল একজন তরুণী। অপরূপা সুন্দরী তরুণী, যেন ডানাকাটা পরী।
মেয়েটি বলতে বলতে প্রবেশ করছিল, ‘বিশ্বাস আছে জনাব, কিন্তু তার অ্যাকশন নেই। আছে বিশ্বাস, কিন্তু তার জীবন নেই। বিশ্বাস আছে অবশ্যই জনাব, কিন্তু সেটা অবাঞ্ছিত গরীব আত্মীয়ের অসহ্য উপস্থিতির মতো, যাকে ফেলাও যায় না, রাখাও যায় না।’
হেসে উঠল আহমদ মুসা মেয়েটির বাচনভংগীতে। বলল, ‘আপনি অবস্থার একটা চমৎকার ডেফিনিশন দিয়েছেন।’
বলেই আহমদ মুসা ডাক্তার ইয়াসার ও ডাক্তার রাসাতের দিকে চেয়ে বলল, ‘এই ডেফিনিশন সম্পর্কে আপনাদের বক্তব্য কি?’
আহমদ মুসার কথার কোন উত্তর না দিয়ে ডাঃ রাসাত মেয়েটিকে দেখিয়ে হাসিতে মুখ রাঙিয়ে বলল, ‘ও সাবাতিনি ইয়াসার। আমাদের মেয়ে। কয়েকদিন হলো ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। খুব পড়ুয়া, টকেটিভও। পাশের রুমে তার স্টাডিতে বসে পড়েছিল। কথা বলার সুযোগ পেয়ে বেরিয়ে এসেছে।’
‘ঠিক বলেছেন আম্মা। আমি পড়ার টেবিলে বসে আপনাদের ইন্টারেস্টিং আলোচনা শুনছিলাম। শেষে মিঃ খালেদ খাকান এমন প্রশ্ন আপনাদের করেছেন, যে প্রশ্নের সঠিক জবাব আপনারা দেবেন না ভেবেই আমি বেরিয়ে এসেছি সত্য জবাবটা দেয়ার জন্যে। আপনাদের ঠোঁটে ঈশ্বর আছে, কিন্তু বুকে ঈশ্বর নেই।’ বলল সাবাতিনি ইয়াসার।
‘সুন্দর ডেফিনিশন এবং স্পষ্ট কথার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আমি কি জানতে পারি, আপনার ঈশ্বর আপনার কোথায় মানে ঠোঁটে না বুকে রয়েছে?’ আহমদ মুসা বলল।
মেয়েটির দুই ঠোঁট হাসিতে ভরে গেল। বলল, ‘জবাব আছে। তার আগে বলব, আমি বয়সে আপনার ছোট। আপনি আমাকে ‘আপনি’ সম্বোধন করে কথা বলায় আমি অস্বস্তি বোধ করছি। এ অস্বস্তি নিয়ে আপনার সাথে আমার কোন কথা হবে না।’
আহমদ মুসার ঠোঁটে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠল। বলল, ‘ঠিক আছে সাবাতিনি, বল তোমার উত্তরটা।’
‘জবাবটা আপনি দিয়ে রেখেছেন। ঐ যে বলেছেন মানবদেহের ‘জীন-কোষ-কণা’র বংশ-গতির কথা। সে বংশ-গতির আমিও শিকার। আমার বিশ্বাস আমার পূর্বসূরীদের মতোই তো হবে।’ বলল সাবাতিনি।
‘তোমার এই উত্তরটা কিন্তু সত্য বা সংগত হলো না সাবাতিনি।’ আহমদ মুসা বলল।
‘কেন নয়? আমি তো বিজ্ঞানের কথা বলেছি, যেটা আপনিও বলেছেন।’ বলল সাবাতিনি।
হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘সাবাতিনি, আল্লাহর দেয়া দৈহিক ব্যবস্থা ‘জীন’-এর বংশ-গতি কিন্তু মানব জীবনের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে না। আল্লাহ মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। এই ইচ্ছাশক্তিই মানুষের বিশ্বাস ও কর্মকে রূপায়িত করে পরিচালনা করে। এই কারণেই দেখ এক বিশ্বের, এক দেশের, এমনকি এক বাড়ির মানুষ বিভিন্ন ধর্ম, বিভিন্ন বিশ্বাস ও বিভিন্ন কর্মধারা অনুসরণ করে। বিভিন্ন ইচ্ছাশক্তির প্রভাবেরই এটা ফল।’
গম্ভীর হয়ে উঠেছে সাবাতিনি ইয়াসারের মুখ। বলল, ‘বিভিন্ন ইচ্ছাশক্তি, বিভিন্ন ‘জীন-কণা’ যদি মানুষের ইচ্ছাশক্তির পরিচালক হয়ে দাঁড়ায়, ইচ্ছাশক্তি তাহলে স্বাধীন থাকছে না।’
‘তুমি বলতে চাচ্ছ, একই বংশে, একই বাড়িতে বিভিন্ন জীনই বিভিন্ন ইচ্ছাশক্তির উৎস এবং তা যদি হয়, তাহলে ইচ্ছাশক্তি স্বাধীন নয়। এই মত ঠিক নয় এই কারণে যে, একজন মানুষ তার জীবনে তার বিশ্বাস ও কর্মধারা একাধিক বা বহুবার চেঞ্জ করতে পারে এবং আমাদের চোখের সামনেই তা করছে। কিন্তু একজন মানুষের দেহ-কোষের ‘জীন-কণা’ তো এভাবে চেঞ্জ হতে পারে না, চেঞ্জ হয় না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ‘জীন’ চেঞ্জ হয় না, কিন্তু ইচ্ছা চেঞ্জ হয়। এর পরিষ্কার অর্থ ইচ্ছাশক্তি ‘জীন’ নির্ভর নয়, স্বাধীন।’ বলল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসা থামতেই ডাঃ রাসাত বলে উঠল, ‘ইচ্ছা যে কোন বিশ্বাস, যে কোন কর্মধারা চয়েস করতে পারে, যেহেতু সে স্বাধীন। কিন্তু এই চয়েস তো সত্য, মিথ্যা, ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দের বিচারে চূড়ান্ত নয়। কারণ চয়েস দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন হচ্ছে, কিন্তু সত্য, ন্যায়, ভালো তো একটাই, বিভিন্ন নয়।’
‘ঠিক ধরেছেন ডাঃ রাসাত। মানুষের ইচ্ছাশক্তি স্বাধীন, কিন্তু স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ইচ্ছাশক্তি স্বাধীন, কিন্তু অন্ধ। ইচ্ছাশক্তি স্বাধীন, কিন্তু এর নিজস্ব কোন রূপ নেই, রঙ নেই। ইচ্ছাশক্তি একটা সিদ্ধান্ত, যা ঠিক করতে, ভুলও করতে পারে বা ভালো করতে পারে, আবার মন্দও করতে পারে, যা সত্য পথে চলতে পারে, আবার ভুল পথেও চলতে পারে।’ বলল আহমদ মুসা।
‘যে ইচ্ছাশক্তি মানুষের বিশ্বাস ও কর্মধারার চালিকাশক্তি, সে ইচ্ছাশক্তি এমন অন্ধ হওয়াটা তো মানুষের জন্যে বিপজ্জনক। শুধু বিপজ্জনক নয়, ধ্বংসকারীও।’ বলল ডাঃ রাসাত। গম্ভীর তার কণ্ঠ।
