বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসে রাজীব, রবীন, কোয়েলসহ আরো কয়েকজন। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় রিক্সাওয়ালার ছদ্মবেশধারী সুমন এবং টহল পুলিশ আমজাদ।
হতবুদ্ধি আকরাম তখন মামুনকে তুলে বসানোর চেষ্টা করছে।
'আমার কিন্তুক কুনু দোষ নাই। কুয়েল বাই যেমনে কইছে আমি সেমতেই কাম করছি। এখন দেখি মামুন ভাই মাতা ঘুরাইয়া পইড়া গেছে।'
'একটু পানির ছিটা দিলেই জ্ঞান ফিরে আসবে। তবে যাই বলিস কোয়েল, এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। এতো বড় শকটা এখন বেচারা সামলে উঠতে পারলেই হয়!'
'দেখ রবীন জ্ঞান দিবিনা। আমরা সবাই মিলেই মামুনকে ভয় দেখানোর প্ল্যান করেছি। সুমনের রুমে বসে শালা কতো বড় বড় বুলি ছাড়লো তোদের মনে নেই! আর আমরা ভুতে বিশ্বাস করি বলে কুসংস্কারের ডিপো, খ্যাত, অশিক্ষিত, মুর্খ, কতো কিছু বলেই না গালাগাল করলো। এখন বাবাজী ভুতের ভয়ে একেবারে খাবি খাচ্ছেন।
আর রাজীবের মামার পাঠানো উদ্ভট গ্লাভস জোড়া ব্যবহারের বুদ্ধিওতো তুই দিয়েছিলি। খুবতো বলেছিলি, একজোড়া গ্লাভস দিয়েই তিনজন ভয় দেখাতে পারবে। মামুনতো আর ভুতের দুই হাত দেখতে চাইবে না। প্রথমে রিক্সাওয়ালা উরফে সুমন বাঁ হাতের গ্লাভসটি পড়বে, এরপর আমজাদভাই পড়বে ডান হাতেরটা। আর ততোক্ষণে সুমন তার গ্লাভসটি দিয়ে দেবে আকরামকে। এভাবে তিনজন মিলে দুটি গ্লাভস দিয়ে ভয় দেখানোর প্ল্যানটাওতো তোর মাথা থেকেই বেড়িয়েছিলো, নাকি!'
'আহ্ তোরা থামবি।' মামুনের দিকে এগিয়ে আসে সুমন। 'আমার মনে হয় একে দ্রুত ইউনিভার্সিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া দরকার। পরে ভালো-মন্দ কিছু একটা হয়ে গেলে সবাই বিপদে পড়বো।'
সবাই ধরাধরি করে মামুনকে রিক্সা তোলার চেষ্টা করে।
এমন সময় হো হো হো..হা হা হা.. করে বিকট শব্দে হেসে উঠে মামুন। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে এই হাসিকে কেমন যেন অপার্থীব শোনায়।
সবাই দারুন চমকে উঠে। তবে কী সত্যিই মামুনের উপর ভুতের আছর হলো? গা ছম ছম করে উঠে সবার।
ধীরে সুস্থে উঠে বসে মামুন।
পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় সবার দিকে।
'তোরা ভেবেছিলি এতো সহজে আমাকে বোকা বানাবি।
কী করে তোরা ভাবলি এতো পুরাতন থীমের একটা নাটক দেখিয়ে আমাকে ভয় দেখাবি। ছি ছি, তোদের কল্পনা শক্তিকে করুণা হচ্ছে। সেই রিক্সা ওয়ালার ভুতুড়ে হাত বাড়িয়ে দেওয়া, এর পর পুলিশ, এর পর আর কেউ- এই গল্প কে না জানে। ছোটকাল থেকেই এ ধরণের ভুতের গল্পগুলো শুনে আসছি। এর চেয়ে ভালো কিছু ভাবতে পারলি না!
তার উপর সুমনের কাঁচা অভিনয়। গলাটা যতোই বিকৃত করো বাপু, তোমার সেই বরিশাইল্লা একসেন্ট কোথায় লুকাবে? 'ভাড়া দ্যাবেন না!' ভুতের মুখে বরিশালের টান। হা..হা..হা..'
ভয় দেখানোর পরিকল্পনাকারীদের চোয়াল ঝুলে পড়ে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now