বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটিকে দেখে খানিকটা
বেকুব হয়ে গেলাম। ব্যস্ত নগরীতে
কেউ কারো দিকে তাকায় না
মানলাম।তাই বলে এতটা দু:সাহস
দেখাবে?মেয়েটিকে ভাল করে
লক্ষ্য করলাম। নীল রঙা জিন্স, সাদা
ঢিলেঢালা শার্ট,কনুই অব্দি হাতা
গোটানো, বাঁহাতে বড় ডায়ালের
একটি ঘড়ি, গলায় কাউবয় স্টাইলে
স্কার্ফ বাঁধা, চুলগুলো বড় নাকি
ছোট
বোঝা যায় না স্টেটসন হ্যাটের
জন্য
। হ্যাটের প্রান্ত কপাল পর্যন্ত টেনে
দিয়েছে।আর হাতে সিগারেট।
এটাই আমাকে অবাক করেছে বেশি।
মেয়েরা আজকাল সিগারেট খায়,
ড্রাগস নেয়
জানি। কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে
কোনো মেয়ে এই দু:সাহস দেখাবে
ভাবিনি।আমার মেয়েটি সম্পর্কে
কৌতুহল হল । ওভারব্রিজের এমাথা
থেকে দৌড়ে ও মাথায় গেলাম।
নেই। মেয়েটিকে হারিয়ে
ফেলেছি।
আমার মাথায় মেয়েটিই ঘুরে
ফিরে আসতে লাগলো বারবার।
.
আমার পরিচয়টা দেয়া উচিত। নইলে
তো গল্প আগাবে না। আমি রাফি।
রাফি হক। একটি ম্যাল্টিন্যাশনাল
কোম্পানির জিএম।ঢাকাতেই
থাকি। বাবা মা চিটাগাং
থাকে। ছোট ভাই অর্ণব এবার
অনার্সে। আর পিচ্চি বুড়ি ছোট বোন
সবে ইন্টারে।বাবা রিটায়ার্ড
ব্যাংকার। মা সোশ্যাল ওয়ার্কার।
আমাদের ফ্যামিলি যাকে বলে
হ্যাপি ফ্যামিলি।
.
কয়েকদিন কাজের চাপে
মেয়েটিকে ভুলেই গেছি।
অফিসের কাজ নিয়ে ডুবে ছিলাম
এতটাই যে বাড়িতেও ফোন দেয়া
হয়নি। লাঞ্চ আওয়ারে অর্ণব ফোন
দিল।
-ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়-
ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া
-আস্তে আস্তে। হুম বল।
-তুই কিন্তু বাড়ি আসিস না।
-কেন রে?
-আম্মু,আব্বু আর স্বর্না মিলে তোকে
কুরবানি থুড়ি বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা
করছে। আমাকে জিজ্ঞেস করতে
বলেছে তোর কোনো পছন্দ আছে কি
না?
দুম করে মেয়েটিকে মনে পড়ে গেল।
অর্ণব কে সবটা খুলে বললাম। অর্ণব আর
আমি ভাই হলেও সম্পর্কটা
একেবারে বন্ধুর মত। ও সবটা শুনে
বললো, 'দেখি কি করা যায় '।আমি
নিশ্চিত হয়ে গেলাম। কারন
অর্নবের
দেখি কি করা যায় মানেই কিছু
করে ফেলা।
.
অফিস থেকে বাসায় ফিরতে
ফিরতে রোজই আটটা নয়টা বাজে।
আজও বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ
করেই দুহাত তুলে রাস্তার মাঝে
একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে গেল।রহিম
চাচা (অফিসের গাড়ির ড্রাইভার)
বেরিয়ে গেল দরজা খুলে। কিছুক্ষন
পর এসে বললো,
-বাবা, মেয়েটিকে জোর করে
বিয়ে দেয়া হচ্ছিল। পালিয়ে
এসেছে। হেল্প চাচ্ছে।
মহা বিপদে পড়লাম। একেতো
বিয়ের সাজ,তারপর রাত। চাচাকে
বললাম মেয়েটিকে গাড়িতে
বসাতে। রহিমচাচা মেয়েটির
লাগেজ তুলে নিল। বাসার সামনে
নামিয়ে দিয়ে চলে গেল চাচা।
.
মেয়েটিকে রুমে এনে
বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলে
এলাম। বললাম আমিই বিয়ে করে
ফেলেছি। বাড়িওয়ালী তখনই
আসবে। কোনোভাবে বুঝিয়ে রুমে
এসে দেখি মেয়েটি নেই।
লাগেজও নেই। বের হতে যাব, তখন
দেখি বারান্দার দরজা খোলা।
এগিয়ে যেয়ে দেখি মেয়েটি
দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকারে। শুধু
সিগারেটের ওঠানামা বোঝা
যাচ্ছে। হঠাৎ মনে হলো এই
মেয়েটি আমার সেই মেয়েটি
নয়তো? আমি মেয়েটির হাত ধরে
ঘরে নিয়ে ভাল করে লক্ষ্য
করলাম।হ্যা, এই সেই হ্যাট পড়া
মেয়েটি। আমি বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে
গেছি। মেয়েটিকে ফিরে পাওয়া
কি কাকতালীয়??
