বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ন্যাশনাল
জিওগ্রাফি চ্যানেল
দেখছে অমিত
সাহেব সাথে তার
সাত বছরের
ছেলে আবির।
টিভিতে পাখির
জীবনের ধাপ
গুলো দেখাচ্ছে ।
মা পাখি ডিমে তাপ
দিতে থাকে তারপর
ডিম
ফোটে বাচ্চা হয়।
বাচ্চা গুলো এখনও
চোখ ফোটে নাই।
মা পাখি খাবারের
জন্য দূর
দেশে চলে যায় আর
খাবার নিয়ে আসে।
তারপর বাচ্চার
মুখে খাবার
দিয়ে কি যে আনন্দ
পায় তা একমাএ
মা পাখি জানে।
বাচ্চা গুলো চোখ
ফুটে কি সুন্দর
তাদের চোখ।
একদিন
মা পাখি এসে দেখে দুটি ছেলে তার
বাসা থেকে বাচ্চা গুলো পেড়ে নিয়ে যাচ্ছে ।
মা পাখি তা দেখে সহ্য
করতে পাড়ল
না সে ছেলে দুটি কে আক্রমণ
করল,
ছেলে দুটি ভয়
পেয়ে বাচ্চা রেখে পালিয়ে যায়।
মা পাখি কি খুশি বাচ্চা গুলো ফিরে পেয়ে ।
তারপর
সে বাচ্চা গুলো কে উড়তে শেখাল,কি ভাবে খাবার
সংগ্রহ করতে হয়
তা শেখাল।
বাচ্চা গুলো বড়
হতে থাকে।এখন
বাচ্চা গুলো বড়
হয়ে গেছে আর
নিজের খাবার
নিজেই যোগাড়
করতে পারে।
তাদের মার বয়স
হয়েছে আর আগের
মত শক্তি নাই,
সারাক্ষণ বাসায়
থাকে আর তার
সন্তানরা খাবার
এনে মা পাখি কে খাওয়ায়।
আগে বৃষ্টি এলে মা পাখি তার
ডানা মেলে বাচ্চা গুলোকে ঝড়
বৃষ্টি থেকে রক্ষা করত
আর এখন তার
সন্তানরা পাখা মেলে মা কে রক্ষা করে।
আবির-
বাবা তোমার
চোখে জল।
-
না রে বাবা,টিভি দেখতে দেখতে চোখে পানি এসে গেল।
তোমার দাদীর
কথা মনে পড়ে গেল
- তাহলে তাকে এত
দূরে রেখে এসেছ
কেন
কোন উওর নেই
অমিত সাহেবের
কাছে।
নুসরাত
ডাকছে ভাত
খাওয়ার জন্য।
নুসরাত অমিত
সাহেবের বৌ ।
বাবা ছেলে খেতে যায়।
-
আচ্ছা বাবা তুমি আর
মা যখন বৃদ্ধ
হবে তোমাদের
কে কি আমি বৃদ্ধা আশ্রমে রেখে আসব?
ছেলের মুখে এ
কথা শুনে অমিত
আর নুসরাত
নিজেদের
মধ্যে তাকিয়ে থাকে,কারন
তাদের কাছে কোন
উওর নেই।
বিছানায়
শুয়ে অমিত তার
মার কথা ভাবছে।
তার মা তার জন্য
কত কষ্ট
না করেছে।
অমিতের নামের
শেষে সাহেব যোগ
করাটা তো মায়ের
অবদান বেশি।আর
আমি কিনা সেই
মাকে একা বৃদ্ধা আশ্রমে রেখে এসেছি।
যে মা আমাকে কখনও
চোখের আড়ার
হতে দেয় নাই সেই
মাকে নিজের
থেকেই
দূরে রেখে দিয়েছি ।
আমার মা সব সময়
আমাকে নিয়ে গর্ববোধ
করত আর আজ
আমি তাকে অবহেলা করছি।
আমি কি তাহলে ঐ
পাখির থেকেও
অনেক নিকৃষ্ট ।
যে পাখি বৃদ্ধ
মাকে আগড়ে রাখে আর
আমি আমার
মাকে দূরে রাখি।
কেন তার দুষ ছিল
কি,এটাই
যে সে শুদ্ধ
ভাবে কথা বলতে পাড়ে না,আমাদের
সমাজ ব্যবস্থার
সাথে তাল
মিলিয়ে চলতে পাড়ে না।
তাহলে তো আমার
মাকে নিয়ে গর্ব
করা উচিৎ কারন
সে শুদ্ধ
কথা বলতে পাড়ে না কিন্তু
আমাকে তা শেখাল
ব্যবস্থা করেছে,
সে সমাজের
সাথে তাল
মিলাতে পাড়ে না কিন্তু
আমাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত
করেছে।
আজ
আমি অনুতপ্ত ,
বড় ভুল
করে ফেলছি মা কে একা বৃদ্ধা আশ্রমে রেখে।
নুসরাত
শুতে আসল।
- আচ্ছা নুসরাত
আবির যে প্রশ্ন
করেছে সেটা যদি বাস্তব
হয়
- দেখ আমি ছেলের
ভরসায় থাকব
না ,একটা ব্যাংক
একাউন্ট
খুলবো আর
টাকা জমাবো ভবিষ্যৎ
জন্য
- তোমার
কি চিন্তা ধারা,
তুমি তবুও
ভবিষ্যৎ
নিয়ে চিন্তা করছো কিন্তু
আমার মা আমাকেই
তার ভবিষ্যৎ
মনে করত।দেখ
আজ আমাদের
সন্তান যা দেখছে ,
শুনছে তাই
শিখছে । আজ
আবির যেই প্রশ্ন
করছে তা কিন্তু
আমার
মাকে বৃদ্ধা আশ্রমে রেখে এসেছি বলে প্রশ্নটা করেছে যদি আমি আমার
মাকে ভালবাসতাম
তবে আমার
ছেলে শিখত
কিভাবে মা বাবা কে ভালবাসতে হয়
কিভাবে তার
সেবা করতে হয়।
আমি কাল যাব
মাকে ফিরিয়ে আনতে।
- ভুলেও
না,তাহলে আমি থাকব
না এ বাড়িতে।
তোমার মার
সাথে আমি এক
ছাদের
নিচে থাকতে পারব
না
- তুমি থাক আর
না থাক এটা তোমার
ব্যাপার কিন্তু
মাকে আর
আমি কষ্ট দেব না।
মা আমাকে যে ভাবে ছোটকালে লালন
পালন করেছে এখন
আমি তাকে সেভাবে আদর
যত্নে রাখব।
তুমি চলে গেলে আরেক
জন্য আমার
লাইফে আসবে কিন্তু
মা চলে গেলে কোথায়
থেকে আনব।
তুমি যেতে পাড়,
আমি আমার
মা আর আমার
ছেলে খুব ভাল
থাকতে পাড়ব।
আমার
ছেলে কে আমি মানুষ
বানাব তোমার মত
অমানুষ নয়।
নুসরাত তার ভুল
বুঝতে পেরেছে ।
সকালে তারা রওনা হল
বৃদ্ধা আশ্রমে মাকে ফিরিয়ে আনতে।
আবার
ঘরটা আলোকিত
হবে মার পদ
দুলিতে ।
উৎসর্গ :বৃদ্ধা আশ্রমে থাকা মা বাবাদের।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now