বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিয়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X সবার পিড়াপিড়িতে অবশেষে বিয়ে করার জন্য রাজি হলাম। মাও মেয়ে দেখা শুরু করে দিয়েছে। অনেককে বলেও রেখেছে মেয়ে দেখতে। কি তোলপাড় কান্ড শুরু হয়ে গেছে ছেলে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। বিয়েতো নয় মনে হয় যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অফিসে গেলেও কলিগরা জিজ্ঞেস করবে……… -- ভাই মেয়ে দেখেছেন দু'একটা?? আমার কাছে একটা ভালো মেয়ে আছে। কোন ভুলে যেনো হ্যা বলেছিলাম বিয়ে করবো বলে। এখন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। . রাতে খাবার খেতে বসলাম সবার সাথে। মা প্লেটে ভাত দিতে দিতে বলল……… -- কাল অফিস থেকে বিকেলে ছুটি নিস। -- কেনো? -- কাল তোর জন্য মেয়ে দেখতে যাবো। -- তোমরা গেলেই তো হয়। আমি এসবে যেতে পারবো না। -- তুইও যাবি মেয়ের ছবি দেখেছি, আমাদের ভালো লেগেছে এখন সরাসরি দেখে কথা বলবো। -- না কাল অফিসে অনেক কাজ পারবো না। -- আচ্ছা ঠিক আছে আমরাই যাবো। মনে মনে বললাম যাক বাঁচা গেলো। . পরের দিন …………… -- হ্যা মা বলো। -- তুই কোথায়??? -- এই তো অফিসে। -- আজ কত তারিখ তোর মনে আছে? -- কি… আমার তো কিছু মনে নেই। -- রাতের ফ্লাইটে যে তিশারা আসবে তুই কি ভুলে গেছিস?? -- ওহ্ হ্যা আমি অফিস থেকে চলে যাবো সোজা এয়ারপোর্ট। -- না বাসায় আসিস তোর বাবাও যাবে ড্রাইভারকে বলে রেখেছে। -- আচ্ছা। মা ফোন রেখে দিলো। চিন্তায় পরে গেলাম এবার তাহলে বিয়ের কাজ সেরেই আপুরা যাবে। তিশা আমার বড় বোন, বাহিরে থাকে পরিবার সহ। বিয়ের জন্যই আসছে তারা। একমাত্র বোনকে ছাড়া বিয়ে করবো না বলতেই মা আপুকে জানিয়ে দেয়। আর আপুও রাজি হয় দেশে এসে আমার বিয়ে দিতে। . বিয়ের কিছু না হতেই বাড়ি পুরো বিয়ে বাড়ি হয়ে গেছে। বেশ ভালোই আনন্দে দিন কাটছে। রুমে শুয়ে ছিলাম। দুলাভাইকে দেখে উঠে বসলাম। দুলাভাই পাশে এসে বসে বলল……… -- কি শালা ভাই …… বিয়ে তাহলে করতে রাজি হয়েছো। -- আপনারাই তো পাগল হয়ে গেলেন। বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন তো আর কি করার। -- হুম যত কিছু হোক বিয়ে তো তোমাকে করিয়েই দেশে ফিরবো। বনের বাঘ খাচায় বন্দী এবার করবোই। -- হাহাহা……… বনের বাঘ। -- হুম দেখনা এখন আমি খাঁচায় বন্দী। . -- এই তুমি কি বললে আমি তোমাকে বন্দী করে রেখেছি?? আপু পিছন থেকে এসে বলল। দুলাভাই বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল। বলল……… -- আরে না কি বলো? আমি তো ওকে পরামর্শ দিচ্ছিলাম যে বউ আর কি বউ। -- কি বউ কি?? বউ কি খাঁচা?? -- আরে তুমি এসব বুঝবে না ……… তন্ময় তুই বিশ্রাম নে আমরা আসি। -- বলো ……… বলো আমার ভাইকে কি বলছিলে এতক্ষণ? -- বলছি তো রুমে চলো। আমি হাসছি তাদের কান্ড দেখে। দুলাভাই আমার দেখা খুব ভালো একজন মানুষ। অনেক ভালোবাসেন আমাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতোই দেখেন। . রাতের খাবার খেতে খেতে আপু জানিয়ে দিলো। মায়ের মেয়ে পছন্দ হয়ে গেছে এবার শুধু আমি দেখে পছন্দ করলেই পাকা কথা। দুলাভাই আমাকে একটা খোচা দিয়ে আস্তে করে বলল……… -- শালা মিয়া কাল তাহলে তোমার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে বউ নামের আজব প্রানী। এদের বুঝতে বুঝতে তোমার জীবনের বাকি দিন গুলো চলে যাবে। -- দুলাভাই এত ভয় দেখান কেন?? -- হাহাহা……… চুপ করে খা। . বসে আছি মাথা নিচু করে। মেয়ের দিকে তাকাতেই কেমন লাগছে। দুলাভাই কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলল……… -- তন্ময় ………। -- হুম? -- বুঝতে পারছি না……… তুই মেয়ে দেখতে এসেছিস নাকি মেয়ে তোকে দেখতে?? মেয়েদের মতো এমন লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে আছিস কেনো? -- ভাই কেমন যেনো লাগছে। -- আচ্ছা আমরা ওদের একটু আলাদা কথা বলার ব্যবস্থা করে দেই নাকি!