-কি হলো?
আরেকবার চমকালাম।সাধারণত
সিগারেট খেলে একসময় কন্ঠ মোটা
হয়ে যায়। মেয়েটির কন্ঠ অসম্ভব
সুন্দর।
-কককিছু না।
-আমি ঘুমাবো।
বিছানা দেখিয়ে দিলাম।
আমাকে অবাক করে দিয়ে বালিশ
নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লো।
আমিও ফ্রেশ হয়ে এসে কিছু না
খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
ভোর বেলায় ঘুম ভেঙে গেল। কারন
খুঁজতে যেয়ে দেখি জানালার
পর্দা সরানো। রোদের স্পর্শে ঘুম
ভেঙেছে। ঘরের দিকে তাকিয়ে
অবাক হলাম।এটা কি আমার ঘর?এত
সুন্দর করে গোছানো?
কিচেন থেকে ফিসফিস শব্দ আসছে।
পা টিপে এগিয়ে যেয়ে উঁকি
দিলাম। চমকালাম। মেয়েটি
রাম্না
করছে। আমার রান্না করে দেয় যে
বুড়িমা। সে চেয়ারে পা তুলে বসে
আছে। সকালেই বোধহয় গোসল
দিয়েছে মেয়েটি।
কোমরছাড়িয়ে যাওয়া চুল গুলো
থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি
পড়ছে। আরো অবাক হলাম মেয়েটি
আটপৌরে একটা শাড়ি পড়েছে।
কিন্তু কেন যেন খারাপ লাগছে না।
মনে হচ্ছে এই শাড়িটি এই মেয়েটির
জন্যই তৈরি। মেয়েটি দরজার দিকে
ঘুরেছে। আমি মেয়েটির মুখ দেখতে
পাচ্ছি।শ্যামলা মেয়েটি, মোটার
দিকে গড়ন। মৃদু একটা হাসি আছেই।
ঠোঁটের কোনে অদ্ভুত ভাঁজ
মেয়েটিকে দূর্বোধ্য করে তুলেছে।
আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম।
.
ফ্রেশ হয়ে টেবিলে এসে বসতেই
বুড়িমা নাস্তা দিল টেবিলে।
হতাশ হলাম। ভেবেছিলাম
মেয়েটি অন্তত খাবার তুলে দেবে।
মন খারাপ করে প্লেট নিতেই
মেয়েটি ছোট্ট বাটি হাতে
কিচেন থেকে বের হলো। বললো
,'শোনো, বিয়ের আগে যা করেছো
এখন তা চলবে না। ওসব সাহেবী
ব্যাপার বাঙলায় চলে না। যা দিব
তাই খেয়ে উঠবে '।আমি ভয়ে ঢোক
গিললাম।বুড়িমা মুখে আঁচল চাপা
দিয়ে হাসছে। খেতে বসে আমার
অবাক হওয়ার পালা। লুচি আর গরুর
মাংস ভুনা। অবাক চোখে
তাকাতেই বললো, 'কাঁচা বাজার
কিচ্ছু নেই '। আমি পেট পুরে খেয়ে
উঠতে যাব। তখন সেই ছোট্ট বাটিটি
সামনে দিল। পায়েস!আরেকবার
অবাক হলাম।সত্যিই ভাবতে ইচ্ছে
করছিল যে মেয়েটি আমার বউ।
বুড়িমার সাথে সব কিছু গুছিয়ে
বুড়িমাকে বিদেয় করে এলো। এসেই
প্রথম কথাটি বললো,
-স্যরি
-কেন?
-আমি যেটা বুঝেছি সেটা হলো
আপনি ব্যাচেলর। যদি বলতাম আমি
আপনার কিছু নই। তাহলে নানা জনে
নানা কথা বলতো আপনাকে। তাই
এই
মিথ্যেটুকু বলেছি।
-ইটস ওকে। আচ্ছা আপনার নাম তো
জানিনা। বলা যাবে?
-তিতির। তিতির ইসলাম।আপনি?
-আমি রাফি হক।
মেয়েটির পরিচয় আর পালিয়ে
আসার কারন শুনলাম।মেয়েটি
অনার্স
করছে। সৎমা জোর করে আধবুড়োর
সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছিল। তাই
পালিয়েছে।
উপরওয়ালাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
দিয়ে আমি অফিসের উদ্দেশ্যে
বের হলাম।
.
অফিসে যেয়েই অর্ণবকে ফোন
দিলাম।
-ভাইইইইইইই
-কি ব্যাপার?
-তার আগে বল তুই কই?এত শব্দ কেন?
