বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#বিয়ে
অজ্ঞাত:কিরে,কেমন আছিস?
আমি:দুঃখিত।কে আপনি?
অজ্ঞাত:কিহ!!!আমাকে ভুলে গেলি।তাতো যাবিই।এখন কি আর পরীক্ষার হলে খাতাটা দরকার হয় নাকি।তখনো শুধুমাত্র এই একটা কারন ছাড়া আমায় চিনতি না।
আমি:ওহ,তুই!হুম,চিনেছি।প্রতিবার খাতা দেখানোর জন্য আমার মানিব্যাগ এর সলিল সমাধি করা জলহস্তিটাকে কি করে ভুলব!
নওশিন:কিহ!!!আমি জলহস্তি!
আমি:নাহ,ঠিক তা নয়।এখন দেখতে চাইনিজ মুলার মতন লাগে।এত লম্বা হলি কিভাবে?
-চইনিজ মুলা না?তুমিও ডায়েট কন্ট্রল কর, চাইনিজ শশা হবা,শশা।
-খাতা আমি কপি করলেও কথা কিন্তু এখনও তুই করিস।
-কি করব বল!পুরনো অভ্যাস।তা এত খাবার প্যাকেট নিয়ে কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি।
-এইতো পাশের বস্তিটায়।
-বাব্বাহ!!!ভার্সিটিতে যার পকেট থেকে দু'টাকা দানের জন্য বের হত না সে আজ প্যাকেট নিয়ে দৌড়য়!এত উন্নতি!
-এইতো।মানব প্রেম জেগে উঠল আরকি।
তা সাথে যাবি?
-আমার সাথেতো তুই কখনো যাসনি।কিন্তু আমি যাবো।কারন আমি তোর থেকে অনেক ভাল।
-আমাকে হিংসে করার অভ্যাসটাও আর গেল না!
-কেনো যাবে!আমারটা দেখে আমার থেকে বেশি নাম্বার পেতি।
-হ্যা হয়েছে,সে হিসেব পরে হবে।এবার চল।
,
(বালিকা আমার পুরনো বন্ধু।দেখা হওয়ায় যেনো আবার কলেজের সেই দুষ্টু অরন্য হয়ে গেলাম।এই দুষ্টমির কি যে করি!)
,
-যাক,আজকে সবার খাবার হয়েছে।
-কেনো?প্রতিদিন কম হয় নাকি?
-এইতো দু-একজন নতুন মুখ থাকেতো তাই আরকি...
-হয়েছে,ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধানই ভাঙবে।
মানব প্রেম জাগলেও অভ্যাসটা থেকে যাওয়াই স্বাভাবিক।
-কিসের অভ্যাস?
-কিপ্টেমোর।হিহিহি...
-বেশি হচ্ছে না?
-বাব্বাহ!!এখন অভিমানও আছে দেখি!!তা আধুলির লজেন্স এনে দেব বাবু?
-আবারো কপি!!!ওটা দেয়ার কাজ আমার।চাইনিজরাও এমন কপি পারবে না!!
-হুহ।হইছে।আচ্ছা আজ আসি।
-আচ্ছা,তা কোথায় থাকিস?
-মোহাম্মদপুরে আন্টির বাসায়।
-ওহ,তার মানে বিয়ের সানাই এখনো বাজে নি মনে হয়?
-হুম।একটা ভালো জব পাই আগে।তারপর বাজানো যাবে।
-হুম,ভাল।আচ্ছা নাম্বারটা নিয়ে যা।এক বছর পর যখন এক শহরেই এসেছিস যোগাযোগটা রাখিস।
-আহারে!কি আকুতি!!আমি চাইনি তোর নাম্বার।
পরীক্ষার পর মোবাইল পেয়েতো একদম উড়তেছিলা!!কি বলছিলা তখন?
-বলছিলাম আবার দেখা হলে দেব।আর হারিয়ে গেলেতো গেলিই।
-হুম।নাম্বার বল।
-০১৮৪৬......
