বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত ২টা।
এই গভীর রাতে দরজায় টোকা দেওয়ার একটা অাওয়াজ শুনতে পেলো বিজয়।
এত রাতে কে হতে পারে এটা বার বার চিন্তা করছে বিজয়।
কেউ তার নাম ধরে ডাকছে,
"বিজয়,এই বিজয় দরজাটা একটু খোল না"
...
কণ্ঠটা বিজয়ের অনেক পরিচিত।
৩ বছর হলো কণ্ঠটা শোনে নি বিজয়।তবুও এতদিন পর মাত্র একবার শুনেও চিনতে অসুবিধা হয় না কণ্ঠটা কার।
হ্যাঁ।এটা রাফিরই কণ্ঠ।
দরজাটা দৌঁড়ে গিয়ে খুলে দেয় বিজয়।দরজা খুলে রাফিকে দেখতে পায় সে।ঠিক অাগের মতোই অাছে রাফি। ৩ বছর পর দেখা তবুও যেন একটুও বদলায়নি রাফি।
...
--কেমন অাছিস?(রাফি)
--তোকে ছাড়া অামি কেমন থাকতে পারি বলে তোর মনে হয়?(বিজয়)
--অাচ্ছা অামার কথা কি তোর মাঝে মাঝে মনে পড়ে না?(রাফি)
--না।মাঝে মাঝে না সবসময়ই মনে পড়ে।তোকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে রে।কিন্ত কীভাবে দেখবো,তুই তো কোথায় যেন হারিয়ে গেলি।অার এতদিন পর কী মনে করে এলি?(বিজয়)
--অামারও তোর কাছে অাসতে মন চায়।কিন্ত অামার যে অাসতে মানা।
--কেনো?
--অামার দেশ থেকে অাসার যে উপায় নেই।
--তাহলে তুই এখন অাসলি কীভাবে?অার তোর দেশের নিয়মগুলো এমন অদ্ভূত কেনো?
--সেটা তোকে এখন বুঝাতে পারবো না।
--তুই এখনও ঠিক অাগের মতোই রয়ে গেছিস।অামাকে তুই ঠিকই বুঝে ফেলতিস।কিন্ত অামি তোকে অনেক সময়ই বুঝতাম না।ঠিক যেরকম এই মুহূর্তে তোর কথার মানে কিছুই বুঝছি না।
--বাদ দে তো এসব।
--জানিস তোর মতো বন্ধু খুব কমই অাছে।কিন্তু তুই একটা কাজ খুবই খারাপ করেছিস।
--কোন কাজ??
--এই যে অামাকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ কোথায় যেন নিরুদ্দেশ হয়ে গেলি।
--অামি তো ইচ্ছে করে নিরুদ্দেশ হই নি রে।
--জানিস তোকে কতটা মিস করি অামি।
--জানি।
--তোর সেই অতি চালাকি ভাবটা গেলো না।তুই কি করে জানলি রে?তুই তো হারিয়েই গিয়েছিলি।
--অামি সব কিছুই জানি।
--এই ৩ বছর তো অারও বন্ধু হয়েছে অামার।কিন্তু তোর মতো তো কেউ অামাকে এতটা বুঝে না।অাচ্ছা তোরও কি নতুন বন্ধু হয়েছে?
--অামার দেশে সবসময় একা একা থাকতে হয়।ওখানে বন্ধু পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
--জানিস অাগে অামি যখন নতুন টি-শার্ট কিনতাম অার তুই অামার অাগেই সেটা পরে ফেলতি তখন কী যে রাগ হতো।
--তোকে রাগাতে অামার ভালোই লাগতো।
--এখন রাগাস না কেনো অামাকে বলতো।এই ৩ বছর অামি টি-শার্টই পরি নি অার।কিনে রেখে দিয়েছি অনেকগুলো।তুই অাগে না পরলে অামি কীভাবে পরি বলতো।কিন্তু তুই তো অার অাসলি না।টি-শার্ট পড়া নিয়ে মারামারি করবো কার সাথে বলতো?
--বললাম না অামি চাইলেই অাসতে পারি না।
--জানিস এখন ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিয়েছি।
--কেনো?
--অাগে তো খেলা নিয়ে তুই প্রতিদিন ঝগড়া বাঁধাতি।অাউট হলে কোনদিনও মেনে নিতি না।প্রতিদিন ঘাঁড়ামো করতি খেলার সময়।অাগে ব্যাটিং করে খেলা বাদ দিয়ে চলে যেতি।
--অামারও খুব ক্রিকেট খেলতে ইচ্ছে করে রে।কিন্তু অামার দেশে খেলার নিয়ম নেই।
--জানিস এখন তোর এই ঘাঁড়ামোগুলা কত্ত মিস করি।তাই এখন অার খেলতে ইচ্ছে করে না।কারণ এখন তোর মতো কেউ তো এমন করে না তাই।
--এখন ঘুরতে বের হস না কেনো?
