বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার (১ম গল্প—কাচ্চি বিরিয়ানি) *পর্ব ৪* (শেষ)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দুর্বল গলায় বললেন, ‘মহা বিপদে পড়েছি।’ ‘কি বিপদ?’ ‘দেখছেন না! দিন-রাত গিনিপিগেরা শুধু বিরিয়ানি রান্না করে যাচ্ছে!’ ‘কেন? আপনি না বলেছিলেন তেতাল্লিশটা গিনিপিগ, এখানে তো মনে হয় তেতাল্লিশ শ’!’ ‘তেতাল্লিশটাই তো ছিল, কিন্তু মাঝে বাচ্চা হল সবার। আমার বাচ্চা বাড়ানোর ওষুধটা পরীক্ষা করে দেখছিলাম, তাতে অল্প সময়ে সবগুলোর নাতি-পুতি হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় চার শ’ গিনিপিগ!’ ‘মোটে চার শ’? দেখে তো মনে হচ্ছে লাখখানেক।’ ‘আপনাদের হিসেবে প্রায় এক হাজার, আমার হিসেব ষোলভিত্তিক, তাই আমার এক শ’ হয় দু’শ ছাপ্পান্নতে!’ ‘এই সবগুলোকে আপনি বসে-বসে রান্না শিখিয়েছেন?’ ‘মাথা খারাপ আপনার? বাচ্চাগুলো নিজে-নিজে মা-বাবাদের দেখে-দেখে শিখে গেছে।’ সফদর আলী মাথা চুলকে বললেন, ‘এখন সবাই রান্না করতে জানে, আর মুশকিল হচ্ছে এরা দিন-রাত শুধু রান্নাই করে যাচ্ছে, দিনে ত্রিশ-চল্লিশ বার রান্না হচ্ছে! কীভাবে থামাই বুঝতে পারছি না।’ ‘কেন?’ ‘একবার ডেকচিগুলো কেড়ে নিতে চেষ্টা করেছিলাম, সবাই মিলে আমাকে আক্রমণ করল। কোনোমতে পালিয়ে বেঁচেছি!’ আমি গিনিপিগগুলো দেখেই বুঝতে পারলাম সমস্যাটি সহজ নয়, এতগুলো গিনিপিগকে থামানো কঠিন, সবাই যদি একটু করে খামচে দেয়, শরীরের চামড়া উঠে যাবে। আমার হঠাৎ মনে পড়ল সফদর আলী বলেছিলেন, তিনি প্রথমে একটা ঘণ্টা বাজাতেন, তখন রান্না শুরু হয়ে যেত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘সফদর সাহেব, আপনার সেই ঘণ্টাটি কোথায়?’ ‘ঐ যে,’ তিনি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। ‘আশেপাশে কয়েকটা গিনিপিগ ঘোরাঘুরি করছে, মাঝে-মাঝে একটা এসে ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়, আর নতুন রান্না শুরু হয়ে যায়!’ ‘আপনি তো বলেছিলেন ঘণ্টাটা আপনি নিজে বাজাতেন?’ ‘প্রথমে তাই বাজাতাম, আমাকে দেখে-দেখে এখন নিজেরাই শিখে নিয়েছে, যখন খুশি বাজিয়ে দেয়। ইলেকট্রিক ঘণ্টা, বাজানোর খুব সুবিধে!’ আমি সাবধানে ঘণ্টাটা তুলে নেয়ার চেষ্টা করতেই প্রায় ত্ৰিশটা গিনিপিগ আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, আমি লাফিয়ে কোনোমতে সরে এলাম! সফদর আলী ছুটে এসে বললেন, ‘সর্বনাশ! ওদের ঘাঁটাবেন না, মাংস শেষ হয়ে আসছে, আপনাকে কেটে বিরিয়ানির মাঝে দিয়ে দেবে!’ আমি ঢোক গিলে বললাম, ‘ঘণ্টা বাজতেই যখন রান্না শুরু হয়, তখন ঘণ্টা বাজানোটা বন্ধ করলেই তো সব বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টাটা কোনোমতে সরিয়ে ফেললেই হয়।’ সফদর আলীর মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, হাতে কিল দিয়ে বললেন, ‘ঠিক বলেছেন! কী বোকা আমি, একবারও এই সহজ জিনিসটা মনে হয় নি! ইলেকট্রিক ঘণ্টা এটা, প্লাগ টেনে খুলে ফেললেই হবে, ঘণ্টাটা সরাতেও হবে না!’ সফদর আলী ছুটে গিয়ে প্লাগটা টেনে খুলে ফেললেন! সত্যি সত্যি কিছুক্ষণের মাঝে নতুন রান্না শুরু হওয়া বন্ধ হয়ে গেল। যেসব রান্না আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল গিনিপিগেরা সেগুলো শেষ করে গুটিগুটি নিজেদের ঘরে ফিরে গেল। নিশ্চয়ই সেরকম ট্রেনিং দেয়া আছে। যে কয়টি গিনিপিগ ঘণ্টা বাজানো শিখে নিয়ে এই দুৰ্গতির সৃষ্টি করেছে শুধু তারাই ঘোরাঘুরি করতে থাকে, একটু পরে পরে এসে ঘণ্টা বাজানোর চেষ্টা করে, কিন্তু প্লাগ খুলে নেয়ায় আর শব্দ হয় না। একসময়ে সেগুলোও তাদের ঘরে ফিরে গেল, সফদর আলী দরজা বন্ধ করে দিয়ে মুখে হাসি নিয়ে ফিরে এলেন। ছয় ডেকচি বিরিয়ানি রান্না হয়ে আছে। আমরা সেগুলো বাইরে বিতরণ করে দিয়ে এলাম। কয়েকজন জিজ্ঞেস করল, কাল কখন আসবে। সফদর আলী যখন বললেন, আর আসতে হবে না—তারা বেশ অবাক হল। একজন তো একটু রেগেই গেল মনে হল, সে নাকি দেশে চিঠি লিখে দিয়েছে, তার পরিবারের অন্য সবার আজ রাতে পৌঁছে যাবার কথা! সে এখন কী করবে সফদর আলীর কাছে জানতে চাইল, সফদর আলী কিছু বলতে পারলেন না! দরজায় তালা মেরে আমাকে নিয়ে একটা রিকশা নিলেন, অনেকদিন জিলিপি খাওয়া হয় না, আজ জিলিপি খাওয়া হবে। শেষ খবর অনুযায়ী সফদর আলী তাঁর এক হাজার গিনিপিগকে জমি চাষ করা শেখাচ্ছেন। তাঁর বাসার পিছনে খালি জায়গা আছে, সেখানে নাকি তারা আলু, ফুলকপি আর টমেটো লাগাচ্ছে! একটু বড় হলেই আমাকে দেবেন বলেছেন। আমি অপেক্ষা করে আছি। আজকাল সবজির যা দাম! **বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার উপন্যাসের ১ম গল্প—কাচ্চি বিরিয়ানি এখানে সমাপ্ত পরবর্তী গল্প জংবাহাদুর** কেমন লাগল জানালে খুশি হব আর গল্পের মান অনুযায়ী রেটিং দিন ৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার (১ম গল্প—কাচ্চি বিরিয়ানি) *পর্ব ৪* (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now