-আচ্ছা যাই।
-আচ্ছা।এই রিকশা
-বাই।
-বাই।
,
যাক অনেক দিন পর এই শহরে কারো সাথে দেখা হল
সেইযে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে অনার্সে এসে ভর্তি হলাম তারপর আর কারো সাথেই যোগাযোগ হয়নি।আর যখন আজ এমবিএ এর সাথে চাকরি করছি তখন পুরনো কারো দেখা পেলাম।
তাও আবার নওশিন এর সাথে।কত স্মৃতি ওর সাথে।সেই পুকুরপাড় আড্ডা,ঝাল দিয়ে চটপটি খাইয়ে কাঁদানো আর রাগ করলেই বাসায় যেয়ে লজেন্স দিয়ে রাগ ভাঙানো!
আশ্চর্য!এতদিন এর কিছুই মনে পড়েনি।হটাৎ দেখা হওয়ায় কত কিছু মনে পরছে।
দেখি ওকে আম্মুর সাথেও দেখা করানো যায় কিনা।
হটাৎ করে মোবাইলের ক্রন্দন!ক্রিং ক্রিং ক্রিং...
তাও আবার অপরিচিত নাম্বার।ধ্যাৎ,কত সুন্দর সময় কাটছিল ওর কথা ভেবে,আর মোবাইলটা...
-হ্যালো।
-হ্যালো।চাইনিজ শশা?
(এইরে,ওর ফোন।হাউ লুমান্তিক!!!থুক্কু,হাউ চুইট!)
-হ্যা মিচ মুলা।
-ওই,আরেকবার এটা বললে একদম মেরে ফেলব।
-আমাকে পাবি কই?আমি বাসায়।হাহাহা..
-বাসায় এসেই মারব।
-ও আচ্ছা।তা বাসাটা যেনো কই?
-ওই বাদর,ফাজিল তুই নিয়েছিস বাসায়।চিনব কি করে!
-আসবি?
-আসা যেতে পারে।
-কবে আসবি বল?
-কাল?
-আচ্ছা।যেখানে আজ দেখা হল ওখানেই আয়।
-আচ্ছা।কখন?
-১০টায় আয়।
-আচ্ছা,দেখা হচ্ছে তাহলে।
-আচ্ছা বায়।
,
বাহ!মেঘ না চাইতে বৃষ্টি।যাক আমিও গোফে তেলের কাজটা সেরে ফেলি।
-আম্মু,আম্মু।
-কি হল,চেচাচ্ছিস কেনো?
-কাল তোমার সাথে একজনকে দেখা করতে নিয়ে আসবো।
-কাকে আনবি?তুই কি না জানিয়ে বিয়ে করেছিস?
(এই এক প্যারা!খালি বিয়ে,মেয়ে প্রেমিকা!সেদিনতো এক কলিগকে দেখে বলেই ফেললো,"কিরে কত দিনের?"মানে হয় কোন!)
-নাহ,তোমার হবু বউকে।
-যাক,আলহামদুলিল্লাহ।
-হুম,সকালে আসবে।
-আচ্ছা।
,
রাত,তুই শেষ হস না কেনো!সকাল,তুই আসিস না কেনো?
"এ রাত যদি না শেষ হয় তবে কেমন হবে তুমি বলতো?
জানি জানি,উঠতে দেরি,ঝাড়ি খাবা মন্দ নয়"
হুসসস...কি সব চিন্তা করছি।গানও মজা নেয়! ঘুমতে হবে।শুভ রাত্রি।
,
-অরন্য,এই অরন্য।
-হ্যা বলো মা।
-অফিস যাবি না।আর কাকে যেনো আনবি,ওঠ জলদি।
-ছুটি নিছি।কটা বাজে?
-৯.০০ টা বাজে।
.....
-কি হল,চেয়ে আছিস কেনো?
-১০.০০টায় তোমার বোউমা থুক্কু নওশিনকে আনতে যাওয়ার কথা।
-তোর সাথে কলেজে পড়ত যে ও?
