বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বই পড়া থেকে আনন্দ, বুদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জিত
হয়। বই পড়তে হয় একাকী এবং তাতে অবসর
ভরে ওঠে নির্মল আনন্দে, বুদ্ধি আসে বইয়ের
কথামালা থেকে, আর সক্ষমতা আসে গ্রন্থগত
বিদ্যার সঙ্গে বিষয়বুদ্ধির সংশ্লেষে।
একজন বিশেষজ্ঞ খুঁটিনাটি বিষয় ভালোভাবে বিচার-
বিশ্লেষণ করতে পারেন। তিনি তথ্য ও তত্ত্বে
পারঙ্গম। তবে বই পড়ায় অত্যধিক সময় ব্যয় করলে
শরীর-মনে আলসেমি ভর করতে পারে।
বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মে মাত্রাতিরিক্ত ব্যাপৃত হলে
মেকিত্ব তৈরি হতে পারে এবং অতিমাত্রায় নিয়মচর্চা
হাস্যকর পাণ্ডিত্যে পর্যবসিত হতে পারে।
পাঠাভ্যাস মানবপ্রকৃতিকে নিখুঁত করে এবং তা আবার
অভিজ্ঞতার দ্বারা নিকষিত হয়। প্রাকৃতিক দক্ষতা হলো
উদ্ভিদের মতো, কেটেছেঁটে যত্ন নিতে
হয়। বই সেই পরিচর্যার কাজটি করে। পাঠে পাওয়া
যায় পথের দিশা এবং তা সঠিকভাবে চালিত হয়
অভিজ্ঞতার দ্বারা। চালবাজ লোকেরা পাঠকে ঘৃণা
করে, সাধারণ লোকেরা প্রশংসা করে এবং
জ্ঞানী লোকেরা ব্যবহার করে। তারা অভিজ্ঞতার
মারফত বুঝতে পারে পাঠার্জিত জ্ঞানকে
কীভাবে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে।
পাঠ কাউকে নাকচ করার জন্য নয়, কোনো
কিছুকে স্বতঃসিদ্ধরূপে গ্রহণ করার জন্য নয়,
বাদানুবাদের জন্যও নয়। পাঠ হবে বিচার-বিবেচনার
জন্য। কিছু বই পড়তে হয় স্বাদ নেওয়ার জন্য, কিছু
বই গিলে ফেলার জন্য, কতিপয় বই চিবিয়ে
খেয়ে হজম করে ফেলতে হয়। অর্থাৎ কিছু বই
অংশবিশেষ পড়লেই হয়, কিছু বই অতটা কৌতূহল
নিয়ে না পড়লেও হয়, তবে কতিপয় বই পুরোটা
পড়তে হয়, মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে। কিছু
বই অন্যের সহায়তা নিয়ে পড়া যায়, অন্যরা বইয়ের
সারসংক্ষেপ তৈরি করে দিতে পারেন। এভাবে
কেবল কম গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের বিষয় সম্পর্কে
একটা হালকা ধারণা পাওয়া যায়। পরিমার্জিত বই হলো
বিশুদ্ধায়িত জলের মতো, চকচকে।
পাঠ একজন মানুষকে পরিপূর্ণ করে, বাগানুশীলন
একজন মানুষকে চটপটে করে এবং লেখালেখি
একজন মানুষকে যথাযথ করে। কাজেই যে ব্যক্তি
লেখালেখি করে না তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে
পড়ে। যে ব্যক্তি কথার চর্চা কম করে, তার
প্রজ্ঞায় ভাটা পড়ে। আর যে ব্যক্তি বই কম
পড়ে, জানার ভাব দেখানোর জন্য তার ধূর্ততার
প্রয়োজন হয়।
ইতিহাসের পঠন মানুষকে জ্ঞানী করে, কবিতাপাঠ
বুদ্ধিদীপ্ত করে, গণিতচর্চা যুক্তিবোধকে শাণিত
করে, প্রাকৃতিক দর্শন নৈতিকতার ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
বই পড়তে পড়তে সুঅভ্যাস তৈরি হয়। জ্ঞান বৃদ্ধির
জন্য দরকার উপযোগী বই পাঠ। যেমন
শরীরের অবস্থা অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হয়।
শরীরে পাথর জমলে বোলিংয়ে উপকার পাওয়া
যায়, শুটিং করলে ফুসফুসের উন্নতি হয়, হাঁটাহাঁটি
পরিপাকে সহায়তা করে, অশ্বচালনায় মাথার উপকার হয়
ইত্যাদি। কাজেই কারও বুদ্ধির ঘাটতি হলে তাকে বই
পড়তে হবে। মনোবিক্ষেপ হলে সে অঙ্ক
কষবে। অঙ্কের জন্য গভীর মনোযোগ
লাগে এবং একবার ভুল হলে আবার নতুনভাবে শুরু
করতে হয়। কারও যদি ভেদাভেদ জ্ঞান কম
থাকে, তাকে স্কুলমেন বইটি পড়তে দেওয়া যায়।
কারও যদি কাজের সময় মাথা না খেলে, কোনো
কিছু প্রমাণ করতে হিমশিম খায় কিংবা দৃষ্টান্ত দিতে
ব্যর্থ হয়, তবে তাকে আইনের কেসগুলো
পড়তে হবে। অজ্ঞতার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত
হবে পাঠপথ্য।
ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১-১৬২৬) প্রখ্যাত ব্রিটিশ
দার্শনিক ও রাজনীতিক। তাঁর লেখালেখি ও চিন্তা
আধুনিক ইউরোপে পর্যবেক্ষণ ও
পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে।
নোভুম অর্গানুম এবং অ্যাডভান্সমেন্ট অব লার্নিং তাঁর
বিখ্যাত গ্রন্থ। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ
লিখেছেন যেগুলো এখনো পর্যন্ত মানুষ পাঠ
করে অনুপ্রাণিত হয়। এখানে তাঁর Of Studies নামক
নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধটি অনূদিত হলো।
ফ্রান্সিস বেকন, অনুবাদ: বিনয় বর্মন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now