বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বই-০৩ (শেষ)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৪. পড়তে পড়তে একদম শেষ গল্পে চলে এল কামাল। ততক্ষনে রাত অনেক হয়েছে। ঘুমিয়ে পড়তে গিয়েও কি মনে করে শুরুটা একটু পড়ল কামাল । গল্পটা একটা কিশোরী মেয়ের। যে কিনা গল্পের বই পাগল এবং যার মামা তাকে বই এনে দেয় পড়ার জন্য। মেয়েটির মামা একদিন অনেকগুলো বই আনে। মেয়েটা তিন চারটা বই নিতে চায় তার মধ্যে কিন্তু মামা নিষেধ করে বলে মাত্র একটা বই নিতে। পড়ে চমকে উঠল কামাল। লাবন্যের কথা মনে পড়ে গেল। ওকি এই গল্পটা পড়েই কোন পাগলামি করেছে নাকি? মুহুর্তেই ঘুম পালিয়ে গেল। পুরো গল্পটা পড়ে জমে গেল সে। সংক্ষেপে কাহিনীটা এরকমঃ মেয়টার মামা অফিসের কাজে বিদেশ যাওয়ার সময় মেয়েটাকে অনেকগুলো বই দিয়ে যায়। এগুলোর মধ্যে রুপচর্চার একটা বই ছিল। মেয়েটার চেহারা একটু খারাপ ছিল। ফলে সে অন্য সবার সাথে মিশতে অস্বস্তিবোধ করত। এজন্য সে মনে মনে অনেক কষ্ট পেত। কিন্তু কাউকে কিছু বলত না। বই পড়তে খুব ভালবাসত বলে বইয়ের মধ্যেই সে নিজের আনন্দ খুজে নিত। যদিও রুপচর্চার ব্যপারে খুব একটা আগ্রহী ছিল না কিন্তু বইটাতে প্রাচীন রুপচর্চার অনেক অদ্ভুত পদ্ধতি লেখা ছিল। মেয়েটা সেগুলো কাজে লাগতে শুরু করে এবং অবাক হয়ে লক্ষ করে যে সে আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ক্লাসের যে সব ছেলে তাকে পাত্তা দিত না তারাও এখন সুযোগ পেলেই আড়চোখে তার দিকে তাকায়। কিন্তু মেয়েটা তখন খুব অহংকারী হয়ে গেছে। সে ছেলে গুলোকে পাত্তা তো দিতই না বরং তাদেরকে নানাভাবে অপছন্দ করতে লাগল। কিন্তু এত কিছুর পরও মেয়েটা একটা ছেলেকে পছন্দ করত। কারণ যখন মেয়েটার চেহারা খারাপ ছিল তখন শুধু মাত্র এই ছেলেটাই মেয়েটার সাথে ভালো ব্যবহার করত, কথা বলত। কিন্তু এখন মেয়েটার আকস্মিক পরিবর্তন এবং অন্যদের ভীড়ে কাছে ঘেষতে পারে না। মেয়েটা ঠিক করে সে তার পছন্দের কথা ছেলেটাকে বলবে। এজন্য সে ঐ বইটার সর্বশেষ যে রুপচর্চাটা ছিল সেটা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ এটাই নাকি ঐ বইয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। মেয়েটা রুপচর্চা করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলেটাকে বলতে পারে কিনা তা জানা গেল না কারণ শেষ পাতা নেই। এযে, পুরো লাবন্যর কাহিনী। এ গল্প এখানে এল কি করে বিছানায় স্তব্ধ হয়ে বসে রইল কামাল। আস্তে করে অনেকটা হঠাৎই ওর কাছে পুরো ব্যাপারটা পরিস্কার হয়ে এল। লাবন্য আর কোথাও যায়নি। এই বইটাই ওকে দখল করে নিয়েছে। শুরুর গল্পের শয়তানটাকে সম্ভবত সাধকটা এই বইতেই আটকে তার লাইব্রেরীতে রেখে দিয়েছিল। পরে আগুন লেগে বইটা আবার আলোর মুখ দ্যাখে এবং শয়তানটা আবার তার শয়তানী শুরু করে। বই থেকে মুক্ত হতে না পারলেও তার শয়তানী ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ যে টাইপের বই পছন্দ করে বা কারো যে বই দরকার বইটা তার কাছে সেই টাইপের বই হিসাবেই আবির্ভূত হয় এবং বইতে যা লেখা আছে তা পুরোটা করা হয়ে গেলেই বইটা লোকটার শরীর দখল নিয়ে নেয় এবং দরকারের সময় কাজে লাগায়। একারনেই প্রথম গল্পের মহিলা প্রেতচর্চা পুরণ করার পরই উধাও হয়ো যায়। এজন্যই গল্পের শেষটুক নেই । একইভাবে বাচ্চা মেয়েটা রুপকথার গল্প পড়ে শেষ করার পর, ভ্রমণ কারী লোকটা ভারত আসার পর কিংবা রাধুনী