বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বিএ-র আগেই বিয়ে
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এহসান (০ পয়েন্ট)
X
বিষয়টা যে প্রথম ঘটলো তা নয় , প্রায়ই ঘটে । লেপ মুড়ি দিয়ে শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকলেই কেন যেনো বন্ধুবান্ধবরা সহ্য করতে পারে না । ঠিক ঐ ঘুমানোর সময়ই কল দিয়ে জিজ্ঞেস করবে ঘুমাচ্ছি কিনা । এখন যেমন আমিনুল কল করেছে । নিশ্চয়ই নতুন দেখা কোনো মুভির কাহিনী বর্ননা দিবে । ফোন ধরতেই করুন গলায় বললো ,
দোস্ত , আমাকে বাচা !
:এখন কয়টা বাজে ?
:৩টা ৪৫ ।
:দুঃখিত , এই মুহুর্তে আপনাকে বাচানো সম্ভব হচ্ছে না । সকাল বেলা আবার ডায়াল করুন ।
বলেই লাইনটা কেটে দিলাম । আমিনুলের একটা অসামান্য প্রতিভা হলো , তুচ্ছ সমস্যাকে বাচামরার পর্যায়ে নিতে পারে । প্রায়ই সে কল দিয়ে বলবে , দোস্ত আমাকে বাচা । পরবর্তীতে দেখা যাবে তার ফোনে চার্জ শেষ । আশেপাশে কারো কাছে চার্জার পাচ্ছে না তাই আমাকেই কল দিয়েছিলো । বাচানো সম্ভবপর হলে বাচিয়ে দেই । আর সম্ভব না হলে নিজে থেকেই বেচে যায় আরকি ।
তাই পাশ ফিরে আবার ঘুমানোর প্রস্তুতি নিলাম । এ সময় আবার আমিনুলের ফোন । আবারো সেই করুন কন্ঠ, দোস্ত এবারের সমস্যাটা আসলেই সিরিয়াচ । তাসনিয়ার জিবনটা একবারে ধ্বংসের কাছাকাছি চলে এসেছে । তানুর(তাসনিয়া) মামা এক ম্যাচমেকারের কাছে ওর সিভি দিয়েছিলেন ।
:ইংরেজি সাহিত্যে পড়ে । ও ম্যাচমেকার কোম্পানিতে চাকরি করবে ? ভালোই হবে , আমাদের তো অনেক ম্যাচের দরকার .........
:আ রে ,ওই ম্যাচ না ।ম্যাচমেকার । ঘটক । পাত্রপাত্রী খুজে দেয় । পাত্র এসে ওকে ভার্সিটিতে দেখেও গেছে । এখন দ্রুত বিয়ে করতে চায় । ক্যান্টিনের শিঙ্গারার দোহাই , তুই কিছু একটা কর ।
: ভার্সিটিতে আইডি কার্ড ছাড়া আমাদেরই ঢুকতে দেয় না । ওদিকে জলজ্যান্ত পাত্র বিনা বাধায় ঢুকে পাত্রী দেখে যাচ্ছে । কালই প্রক্টর স্যারের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়ার জায়গা । পাত্রপাত্রী দেখার জায়গা নয় ।
:আরে ধুর । তুই আমার আর তানুর কথা ভাব । তানু তো তোদের ও বন্ধু , ওতো তোদের কতো এসাইনমেন্টও বানিয়ে দেয় । ওর বিয়ে হচ্ছে আর তোরা কিছুই করবি না ।
: অবশ্যই করবো । যা, ফটোগ্রাফার ঠিক করার কাজ আমার । পরিচিত কিছু ছোট ভাই আছে , দিনরাত ডিএসএলআ্রর নিয়ে ঘোরে ।আর মেয়েদের প্রোফাইল পিকচার তুলে ।বললেই রাজি হয়ে যাবে ।
:কী বলিস এইসব ?