‘ঠিক ডাঃ রাসাত। সত্যিই সব মানুষ এক বিপজ্জনক ও ধ্বংসকরী অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আমাদের ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআনে একটা ছোট্ট সূরা রয়েছে। তার নাম ‘আসর’ বা ‘কাল’। এই সূরা বা ভার্স-এ আল্লাহতায়ালা ‘কাল’-এর (যে কাল মানুষের ক্ষতি ও সফলতার সাক্ষী) শপথ করে বলেছেন, নিশ্চয় সব মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে, শুধু তারা ছাড়া যারা বিশ্বাসী, যারা সৎকর্মশীল এবং যারা সত্য ও ধৈর্য্যের উপদেশ দেয়। এই ভার্স-এ একথা.......।’
‘স্যরি, আমি জানতে চাচ্ছি, ইচ্ছাশক্তি যদি অন্ধ হয় এবং তা যদি মানুষের বিশ্বাস ও কর্মধারার পরিচালক হয়, তাহলে অন্ধ ইচ্ছাশক্তির হাত থেকে বেঁচে মানুষ নিশ্চিতভাবে অবিশ্বাসী না হয়ে সুবিশ্বাসী, অসৎকর্মশীল না হয়ে সৎকর্মশীল হবে কি করে?’ বলল দ্রুতকণ্ঠে সাবাতিনি ইয়াসার।
‘বলছি সাবাতিনি। বলেছি, মানুষের ইচ্ছাশক্তি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ইচ্ছাশক্তির বিচারবোধ বা জ্ঞানচক্ষু নেই, এই অর্থেই সে অন্ধ। এই অন্ধ ইচ্ছাশক্তিকে পথ চেনাবার জন্যে আল্লাহ মানুষকে ‘অন্ধের যষ্টি’ও দিয়েছেন। এই ‘অন্ধের যষ্টি’ হলো মানুষের বিবেক ও জ্ঞান। ইচ্ছাশক্তির সাথে সাথে আল্লাহ মানুষকে এই দুই জিনিস দিয়েছেন, যাতে মানুষের ইচ্ছাশক্তি সঠিকভাবে চলার দিক নির্দেশনা পায়। ইচ্ছাশক্তির দিক নির্দেশনা স্বরূপ এই দুই জিনিসের মধ্যে ‘বিবেক’ খারাপ-ভালো, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে আছে। আর দ্বিতীয় বিষয় ‘জ্ঞান’ মানুষকে শিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। জ্ঞানের আবার দু’টি উৎস রয়েছে। একটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে আসা ‘ওহী’র জ্ঞান, অন্যটি জাগতিক শিক্ষা থেকে অর্জিত জগৎ বিষয়ক জ্ঞান। ওহীর জ্ঞান মানুষকে ‘বিশ্বাস’ ও ‘কর্মপদ্ধতি বা কর্মধারা’ সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে মংগলের পথে, ন্যায়ের পথে, শান্তি-স্বস্তির পথে, পরকালীন ভালোর পথে পরিচালনার জন্যে ‘ওহী’র জ্ঞান অনুসরণ অপরিহার্য। ইচ্ছাশক্তির হাতে যদি ‘অন্ধের যষ্টি’ ‘বিবেক’ ও ‘ওহী’র জ্ঞান না থাকে, তাহলে ইচ্ছাশক্তির যাত্রা হয় বিপজ্জনক, ধ্বংসকরী।’
‘‘ওহী’র জ্ঞান থাকলে ‘বিবেক’-এর কি প্রয়োজন আছে? এ দুইয়ের পার্থক্য কি, সম্পর্ক কি?’ জিজ্ঞাসা সাবাতিনির।
