বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
'বিরামহীন কান্না'
লিখেছেনঃ মুহিব্বুল মুরসালিন
(উৎসর্গঃ রানা প্লাজায় নিহত সকল ভাই বোনকে)
=================================
এক.
আমাদের আমেনা চাচী| তার বিয়ে হয়েছিল অনেক কম বয়সে| শুনেছি চাচীর বয়স যখন ১৪ বছর তখন আবেদ চাচার সাথে তার বিয়ে হয়| ভালই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন| কিন্তু একদিন তার সুখের সংসারে কালবৈশাখী ঝড় নেমে আসে| তাদের দাম্পত্য জীবনের ১১তম বছরে যখন চাচীর বয়স ২৫ বছর| তখন আবেদ চাচা দুরারোগ্য যক্ষা ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান| চাচীর মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে| সদ্যভূমিষ্ট পুত্রসন্তান আনেয়ারকে নিয়ে কি করবে সে কিছুই বুঝতে পারে না|আবেদ চাচা ছিল হতদরিদ্র| চাচীর বাপের বাড়ির লোকজনও ছিল অস্বচ্ছল| তাই নিজের মত করে বেঁচে থাকার জন্য নতুন করে শুরু করল জীবন সংগ্রাম| ওদিকে আস্তে আস্তে বেড়ে ঊঠতে শুরু করে আনু|চাচী আনুকে অনেক বেশি ভালবাসত| একেবারে পাগলের মত! পর পর ৬ জন সন্তান মারা যাবার পর একমাত্র আনুই চাচীর সাত রাজার ধন! তাই তাকে চাচী সীমাহীন ভালবাসত| আনু যে এ ব্যাপারে অকৃতজ্ঞ তা কিন্তু বলা যাবেনা! এই মানুষটা তার জীবনের ৩৬ টা বছর পার হলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিয়ে করেনি| তাকে বিয়ের কথা বললে; সে বলত:আরে,বাদ দ্যাও তো ঐ সব কতা! আমি আমার মা রে পর করবার চাইনা|দ্যাহনা? ঐ শিমুল,সুজন,আসলাম বিয়া কইরা ক্যামন স্বার্থপরের মত মারে ভূইলা গ্যাছে? আমি অগো মত অইবার চাইনা| আনু ছিল মায়ের বাধ্যগত সন্তান| শিক্ষা-দীক্ষা না থাকলেও তার ব্যবহার ছিল অমায়িক|
আনু সাভারের রানা প্লাজায় কাজ করত| এখন সে শুধুই স্মৃতি|
বিশ্বাস করুন! এমনই একজন নিঃস্বার্থ ভাল মানুষকে আমি নিজের হাতে দাফন করেছি| এ এই যে, এই হাতে| দেখুন! দেখুন! এই হাত দিয়ে দাফন করেছি| বলে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে চাচতো ভাই শাহীন|
ওদিকে আজ তিনদিন যাবত একাধারে কেঁদেই চলেছে চাচী| যেই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়ার আশায় ২৫ বছর বয়সে স্বামী হারানোর পরও আনুর অযত্ন হবে বলেই অন্য কোথাও বিয়ের কথা চিন্তাও করেনি|সেই সন্তানকে হারিয়ে ৬১ বছরের বৃদ্ধা মানুষটি এখন পাগলিনী প্রায়| ছেলের শোকে ঠিকমত না খাওয়াতে একেবারে দুর্বল হয়ে গেছে|
দুই.
মা!ওমা! আমারে তুমি ঘরে আইতে কইবা না?
-বাজান! তুই ফিরা আইছোস?
-হ মা! আমি ফিরা আইছি| জানো মা! আমি না তোমার কাছে অনেক আসবার চাই| কিন্তু পারিনা মা!
আমার খুউব পিপাসা লাগছে,একটু পানি দিবা? কলস থেকে পানি আনুর সামনে আনতেই দুই ব্যক্তি তাকে ধরে নিয়ে যেতে লাগল| চাচী গ্লাস হাতে তার পিছনে দৌড়াতে লাগল| হঠাৎ চৌকি থেকে পড়ে গিয়ে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল| শুরু হল আবার বিরামহীন কান্না|
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now