:আরে ঘুমা এখন । সকালে দেখা হবে ।
২
সকালে চোখে ঘুম নিয়েই দ্রুত ক্যাম্পাসে এসে দেখি আমিনুল-তাসনিয়া দুজনই চলে এসেছে আমিনুল-তানুর মুখ দেখে মনে হচ্ছিলো তারা ৩০ পাতার এসাইনমেন্ট জমা দিয়ে ৩ পেয়েছে । ৩ জন মিলে ডিসকাশন করেও যখন কোনো বুদ্ধি বের করতে পারলাম না , তখন হাল ছেড়ে দিয়ে আমিনুল বললো ,”একটা চাকরি পাওয়া যায় কিনা দেখ” ।
:বি এ পাশ করেই মানুষ চাকরি পায় না । আর তুই ত এখনো পাশই করিসনি । কোনোদিন পাশ করবি এমন সম্ভাবনাও দেখছি না ।বাংলা সিনেমার কত নায়ক বি এ পাশ করার পর চাকরি না পেয়ে সার্টিফিকেট ছিড়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেয় ,দেখেছিস ? তুই তো সার্টিফিকেটও পাসনি ।
:এসএসসির আর এইচ এসসির সার্টিফিকেট আছে । ওগুলোর ফটোকপি ছিড়ে ফেলি কি বলিস ?
আমি মাথা নাড়ালাম । তাসনিয়া বিরক্ত হয়ে বললো, “আম্পায়ারের মতো মাথা নাড়াস না ।কিছু একটা কর । মামার মাথায় ভুত চাপলে আর থামানো যায় না । আমিনুল তুমি তোমার বাবাকে রাজি করাও । মুরুব্বি কেউ মামাকে বোঝালে কাজ হতে পারে” ।
:বাবা যা রাগী । তাকে বললে একটা চড় মেরে সব দাত ফেলে দেবে । তোমার পরিচিত ডেন্টিস্ট আছে ? যে ফ্রি চিকিতসা করাবে ? বাবা তো হাড়কিপটা । একটা টাকাও দিবে না ।
আমিনুলকে থামিয়ে উঠে দাড়ালাম আমি , “চল । তোর বাবার সাথে দেখা করে আসি” ।
:মানে ?পাগল নাকি ?
:সমস্যা নেই । আমার পরিচিত ডেন্টিস্ট আছে । তাসনিয়া ,তুই ফোকলা ছেলেকে বিয়ে করবি তো ?
:করবো ।
:চল তাহলে ।
৩
আমিনুলদের ড্রয়িং রুমে বসে আছি আমি আর তাসনিয়া । আমিনুলের বাবা রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমাদের দিকে । আমিনুল যে কেন তার বাবাকে এত ভয় পায় ,তা বুঝলাম । আংকেলের চেহারাটা এমন যে রিমান্ড সেলে উনি থাকলে আসামি হাতের স্পর্শ ছাড়াই তথ্য দেয়া শুরু করবে । আঙ্কেল ভরাট কন্ঠেই বললেন , তোমরা নিশ্চয়ই খেয়ে এসেছো ?
জি , কোনোমতে বললো নিশি । আমিনুলের কথা সত্য ।আঙ্কেল আসলেই কৃপন ।
:তা বলো , কি করতে পারি তোমাদের জন্য । আইনি পরামর্শ হলে পর্যাপ্ত ফি দিতে হবে ।
আমি আর তাসনিয়া পরস্পরের দিকে তাকাই । কিভাবে বলবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না । শেষে সাহস করে আমিই বলে ফেললাম , আঙ্কেল ,ও তাসনিয়া । আমি ,আমিনুল, তাসনিয়া একসংগেই ভার্সিটিতে পড়ি । ঘটনা হয়েছে কি তাসনিয়ার বাবা একজন কবি । তাই তিনি পরিবারের এত দেখাশুনা করেন না। এই দায়িত্ব তাসনিয়ার মামার উপর । সম্প্রতি তিনি তাসনিয়ার বিবাহ ঠিক করেছেন ।এবং বিয়ে দেয়ার জন্য খুব চাপাচাপি করছেন । কিন্তু জানেন তো , আমাদের লেখা পড়া শেষ হয়নি ....