আহমদ মুসা বলল, ‘বিবেক হলো মানব মনের ভালো-মন্দ বাছাইয়ের একটা সহজাত শক্তি। এটা সকল মানুষের ‘জীন’-এ এনকোডেড একটা কমন বিষয়। অন্যদিকে ‘ওহী’র জ্ঞান হলো আল্লাহতায়ালা কর্তৃক তাঁর নবী-রাসূলদের মাধ্যমে পাঠানো মানুষকে মঙ্গল ও মুক্তির পথে পরিচালনার জন্যে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবন-পদ্ধতি। ‘বিবেক-জ্ঞান’ ও ‘ওহী’র জ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য হলো, ‘বিবেক-জ্ঞান’ বলতে পারে কাজটি ভালো না মন্দ, গ্রহণীয় না বর্জনীয়। কিন্তু ‘বিবেক-জ্ঞান’ মানুষকে মঙ্গল ও মুক্তির পথে পরিচালনার জন্যে কোন করণীয় ও কর্মপ্রণালী তৈরি করে না। এমনকি ‘বিবেক-জ্ঞান’ একজন স্রষ্টা আছেন, এমন একটা অনির্দিষ্ট অনুভূতি দান করা ছাড়া স্রষ্টার পরিচয়, স্রষ্টার ইচ্ছা, স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্কের বিষয়ে কিছুই বলতে পারে না। বিবেকের পক্ষে পারা সম্ভব নয়, এমন সব জ্ঞানের বিশ্বাস নিয়েই নবী-রাসূলরা দুনিয়ায় এসেছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে। মানুষের জন্যে ‘ওহী’র জ্ঞান সুনির্দিষ্ট করার পর বিবেক-জ্ঞান কেন প্রয়োজন, এ প্রশ্নও উঠতে পারে। এক্ষেত্রে অনুধাবনের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ‘ওহী’র জ্ঞান মানব মনের সহজাত প্রবণতায় সাধারণভাবে এনকোডেড কোন বিষয় নয়, এটা আয়ত্ত সাপেক্ষ, যা প্রচারের মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছার কথা। কিন্তু দুনিয়ার সব জায়গার সব মানুষের কাছে এই প্রচার নাও পৌঁছতে পারে। সেক্ষেত্রে বিবেক-জ্ঞান হবে তাদের অবলম্বন, যার কাছ থেকে তাদের ইচ্ছাশক্তি পাবে দিক-নির্দেশনা। ‘ থামল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসা থামতেই সাবাতিনি বলে উঠল, ‘আপনার শেষের কথায় একথা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে, ‘ওহী’র জ্ঞান পৃথিবীর সব জায়গায় সব মানুষের কাছে পৌঁছা দরকার। না হলে তারা ঠকবে, একমাত্র এবং অনির্দিষ্ট বিবেক-জ্ঞান নিয়েই তাদের চলতে হবে এবং তার ফলে জীবন-পরিচালনার সঠিক নির্দেশনা থেকে তারা বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু দুনিয়ার সব মানুষের কাছে ‘ওহী’র জ্ঞানের কি প্রচার হচ্ছে? না হলে তার উপায় কি? দ্বিতীয় বিষয় হলো, ‘বিবেক-জ্ঞান’ যেভাবে মানব প্রবণতার একটা সহজাত বিষয় হিসেবে ‘এনকোডেড’ হয়েছে, সেভাবে ‘ওহী’র জ্ঞান মানব-প্রবণতার সহজাত বিষয় হিসেবে এনকোডেড হলে দুনিয়ার কেউই তাহলে এই জ্ঞান থেকে বঞ্চিত থাকতো না। এ বিষয় সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?’
হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘সাবাতিনি, তোমার শেষ বিষয় থেকেই শুরু করি। ‘বিবেক-জ্ঞান’ অপরিবর্তনশীল। দুনিয়ার প্রথম মানুষের এই জ্ঞান যেমনি ছিল, দুনিয়ার শেষ মানুষেরও তেমনি থাকবে। এজন্যে বিবেক-জ্ঞান শুরুতেই সর্বকালের মানুষের জন্যে এনকোডেড করা গেছে। কিন্তু ওহীর জ্ঞান পরিবর্তনশীল। সময় ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে ‘ওহী’র জ্ঞানভিত্তিক জীবন-পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়ে আসছে। এই পরিবর্তনশীলতার জন্যে ‘বিবেক-জ্ঞান’-এর মতো একে ‘এনকোডেড’ করা হয়নি। আধুনিক কালে এসে পরিবর্তন প্রয়োজনের সমাপ্তি ঘটানো হয়েছে মানবজাতির জন্যে সর্বশেষ ও আগামী সর্বকালের জন্যে ‘ওহী’র জ্ঞান বা ওহীভিত্তিক জীবন-পদ্ধতি প্রেরণের মাধ্যমে। ‘ওহী’র জ্ঞান সহজাত প্রবণতার ন্যায় এনকোডেড (Encoded) না হবার আরেকটা কারণ হলো, এই জ্ঞান প্রকৃতিজাত বা সহজাত হলে একে মানুষের জন্যে পরীক্ষার বিষয় করা যেত না। অথচ কে ভালো হতে চায়, কে চায় না- এই পরীক্ষা মানব সৃষ্টির সবচেয়ে বড় বিষয়। এর মাধ্যমেই পরকালীন জীবনের জন্যে পুরষ্কার বা তিরস্কার নির্ধারিত হবে।’
‘ধন্যবাদ জনাব। আপনি ধর্মবেত্তা বা বিজ্ঞান-বেত্তা অথবা দার্শনিক হলে ভালো হতো। আমার অনার্সের সাবসিডিয়ারী বিষয়ের একটি হলো ধর্ম। আমাদের স্যাররা কিন্তু আপনার মতো এত গভীর, সেই সাথে সর্বাধুনিক দৃষ্টিভংগীর ধারে-কাছে নেই। আপনি বিরক্ত হতে পারেন। কিন্তু এসব বিষয়ে আমার আপনাকে বিরক্ত করার সম্ভাবনা আছে। যাক, আপনি একটা সাংঘাতিক কথা বলেছেন। আপনি ইসলামকে সর্বশেষ এবং আগামী সর্বকালের ধর্ম বা জীবন-পদ্ধতি হিসেবে অভিহিত করে সব ধর্মকে বাতিল করে দিয়েছেন।’ বলল সাবাতিনি ইয়াসার।
‘আমি বাতিল করিনি। স্বাধীন নিয়মেই সব বাতিল হয়ে যাবার কথা। নতুন সংবিধান চালুর অর্থ আগের সংবিধান আর নেই। এটাই স্বাভাবিক। ধর্ম এর বাইরে নয়।’ আহমদ মুসা বলল।
সাবাতিনি কিছু বলতে যাচ্ছিল। তাকে বাঁধা দিয়ে ডাঃ ইয়াসার বলে উঠল, ‘আর নয় সাবাতিনি। উনি সুস্থ নন। ওকে একটু রেস্ট নিতে দাও।’
‘স্যরি আব্বা, স্যরি জনাব। তবে আমি অপ্রয়োজনীয় কিছু বলিনি।’ বলল সাবাতিনি প্রথমে তার আব্বা, পরে আহমদ মুসার দিকে ঘুরে।
‘মিঃ খালেদ খাকান, আপনি যতক্ষণ ইচ্ছা রেস্ট নিন, তবে এক ঘন্টার কম নয়। আমরা পাশের ঘরেই আছি।’ বলল ডাঃ রাসাত।
‘ধন্যবাদ ডাক্তার।’ বলে একটু থেমেই আবার সাবাতিনিকে লক্ষ্য করে বলল, ‘আমার একটা প্রশ্ন, আপনার বাড়ির অপজিটে রাস্তার পশ্চিম পাশে বাগান ঘেরা বড় বাড়িটা কার?’
