বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্ল্যাক ঈগলের সন্ত্রাস চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ব্ল্যাক ঈগলের সন্ত্রাস চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল আহমদ মুসার। যা ভেবেছিল তাই, সুশৃংখল রেখাগুলো আরবী ক্যালিওগ্রাফি। সরদার জামাল উদ্দিন ও আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন আহমদ মুসার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তাদের চোখে-মুখে বিস্ময়। ক্যালিওগ্রাফির লেখা পড়ল আহমদ মুসা। ক্যালিওগ্রাফিতে একটা শব্দই লেখা রয়েছে। সেটা ‘তাহতা’ অর্থাৎ ‘নিচে’। আহমদ মুসা মুখ ফেরাল সরদার জামাল উদ্দিনের দিকে। বলল, ‘ক্যালিওগ্রাফিক ষ্টাইলে এখানে একটি আরবী শব্দ লেখা রয়েছে।’ ‘আরবী শব্দ? কি শব্দ? কি লেখা?’ বলল সরদার জামাল উদ্দিন। তার কণ্ঠে উত্তেজনা। আহমদ মুসা বলল, ‘নিচে।’ ‘নিচে অর্থ কি?’ বলল সরদার জামাল উদ্দিন। আহমদ মুসা ভাবছিল। বলল, ‘এটা একটা সংকেত হতে পারে। পাথরটার নিচটা দেখতে হবে।’ বলেই আহমদ মুসা হাত দিয়ে চাপ দিয়ে পাথরটা পরীক্ষা করল। পাথরটা বড়, কিন্তু খুব বড় নয়। পাথরটা তেমন নড়ল না বটে, কিন্তু লুজ মনে হলো তার কাছে। ‘আসুন জনাব আমরা পাথরের তলাটা দেখি।’ বলল আহমদ মুসা সরদার জামাল উদ্দিনকে লক্ষ্য করে। তিনজনে পাথরটার একটা প্রান্ত ধরে উল্টে ফেলল। পাথরের তলদেশটির চার প্রান্ত এবড়ো-থেবড়ো হলেও মাঝখানটি বিস্ময়করভাবে মসৃণ। এই মসৃণ জায়গায় খোদাই করা গাছের ছবি। গাছের ছবিটা দেখেই আহমদ মুসা তাকাল চারদিকে। না, কোথাও কোন গাছের চিহ্ন নেই। ‘স্যার, পাথরের তলায় ওটা তো গাছ মনে হচ্ছে।’ বলল আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন। ‘হ্যাঁ, আবদুল কাদের।’ বলে আহমদ মুসা টিস্যু পেপারটি কুড়িয়ে নিয়ে পাথরের গা ভালো করে পরিষ্কার করল। গাছটার শাখা-প্রশাখা পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ল। আহমদ মুসা নিশ্চিত যে, ক্যালিওগ্রাফির সংকেত অনুসরণে পাথরের তলায় গাছ যখন পাওয়া গেছে, তখন গাছও একটা সংকেত হবে অথবা এর কোন অর্থ অবশ্যই থাকবে। আহমদ মুসার দুই চোখ গভীরভাবে দেখতে লাগল পাথরের মাঝে খোদাই করা গাছটিকে। হঠাৎ আহমদ মুসার চোখ দুটি তীক্ষ্ণ উজ্জ্বল হয়ে উঠল আনন্দে। চোখ দুটি তার আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। দেখল যেন আরও ভালোভাবে। গাছের উপর চোখ রেখেই বলল, ‘মনে হচ্ছে জনাব সুখবর, রাজভান্ডার পেয়ে গেছি।’ আহমদ মুসার ঠোঁটে হালকা হাসি। সরদার জামাল উদ্দিন ও আবদুল কাদের কামাল উদ্দিনও ঝুঁকে পড়ল পাথরের উপর। আহমদ মুসা বলল, ‘দেখুন গাছের মাঝ বরাবর ডান থেকে বামে, গাছের খোদাই করা ডালগুলোর সংযুক্ত অংশের উপর ভালো করে চোখ রাখুন, দেখবেন আরবী শব্দ তৈরি হয়ে যাচ্ছে।’ সরদার জামাল উদ্দিন বলল ধীরে ধীরে, ‘হ্যাঁ ভাই আহমদ মুসা সেরকমই তো মনে হচ্ছে। কিন্তু পড়তে পারছি না। ‘আইন’, ‘মিম’ ছাড়া আর কোন অক্ষর স্পষ্ট হচ্ছে না।’