কি বলেন আপনারা?? দুলাভাই হঠাৎ এমন একটা প্রস্তাব দিয়ে বসল। আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো। মেয়েটার সাথে কি কথা বলবো?? সবাই তো যা জিজ্ঞেস করার করেছে। আমার তো কিছুই বলার নেই আর সবার পছন্দই আমার পছন্দ। মেয়ের ভাই বলল……… -- হ্যাঁ ঠিক বলেছেন……… আসুন আপনারা আমাদের বাড়িটা একটু ঘুড়ে দেখুন। ওরা গল্প করুক। এই মিজান ছাদে একটু হালকা নাস্তার ব্যবস্থা কর। . সবাই চলে গেল। দুলাভাইকে জোর করে ধরে রেখেছি। দুলাভাই মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলল…… -- এই যে মেয়ে আমার আদরের শালাকে উল্টো পাল্টা কিছু বলো না। বাচ্চা ছেলে ভয় পায়। দিলো আমার প্রেস্টিজের লাল বাতি জ্বালিয়ে দুলাভাইটা। কি দরকার ছিলো এসব বলার। -- ছাড় আমাকে ………… এখন যদি যেতে না দিস তাহলে বাসরঘরেও তোর সাথে থাকবো। এবার হাতটা ছেড়ে দিলাম। দুলাভাই হেসে চলে গেল। দু'জনই চুপচাপ বসে আছি। কেউ কাউকে কিছুই জিজ্ঞেস করছি না। নীরবতা ভেঙ্গে বললাম…… -- আপনার নামটা যেনো কি? -- …………… কোন উত্তর নেই। আবারও বললাম……… -- আপনার নাম?? -- ………………… মনে মনে ভাবছি মেয়েটা আমাকে অপমান করছে। আমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না এত পাজী মেয়ে। হঠাৎ মনে হলো মেয়েটা কি আছে নাকি চলে গেছে? আমি একাই কথা বলছি নাকি? মাথা উঠিয়ে তাকালাম। মেয়েটা তো বসেই আছে আমার সামনে, তো কথা বলে না কেন? -- কি দেখেন? -- না মানে ……… -- মানে কি?? -- কি কিছু না। -- তো কিছু বলেন না কেনো? মাথা নিচু করে ফিসফিসিয়ে পাগলের মতো একা একা কি বলছেন?? মেয়ের সাহস কতো আমাকে পাগল বলে। রেগে বললাম, -- কি বললেন? -- কানে কি কম শুনেন নাকি? -- না মানে? -- কি মানে? -- আসলে………। -- কি বাথরুমের চাপ পেয়েছে? টয়লেট খুঁজছেন?? আরে কি বলে মেয়েটা নিজেই পাগলের মতো কথা বলছে আর আমাকে পাগল বলে। -- কি কথা বলেন না কেনো? আপনার দেখা শেষ? আমি কি এখন যেতে পারি? কি আজব মেয়েরে বাবা। আমি হা করেই চেয়ে আছি কি বলবো বুঝতে পারছি না। কে যে বলল বিয়ে করতে আর মেয়ে দেখতে আসতে। -- আচ্ছা আপনি বসুন আমি সবাইকে ডেকে আনি। -- কেনো? -- তো কি বসেই থাকবেন? বাসায় যাবেন না? -- ওহ্…… হুম। . বসে ভাবছি কেমন মেয়ে এত চটপটে আমার সাথে কিভাবে মানিয়ে চলবে যেখানে আমি খুবই চুপচাপ স্বভাবের ছেলে। দেখি কি হয় তবে মেয়ে আমারও ভালো লেগেছে। পাকা কথা দেয়া হয়ে গেলো বিয়ের দিন তারিখ সব ঠিক। বাসায় যাওয়ার পথে দুলাভাই জিজ্ঞেস করল……… -- কি শালা ভাই মেয়ে কি বলল?? -- পাগল বলছে। -- যাক তোকে যে গাধা বলে নাই এটাই অনেক বেশি। দুলাভাইয়ের দিকে তাকাতেই হাহা করে হেসে উঠল। . পুরো বাড়িতে মেহমানের জমজমাট। ছোট বাচ্চারা ছুটোছুটি করছে আর বড়রা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কাল বিয়ে আজ হলুদ। বন্ধুরা সব হাসাহাসি, গল্প, গুজবে মগ্ন। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল তনুর নামটা স্কীনে ভেসে উঠল। যার সাথে আমার জীবনের পরবর্তী মুহূর্ত গুলো কাটবে তার ফোন বুকটাই ধুক্ করে উঠল। রিসিভ করলাম……… -- হ্যালো!!! -- এই যে শুনুন আপনার একটা ছবি তুলে এখন পাঠাবেন দেখবো আপনাকে। -- এখন? -- না কালকে তাই আজকে ফোন করেছি। -- হাহাহা। -- হাসি বন্ধ করুন আর ছবি তুলুন। -- হুম ঠিক আছে। . অবশেষে বিয়ের কাজ শেষ হলো তনুকে নিয়ে বাড়ি যাবার পালা এখন। তনুর কান্না দেখে খুব খারাপ লাগছে। মেয়েদের সব চেয়ে কষ্ট হয়তো বিদায় বেলাতেই হয়। সবাইকে ছেড়ে যখন নতুন ঠিকানায় যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিয়ে দর্শনের বিদ্যাপাঠ
→ মেয়েদের অতীত দেখেশুনে বিয়ে করবেন,সাবধান!!
→ ছোট গল্প বিয়ে
→ আমার বিয়ে
→ বিয়ে বাড়ির প্রেম
→ গেদি আপার বিয়ে
→ দ্বিতীয় বিয়ে
→ বিয়ে হয়েও হইলো না, বিয়ে!
→ ছোট মামার বিয়েতে!!
→ ভালবাসার বিয়ে।
→ জোর করে বিয়ে
→ "আমি তো বিয়েই করি নি"
→ ধর্ষণ রুখতে বিয়ে সহজ করুন, ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করুন : আজহারী
→ সাফার বিয়ে
→ ২২ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে না হলে মেয়েদের ৭ টি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now