--বাহ্! তুই এটাও জানিস যে অামি ঘুরতে বের হইনা।
--বললাম না অামি সব জানি।
--সবাই এখন ব্যস্ত থাকে।তোর মতো কেউ নেই যে অামি যখন ঘুরতে বের হওয়ার কথা বলবো তখন সব কাজ ফেলে দিয়ে চলে অাসবে।
--তুই কি প্রশংসার দুয়ার খুলে বসলি নাকি?
--কি যে বলিস।জানিস অামি গত বছর জানতে পারলাম যে অাসলে তোর বাইকটা এক্সিডেন্টে নষ্ট হয়ে যায় নি।অামার চোখের অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে তুই তোর বাইকটা বিক্রি করেছিলি।
--অাসলে তখন এটা ছাড়া অার টাকা জোগাড় করার উপায় ছিলো না রে।
--কিন্তু চোখটা ভালো হওয়ার পর তােকে তো ভালো করে দেখতেই পেলাম না।তুই কোথায় যেনো নিরুদ্দেশ হয়ে গেলি।
--তুই তো কিছুদিন পরেই ডাক্তার হবি।গরীবদের কিন্তু বিনামূল্যে চিকিৎসা দিবি।
--ডাক্তার নাহয় হলাম।কিন্তু অাগের পরীক্ষার সময়গুলো যে খুব মিস করি রে।অামি জানতাম তুই পড়ে অাসবি না।তাই অামাকেই সব পড়ে অাসতে হতো।তোর খাতায় লিখেও দিতাম অনেক সময়।তখন মাঝে মাঝে বিরক্তি লাগতো।এখন পরীক্ষা দিতে গেলে পেছন থেকে তোর মতো কেউ ডাকে না রে।খুব খুব মিস করি পেছন থেকে তোর দেওয়া কলমের গুতোগুলো।
--সরি রে তোকে অাসলেই খুব জ্বালাতাম।
--সরি তো অামার বলা উচিত।তোর যে একটা স্বপ্ন ছিলো একটা ব্যান্ড তৈরি করার সেটা অামি করতে পারি নি।কীভাবে করবো বল?পড়ার যে অনেক চাপ।তুই যেমন চাইলেই তোর দেশ থেকে অাসতে পারিস না তেমনি এখানেও সব কিছু করা এতটা সহজ নয়।
--তোর পথশিশুদের বিদ্যালয়ে এখন কয়জন ছাত্র?
--অামার বলছিস কেনো?পথশিশুদের জন্য একটা বিদ্যালয় করা তো তোর স্বপ্ন ছিলো।অামি তোর ব্যান্ড তৈরি করার স্বপ্নটা পূরণ করতে না পারলেও এটা করার চেষ্টা করছি।
--এই না হলে তুই অামার বন্ধু।
--অাচ্ছা তোর হাতে এই কাটা দাগ কেনো?
--তোর তো জানার কথা।
--কী জানি অামার তো মনে পড়ছে না।বাদ দে এসব অনেকদিন পর তোকে দেখেছি। অায় তোকে জড়িয়ে ধরি।
--অামাকে ধরবি কী করে।অামি তো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
চলি রে।অাজকে অার দাঁড়ানো সম্ভব নয়।
--অারে কোথায় যাচ্ছিস?দাঁড়া,দাঁড়া!অামি জানতাম তুই মরে যাস নি।তুই চলে গেলে তো অাবার অামার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না।
রাফি অার দাঁড়ায় না।একটা ঘন কুয়াশার ভেতর হাঁটতে হাঁটতে চলে যায়।
...
এতক্ষণ বিজয় যে রাফির সাথে কথা বলছিলো সেই রাফি ৩ বছর অাগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।রাফির চেহারাটা বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো অার হাতে বড় করে অনেকখানি কেটে গিয়েছিলো।বিজয়ের দৃঢ় বিশ্বাস রাফি মরে নি।এটা হয়ত অন্য কারো লাশ ছিলো।তার বন্ধুত্বের এই দৃঢ় বিশ্বাসের কারণেই হয়তো রাফি অাজ তার কাছে ফিরে এসেছিলো।কারণ বন্ধু হয়তো মরে যেতে পারে, কিন্তু বন্ধুত্ব যে কখনো মরে না।
...
বেঁচে থাকুক বিজয়-রাফিরা,
বেঁচে থাকুক পৃথিবীর সব বন্ধুত্ব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now