বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিয়ে অতঃপর প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Jewel (০ পয়েন্ট)

X পরীক্ষা শেষ তেমন কাজ কাম নাই। পড়ন্ত বিকালে ছাদের এক কোনের দোলানায় বসে থাকতে ভালই লাগে। বিকেলে গিটার নিয়ে ছাদে গেলাম। অনেক দিন গিটার টা বাজানো হয় না। প্রায় ভুলে গেছিলাম কিভাবে গিটার বাজাতে হয়। দোলনায় বসে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা করে একটা গানের সুর তুললাম। কেনো হঠাৎ তুমি এলে নয় তবে পুরোটা জুড়ে। পুরা গানটার সুর তুলে গেয়েই ফেললাম। -বাহ আপনি তো বেশ ভালই গান গাইতে পারেন আর গিটার তো ভালই বাজাতে পারেন। -ধন্যবাদ -আমি তিথি! আপনি নিশ্চয় শিহাব ভাইয়া? -হ্যাঁ আমি শিহাব? আমাকে চিনেন কি ভাবে? -আমরা গত মাসে আপনাদের ৩য় তালায় ভাড়া এসেছি। আন্টির কাছে আপনার কথা শুনেছিলাম। -ও আচ্ছা, আপনি থাকেন তাহলে আমি আসি। -আচ্ছা। , মায়ের কাছে শুনেছিলাম নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে কিন্তু জানতাম না এত সুন্দর একটা মেয়ে সহ আসছে। বাবা মারা যাওয়ার পর বড় ভাইয়া আর আম্মু সংসার টা চালায়। সংসারের ছোট ছেলে হিসাবে বেশ ভালই আদর পাই। আমি আমার মায়ের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ট সন্তান। যে কেউ আসুক যদি ছেলে মেয়ের কথা উঠে তাহলে আমার শিহাব এটা আমার শিহাব ওটা ইত্যাদি ইত্যাদি। বড় ভাইয়া ব্যবসার কাজে সব সময় বাইরেই থাকে। বিয়ে করার কথা বললেই বলে সময় হয় নি, সময় হলে করে নিবে। মনটায় কয় আমি বুড়া হইলে ভাইয়ার সময় হবে। যাক কি আর করার বড় ভাইয়া বলে কথা।।সন্ধ্যার সময় সারা বাড়িতে আমি আম্মু আর কাজের মেয়ে সাবিহা ছারা কেউ থাকে না। আর সাবিহা কাজের ফাঁকেফাঁকে লেখাপড়াও করে। তার প্রবল ইচ্ছা দেখে আম্মু নিজে তাকে পড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। মাঝে মাঝে আম্মু নিজেই তাকে নিয়ে পড়তে বসে। হঠাৎ আম্মুর রুম থেকে হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। এমন সময় হাসির শব্দ শুননে একটু অবাক হলাম! অবাক না হয়ে উপায়!! আম্মুকে আমি ছাড়া আর কেউ হাসাতে পারে নি। বাবার মৃত্যুতে যেন আম্মুর হাসির ও মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র আমি ছাড়া কখনো কেউ হাসাইতে পারছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আজ কি হল। ভুতে ধরল না তো? ধুর কি সব ভাবতেছি। আম্মুর রুমে গিয়ে দেখি তিথি আর আম্মু দুই জনে হাসা হাসি করতেছে। দেখতে ভালই লাগছে। মায়ের হাসি মাখা মুখ কার না দেখতে ভাল লাগে,? অপর দিকে তিথিকেও অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে। তার হাসিতে গালে টোল পড়া। আর টোল পড়া মেয়েদের হাসি অনেক সুন্দর হয়। দুই জনেই অট্টহাসিতে মেতে উঠছে। দরজায় দাড়িয়ে আমি ওনাদের হাসি উপভোগ করছি। মাঝে মাঝে সাবিহাও হাসি দিচ্ছে আর কি যেন লিখতেছে। নিশ্চই আম্মু হাতের কাজ দিয়েছে। মেয়েটা খুব বুদ্ধিমতী। অসাধারন তার জ্ঞান , একটা জিনিস একবার দেখলে তার খুব ভাল ভাবেই মনে থাকে। একদিন মেয়েটা আম্মুকে গিয়া বলতেছে, খালা মুই পড়ালেখা করমু, বড় হইয়া গরীব বাচ্চাদের পড়ামু। মুই ও লেখাপড়া করতে চাই। আম্মুও না করে নি, সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের বাসায় তেমন তার কোন কাজ নেই শুধু আম্মুর দেখাশুনা ছাড়া। রান্না বান্না আম্মু নিজের হাতেই করে। আর কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ওয়াস করা হয় তার কাজ শুধু আম্মুর দেখাশুনা করা। আম্মু কখনো ওকে দিয়ে জোর করে কোন কাজ করায় নি। কাজের মেয়ে হলেও সব সময় নিজের মত করে দেখেছে। আমার বোন নাই তাকে নিজের বোনের মত দেখেছি। তার স্বপ্ন পূরনের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছি। দরজায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে তিথির আর আম্মুর হাসা হাসি দেখতেছিলাম। কিন্তু কি নিয়ে এত হাসাহাসি হচ্ছে সেটা জানার খুব ইচ্ছা হচ্ছে কিন্তু জানব কি করে!! জানতে গিয়ে যদি ইজ্জতের ফালুদা বানায় ফেলি। -কিরে বাবা আয় আয় ভিতরে আয় (আম্মু হাসতে হাসতে ভিতরে আসতে বলল) -ভাইজান দেখেন তো এইডা ঠিক অইছে নি? (সাবিহা) -তোরে না বলছি ভাল ভাবে উচ্চারন করবি? (আমি) -আচ্ছা ভাইজান (সাবিহা) -শিহাব ও হচ্ছে তিথি আমাদের উপর তলায় থাকে। লক্ষী একটা মেয়ে এইবার ইন্টার পাস করল। মায়ের কথা চুপ চাপ শুনতে লাগলাম। যে ভাবে প্রসংসা করতে লাগছে যেন তার পোলার বউ। মেয়েও শরমে গরম তাকে লক্ষী বলছে। আমাকে দেখে হাসি থামিয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে। আম্মু আমাদের রেখে সাবিহাকে নিয়ে চা বানাতে চলে গেল। মেয়ে তো মাথা নিচু করে বসেই আছে কোন কথা নাই। -কি নিয়ে এত হাসা হাসি হচ্ছিল জানতে পারি? (আমি) -আপনাকেই নিয়ে হাসতেছিলাম (মাথা নিচু করে উত্তর দিল তিথি) -আমি আবার কি করলাম? -আপনি নাকি ক্লাস ৯ এ থাকতে টয়লেটে আটকা পড়ে গিয়ে সে কি কান্না করেছিলেন আন্টি সেটাই বলল। দিছে রে ইজ্জত আর রাখল না, ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে শরবত বানিয়ে দিল। অনেক কথা বলার পর আম্মু চা নিয়ে আসল। চা খেতে খেতে আম্মুর আর তিথির কথা খুব মন দিয়ে উপভোগ করছি। মেয়ে টি কত সুন্দর করে কথা বলছে। মনে হচ্ছে রূপকথার বই থেকে সব কথা গুছিয়ে এনে কথা বলছে । দেখতে দারুন লাগছে। আমি মেয়েটির দিকে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিকে আছি। সেও মাঝে মাঝে আড় চোখে চাইছে। কথা বলার পর সে তার মতো চলে গেলো আমি আমার মত আমার রুমে চলে এলাম। টুকিটাকি এভাবে তিথির সাথে কথা চলতে থাকে। আজকাল তার কথা খুব বেশি মনে হচ্ছে , খুব বেশি মিস করি। সবসময় কথা বলতে মন চায়। মন চায় সারাক্ষন