‘কেন, বাড়িটা ভালো লেগেছে আপনার? ভালো লাগলেও লাভ নেই। ওটা ‘সিনাগগ’। শুধু সিনাগগও নয়, ওটা একটা জুইশ কমপ্লেক্স। ওকে শুধু ইস্তাম্বুল নয়, তুর্কি জুইশদের রাজধানীও বলতে পারেন।’ বলল ডাঃ রাসাত।
আহমদ মুসা মুখে বেজার ভাব এনে বলল, ‘আমি হতাশ হলাম।’
কিন্তু বাড়িটার এই পরিচয় পেয়ে ভীষণ খুশি হয়েছে আহমদ মুসা। আজ পুলিশ আর্কাইভসে পাঁচ গোয়েন্দা নিখোঁজ হওয়ার দিনের নির্দিষ্ট সময়ের সিসিটিভির এই রাস্তার মনিটরিং-এর ছবিগুলো পরীক্ষা করতে গিয়ে সে দেখেছে, পাঁচ গোয়েন্দাকে বহন করা গাড়িটি সর্বশেষ ঐ বাড়িতেই প্রবেশ করে। গাড়িটার বের হবার দৃশ্য পরবর্তী চার-পাঁচ ঘন্টার মনিটরিং-এর ছবি পরীক্ষা করেও আর সে পায়নি। এর অর্থ, এখান থেকেই পাঁচ গোয়েন্দা এবং তাদের গাড়িটা উধাও হয়েছে।
‘বাড়িটার কি কি সুন্দর লেগেছে আপনার কাছে?’ জিজ্ঞেস করল ডাঃ রাসাতই আবার।
‘সবই সুন্দর লেগেছে। যে টিলার ওপর বাড়িটা, তা আনকমন। এই আয়তনের কোন টিলার এত প্রশস্ত ফেস খুবই দুর্লভ। বাড়িটার বিশালত্ব এবং দুর্গ ধরনের বৈশিষ্ট্য দৃষ্টি আকর্ষণের মতো। বাড়িটা যেন চারদিক থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রেখে তার নিরাপত্তা ও নিরিবিলি পরিবেশকে অখণ্ড করে তুলেছে। বাড়ির মিছিলে থেকেও সে যেন একা, ভিন্নতর, স্বতন্ত্র। চারিদিকে হৈ চৈ, কিন্তু সে মৌন।’ থামল আহমদ মুসা।
হেসে উঠল ডাঃ রাসাত, ডাঃ ইয়াসার এবং সাবাতিনি একসাথে। বলল ডাঃ রাসাত, ‘বাড়িটা সব সময় আমাদের নজরে আসে কিন্তু কখনও বিশেষ বলে মনে হয়নি। অথচ আপনার বর্ণনা শুনে বাড়িটা আমার কাছে সবিশেষ হয়ে উঠেছে। আমরাও যেন ভালোবেসে ফেলছি বাড়িটাকে বর্ণনার মাধুর্যে। আপনি কি কবি না শিল্পী?’
