বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিরহী বর্ষা

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X আজও প্রতিটি বৃষ্টির দিনে আমি ছাদে গিয়ে দাঁড়াই । ওপাশের খোলা ছাদটার দিকে তাকিয়ে বারবার পলক ফেলি । বৃষ্টিফোঁটারা আমার মোটা গ্লাসের চশমাটাকে ঘোলা করে দেয় । শার্টের হাতায় চশমটা মুছি । তারপর আবার তাকাই । আবার চশমাটা ঘোলা হয় , আবার মুছি , তারপর আবার তাকাই । মাঝেমাঝে কেউ একজন পেছন থেকে ডাকে , আমি প্রতিবারই চমকে উঠি । . "আবারো একা একা বৃষ্টিতে ভিজতেছ ! কতবার বলেছি আমাকেও ডাকবে ! আমরা একসাথে ভিজব । কে শুনে কার কথা । যাও . . . তোমার সাথে কথাই বলবো না । তুমি আমাকে একটুও ভালোবাস না ।" . আমি রিমির দিকে তাকাতে পারি না । অন্যদিকে তাকিয়ে থাকি , কিংবা মাথা নিচু করে রাখি । এই মেয়েটি আমাকে ভিষন ভালোবাসে । কিন্তু মেয়েটি জানে না , তার ভালোবাসার প্রতিদান আমি কখনোই দিতে পারবো না । আমার সমস্ত ভালোবাসা , আবেগ , অনুভূতি ওপাশের ছাদটায় বন্ধী হয়ে আছে । . সদ্য শাড়ি পরতে শেখা ষোড়শী এক তরুনী আনমনে ভিজে চলেছে । তার সরু কোমরে যেন ভরা শ্রাবণের ঢেউ উঠেছে , গোলাপরাঙা দু'টি ঠোঁটে যেন কামনার আগুন লেগেছে । এই অঝোর বর্ষায় সেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে । জ্বলছি আমি , জ্বলছে আমার ভিতর-বাহির , আমার পুরো পৃথিবী । . . রিমি মেয়েটা বড় অভিমানী । যখন-তখন আমার সাথে মান-অভিমানের খেলা খেলতে চায় । মেয়েটা চায় আমি গিয়ে তার মান ভাঙ্গাই । কাঁধে হাত রেখে মিষ্টি করে দু'টো কথা বলি । আমারও মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় , কিন্তু পারি না । অদৃশ্যে এক শিকলে হাত-পা বাঁধা আমার । . আমার ডায়েরি জুড়ে শত শত কবিতা । রিমি গভীর মনযোগে একেকটা কবিতা পড়ে , চুপিচুপি ঘুরে বেড়ায় কবিতার অলিগলিতে , নিজেকে খুঁজে ফিরে বারবার । কই ? রিমি নামের কেউতো এখানে নেই । তবে কেউ একজন আছে । যার বয়স ষোল কি সতেরো হবে । যার নাম কখনো মেঘবালিকা , কখনো সূর্যমুখী , কখনো চৈতালী , কখনো বৈকালী , কখনো সুহাসিনী , কখনোবা মায়াবিনী । রিমি ঐ নামগুলোর ছায়ায় নিজেকে খোঁজার চেষ্টা করে । মাঝে মাঝে আমাকে প্রশ্নও করে । "আরে বোকা এগুলো সব কাল্পনিক চরিত্র।" আমার চিরায়ত এই সহজাত জবাবে রিমি মাথা দোলায় । যেন সব বুঝে ফেলেছে । তারপর আবার কি যেন ভাবনা এসে ওকে ঘিরে ধরে । এভাবেই চলছে । . এবারের বর্ষাটা বড় দীর্ঘ । শেষই হতে চায় না । সাত বছর আগের সেই বর্ষাটাও এমনই ছিল । আমি এভাবেই ওপাশের ছাদটায় তাকিয়ে ছিলাম । মেয়েটা সেই কখন থেকে ভিজে চলেছে । চোখ দু'টো টকটকে লাল । হঠাত্ বিয়ের খবরে সে একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে । আমিও নিরুপায় । বিয়ে করার মত বয়স , সামর্থ্য, সাহস কোনটাই ছিল না আমার । তাকে ফিরিয়ে দেয়াটাই ছিল সহজ পথ । আমি সে পথেই হাঁটলাম । কিন্তু সে হাঁটলো নতুন এক পথে । হারিয়ে যাওয়টাই যেখানে গন্তব্য । আমি বুঝিনি , সে আমাকে বুঝতেই দেয়নি । তার আগেই সব শেষ । নিচে তাকিয়ে দেখি নিথর দেহটা পড়ে আছে । বর্ষার জল আর রক্তের ঢল মিলেমিশে একাকার । . . রিমি যে কখন এসে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে খেয়ালই করিনি । আমি বুঝতে পারছি সে আমার সাথে ভিজতে চাইছে । চোখে তার রাজ্যের তৃষ্ণা , স্পর্শে মাতাল আহ্বান । আজ কিছুতেই সেই আহ্বান উপেক্ষা করতে পারলাম না আমি । আচমকাই ওকে আমার ভেজা বুকে টেনে নিলাম । মেয়েটা কিছুক্ষন আমার ঘোলা চোখে তাকিয়ে ছিল , তারপর কেঁদেই ফেললো । "তুমি এত নিষ্ঠুর কেন বলতো ? আমাকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজলে এমন কি ক্ষতি তোমার ? তুমি জানো বৃষ্টি আমার কতটা ভাল লাগার ? তুমি জানো তোমায় কতটা ভালোবাসি আমি ? . রিমির গলায় আবার অভিমানের সুর । নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে 'ও' আমাকে জড়িয়ে রাখতে চাইছে । সমস্ত ভালোবাসা , আবেগ আর সবটুকু নারীত্ব দিয়ে আমাকে দখল করতে চাইছে । কিন্তু আমার দৃষ্টি ওপাশের ছাদটার দিকে , বৃষ্টি-বন্দী এক ষোড়শী তরুনীর দিকে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিরহী বর্ষা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now