বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বকুল গাছতলা

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X আজ ৫ বছর-পর দেশের মাটিতে পা রাখলাম । সত্যি প্রবাসে থেকে দেশের কাটানো সৃতি-গুলোর কথা কত্তো যে মনে পড়েছে তা বলে বুজাতে পারবো না । দেশের মাটিতে ৫ বছর-পর "পা" দিতে পেরে কেমন জানিঃ আন ইজি - আন ইজি ফিল হচ্ছে । কিন্তু এখন ঠিক লাগছে কিছুটা। . গাড়ি করে এলাকায় আসতে না আসতেই অনেক কিছুর পরিবর্তন চোখে পড়ে গেলো । আরে ফারহাদ এখানে খলিল ভাইয়ের চা এর দোকান ছিলো না ? কত্তো আড্ডা মারতাম এখানে । কিন্তু এখন নেই কেন ? আরেকটু সামনে যেতেই কিরে এখানে লিটন ভাইয়ের ফুচকার মুড়ির দোকান ছিলো না ? আড্ডায় কত্তো সময় কাটিয়েছি এখানে । অনেক দোকান ই নেই কেন ? অনেক কিছু দেখেই ফারহাদকে প্রশ্ন করছি ছোট বাচ্চাদের মতো । যেনঃ চেনা শহরের ভিতরে অচেনা এক আমি ডুকে পরেছি । প্রশ্ন জিগ্গাসা করতে- করতে বাড়ির সামনে চলে আসলাম । . গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই ""মা"" গাড়ির সামনে এসে হাজির । আসলো চিন্তা করছি মা জানলো কি করে যে আমরা চলে এসেছি । আসলেই মায়ের সাথে পৃথিবীতে কারো তুলনা হয় না । . তখন মাকে জড়িয়ে ধরে ছোট বাচ্চাদের মতো কান্না করে দিলাম । কান্না-কাটি শেষ করে ঘরে চলে আসলাম । . ৫ মিনিট পর ঘর থেকে বের হয়ে সোজা বকুল-গাছ তলা চলে গেলাম । . বকুল-গাছ তলা এসে কিছুটা অভাক হয়ে রইলাম । এই সেই বকুল-তলা যেখানে আমার লাইফের অনেক গুলো সৃতি জড়িয়ে আছে । যেগুলো হয়তো কখনো ভুলতে পারবো না। . ছোট-বেলার সৃতির কথা মনে পড়লেই পাগলিটার কথা ভীষন মনে পড়ে যায়। . জানি না পাগলির ওই সব সৃতির কথা মনে আছে কি না ? কিন্তু আমার সব মনে আছে । . ছোট-বেলায় যখন বকুল-ফুল কুড়াতাম । তখন প্রায় ফুল কুড়াতে - কুড়াতে পাগলিটা মাথার সাথে যে আমার মাথাটা এসে কিভাবে বাড়ি খেতো কিছুই বুঝতাম না ? মনে হতো আমাদের দুজনের মাথায় মেগনেট ফিট করা আছে । যা উত্তর-মেরু আর দক্ষিন-মেরু হলেই এক সাথে আর্কষন হতো । পাগলিটা ও খুব চালাক ছিলো তখনঃ সুযোগের শত ব্যাবহার করে শুধু-শুধু কান্না করে দিতো । কান্না থামানোর জন্য আমার কুড়ানো সব বকুল ফুল-গুলো ওকে দিয়ে দিতে হতো । আর তখন ই পাগলিটার কান্নাটা থেমে যেত । আমি জানি না এখনো তোর মনে পড়ে কি না ? সেই হারিয়ে যাওয়া সোনালি দিন গুলোর কথা । কিন্তু আমার খুব মনে পড়ে রে ! . তোর মনে আছে তুই একবার দোলনার বায়না করেছিলি । তখন চাচা তোর জন্য ছোট্ট একটা দোলনা বানিয়ে দিয়ে ছিল। তা আমি দোল খেয়ে ছিড়ে ফেলেছিলাম বলে তুই সারাদিন কান্না-কাটি করছিলে আর আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলি । . তারপর আব্বু সুন্দর করে একটা পাকা- পোক্ত করে দোলনা বানিয়ে দিয়ে ছিল। যাতে দুই-জন ব্যক্তি খুব সহজে দোল খেতে পারে । তোর মনে আছে কি ? এই দোলনার কথাটা । . আজ দোলনাটা ঠিক ই আছে । কিন্তু দোলনাতে দোল খাওয়ার জন্য সেই মানুষটা আর পাশে নেই । আজ সত্যি বলছি এই দোলনার চেয়ে আমার মনের দোলনাটা তোকে নিয়ে দোল খাওয়ার জন্য অনেক বেশী বেকুল হয়ে আছে রে পাগলি । মনে আছে কি ? তোর এই বকুল-গাছের দোলনাটার কথা । মনে আছে কি ? এই পাগলাটার কথা ? মনে আছে কি ? . তোর মনে আছে কি ? আমি তোকে অনেক সাহস করে এই বকুল গাছের নিচে পরন্ত বিকালে । আমি তোকে আমার মনে কথাটা বলেছিলাম ! আর তুই লজ্জায় একটা দৌড় দিয়ে সোজা তোদের ঘড়ে চলে গিয়েছিলি । মনে আছে কি ? সেই দিনটার কথা ? পরের- দিন বকুল-গাছ তলায় তুই ও একটা নীল- চিরকুট দিয়ে তোর মনে কথা গুলা প্রাকাশ করেছিলি । মনে আছে কি ? সেই দিন গুলোর কথা ? মনে আছে কি ? . তোর মনে আছে তোর আর আমার ধুম- ঝগড়ার পর । দুজন-দুজনকে জড়িয়ে ধরে প্রচুর কান্না করে দুজন ই দুজনের মাফ চেয়ে ছিলাম । তোর মনে আছে কি ? সেই দিনটার কথা । . আসোলেই তোর আমার সম্পর্কটা তেল আর জলের মতো যে দুটো জিনিস হয়তো কখনো মিশতে চাইলে ও মিশতে আর মিলতে পারবে না এটাই বাস্তব সত্যি । কিন্তু দুটো জিনিস ই কিন্তু তরল পদার্থ এটাই তাদের মধ্যে মিল । তোর আর আমার মধ্যে হয়তো আজ এরকম কিছু ই । আজ ও দুজন - দুজনকে খুব ভালোবাসি কিন্তু আমরা দুজন- চাইলে ও আজ মিলতে পারবো না তেল আর জলের মতো । এটাই বাস্তব সত্যি যাঃ আজ মেনে নিতে পারছি না । . আজ সত্যি এই বকুল-গাছ তালার নিরবতা সেই সৃতি গুলোর কথা বার-বার আমার কানে গুন-গুনিয়ে বলে দিয়ে যাচ্ছে । . সত্যি তোর কি মনে আছে সেই দিন গুলোর কথা? . আসোলে পৃথিবীর সব ভালোবাসা পূর্নতা পায় না। কিছু-কিছু ভালোবাসা অপূর্নতায় ই পূর্নতা পায় । আর রয়ে যায় হাজার ও সৃতি যেগুলো ভুলার মতো না । আর তখন সেই সৃতি গুলোর কথা মনে পরলে কষ্টের বাধ ভেঙ্গে চোখ দিয়ে অস্রু হয়ে বয়ে যায় নিরবে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বকুল গাছতলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now