বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বৈরী বাতাসে সাঁতার।। ২য় অংশ

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X মক্কা বিজয়ের কিছু পূর্বে হযরত আব্বাস সপরিবারে মদীনায় হিজরত করলেন। রাসূলের (সা) খেদমতে হাজির হয়ে তিনি প্রকাশ্যে ইসলাম কবুলের ঘোষণা দিলেন। সেই সাথে তিনি মদীনায় স্থায়ীভাবে বসবাসও শুরু করলেন। হযরত আব্বাস।– সেই আব্বাস এখন বদলে গেছেন সম্পূর্ণ। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তার পুরো জীবনটাই বিলিয়ে দিয়েছেন ইসলামের খেদমতে। মক্কা বিজয়ে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। হুনাইনের অভিযানে রাসূলের (সা) সাথে একই বাহনে আরোহী ছিলেন তিনি। কী বৌভাগ্য তার! বাহনের পিঠে বসেই তিনি বললেন: “এ যুদ্ধে কাফেরদের জয় হলো এবং মুসলিম মুজাহিদরা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়লো।” রাসূল (সা) বললেন: “আব্বাস! তীরন্দাজদের আওয়াজ দাও।” আব্বাস আওয়াজ দিলেন জোর গলায়: ‘তীরন্দাজরা কোথায়?’… কী আশ্চর্য! আব্বাসের এই তীব্র আওয়াজের সাথে সাথেই ঘুরে গেল যুদ্ধের মোড়। শুধু হুনাইন নয়। তায়েফ অবরোধ, তাবুক অভিযান এবং বিদায় হজেও অংশ নিয়েছিলেন দুঃসাহসী আব্বাস। দুঃসাহসী, কিন্তু তিনিই আবা সত্যের পক্ষে কোমল। কোমল এবং বিনয়ী। আব্বাস ছিলেন অত্যন্ত দানশীল, অতিথিপরায়ংণ ও দয়ালু এক অসামান্য সোনার মানুষ। তার সম্পর্কে হযরত দা’দও বলেছৈন: “আব্বাস হলেন আল্লাহর রাসূলের চাচা, কুরাইশদের মধ্যে সর্বাধিক দরাজ দিল এবং আত্ময়িস্বজনের প্রতি অধিক মনোযোগী। তিনি ছিলেন কোমল অন্তরবিশিষ্ট। দুআর জন্য হাত উঠালেই তার দুই চোখ থেকে গড়িয়ে পড়তো কেবল অশ্রুর বন্যা। এই কারণে তার দুআর একটি বিশেষ আছরও লক্ষ্য করা যেত।” আর মর্যাদার দিকে দিয়ে? মর্যাদার দিক দিয়ে আব্বাস ছিলেন অসাধারণ। স্বয়ং রাসূলে কারীমও চাচা আব্বাসকে খুব সম্মান করতেন। তার সামান্য কষ্টকেও দুঃখ পেতেন দয়ার নবীজী (সা)। একবার কুরাইশদের একটি রূঢ় আচরণ সম্পর্কে রাসূলের কাছে আব্বাস অভিযোগ করলে রাসূল ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন: “সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন! যে ব্যীক্ত আল্লাহ ও রাসূলের জন্য আপনাদের ভালোবাসেন না, তার অন্তরে ঈমানের নূর থাকবে না।” হযরত আব্বাসকে এমনই ভালোবাসতেন আর শ্রদ্ধা করতেন রাসল (সা)। কী অতুলনীয় রাসূলের সেই ভালোবাসা আর সম্মানের নিদর্শন! একবার রাসুল (সা) একটি বৈঠকে কথা বলছেন হযরত আবু বকর এবং উমরের (রা) সাথে। এমন সময় সেখান উপস্থিত হলেন হযরত আব্বাস। চাচাকে দেখেই রাসূল (সা) তাকে নিজের ও আবু বকরের মাঝখানে বসালেন। আর তখনই রাসুল (সা) তাঁর কণ্ঠস্বর একটু নিচু করে কথা বলা শুরু করলেন। আব্বাস চলে গেলেন। আবু বকর জিজ্ঞেস করলেন, “হে রাসূল! এমনটি করলেন কেন?” রাসূল (সা) বললেন: জিব্রাঈল আমাকে বলেছেন, “আব্বাস উপস্থিত হলে আমি যেন আমার কণ্ঠস্বর নিচু করে, যেমন আমার সামনে তোমাদের কণ্ঠস্বর নিচু করার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন।” রাসূলে কারীমের (সা) পর, পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেধীন ও হযরত আব্বাসের মর্যাদা এবং সম্মানের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক। হযরত উমর এবং হযরত উসমান (রা) ঘোড়ার ওপর সওয়ার হয়ে তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার সম্মানার্থে ঘোড়া থেকে নেমে পড়তেন। বলতেন, “ইনি হচ্ছেন রাসূলের (সা) চাচা।” হযরত আবু বকর একমাত্র আব্বাসকেই নিজের আসন থেকে সরে গিয়ে স্থান করে দিতেন। হযরত আব্বাস!- সাগর সমান এই মর্যাদা আর সম্মান কি তার এমনিতেই এসেছে? এই মর্যাদা অর্জন করতে গিয়ে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে ঈমানের বিশাল দরিয়া। আর টপকাতে হয়েছে তার একের পর এক আগুন এবং ধৈর্যের উপত্যক। বৈরী বাতাসে সাঁতার কেটেই তো এক সময় এভাবে পৌঁছানো যায় প্রশান্ত এবং আলোকিত এক নির্ভরতার উপকূলে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বৈরী বাতাসে সাঁতার।। ২য় অংশ
→ বৈরী বাতাসে সাঁতার।। ১ম অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now