এক সাথে থাকি, পড়ন্ত বিকালে সূর্যস্ত দেখি। চাঁদনী রাতে তার কোলে শুয়ে জ্যোৎস্না বিলাস করি। আমার মনে হয় তার প্রেমে পড়ে গেছি। সেও কি আমার মতো ভাবে নাকি শুধু আমিই। -শিহাব, ওই শিহাব? (আম্মু) -জ্বী আম্মু বল! (আমি) -বাবা একটু তিথিকে ডেকে দাও তো? একি মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! -ওকে আম্মু যাচ্ছি। আম্মুর ভদ্র ছেলের মতো চলে গেলাম তিথির বাসায়। দুই বার কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিল। -আসসালামুয়ালাইকুম আন্টি (আমি) -ওয়ালাইকুম আসসালাম ! কেমন আছো বাবা? (তিথির আম্মু) -আলাহামদ্দুলিল্লাহ ভালো আন্টি! আপনি কেমন আছেন? -আল্লাহ্ রাখছে বাবা।।বাবা বাইরে দাড়ায় আছো কেনো ভিতরে আসো।। ভদ্র ছেলের মত ছোপায় গিয়া বসলাম। এই প্রথম শ্বশুর বাড়ি থুক্কু তিথিদের বাসায় আসছি। মনে হচ্ছে নতুন জামাই হয়ে এসেছি। আন্টি তিথি তিথি বলতে বলতে ভিতরে গেলেন। তিথি দেখে হয়তো অবাক হবে হয়তো নাও হতে পারে। -আপনি এখানে? (খানিক টা অবাক হয়ে প্রশ্ন করল তিথি) -কেনো আসতে পারি না বুঝি? -আরে তা না কখনো আসেন নি তো তাই। ৬ মাসে আপনাদের বাসায় কম পক্ষে দুই বার যাই আর আপনি এই প্রথম আসছেন তাই অবাক হলাম। -আম্মু আপনাকে যেতে বলছে। কথা টা বলেই দাড়িয়ে পড়লাম বের হয়ে আসার জন্যে। পা বারালাম, কিন্তু পিছন থেকে কে যেন কাধে হাত দিল। পিছনে তাকিয়ে দেখি আর কেউ না তিথি। আমি ভেবেছি নিশ্চই আন্টি হবে। -কি হলো যাচ্ছেন কেনো? -কাজ শেষ তাই। -এই প্রথম আমাদের বাসায় আসছেন কিছু না খেয়ে যাবেন মানে। -নাও বাবা পায়েস খাও , তিথি নিজ হাতে রান্না করেছে। (তিথির আম্মু) হাতে নিয়ে নিলাম। হবু বউ রান্না করছে বলে কথা, না খেয়ে পারা যায়। খেয়ে তিথিদের বাসা থেকে চলে আসলাম। রুমে এসে গিটারটা হাতে নিয়ে মনের আনন্দে গান গাইতেছি। মুসকুরানে কি বাজা তুম হো, গুনগুনানে কি বাজা তুম হো, হঠাৎ বাইরে তাকিয়ে দেখি দরজায় তিথি দাড়িয়ে আছে। তাকে দেখে গানটা থামিয়ে দিলাম। -কি হল গান থামিয়ে দিলেন কেনো? (তিথি) -না মানে এমনি (মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে উত্তর দিলাম) -আন্টি বলছে আমাকে নিয়ে শপিং এ যেতে। -আমাকে বলছে যেতে? -হ্যা আপনাকেই? -ওকে রেডি হয়ে আসেন। -ওকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করেন আসতেছি। আবার ও মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। কিন্তু এই বৃষ্টি মনে হয় এত তাড়াতাড়ি শেষ হচ্ছে না। কারন মেয়েদের ৫ মিনিট ৫০ মিনিটেও শেষ হতে চায় না। তার শেষ হবে কি না জানি না। দীর্ঘ ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ম্যাডামের আগমন ঘটল। যে ভাবে সেজে এসেছে মনে হচ্ছে আমার সাথে ডেটিং এ যাচ্ছে। নীল একটা ড্রেস পড়ছে হালকা মেকাপ, চোখে হালকা কাজল দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। দেখে তিথির উপর থেকে চোখ সরাতে পারছি না। যতো দেখছি ততো দেখার ইচ্ছা গুলো প্রখর হয়ে যাচ্ছে। -এই যে মিস্টার কি দেখছেন।