বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বোবা বউয়ের রোম্যান্টিক ভালোবাসা---০৫

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ------ ----------------------------- জেনিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানো হলো। আমি চুপ করে মাথা নিচু করে বসে বসে কাঁদছি! কিছুক্ষন পর আব্বু-আম্মু কি ভাবে যেনো খবর পেয়ে আসলো! সাথে আমার সব বন্ধুবান্ধবও আসলো! . আম্মু আমার কাছে এসেই ; -ঠাসসসসসস[আম্মু] . গালে হাত দিয়ে কাঁদছি আর আম্মুর দিকে অবাক চোঁখে তাকাচ্ছি! কিসের জন্য চড় দিলো বুঝতে পারছি না! . -তোর জন্য! শুধু তোর জন্যই মেয়েটার আজ এই অবস্থা! কি এমন দোষ করেছিলো মেয়েটা? বোবা বলে কি ও মানুষ না? তাই বলে তুই...! চি চি পাভেল আমার ভাবতেও ঘৃনা হচ্ছে! [আম্মু] . -বিশ্বাস করো আম্মু আমি ওকে......![আমি] . -চুপ কর! তোর আর একটি কথাও শুনতে ইচ্ছে হচ্ছেনা আমার! [আম্মু] . কি বলবো বুঝতে পারছি না! আম্মু আব্বু সবাই আমাকে এই ভাবে ভুল বুঝবে কখনো ভাবিনি! আম্মুর দিকে তাকিয়ে আছি! চোঁখ দিয়ে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে! . কিছুক্ষন পর অপারেশন থিয়েটার থেকে একজন ডাক্তার বের হয়ে আসলো। আমি দৌড়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম! . -আঙ্খেল জেনিয়ার এখন কি অবস্থা? ও ঠিক আছে তো?[কাঁদতে কাঁদতে] . -দেখো পাভেল এখনো কিছু বলতে পারবো না! ওর গলায় মারাত্নক রকমের একটা রোগ ধরা পড়েছে! ওটার অপারেশন করতে হবে! বাঁচবে কিনা তাও সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা! [ডাক্তার] . -প্লিজ আঙ্খেল! যত টাকা লাগে লাগোক!তবুও ওকে...[পুরোটা বলতে পারলাম না কাঁদার জন্য] . -আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো! বাকিটা আল্লাহর হাতে![ডাক্তার] . ডাক্তার আঙ্খেল আবার অপারেশন থিয়েটার ঢুকে গেলেন! আমি দরজার সামনে বসে কাঁদতে লাগলাম! . -কাদিস না দোস! আল্লাহর ওপর ভরসা রাখ সব ঠিক হয়ে যাবে![নাঈমা] . -আমার জন্যই এসব হলো!কেনযে ওকে পানি দিতে গেলাম! ওর কিছু হলে আমি বাঁচবে না রে![আমি] . -ভয় পাসনা! দেখবি ইনশাআল্লা ভাবি সুস্থ হয়ে যাবে![দিপু] . বন্ধু কাকে বলে আজকে আমি বুঝতে পারছি! শুধু টাকা দিয়েই বন্ধুত্ব গড়া যায়না! বিপদে পাশে থাকাই বন্ধুত্বের মূল উদ্দেশ্য! . রাত ১১টা কি ১২টা বাজে! চোঁখে ঘুম নেই! পাগলের মতো দরজার সামনে হেলান দিয়ে বসে আছি! পাশে তাকিয়ে দেখলাম আম্মু ও আমার সব বন্ধুরাও জেগে আছে! . মাথটা ভীষন ভারি হয়ে আসছে! তবুও অনেক কষ্টে আস্তে আস্তে আম্মুর কাছে গেলাম! আম্মুর চোঁখগুলো লাল গেছে! . ফরসা চেহারাটা কেমন জানি মলিন হয়ে গেছে! . আম্মুর পায়ের কাছে গিয়ে বললাম ; -আমাকে ক্ষমা করে দাও আম্মু! বিশ্বাস করো আমি ইচ্ছা করে এসব করিনি![পায়ে ধরে] . আম্মু কাঁদতে কাঁদতেই আমাকে ঝরিয়ে ধরলো! . -জেনিয়ার আব্বু-আম্মু আসলো না কেনো আম্মু![আমি] . -ওনারা কালকের ফ্লাইটে কানাডা গেছে! ফোন দিয়েছিলাম এসব কিছু শুনে আজকে আবার ফ্লাইটে উঠেছে![চোঁখের জলগুলো মুচতে মুচতে] . আব্বুকে দেখলাম হেলান দিয়ে চেয়ারের ওপর বসে আছে! চোঁখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে! শার্টটা ভিজে গেছে! মুখটা শুকিয়ে গেছে! সবার এই রকম অবস্থা দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না! . হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম! বন্ধুরা সবাই আমাকে সাত্বনা দিতে লাগলো। রাতে কেউ কিছু খাইনি!কাঁদতে কাঁদতে সবাইকে বললাম রেস্টুডেস্ট থেকে কিছু খেয়ে আসতে! . সবাই না করলো! বন্ধুদেরকে বললাম বাসায় চলে যেতে! ওরা যেতে না চাইলেও ওদের কষ্ট হচ্ছে ভেবে জোর করেই বাসায় পাঠিয়ে দিলাম! আম্মু ও আব্বুকে বললাম কিছু খাবার জন্য! কিন্তু খাবেনা বললো! . মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে! চোঁখগুলো বন্ধ হয়ে আসছে! আস্তে আস্তে দরজার পাশে গিয়ে ধপাস করে বসে পড়লাম! ফজরের আযান শুনতে পেলাম! সম্ভবত সকাল হয়ে গেছে! . চোঁখটা মাএ বুঝে আসছিলো! এমন সময় দরজা ধাক্কার শব্দ শুনলাম! চোঁখ মেলে তাকিয়ে দেখি ডাক্তার আঙ্খেল অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হচ্ছে! ডাক্তারের চোঁখে হতাশার চাপ! দৌড়ে ডাক্তার আঙ্খেলের কাছে গেলাম! . -আঙ্খেল জেনিয়া এখন কেমন আছে? ওর কেনো সমস্যা হয়নি তো? [হাতদুটো ধরে] . ডাক্তার আঙ্খেল আমার কথার কেনো জবাব না দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে! . -কি হলো আঙ্খেল কথা বলছেন না কেনো?[কেঁদে কেঁদে] . -অপারেশন ভালোভাবেই হয়েছে! তবে....!..[মন খারাপ করে] . -তবে কি আঙ্খেল? প্লিজ আঙ্খেল কথা বলুন![চিৎকার করে কেঁদে] . -পাভেল সাহেব মিষ্টি নিয়ে আসেন গিয়ে! আপনার স্ত্রীর নরমাল অপারেশনের সাথে ভয়েস অপারেশনেও করা হয়েছে! এখন থেকে আপনার স্ত্রী কথা বলতে পারবে! . তবে খুব সাবধান! জোরে কথা বলতে গেলে আবার সমস্যা হতে পারে!তাই ঐদিকে একটু খেয়াল রাখবেন।[পিট চাপড়ে দিয়ে] . মুখ দিয়ে কেনো কথা বের হচ্ছেনা আমার! চোঁখ দিয়ে আগের থেকেও বেশি অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে! তবে এটা দুঃখের না! সুখের কান্না!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বোবা বউয়ের রোম্যান্টিক ভালোবাসা---০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now