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘স্পষ্ট হবে। আর একটু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন। দেখুন আইনের মাথায় একটা গোলাকার আপেল ঝুলছে। ওটাকে নোকতা ধরুন। তাহলে আইনটা ‘গায়েন’ হয়ে যাবে। গায়েনের পর দেখুন বাম দিকে বিলম্বিত হয়ে যাওয়া শাখা কাছাকাছি পাশাপাশি দু’জায়গায় পিরামিড হয়ে উঠেছে। প্রথম পিরামিডের সুঁচালু মাথার উপর দেখুন একটা পাতা গোলাকার অবস্থায় ঝুলে আছে। দ্বিতীয় পিরামিডের নিচে দেখুন দুটি ফুল একই বৃন্তে ফুটে আছে। প্রথম পিরামিডকে ‘নুন’ এবং দ্বিতীয় পিরামিডকে ‘ইয়া’ ধরতে হবে। এবার প্রথম আরবী বর্ণের সাথে পরের বর্ণের মিমকে যুক্ত করুন। তাহলে পাওয়া যাচ্ছে একটা শব্দাংশ ‘গানিমা’। ‘গানিমা’র মিম শব্দের পরে দেখুন তলোয়ারের মত একটা শাখা বাম পাশের শেষ পর্যন্ত গেছে এবং তলোয়ারের শেষ প্রান্তটা বাঁকা হয়ে একটু উপরে উঠে গেছে। আর তলোয়ারের বুকের উপর দেখুন ঝুলন্ত দুটি পাতা কুঁকড়ে বৃত্তাকার হয়ে আছে। ও দুটি বৃত্তকে দুই নোকতা ধরুন। তাহলে ওটা হয়ে যাচ্ছে আরবী অক্ষর ‘তা’। সব মিলে শব্দটা দাঁড়াচ্ছে ‘গানিমাত’। আহমদ মুসার শব্দটা উচ্চারণ শেষ হতেই সরদার জামাল উদ্দিন বিস্ময় ও আনন্দে চিৎকার করে উঠল, ‘মানে ‘মাল’, ধনসম্পদ’। তাহলে এখানেই কি কিংবদন্তীর সেই ধন-সম্পদের একটা ভান্ডার লুকানো আছে? তুমি কি সেই খবরের কথা বলছ?’ সরদার জামাল উদ্দিনের কথা শেষ হতেই আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন বলে উঠল, ‘গানিমাত মানে কি ধন-সম্পদ? ‘মালে গানিমাত’ যুদ্ধলদ্ধ ধন বুঝতাম।’ ‘গানিমাত’ মানে সহজে যে ধন-সম্পদ লাভ হয়। যুদ্ধ জয় থেকে সহজেই সম্পদ লাভ করা যায় বলে ওকেও মালে গানিমাত বলে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ভাই আহমদ মুসা, সত্যই তুমি মনে করছ এখানে ধন-ভান্ডার আছে? ‘গানিমাত’ শব্দ কি সেই ইংগিতই দিচ্ছে?’ বলল সরদার জামাল উদ্দিন। আহমদ মুসা কথা বললেও তার অনুসন্ধানী চোখ পাথরের গাছ ও আশে-পাশে ‘গানিমাত’ বা সহজলভ্য ধনভান্ডারটি এখানে কিংবা কোথায় তার ইংগিত খুঁজে ফিরছিল। পাথরের দিক থেকে মুখ না তুলেই আহমদ মুসা বলল, ‘অবশ্যই জনাব একটা ধনভান্ডার আছে। কিন্তু কোন জায়গায় সেটা আছে, তারই সংকেত আমি খুঁজছি।’ হঠাৎ আহমদ মুসার চোখে পড়ল গাছের গোড়ার ঠিক নিচে পাথরের গায়ে খোদাই করে চোখে পড়ার মত স্পষ্ট করে মিম লেখা। মিমের পরেই একটা তীর আঁকা। তীরের মাথায় একটা ‘এক’ লেখা। তারপর আবার ‘তীর’। তীর চিহ্নের পর দুই লেখা। এরপর তৃতীয় তীর এবং তারপর ‘তিন’ লেখা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, তৃতীয় তীরের মাথা নিমণমুখী এবং ‘তিন’ অংকের মাথাও নিচের দিকে। আহমদ মুসা অংকের এই সংকেতটি দেখাল সরদার জামাল উদ্দিনকে এবং আমার অনুমান ভুল না হলে এটাই ধন-ভান্ডারে পৌছার সংকেত। আগ্রহ ভরে দেখল সরদার জামাল উদ্দিন ও আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন। ভাবছিল আহমদ মুসা। ভাবছিল ধনভান্ডার কোথায় লুকানো আছে, এ নিয়ে নয়। ভাবছিল ধনভান্ডার উদ্ধার আগে, না কাতান-টেপাংগো যাওয়া আগে। ‘ভাই আহমদ মুসা, আমরা কিছু বুঝতে পারছি না অংকের সংকেত থেকে। পাথরকে সামনে রেখে আমরা দাঁড়িয়ে আছি পশ্চিমমুখী হয়ে। তাহলে তীরের সংকেত আমাদের যেতে বলছে দক্ষিণ দিকে। কিন্তু এক,দুই, তিন-এর সংকেতটা বুঝছি না।’ বলল সরদার জামাল উদ্দিন। ‘সংকেত দক্ষিণ দিকের নয়। দেখুন অংকগুলোর আগে ‘মিম’ হল ‘মাগরিব’ এর প্রথম বর্ণ। অথএব ইংগিতটা ‘মাগরিব’ বা পশ্চিম দিকে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘এক, দুই, তিন এর ব্যাখ্যা কি?’ বলল আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন। ‘পশ্চিম দিকে পরপর তিনটি স্থান অথবা তিনটি পাহাড়কে নির্দেশ করা হয়েছে। তৃতীয় স্থান বা পাহাড়ের কোথাও লুকানো রয়েছে ধনভান্ডার।’ আহমদ মুসা বলল। সবাই তাকাল পশ্চিমের পাহাড়ের দিকে। সামনে পাহাড়ের বহু টিলা। তারা যে টিলায় দাঁড়িয়ে সেখান থেকে প্রথম টিলাটা ২০০ গজের মত দূরে হবে। দ্বিতীয় টিলার দূরত্ব হবে ৫০০ গজের মত। আর তৃতীয় টিলাটি কম পক্ষে আধা মাইল দূরে। তৃতীয় টিলাকে টার্গেট ধরলে আধা মাইল দূরের ঐ টিলাতেই তাদের যেতে হবে। কিন্তু আহমদ মুসার মনের ভেতর থেকে এর পক্ষে কোন সাড়া পেল না। আহমদ মুসার দুই চোখ ফিরে গেল আবার সেই অংকের সংকেতে আর কোন ইশারা পায় কিনা দেখার জন্যে। অংক ও তীরের স্থানটাকে আরো ভালো করে মুছে পরিষ্কার করল। তীরের উপর এবার নজর পড়তেই তার চোখে পড়ল, তীরের কিছু উপরে কনুই পর্যন্ত একটা হাত আঁকা। তীরের উপর থেকে ধুলো-বালি সরে যাওয়ায় আহমদ মুসা দেখতে পেল তীরের দন্ডটা প্লেইন নয়, খাঁজ কেটে অনেকগুলো ভাগে ভাগ করা। আহমদ মুসার চোখ দু’টি উজ্জ্বল হয়ে উঠল। গুণে দেখল প্রত্যেকটা তীরে ২০টি করে খাঁজ কাটা আছে। তার মানে তৃতীয় স্থানটা এখান থেকে ৬০ হাত দূরে। আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘তিনটি তীর ও তিনটি অংকে তিনটি স্থানকে দেখানো হয়েছে। তিনটি স্থান একটি অপরটি থেকে ২০ হাত ব্যবধানে রয়েছে। আপনারা দেখুন তীরের পাশে হাত আঁকা আছে এবং প্রত্যেকটি তীরে ২০টি করে খাঁজ আছে।’ শুনেই সরদার জামাল উদ্দিন ও আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন ঝুঁকে পড়ে পাথরের উপর চোখ বুলাতে লাগল। কথা শেষ করেই আহমদ মুসার মনে হলো সংকেতে তিনটা তীর, তিনটা অংক দিয়ে স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে কেন? পশ্চিমে ৬০ গজ বুঝলেই তো হয়ে যেত? হঠাৎ আহমদ মুসার মনে হল, তিনটি স্থানেও ধাঁধাঁ থাকতে পারে। আহমদ মুসা বলল, ‘আমাদেরকে ২০ হাত থেকে প্রথম স্থানে যেতে হবে। ওখানে নিশ্চয় কোন সংকেত পাওয়া যাবে, সেই অনুসারে আমাদের সামনে এগুতে হবে। গাছওয়ালা পাথরটি উল্টিয়ে আগের অবস্থায় রেখে আহমদ মুসা ঠিক পশ্চিমমুখী হয়ে ২০ হাত এগুলো। ঠিক বিশতম হাতের