মহিলাটা শেষ রান্নাটা করার পর সকলেই উধাও । এদের আত্মাকে ব্যবহার করেই বইটা আজ ও টিকে আছে। এরই ধারাবাহিকতায় এর সর্বশেষ শিকার লাবণ্য । ও শেষ রুপচর্চাটার করার পরই ওকেও দখল করে বইটা। সম্ভবত এর আগে বহুদিন বইটা কোনো শিকার পাচ্ছিল না । এজন্য তার মলাট ক্ষয়ে পাতা নরম হয়ে গিয়েছিল । লাবণ্য কে ব্যবহার করে আবার সে তার পুরনো চেহার ফিরিয়ে আনে। কামাল নিজে বই পাগল। তাই ওর কাছে একটা গল্পের বই হিসাবেই ধরা দিয়েছে সে। হঠাৎ এই চিন্তা মাথার আসতেই শিরদাড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে গেল । ওতো বইটার সব গল্প পড়ে ফেলেছে । তাহলে এখনকি কামালও শয়তানটার দখলে? সেটাইতো হওয়ার কথা । শয়তানটা কি ওকেও গায়েব করে ফেলবে? দ্রুত নিজের শরীর চেক করল কামাল , আয়নার সামনে গিয়ে দেখল সব ঠিক আছে কিনা। সবইতো আছে, তাহলে? তাহলে কি ওর ধারণা ভুল? ভুল ঠিক যা-ই হোক, এখনও যেহেতু কিছু হয়নি কিছু হওয়ার আগেই কিছু করতে হবে। বইটাকে ধ্বংস করতে হবে। ভয়ানক রাগে বইটাকে ছিড়তে লাগল ও। বইটাকে ছিড়ে ছিন্ন ভিন্ন করে আগুন ধরিয়ে দিল । আপা বোধ হয় বাথরুমে যেতে উঠেছিলেন । আগুন দেখে দৌড়ে এলেন । হাতে পানির মগ ছিল দ্রুত আগুন নিভিয়ে দিলেন । কামাল চিৎকার করল, ‘নিভিও না, নিভিও না। লাবণ্যকে এই বইটাই খেয়েছে। ধ্বংস কর এটাকে।’ চিৎকারে দুলাভাই অরণ্য সবই ছুটে এল । কামাল হিস্টিরিয়া রোগীর মত চেচাতে লাগল। ওরা জোর করে ধরে রাখল। আপা আরো পানি এনে বইটাকে নিভিয়ে দিল । এত কিছুর পরও ওর কিছু হল না বলে খুব অবাক হল কামাল। তাহলে কি ওর অনুমান মিথ্যা? দুলাভাই জোর করে একটা ঘুমের অষুধ খাইয়ে দিলেন। কিছুক্ষণ পরই চোখে তন্দ্রা নেমে আসলো। সেই মূহুর্তে পুরো ব্যাপারটা ধরতে পারলো কামাল। কাউকে দখল করার সাথেই বইটা কাজে লাগায় না। কাজে লাগায় যখন ওটার দরকার হয় তখন। যেমন লাবন্যকে ব্যবহার করে ওটা আরো বেশি ঝকঝকে হয়েছে। তাই আপাতত বইটার কাউকে দরকার ছিল না। কিন্তু এখন বইটা পুড়ে গেছে। নিজেকে ঠিক করতে কামালকে তার দরকার হবে। কামাল প্রাণপনে জেগে থাকতে চাইল, কিন্তু ঘুম ওকে গ্রাস করে নিল। পরিশিষ্ট ১০ বছর পরের কথা। নীলক্ষেতের এক দোকানীর কাছে অরন্য তার বাসার সব বই বিক্রি করে দিল। বাবার মতই বইয়ের প্রতি তার কোন আগ্রহ নেই। তাছাড়া একমাত্র বোন এবং মামা রহস্যজনকভাবে নিখোজ হওয়ার পর থেকে বই গুলোতে ধূলো জমা ছাড়া আর কোন কাজ হচ্ছে না। দোকানী বেশ সস্তায় অনেক গুলো বই পেয়ে খুব খুশি। সেদিনই সে তার দোকানে বইগুলো তুলে ফেলল। বিকেলে তার দোকানে এল এক হাসিখুশি তরুনী। বুয়েটে আর্কিটেকচার থেকে সদ্য পাশ করেছে। প্রাচীন আমলের আর্টের উপর একটা বই দরকার তার। একটা বিল্ডিংয়ের কাজ পেয়েছে। সেখানকার সবকিছু প্রাচীন আমলের আর্ট দিয়ে সাজাতে হবে। পুরো নীলক্ষেত চষে ফেলেও যখন এধরনের বই না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিল সে। হঠাৎই রাস্তার ধারের দোকানটাতে এই ধরনের বইটা পেল। কী যে খুশি হল! যদিও বইটা খুব পুরনো এবং বাইন্ডিং ও বেশ আলগা হয়ে গেছে কিন্তু কিনে নিল সে। এই প্রজেক্টটা ঠিক মত করে দিতে পারলে আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। মেয়েটা ভাবছে নিজের ক্যারিয়ারটাকেই বুঝি কিনে নিয়ে যাচ্ছে সে। আসলে কি তাই? সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বই-০৩ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now