-আমি ঢাকা আসছি। বাড়িতে
বাবা মাকে বলেছি তুই একটা
মেয়েকে ভালবাসিস।তার বিয়ে
হয়ে যাচ্ছিল। বাসায় এনেছিস ।
তারা আমাকে পাঠিয়েছে
ভাবিকে নিয়ে যেতে। আর আমি
আসছি তোর সেই মেয়েটিকে
খুঁজতে।
-তুই কি টিকেট কেটে ফেলেছিস?
-না
-কাটিস না ।
-কেন?
কাল রাত থেকে ঘটে যাওয়া সব
কিছু বললাম ওকে। সব শুনে ও বললো ,
'তাহলে তোকে একসপ্তাহ সময়
দিচ্ছি। মেয়েটিকে প্রপোজ করবি।
আমি সামনের সপ্তাহে বাবা
মাকে নিয়ে আসছি। '
-একসপ্তাহ মাত্র?
-এই ইনাফ। নইলে সব ফাঁস করে দিব।
নিজেই খাল কেটে এনাকোন্ডা
ডেকে নিয়ে এলাম।
.
বাসায় ফিরে কলিংবেল চাপার
আগেই দরজা খুলে দিল তিতির। ধূসর
তসরের শাড়ি, লম্বা বিনুনী ,
চোখে গাঢ় করে কাজল, আর ছোট্ট
নোস্পিনে ওকে দারুন লাগছিল।
অবাক হলাম কিভাবে বুঝলো?
-খাম্বার মত দাঁড়িয়ে রইলেন কেন?
যান ফ্রেশ হয়ে নিন। আমি খাবার
দিচ্ছি।
-হু
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি কোমরে
আঁচল পেঁচিয়ে টেবিলে খাবার
দিচ্ছে। খেতে বসে গেলাম।
ক্ষুদাও ছিল। হঠাৎ মনে হল
মেয়েটি খেয়েছে কিনা
জানিনা।
-আপনি খেয়েছেন?
-উঁহু
-কেন?
-একা খেয়ে অভ্যাস নেই।
-বসুন
খাওয়া শেষে তিতিরকে কাজে
হেল্প করলাম। তিতির আমাকে
বারান্দায় বসতে বলে বেরিয়ে
গেল। কিছুক্ষন পরেই বারান্দায়
এসে বসলো। হাতে কফির মগ।
.
-থ্যাংকস
-নো মেনশন
-আচ্ছা তিতির, তুমি সিগারেট খাও
কেন?
-এমনি। ভাল লাগে।
-আর খাবেন না
তিতির হেসে ফেললো শব্দ করে।
-হাসছো কেন?
-একবার আপনি একবার তুমি।
-স্যরি।
বলে চুপ করে গেলাম। হঠাৎ করেই
কথা বলতে শুরু করলো তিতির।আমি
মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম।কয়েকদফা কফি
হয়ে গেল। যখন গল্প শেষ করে উঠলাম
তখন প্রায় রাত তিনটা।কিন্তু দুজন
দুজনের কাছে অনেকটা ফ্রি হয়ে
গেছি।তিতির আমাকে কখন যে তুমি
করে বলতে শুরু করেছে খেয়াল
করিনি। আমিও তুমি করেই বলছি।
.
ভোরে ঘুম ভাংলো কলিংবেলের
শব্দে। আমি আর তিতির দুজনেই
চমকে
গেলাম।এত ভোরে কে আসতে
পারে?
তিতির যেয়ে দরজা খুলল। বাবা,
মা,অর্নব,স্বর্নাকে দেখে আমি
পুরোই টাশকি।
-ততত তোমরা?
-সারপ্রাইজ
আমি কি করবো বুঝছি না। তিতির
ঢিপ ঢিপ করে সালাম করে
ফেলেছে বাবা মা কে। অর্নব আর
স্বর্নাও ওর দুপাশে দাঁড়িয়ে
মিটিমিটি হাসছে।
-ভাইয়া
-হু
-অর্নব ভাইয়া কালকে সব বলেছে
বাবাই কে। বাবাই তার বৌমার
জন্য
আর দেরী করতে চাইলো না।
-চুপ কর
স্বর্না আর অর্নব হাসছে।বাবাই
বললো তিতিরকে।
-এই মেয়ে, এদিকে এসো
-জ্বি
-দেখোতো আমার স্টেডিয়ামে
কয়জন প্লেয়ার আছে?
তিতির বাবার কথা শুনে আর টাক
দেখে খিলিখিল করে হেসে
ফেললো
।মা বললো,
-শোনো মেয়ে, অর্ণবের কাছে
তোমার কথা শুনেই চলে এসেছি।
ঠিক করেছি তোমাকেই মেয়ে
করবো।আপত্তি নেই তো?
তিতির মাথা নেড়ে সায় দিল।
অর্ণব আর স্বর্না হুল্লোড় করে উঠল।
এমন
একটা ফ্যামিলি সবারই থাকলে
ভাল
হয়।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now