জায়গায় এলো-মেলো, এবড়ো-থেবড়ো অবস্থায় তিনটি পাথর পাওয়া গেল। তিনটি আরবী ‘এক’ লেখাও পাওয়া গেল। প্রত্যেকটি ‘এক’ অংকের সাথে রয়েছে একটি দিক নির্দেশক তীর। তীরের ফলকের সামনে একটিতে ‘মিম’ অর্থাৎ মাগরিব, ‘দ্বিতীয়টি ‘জিম’ অর্থাৎ জুনব (দক্ষিণ) এবং তৃতীয়টির সামনে ‘শিন’ অর্থাৎ শেমাল (উত্তর)। আলোচনা করে পশ্চিমে যাবারই সিদ্ধান্ত নিল তারা। কিন্তু হঠাৎ আহমদ মুসার মনে হলো, পশ্চিমে যেতে হবে আগে থেকেই জানা, তাহলে তিন দিকের এই ধাঁধাঁ সৃষ্টির উদ্দেশ্য কি? সন্দেহের কথা সবাইকে বলে আহমদ মুসা তিনটি পাথরের সংকেতের মধ্যে আর কোন সংকেত পাওয়া যায় কিন দেখার জন্য তিন পাথরের সংকেত ভালোভাবে পরীক্ষা করতে শুরু করল। এই পরীক্ষা করতে গিয়ে আহমদ মুসা বিস্ময়ের সাথে দেখল উত্তর দিকে ইংগিতকারী পাথরের সংকেতে একটি ‘মিম’ বাড়তি আছে। সে ‘মিম’টি পাথরটির ‘এক’ অংকের নিচে ছোট্ট করে লেখা। আহমদ মুসা স্মরণ করল সংকেতওয়ালা পাথরটির গাছের ‘মিম’টির কথা। ‘মিম’টি সেখানে কোন অংকের সাথে ছিল না। ছিল প্রথম ‘এক’ অংকের পেছনের তীরের পেছনে। অর্থাৎ ঐ মিমটি সেখানে শুধু দিক জ্ঞাপক ছিল না, ছিল মূল সংকেত। সুতরাং ‘মিম’কেই অনুসরণ করতে হবে। ‘আমাদেরকে উত্তর দিকে বিশ হাত চলতে হবে।’ বলল আহমদ মুসা। সরদার জামাল উদ্দিন ও আবদুল কাদের দু’জনেই বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে তাকাল আহমদ মুসার দিকে। আহমদ মুসা তাদেরকে ‘মিমের’ রহস্য খুলে বলল। বিস্ময় তাদের চোখ-মুখ থেকে গেল না। তারা অনুসরণ করতে লাগল আহমদ মুসাকে। বিশতম হাতের স্থানে এবারও পেল তিনটি পাথর। তিনটি পাথরেই ডানাছাড়া পাখির ছবি আঁকা। একটি পাখি পশ্চিমমুখী, একটি উত্তরমুখী, তৃতীয়টি পূর্বমুখী। পশ্চিমমুখী পাখির চোখের নিচে ঠোটের উপর একটি ছোট ‘মিম’ আঁকা। সরদার জামাল উদ্দিন ও আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন দু’জনেই মিমটা দেখল। এবার পশ্চিম দিকে ২০ হাত যাবার পালা। সবাই তাকাল পশ্চিম দিকে। বিশ হাত দূরে এই পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু অংশ। এটাই মূল অংশ পাহাড়ের। ওখানে পৌছার একটাই সংকীর্ণ গিরিপথ। গিরিপথের দুই পাশে গভীর গিরি খাদ। সেই সংকীর্ণ গিরিপথ ধরে তারা এগুলো। দশ বারো হাত দূরত্বের স্বল্প পথ পেরিয়ে পাহাড়ের গলিতে গিয়ে পৌছল। গলিটির দক্ষিণ দিকে মূল পাহাড়। আর পশ্চিম, উত্তর এবং পূর্ব দিকে পাহাড়ের দেয়াল। পূর্ব দিকের দেয়ালে মাত্র একটা সংকীর্ণ পথ। এই গলিপথে তারা এগুলো ২০ হাত পূর্ণ করে। যেখানে গিয়ে দাঁড়াল তারা, তার সামনে দক্ষিণ পাশের পাহাড়ের দেয়ালে এবড়ো-থেবড়ো বড় একটা পাথর। পাথরটি যেন তিলকের মত পাহাড়ের বুকে ঢুকে গেছে। পাথরের এক স্থানে অমসৃণ গায়েই নিচের দিকে মাথা বাঁকানো তীর আঁকা। তীরের পেছনেও মিম আঁকা। ‘আলহামদুলিল্লাহ আমরা পৌছে গেছি। আমি নিশ্চিত এই পাথরটিই ধনভান্ডারের মুখের তিলক। এটা সরালেই সেই ধনভান্ডার উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সরদার জামাল উদ্দিন ও আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠল। আহমদ মুসা বলল, ‘আমার একটা প্রশ্ন। আমরা একটা মিশনে এসেছি। হঠাৎই আমরা একটা রাজভান্ডারের মুখোমুখি হয়েছি, যদি সংকেতের বক্তব্য সত্য হয়। এখন আমাদের কি করণীয়?’ সংগে সংগেই আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন বলে উঠল, ‘মিশনটাই আগে সমাপ্ত করা দরকার। ওটা বেশি জরুরি।’ আহমদ মুসার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, ‘ধন্যবাদ আবদুল কাদের। তোমার কাছে এই উপযুক্ত জবাবই আশা করছিলাম।’ আহমদ মুসা থামতেই সরদার জামাল উদ্দিন বলল, ‘আমিও তোমাদের সাথে একমত। তবে আমরা সংকেত ধরে এত দূর এলাম সেটা কি, তা আমরা এখনো জানি না। আমি মনে করি আমাদের এই জানার কাজটা কমপ্লিট হওয়া দরকার।’ ‘আপনার কথাতেও যুক্তি আছে। জনাব। যে অনুসন্ধিৎসায় আমরা এ পর্যন্ত এসেছি, তা শেষ করা দরকার।’ বলে একটু থামল আহমদ মুসা। তারপর আবার শুরু করল, ‘পাথরের উপর ক্যালিগ্রাফী দেখতে পাওয়া এবং সংকেত অনুসরণে এগিয়ে যাবার জন্যে মনে অনুসন্ধিৎসার সৃষ্টি হওয়াকে আমি আল্লাহর ইচ্ছা হিসাবে গ্রহণ করেছি। আমি মনে করছি আল্লাহ আমাদেরকে কোন ধন-ভান্ডার বা অন্য কোন কিছুর কাছে পৌছাতে চান। এই চিন্তাতেই আমি কিছুটা সময় এর পেছনে ব্যয় করেছি। অতএব যা জানার জন্যে এসব করেছি তা জানা প্রয়োজন।’ ‘ধন্যবাদ স্যার। এটাই ঠিক সিদ্ধান্ত।’ বলল আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন। ‘একার পক্ষে সম্ভব নয়, আসুন সবাই মিলে পাথরটাকে সরাতে চেষ্টা করি।’ বলে পাথরের দিকে এগিয়ে গেল আহমদ মুসা। পাথরটিকে দেকেই আহমদ মুসা বুঝল, পাথরটি লম্বভাবে পাহাড়ের বুকে ঢুকে আছে। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে মসৃণ সমতল একটি পাথর পাহাড়ের উপর বসে আছে। আরও একটু মনোযোগ দিলে দেখা যাবে পাথরটি ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে, যা পাহাড়ের স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু দৃষ্টি একটু প্রসারিত করলেই দেখা যাবে ভিন্ন চিত্র। যে পাথর ভেতর থেকে প্রাকৃতিকভাবে উঠে আসে, তার নিচের দিকটা সরু ও মাথাটা মাটি থেকে উঠেই মোটা হয়ে যায় না। তিনজনে মিলে পাথরটা সরিয়ে পাশের একটা পাথরে ঠেস দিয়ে রাখল। পাথর সরাতেই তার নিচে দেখা গেল পাথর কুচি ও মাটিতে নিচটা ভর্তি। স্থানটা গোলাকার। আগ্রহের সাথে সবাই স্থানটা দেখছিল। জমাট বাঁধা পাথর কুটি ও মাটির মধ্যে দুটো চেইন সবারই এক সাথে নজরে পড়ল। তিনটি হাত এক সাথেই সেদিকে এগুলো। আহমদ মুসা হাত টেনে নিয়ে বলল, ‘আমার মনে হয় পাথর ও মাটি কোন কনটেইনারে আটকে আছে। দুই চেইন ধরে টানলেই ওটা বেরিয়ে আসবে।’ তাই হলো। আবদুল কাদের ও সরদার জামাল উদ্দিন, দুজন দুই চেইন ধরে কিছুক্ষণ টানাটানি করতেই টবের মত উপরে প্রসারিত ও পেছনটা সরু একটা কনটেইনার বেরিয়ে এল। কনটেইনার ও চেইন দু’টিই পিতলের তৈরি। কিন্তু বিবর্ণ হয়ে গেছে, চেনার উপায় নেই। কনটেইনারটি পাশে রেখে দিল তারা। পাথর মাটির মধ্য থেকৈ কনটেইনারটি উঠিয়ে নেবার পর ভেতরে দেখা গেল গুহার গোলাকার মুখ জুড়ে কালো একটা ঢাকনা গুহা-মুখের ফুট দেড়েক নিচে। আহমদ মুসা হাত ঢুকিয়ে ঢাকনাটা স্পর্শ করে বুঝল, ওটা ধাতব। ঢাকনার মাঝখানে হাত দিয়ে ধরার একটি রিং পেল আহমদ মুসা। রিং ধরে ঢাকনা উপরে তোলার চেষ্টা করতেই গুটিয়ে ছোট্ট হয়ে গেল। সংগে সংগেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল সকলের। গোটা গুহা জুড়ে সোনালী সূর্যের ঝিলিক। গুহাভর্তি অঢেল সোনার মোহর। তিনজনই বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে। ‘আলহামদুলিল্লাহ।’ বলে উঠল আহমদ মুসা। ‘আলহামদুলিল্লাহ।’ বলল সরদার জামাল উদ্দিন ও আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন এক সাথেই। স্বর্ণ মুদ্রার উপরে আয়তাকার একটা বাক্স দেখতে পেল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা ঝুঁকে পড়ে বাক্সটি তুলে নিল। বাক্সটি সোনার। বাক্সটি উল্টিয়ে আহমদ মুসার মনে হলো এয়ারটাইট লক। বাক্সের মূল অংশ ও ঢাকনা মুখে মুখে ভিড়ানো। খোলার কৌশল খুঁজতে গিয়ে বাক্সের দুই পাশে মূল অংশের উপরে ঢাকনার প্রান্ত ঘেঁষে নিচে বুড়ো আঙুলের ছাপ আঁকা দেখল। বুঝল এ দুই স্থানে বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিতে বলা হয়েছে। দুই বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিল আহমদ মুসা। সংগে সংগেই উপরের ঢাকনাটা ছিটকে উপরে উঠে পড়ে গেল। সকলের আগ্রহী চোখ গিয়ে আছড়ে পড়ল বাক্সের ভেতরে। বাক্সে তিন খন্ড চামড়ার কাগজ। সুন্দর, মসৃণ। এক সময় সাদা ছিল, এখন বিবর্ণ। তাতে আরবী লেখা। কালো কালিতে। সকলের চোখেই অপার অনুসন্ধিৎসা। কি লেখা আছে কাগজটিতে! সবাই সাবধানে হাতে নিয়ে দেখল চামড়ার কাগজ। সরদার জামাল উদ্দিন বলল, ‘আমরা যাবার আগে কাগজে কি লিখা আছে জেনে যেতে চাই। ভাই আহমদ মুসা তোমার কি মত? তুমি পড়বে কাগজটা?’ হেসে আহমদ মুসা বলল, ‘আমি সেটাই ভাবছি। না পড়ে, না জেনে সামনে যেতে মন সায় দিচ্ছে না।’ ‘তাহলে স্যার পড়ুন। নিশ্চয় এতে ধনভান্ডার যিনি রেখেছেন তার পরিচয় ও তাঁর কথা জানা যাবে।’ বলল আবদুল কাদের কামাল উদ্দিন। পড়তে শুরু করল আহমদ মুসা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ব্ল্যাক ঈগলের সন্ত্রাস চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ ব্ল্যাক ঈগলের সন্ত্রাস চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ ব্ল্যাক ঈগলের সন্ত্রাস চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ ব্ল্যাক ঈগলের সন্ত্রাস চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ ব্ল্যাক ঈগলের সন্ত্রাস চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ ব্ল্যাক ঈগলের সন্ত্রাস চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now