বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ তোর কথা বড্ড মনে পরছেরে। কেন চলে গেলি এভাবে।যাওয়ার কথা তো ছিলো আমার।তাহলে তুই কেনো চলে গেলি আমাকে একা করে দিয়ে।তুই
ছাড়া যে আমার জীবন শুন্য মনে হয়।সবকিছু থেকেও মনে হয় কিছুই নেই।কারন তুই নেই আমার পাশে। কিন্তু তবুও এই ভেবে শান্তি পাই যে তুই আছিস।আমার বুকের মাঝেই আছিস।তুই আছিস। আমার সুখ,দুক্ষ,হাসি আর কান্নার সাথি হয়ে তুই আছিস আমার হৃদয় হয়ে।
২ বছর আগের কথা
শারমিন ঃ দোস্ত আমি না ক্রাশ খাইসি।
রিয়া : কি? তুই খাইসিস ক্রাশ? অসম্ভব।
শারমিন ঃ সত্যি কথা দোস্ত।আমাদের বাসায় নতুন ভাড়াটিয়া একটা ছেলে
আসছে। উফ দেখতে যা কিউট না। তোকে বলে বুঝাতে পারবোনা।
প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে গেছি।
রিয়া ঃ ঐ চুপ করতো।ক্রাশ খাইসে । চিনে না জানেনা ওনি ক্রাশ খাইসে ।
শারমিন ঃ ক্রাশ খাওয়ার জন্য চেনা জানা লাগে নাকি । আজ ক্রাশ খাইসি কাল
চিনে নিবো । প্রবলেম কি?
ইমাদঃ একদম ঠিক ক্রাশ খাইসে ভাল করসে । এইটা তো খুবই পুস্টিকর খাবার । সাস্থের জন্যেও খুব ভালো । তুই এরকম করছিস কেনো?
রিয়া ঃ ঐ ক্রাশার (ইমাদ) তুই চুপ করবি? আর খচ্চর (শারমিন) তুই ইমাদের
কথায় কান দিবিনা । হারামি নিজে তো একটা ক্রাশার তোকেও ক্রাশার
বানিয়ে ছাড়বে । কি জানি হয়তো ঐ ছেলের বৌ বাচ্চা আছে।
শারমিন ঃ দোস্ত তুই আমারে এইভাবে বলতে পারলি। আমি লাইফে ফার্স্ট টাইম
ক্রাশ খাইসি আর তুই আমারে ঐ হারামি ক্রাশারের সাথে তুলনা করতে
পারলি ?
রিয়া ঃ ওকে । তোর যা ইচ্ছা কর । ক্রাশ খা বাশ খা যা ইচ্ছা খা আমি
চললাম।
এই বলে রিয়া উঠে চলে গেলো। শারমিনকে ক্রাশ খাওয়া নিয়ে কিছু টিপস দিয়ে
ইমাদও বাড়ি চলে গেলো।ওদিকে শারমিনও বাড়ি চলে গেলো তার ক্রাশ কে
দেখতে।
ওহ পরিচয়টাই তো হয়নি।এতক্ষন যাদের কথা শুনছিলেন তারা
হচ্ছে ইমাদ,রিয়া,শারমিন।বেস্ট ফ্রেন্ডস।এরা তিনজনই ঢাবিতে সি এস ই ডিপার্টমেন্টে ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। চলুন এবার এদের নিকনেম এবং স্বভাব
সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
ইমাদঃ ~১ নাম্বার শ্রেনির ক্রাশার। ওর ক্রাশের কাছে আন্টি দাদি সব
সমান।ইমাদের ক্রাশ লিস্টে সব ধরনের মেয়ে আছে সুধু সিঙ্গেল
মেয়ে ছাড়া । তাই সবাই ইমাদকে ক্রাশার ইমাদ হিসেবে একনামে চিনে।
শারমিন ~ সেই লেভেলের ঝগড়ুটে আর দাজ্জাল টাইপের মেয়ে।তবে বন্ধুত্তের
বেপারে খুব সেন্সিটিভ।একবার কারো সাথে বন্ধুত্ত করলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও বন্ধুত্ত নষ্ট হতে দিবেনা। ওর নিকনেম
হচ্ছে খচ্চর। এই নামটা দেওয়ার কারন ও আছে। শারমিন মাসে ১২
দিন গোসল করে আর দুইদিনে একবার দাত ব্রাশ করে।বাকি সব পারফেক্ট।
রিয়া ~ মেয়ে তো নয় যেনো কিউটনেস এর বস্তা। একটু গুন্ডি টাইপ।ওর
নিকনেম হচ্ছে ফেইরি কুইন মানে পরীরানী। ওর এই নিকনেম দেওয়ার