( তিথি) -তোমাকে, তোমার অপরূপ সূন্দর্যকে। তোমার কাজল কালো আখি দুটোকে। (আমি) -এই যে মিস্টার (সামান্য ধাক্কা দিয়ে) -আহ। এতোক্ষন লাগে নাকি? (নিজেকে সামলিয়ে) -আমি অনেক ক্ষন আগেই এসেছি। - ওকে চলেন! একটা রিক্সা নিয়ে নিউ মার্কেটের উদ্দ্যেশ্য রওনা দিলাম। দুই জন রিক্সার দুই পাশে মধ্যে সামান্য গ্যাপ থাকলেও আমার কাছে বিশাল গ্যাপ মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি টেকনাফ আর তিথি তেঁতুলিয়া বসে আছে। -এই যে মিস্টার নামুন (তিথি)। তিথির ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম। রিক্সা ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে। ভিতরে চলে গেলাম। এ দোকানে একবার সে দোকানে একবার। এ রকম করে ৩ ঘন্টায় মাত্র ৩ টা জিনিস কিনছে। এই জন্যে মনে হয় ছেলেরা কখনো মেয়েদের সাথে শপিং এ যেতে চায় না তবে আমার কিন্তু বেশ ভালই লাগছে। শপিং শেষ করে বাসায় ফিরে এলাম। তিথিকে মনে কথা টা বলে দিব নাকি সরাসরি আম্মুকে বলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাব। ওই দিকে বড় ভাইয়াও বিয়ে করে নাই আরেক মসিবত। ভাইয়াকে মনে মনে কতো গুলা বকা দিলাম ওরে ভাই নিজের জন্যে না হয় ছোট ভাইটার পথ ক্লিয়ার করার জন্যে বিয়েটা কর। না তিথিকে না বলে আম্মুকে বলব আগে। কারন আম্মু আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড। প্রায় সব কথাই আম্মুর সাথে শেয়ার করি। তাই এটাও বলব। সকালে বলব বলে ঠিক করে ঘুমিয়ে পড়লাম। -আম্মু তিথিকে তোমার কেমন লাগে? (আমি) -কাহিনী কি বাবা খুলে বল? (আম্মু) সাত পাঁচ না ভেবে সব খুলে বলাম। আম্মু শুনে খুশি হল আর বলল তিথির সাথেই আমার বিয়ে হবে বাট ভাইয়ার বিয়া আর আমার টা একই সাথে। খুশিতে আম্মুকে একটা চুম্মা দিয়ে চলে গেলাম নিজের রুমে। ১ মাস পর এক সাথে দুইটা বিয়ে সম্পূর্ন হল। -এই যে মিস্টার আমাকে এত ভালবাসেন তাহলে আগে বলেন নি কেনো? (তিথি) -যদি তুমি না করে দিতা তাই। (আমি) -আরে হাদারাম আমিও তোমাকে ভালবাসতাম। কত ইচ্ছা ছিল প্রেম করে বিয়ে করব কিন্তু আমার সব ইচ্ছায় পানি ঢেলে দিছেন। -তাতে কি হইছে এখন প্রেম করব? -তাহলে প্রপোজ কর! -তিথি তুমি কি আমার ভাতিজারর চাচি হবা? আমার গিটারের সুরে গান শুনার দর্শক হবা। আমার রাতের মশারি টানিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিবা। -হুম! অবশেষে তিথিকে নিজের করে পেয়েই গেলাম।বিয়ের আগে ভালবাসতে না পারলেও আমরা বিয়ের পর দুই জন প্রেমিক প্রেমিকার মত একজন আরেক জনকে ভালবাসি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিয়ে বাড়ি বেড়াতে যাওয়া, অতঃপর প্রেম
→ বিয়ে অতঃপর প্রেম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now