-হুম।
-যাই বলিস,ওকে কিন্তু আমার আগে থেকেই পছন্দ।
-তোমার ছেলের বিয়ের আগে ডিভোর্স হবে আর তুমার পছন্দ!
যাও,নাস্তা দাও।
-দেয়াই ছিল,কিন্তু এখন ওকে এনেই খাবি।
-আআআআ..
-হা।
,
কি আর করার!নাস্তা না করেই চলে আসলাম।ওমা!উনি দেখি আগেই চলে আসছে।এত ভাল হল কবে?
-কিরে,কখন এলি?
-এইতো দশ মিনিট।
-সময়ের আগে তাও তুই!!
-হুম,অভ্যাস করতে হবে না।নয়তো শ্বশুর বাড়ি যাব কিভাবে।
(বালিকার কথায় রহস্যের গন্ধ!ইনিওকি আমাকে...নাহ,আর ভাবতে পারছি না।কেমন খুশি খুশি লাগছে।)
-হুম,কথা সত্য।তা চল যাওয়া যাক।
-হুম চল।
,
(আহা,কত দিনের ইচ্ছে পুরন হলো।সাথে রিকসা, পাশে বালিকা!যে কেউ দেখলে ভাববে আমরা...
না থাক।বেশি মজা নিয়ে কাজ নেই)
-ওহ শিট!
-কিরে কি হলো?
-নাহ,কিছু না।হেহেহে..
(এইরে,আম্মুকেতো বলিই নি যে এখনো রিলেশনই হয়নি।আজ তুই শেষ অরু।তুই জ্ঞান হারাবি,মরেই যাবি। বাঁচাতে পারবে না কেউ)
যাক বাসায় আসছি।
কলিং বেল চেপে দাড়িয়ে আছি।আম্মু খুলল।
-কিরে,বউমাকে না আনতে গেলি।নওরিন কই?
(সব সময় আমারে বাঁশ দেয়।নামটা নিতা,বউমা বলার কি দরকার ছিল আম্মাজান)
-কিসের বউমা,নওরিনকে আনতে গেছিলাম।এইযে পেছনে।
(ওমা!হেতি চাঁদবদনটা গম্ভীর করি রাখছে ক্রে?)
,
যাক সালামের পর্বের পর আম্মু ওকে নিয়ে কিচেনে গেল।কিন্তু আমি কি করব?
বাসায় থাকব নাকি বাইরে..
যা চলে যাই বাইরে।নয়তো চোখ দিয়েই ভষ্ম করে দিবে।সুযোগ দেয়া যাবে না।হিহিহি..
,
-হ্যালো আম্মু।
-কিরে কই তুই?সেইযে গেলি,খেতেও আসলি না।এখন ওকে বাসায়তো দিয়ে আসবি নাকি?
-হ্যা,আসছি।
,
ডিং ডং,ডিং ডং,
-যাক এলি।ওকে পৌছে দিয়ে জলদি বাড়ি আয়।কথা আছে।
-আচ্ছা।
এই আয়।
(হুমমম...হেতি মুঁচকি হাসিতেছে কেন?গুপন কুনো রহস্য আছে।)
,
রিকসায় একটা কথাও বলল না।হুহ,প্রথমেতো ভাবলাম রাগ করছে।কিন্তু পরে কি কইলো!
-আচ্ছা,আসি।
-হুম,যাও।
-বাসায় এসো।আন্টিদের সাথে দেখা করে যাও।
-নাহ,আজ থাক।অন্য কোন দিন।
-হুম,আম্মুকে নিয়ে এসো।
ইহা বলেই বালিকার প্রস্থান।কিন্তু শেষে উহা কি বলিল!
আম্মু!মানে হেতিও...
আহা,প্রেম করে বিয়ে।ভাবতেই সুখ লাগতাছে।
কিন্তু,কিন্তু প্রেমতো করলাম না।
মিশন বিয়ে কম্লিট,প্রেম শুরু।
-আম্মু তোমারে লাগব।বিয়ে ঠিক করার মত প্রেমটাও করিয়ে দেওনা...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now