কারন হচ্ছে ও আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের সবথেকে কিউট মেম্বার।
তবে আমি বুঝিনা ক্রাশ খাওয়া নিয়ে মেয়েটার এতো এলার্জি কেনো? আমাদের কেউ
ক্রাশ খেলে আর ও জানতে পারলে ঐ ক্রাশ পার্সনের সাথে ঝগড়া না করলে ওর শান্তি হয়না।
অনেক কথা বলে ফেললাম চলুন এবার গল্পে ফিরে যাই।
ঐদিন ঝগড়ার পরে কারোরই মন ভালো নেই।শত হলেও বেস্ট ফ্রেন্ড
বলে কথা। রিয়ার খুব মন খারাপ লাগছিলো।অন্যদিকে শারমিনও বাড়ি
গিয়ে জানতে পারলো যে তার ক্রাশ বিবাহিত।
রাতে রিয়া মন খারাপ করে বারান্দায় দাড়িয়ে আছে এমন সময় ক্রিং ক্রিং করে ফোনটা বেজে উঠল।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো শারমিন
ফোন করেছে।তারাতারি করে ফোন রিসিভ করে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে
ভেসে এলো শারমিনের কান্নাজড়িত কন্ঠ
সরি দোস্ত।প্লিজ আমাকে মাফ করে দে।আমি না বুঝেই তোর সাথে ঝগড়া
করেছি।তুই ঠিকই বলেছিলি ঐ ছেলে বিবাহিত।প্লিজ দোস্ত মাফ করে দে আমায়।
মুহুর্তেই রিয়ার মন খারাপ কোথায় যেনো মিলিয়ে গেলো। রিয়া ধমক দিয়ে বলল
> ঐ হারামি সরি কিরে হা? কিসের সরি? আমরা না বেস্ট ফ্রেন্ড? বেস্ট
ফ্রেন্ডের মাঝে আবার সরি কিসের।
এইবার শারমিনও খুব খুশি হয়ে বললো থ্যাঙ্ক ইউ দোস্ত।
> থাপ্পর মেরে তোর ২৮ টা দাত ফেলে দিবো।আবার বলে থ্যাঙ্ক ইউ।শোন
বেস্ট ফ্রেন্ড দের মাঝে সরি থ্যাঙ্ক ইউ বলে কিছু হয়না।যা হয় তা হল সব দোষ তোর আমি কিছু করিনাই।এটাই হল ভালবাসা।বন্ধুত্তের ভালোবাসা।সত্তিকারের ভালবাসা।
> ঠিক বলসিস দোস্ত তোর মতো বন্ধু পাওয়া সতি ভাগের বাপার।
এভাবেই আড্ডা,ঝগড়া,অভিমান,ভাব এসবের মধ দিয়েই চলতে থাকে তাদের বন্ধুত্ত। কিন্তু বিধাতার মনেও হয়তো এমন বন্ধুত্ত দেখে হিংসা জেগে উঠেছিলো।
একদিন আড্ডার মাঝে হঠাত রিয়া বলে উঠল দোস্ত আমার না খুব শরীর খারাপ করছেরে। এইটা বলেই মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো রিয়া।
ইমাদ শারমিন দুজনেই খুব ভয় পেয়ে গেলো।কি হল রিয়ার। একটা অটো ডেকে ইমাদ আর শারমিন হাসপাতালে নিয়ে গেলো রিয়াকে। ডক্টর জানালেন
অবস্থা সিরিয়াস এডমিট করতে হবে এবং কিছু টেস্ট করাতে হবে।
রিয়াকে হসপিটালে এডমিট করে এবং ওর বাড়িতে খবর দেওয়া হলো।রিয়ার আপনজন বলতে একমাত্র বাবা ছাড়া আর কেউ নেই।তিনি
হাসপাতালে এসে রিয়ার এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। ইমাদ
আর শারমিন ওনাকে শান্তনা দেবার চেস্টা করছে।কিন্তু তারা কিভাবে শান্তনা দিবে।তারা তো নিজেরাই ভেঙ্গে পড়েছে।হঠাৎ করে কি হলো রিয়ার।
কিছুক্ষন পর ডাক্তার এসে যা বললেন তাতে সবার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পরলো। রিয়ার হার্টে বড় ধরনের প্রবলেম ধরা পড়েছে।কালকের মধ্যে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট না করলে রিয়াকে বাচানো সম্ভব হবে না। কিন্তু কালকের মধে ডোনার খুজে পাওয়া