‘দুই-ই আম্মা। কবির কথামালা, শিল্পীর তুলি যেমন সাধারণকে অসাধারণ এবং অরূপকেও অপরূপা করে, উনিও তাই করেছেন।’ বলল সাবাতিনি। তার চোখে-মুখে বিচ্ছুরিত এক বিমুগ্ধতা। তার অতল নীল চোখে নিজেকে হারিয়ে ফেলার এক আনমনা দৃষ্টি।
‘চাঁদের কলঙ্কের মতো বাড়িটার কিছু দোষও আছে। বাড়িটাতে কোন প্রাণের স্পন্দন নেই। বাড়িটার বড়, ভারি সিংহদ্বারটি আমার কাছে কারাগারের নিষ্ঠুর দরজা বলে মনে হয়।’ বলল আহমদ মুসা।
আবারও হেসে উঠল ডাঃ ইয়াসার ও ডাঃ রাসাত।
কিন্তু গম্ভীর সাবাতিনি বলে উঠল আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে, ‘আপনার অনুভূতি এত স্পর্শকাতর জনাব!’ সাবাতিনির কণ্ঠে কম্পিত এক আবেগ।
‘মিঃ খালেদ খাকান, আপনার অনুভূতিটা ঠিক। বাড়িটার বিরাটত্ব, গেটে দারোয়ান না থাকা, গেট ঘন ঘন না খোলা ইত্যাদি কারণে আপনার এই অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু বাড়িটা প্রাণহীন নয়, বাড়িতে লোক আছে। গেট ভেতর থেকে নিয়ন্ত্রিত। গেটের সামনে লোক গেলেই ভেতর থেকে টিভি স্ক্রীনে তাকে দেখা যায় আর তখন দরজা খুলে দেয়া হয়। বাড়িটা পারিবারিক নয় বলে মানুষের আনাগোনা, যাতায়াত কম। যারা ওখানে আসেন, নির্দিষ্ট সময়গুলোতে আসেন।’ সাবাতিনির কথা শেষ না হতেই বলল ডাঃ রাসাত।
‘তাই হবে। কিন্তু শনিবার সিনাগগে প্রচুর ভিড় হয়।’ বলল আহমদ মুসা।
‘হতো। কিন্তু পাশেই সিজলি বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট-এ সম্প্রতি আরেকটা সিনাগগ হয়েছে। ভিড়টা ওখানে চলে গেছে। এ সিনাগগে ইস্তাম্বুলের জুইশ দায়িত্বশীলরা আসেন। ইস্তাম্বুলের বাইরে থেকেও দায়িত্বশীলরা আসেন। এখন বলা যায়, এটা বিশেষ সিনাগগ। এখানে প্রার্থনার অনুষ্ঠান দীর্ঘ হয়। কারণ, প্রার্থনার সাথে মিটিং-সিটিংও থাকে।’ বলল ডাঃ রাসাত।
আহমদ মুসা মনে মনে ধন্যবাদ দিল রাসাতকে। বাড়িটা সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া গেল। ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক এক রূপরেখাও অনেকখানি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অন্য কিছু না ঘটলে পাঁচ গোয়েন্দা এই ভবনে ঢুকেই নিখোঁজ হয়েছে। এটাই আজকের বড় পাওয়া। আনন্দিত কণ্ঠে আহমদ মুসা বলল, ‘অনেক কথা হলো। মন ভালো লাগছে আমার। আঘাতের বেদনাও যেন কমে গেছে। আমাকে রিলিজ করলে খুশি হই।’
‘রিলিজ আপনি হয়েই আছেন। আপনি যেহেতু নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করবেন, এজন্যেই বলছি, আপনি কিছু সময় রেস্ট নিন। আর এখনই যদি যেতে চান, তাহলে আপনার ড্রাইভ করা হবে না, আমরাই আপনাকে পৌঁছে দেব।’ বলল ডাঃ ইয়াসার।
‘না ডাক্তার, আপনাদের আর কষ্ট দেয়া ঠিক হবে না। রেস্ট নেয়া আমার জন্যে ভালো আর আপনাদেরও কষ্ট দেয়া থেকে বাঁচা যাবে। এই চোখ বুজলাম, ধন্যবাদ।’ বলে আহমদ মুসা বালিশে মাথাটা রাখল।
‘ধন্যবাদ মিঃ খালেদ খাকান। আমরা ওপাশের ঘরটায় আছি।’
বলে ডাঃ ইয়াসার ঘর থেকে বের হবার জন্যে পা বাড়াল। তার সাথে ডাঃ রাসাতও।
‘আমিও আসছি জনাব। আমার কথা কিন্তু শেষ হয়নি।’ বলল সাবাতিনি।
‘শেষ হবার কথা নয়। একজন ছাত্রীর জন্যে এটাই স্বাভাবিক। ধন্যবাদ।’ আহমদ মুসা বলল।
‘ধন্যবাদ জনাব।’ বলে সাবাতিনি পাশের ঘরে ঢুকে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now