:হয়নিতো কি হয়েছে ? বিয়ের পর পড়বে । আমি নিজেও বিয়ের পর ল পাস করেছি । এটা কোনো ব্যাপারই না ।
:ইয়ে হয়েছে কি । তাসনিয়া আবার অন্য একটা ছেলেকে পছন্দ করে । এবং ছেলেটাও তাকে খুব পছন্দ করে । ওরা ঠিক করেছিলো বিএ পড়া শেষ করার পর তারা বিয়ে করবে । কিন্তু ভয়ে বলতে পারছে না । ছেলের বাবা খুব রাগী । উনি কিছুতেই এটা মানবেন না ।
:ভয় পেলে চলবে নাকি । প্রেমের মূল ব্যাপার সাহস । আমিও প্রেম করেই শিহাবের মাকে বিয়ে করেছিলাম । তোমরা উনাকে কনভিন্স করো । এসব ব্যাপারে জবরদস্তি চলে না ।
: জি সেই জন্যেই আপনার কাছে এসেছি ।
:কিন্তু এখানে তো কোন আইনি সহায়তা দেখছি না ।
:আঙ্কেল,তাসনিয়া আমিনুলকে ভালোবাসে । এমনকি আমিনুলও । ও ভয়ে আসেনি । গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ।
:অসম্ভব । বিএর আগে কিসের বিয়ে ? আসুক আমিনুল ।একচড়ে তার একধিক দাত আমি ফেলেদেব । বেয়াদব । লেখাপড়া বাদ দুয়ে প্রেম ভালোবাসা । এই মেয়ে তোমার জিপিএ কত ?
:জি । ৩ পয়েন্ট ৪৫ । তাসনিয়া নিচু করে উত্তর দিলো ।
:পড়াশুনা তো করনা । শুধু প্রেম ! যাও বাসায় যাও ।
:জি আচ্ছা । তাসনিয়া উঠে দাড়ালো ।
ব্যাগ কাধে নিতে নিতে বললো ,একটা কথা বলি ?
:হুম
:আঙ্কেল , বিয়েতে এখন অনেক খরচ । ফটোগ্রাফার,কম্যুনিটি সেন্টার ,ডেকোরেশন । সব মিলিয়ে কয়েক লাখ টাকা খরচ হইয়ে যাবে ।
:তো ?
:মানে বিয়েটা আমরা এখন করে রাখলাম ।পড়াশুনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজেদের বিয়ের খরচ নিজেরাই দিলাম । এটা হয় না? এই যে সম্ভাব্য খরচ প্রিন্ট করে এনেছি ।
আঙ্কেল চশমা পরে খরচের হিসাবটা পড়লেন ।কিছুক্ষন চিন্তা করে বললেন , সেন্টারের ভাড়া এতো ?
:জি ।
:তোমার মামার নাম্বার টা দিয়ে যাও। আমি কথা বলবো ।
:থ্যাঙ্ক ইউ আঙ্কেল !
৪.
আমি আর তাসনিয়া খুশি মনে বেরিয়ে আসছি । পেছন থেকে আঙ্কেল বাংলা সিনেমার মতো বললেন দাড়াও ।
আমরা যন্ত্রের মত হুকুম তামিল করলাম । আমাদের পিঠ চাপড়ে বললেন ,গাধাটা কোথায় ? ওকে কিছু বুদ্ধি ধার দিতে পারো না ?
আমরা বেরিয়ে এলাম । আঙ্কেলও এলেন আমাদের পেছনে ।
আমাদের দেখে ছুটে এলো আমিনুল ,দোস্ত ,তোরা ঠিক আছিস ত ? আমি ভেবেছি ভেতরে রক্তারক্তি কান্ড ঘটে গেছে । এম্বুলেন্সে খবর দিয়েছি দুই একমিনিটের ভেতরে চলে আসবে ।
আমাদের ঠেলে সামনে এগিয়ে এলেন আঙ্কেল, “কোন এম্বুলেন্স এ খবর দিয়েছিস ? তোর জন্য ত ভেটেরিনারী এম্বুলেন্স দরকার ।
আমিনুলের মুখ ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেলো ।
তা দেখে তাসনিয়াও হেসে দিলো ।ঠিক এমন সময় এম্বুলেন্স সাইরেনের শব্দ বাজিয়ে এসে থামলো গেটে । ড্রাইভার দ্রুত দরজা খুলে জিজ্ঞেস করলো, রোগি কে ?
কিছুক্ষন গম্ভীর মুখে তাকিয়ে আঙ্কেল এলাকা কাপিয়ে হেসে উঠলেন ।তার সংগে আমরাও ।এম্বুলেন্সের চালক আর আমিনুল বিস্ময় নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now