রিতিমত অসম্ভব তবে।তবে আমরা যথাসাধ চেস্টা করব।এই বলে ডক্তার চলে গেলো।
সারাদিন চলে গেলো কোন ডোনার পাওয়া গেলোনা।ওদিকে শারমিনটাও যে
কোথায় গেলো ? দিন পার হয়ে সন্ধা হলো।হঠাৎ ডাক্তার এসে ইমাদ
এবং রিয়ার বাবার কাছে জানালো ডোনার পাওয়া গেছে । কাল সকালে
অপারেশন শুরু হবে। হসপিটালে টাকা জমা করে দিন।রিয়ারা আর্থিকভাবে যথেস্ট সচ্ছল তাই টাকা পয়সা নিয়ে কোন সমসা হলোনা।
ইমাদ মনে মনে ভাবছে শারমিনটা যে কোথায় গেলো।এতো খুশির একটা খবর হারামিটাকে জানাতে পারছেনা।
পরদিন সকালে যথারিতী রিয়ার অপারেশনের কাজ শুরু হলো।অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে।কয়েকদিনের মধেই রিয়া
সুস্থ হয়ে উঠল। কিন্তু এই কয়দিনে সে একবারও শারমিনকে দেখেনি।ইমাদকে জিজ্ঞেস করলে বললো ইমাদও দেখেনি। রিয়ার খুব
রাগ হচ্ছিলো।হারামিটা কোথায় যে গেলো। হঠাৎ একদিন ডাক্তার রিয়ার
হাতে একটা চিঠি দিয়ে পড়তে বলল।
চিঠিটা হাতে নিয়ে দেখলো শারমিনের চিঠি।খুব অবাক হলো রিয়া।শারমিন নিজে না এসে চিঠি কেনো পাঠাবে।আগে তো কখনো এমন
করেনি।রিয়া চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করলো।
জানিস আমি যখন জানতে পারলাম তোর হার্টে প্রবলেম একদিনের মধ্যে অপারেশন না হলে বাচানো যাবেনা তখন আমার ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছিল।সুধু মনে হচ্ছিলো তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি। তোকে ছাড়া আমি কিকরে বাচবো বল। আমি তোকে কখনোই আমাকে ছেড়ে যেতে দেবোনা। আমি জানি আমাদের ব্লাড গ্রুপ,টিস্যু সব
ম্যাচ। তাই আমি তখনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম আমি আমার হার্ট তোকে
দিবো। আমি নিজে মরে যাবো তবু তোকে মরতে দেবোনা তাই আমি তখনি ডাক্তারকে সবকিছু বলি।কিন্তু ডাক্তার হারামি বলে কিনা আমি
জিবীত তাই আমার হার্ট নিতে পারবেনা। কিন্তু তাহলে কিকরে হবে বল।
আমি বেচে থাকতে তোকে কিভাবে মরতে দেই বল। তাই আমি নিজেকে শেষ করে আমার হার্ট তোকে দিয়ে গেলাম। তুই ভাবিসনা আমি দুরে চলে গেছি। আমি তোর সাথেই আছি প্রতি মুহুর্তে প্রতি ক্ষনে তোর হ্ঋদয়ের স্পন্দন হয়ে। তোর সুখ‚দুঃখ‚হাসি‚কান্নার সাথি হয়ে।হা আমি আছি। তোর মাঝেই আছি।মাটির দেহ মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে বেচে আছি তোর
বন্ধুত্তের মাঝে। থাকব চিরকাল।
চিঠিটা পরেই আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলোনা রিয়া কান্নায় ভেঙ্গে
পড়ল।সতি কত স্বার্থপর তুই।আমাকে ছেড়ে একা চলে গেলি। আমাকে যেতে না দিয়ে নিজে চলে গেলি।
এভাবেই মাটির দেহ মাটিয়ে মিশিয়ে দিয়ে শারমিন বেচে রইল বন্ধুত্তের মাঝে। ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে খোদাই করে লিখে দিলো
বন্ধুত্তের নাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now